খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রয়াসে পোশাক শিল্পে কর্মচাঞ্চল্যে স্বস্তির নি:শ্বাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রয়াসে পোশাক শিল্পে কর্মচাঞ্চল্যে স্বস্তির নি:শ্বাস

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুরোদমে অস্থিরতা শুরু হয় পোশাক শিল্পে। আজ এখানে, কাল সেখানে গণ্ডগোল পাঁকে। একেকদিন একেক কারখানার শ্রমিকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বের হয়ে যান। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির হয়ে পড়ে উৎপাদন। আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে বন্ধ হয়ে যায় অনেক কারখানা। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কলকাঠি নাড়তে থাকে বহিরাগতরা। ১৮ দফা দাবি তোলা হয় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে। ছড়িয়ে দেওয়া হয় নানাবিধ গুজব। বিদেশী ক্রেতা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ১৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার পর ক্রমশ স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত্তির হাতিয়ার পোশাক খাতে। সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা ও দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘রাউন্ড দ্য ক্লক’ তৎপরতার কারণেই এখন দেশের ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে ফিরেছে কারখানাসমূহের স্বাভাবিক চেহারা। আস্থা ফিরেছে বিদেশী ক্রেতাদের মাঝেও। কারখানাগুলোতে আসছে নতুন নতুন অর্ডার। সব মিলিয়ে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ চরমে ওঠে। কোনো কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে, আবার কোনোটিতে হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বৃদ্ধি করাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এমনকি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও শ্রমিক নিয়োগের দাবিতেও আন্দোলন করেন তাঁরা। অনেক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসব মহাসড়কে চলাচলকারীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। সঙ্কটময় এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে কয়েক দফা সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন।

কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মজুরি বৃদ্ধি ও বছর শেষে ১০ শতাংশ হারে ‘ইনক্রিমেন্ট’ প্রদানসহ শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার ও মালিকপক্ষ। এরপর স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরলেও পুনরায় গুজব ছড়িয়ে কারখানাগুলো থেকে শ্রমিকদের নামিয়ে আনা হয়। মূলত বাইরে থেকে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা তৈরি করে। অত্যন্ত ধৈর্য্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এতে করে ভেস্তে যায় শ্রমিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে গত ১৩ অক্টোবর থেকে শ্রমিকরা পুনরায় নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেন। এরপর থেকে আর কোনো শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র মতে, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শিল্প কারখানার নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে তিনি ৮ আগস্ট থেকে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খানকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন। সেই সময় নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে গঠন করা হয় ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স। সেনাবাহিনীর দু’টি ব্রিগেড এই টাস্কফোর্স পরিচালনা করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মাঠে থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পোশাক শিল্পে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে জোর তৎপরতা শুরু করে। এ সময় তাঁরা বহিরাগতদের আক্রমণ, শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবি ও ঝুট ব্যবসার আধিপত্যকে অস্থিরতার প্রধান কারণ হিসেবে সনাক্ত করে। শিল্পাঞ্চলসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সেনাপ্রধান বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সেই বৈঠকে দেশে বিরাজমান পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা বিধানে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সেনাপ্রধান শিল্প-কারখানা চালু রাখার ব্যাপারে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সকলকে আশ্বস্ত করেন।

এর ঠিক তিন সপ্তাহের মাথায় নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় সেনাপ্রধানের নির্দেশে নিজেদের বহুমাত্রিক তৎপরতার কথা সবাইকে অবহিত করেন। নিজেদের সচেতনতা ও পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা জানিয়ে সেদিন তিনি বলেন, ‘ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স এর অধীনে দু’জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তার দু’টি ব্রিগেড নিয়ে আশুলিয়া, টঙ্গি, গাজীপুর, ভালুকা এসব জায়গায় সব কিছু মিলিয়ে আমরা এখানকার শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। সঙ্গে আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ, সাধারণ পুলিশ আছে, ৮ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মিলিয়ে আমরা যৌথ বাহিনীর একটি কাঠামো তৈরি করেছি। একেকটি এলাকাতে কতগুলো ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে আমরা একটি ক্লাস্টার তৈরি করেছি। সেই ক্লাস্টারের চারিদিকে ব্যুহ তৈরি করেছি। সেই ব্যুহতে আমাদের সৈনিক মোতায়েন রয়েছে আমাদের এপিসিসহ। আমরা সেখানকার ভেতর-বাইরের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছি। আমরা দিন-রাত পেট্রোলিং করছি, যাতে করে কেউ ইন্ডাষ্ট্রির আশেপাশে কোন রকম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।’

‘আমাদের ঢাকা, সাভার ও ময়মনসিংহে ক্যান্টনমেন্টে কুইক রিয়েকশন ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত করে রেখেছি। এছাড়া এই মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স’র পাশাপাশি আমরা জনসংযোগ করছি। বিভিন্ন জায়গায় রাতে-দিনে যাচ্ছি, মাইকিং করছি। যারা এই সেক্টরের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ওই এলাকার বাড়িওয়ালা ও দোকানদার তাদেরকে আমরা সেনসেটাইজ করছি। আমরা মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স ও অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটি পরিবেশ নিয়ে আসতে পারছি। আমাদের সাফল্য হচ্ছে-কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আমরা মেজর কোন বেণ্ডালিজম হতে দেইনি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে এজন্য দু:খ প্রকাশ করছি। রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারক মহলের আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী’-যোগ করেন মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।

পোশাক কারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ, আসছে নতুন নতুন অর্ডার
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কদর বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন ডেনিম পোশাক রপ্তানির শীর্ষ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ২০৬টি সবুজ কারখানা নিয়ে সমগ্র বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থনীতিতে শক্তি জোগানো এই খাতটিই নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল মাত্র ক’দিন আগেও। সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি পোশাক শিল্পে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ মিলছে। এখন প্রায় সব কারখানায় আসছে নতুন নতুন অর্ডার। চলতি অক্টোবরে গত মাসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে অর্ডার। ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। তারা বাংলাদেশ থেকেই পোশাক নিতে চান। তবে পরিবেশ আরও স্থিতিশীল ও স্থায়ীত্ব চান তারা। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে বসে নেই বিজিএমইএও। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও ক্রেতাদের সঙ্গে তাঁরা নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। বৈঠক করছেন বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে- সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। এখন কোনো অস্থিরতা নেই। তবে সাভার ও আশুলিয়ায় ৪০৭টি কারখানার মধ্যে ৩টি ছাড়া সকল কারখাানা খুলেছে। বন্ধ ৩ কারখানার মধ্যে ২টি ১৩/১ ধারায় বন্ধ রয়েছে। গাজীপুরে ৮৭১ কারখানার মধ্যে ২টি ছাড়া বাকীগুলো চালু রয়েছে।

অভিন্নভাবে সবাই আশা প্রকাশ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শক্ত হাতে দেশের হাল ধরেছেন। দেশের অস্থির এক সময়ে আস্থা ফিরিয়ে সবার আস্থাভাজন হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। তাঁর ‘ব্র্যান্ড নেম’ কাজে লাগিয়ে এই তৈরি পোশাক খাতটিও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা ও পরিবেশের নমুনাও দেখা যাচ্ছে। হাতছাড়া হতে যাওয়া অনেক অর্ডার ফেরত আসছে। ক্রেতাদের মাঝে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এসেছে। ড.ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর গোটা বিশ্ব বাংলাদেশের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা তার কাছে বাংলাদেশের জন্য সহায়তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসবের ফলে নতুন করে ভরসা পাচ্ছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। বাজার হাতছাড়া হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। এই স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সব পক্ষই উদ্যোগী হবে বলে আশা রপ্তানিকারকদের।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক ভালো। কারখানাগুলোয় পুরোদমে কাজ চলছে। ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরছে। ইতোমধ্যে ক্রেতারা যোযাযোগ শুরু করেছে। আশা করা যায়, আগামী মৌসুমের অর্ডার অন্য দেশে যাবে না। বর্তমান সরকারের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা রয়েছে।’ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই পোশাক খাতের হাত ধরেই অর্থনীতি একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ নেতারা।

কালের আলো/এমএএএমকে

শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একটি শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরকে তার বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে শিশু দ্রুত শেখে, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তার বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ফলে শিশুর জীবনে ঘরই হয়ে ওঠে প্রথম পাঠশালা, আর মা-বাবাই হয়ে ওঠেন তার প্রথম শিক্ষক।

শৈশবের এই সময়টিতে শিশুর মানসিকতা, আচরণ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং শিশুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ—সবকিছুই তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবারের পরিবেশেই মূল্যবোধের শুরু

বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারেই মা-বাবা দুজনকেই কাজের প্রয়োজনে দিনের বড় একটি সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনেক শিশু প্লে-স্কুল, ডে-কেয়ার কিংবা অন্য স্বজনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।

তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মনোবিশ্লেষকদের মতে, শিশুর বিকাশে শুধু কতক্ষণ সময় দেওয়া হচ্ছে তা নয়, সেই সময়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার মনোযোগ, কথা বলা, শিশুর কথা শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও ইতিবাচক যোগাযোগের মাধ্যমে শিশু ধীরে ধীরে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি অনুচিত—তা বুঝতে শেখে। এর মাধ্যমে তার আচরণগত নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারে।

মায়ের আচরণ থেকেই শেখে শিশু

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, শিশুর প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষা তৈরিতে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিবেশেই শিশু ভালোবাসা, যত্ন, সহানুভূতি, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মতো বিষয়গুলো প্রথম শেখে।

শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকে সরাসরি বলা কথাই শেখে না; তাঁদের দৈনন্দিন আচরণও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, অন্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেন, সমস্যা হলে কীভাবে তা সামাল দেন—এসব দেখেও শিশু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ তৈরি করতে থাকে।

সময় কম হলেও সচেতন উপস্থিতি জরুরি

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক মা-বাবার পক্ষেই সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো সম্ভব হয় না। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে সন্তানের জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে শিশুর সঙ্গে অল্প সময় কাটালেও তা যদি মনোযোগী ও আন্তরিক হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার দিনের অভিজ্ঞতা শোনা, খেলায় অংশ নেওয়া কিংবা কোনো সমস্যায় পাশে থাকা—এসব ছোট ছোট বিষয় শিশুর চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে কিছু শিশু ছোট বয়স থেকেই একা থাকার বা নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস তৈরি করে। এর ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দক্ষতাও তৈরি হতে পারে।

তাহলে সমাজে অপরাধ বা বৈষম্য কেন?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—মা যদি শিশুর প্রথম শিক্ষক হন এবং পরিবার যদি তার প্রথম শিক্ষার জায়গা হয়, তাহলে বড় হয়ে মানুষ অপরাধ, সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ে কেন?

এর উত্তর শুধু পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি এবং বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর প্রভাব থাকে।

শৈশবে পরিবার ইতিবাচক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি নতুন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এসব বাহ্যিক প্রভাব তার চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাও জরুরি

একটি শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের শিক্ষা ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল শিশুকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়; আর পরিবার তার আচরণ, মূল্যবোধ, সম্পর্কবোধ ও সামাজিকতার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলোতে মা-বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, যত্ন, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে পরিবার শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর লালন-পালনকে শুধু খাবার, পোশাক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানো এবং ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

৫ অক্টোবর ২০২৬, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, তাঁদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ১০০ শিক্ষককে

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

কোন স্তরে কতজন শিক্ষক

এবার প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি শিক্ষকদের একটি প্যানেল তৈরি করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সেই প্যানেল থেকে ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেসকোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন—ভ্রমণের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এত দিন গুগল সার্চ, ট্রাভেল ব্লগ কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী।

ভ্রমণকারীর পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন বুঝে গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করে দিতে পারছে এআই। ফলে একজন ভ্রমণকারীকে আলাদা করে অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। বরং এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই তৈরি করা সম্ভব হতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা।

এআইয়ের মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও পর্যটনে প্রযুক্তি ও এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিং ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন ফোগল বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে এআই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতে একজন ভ্রমণকারী এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। শুধু বিমান ও হোটেল বুকিং নয়, রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করা কিংবা গলফ খেলার সময় নির্ধারণের মতো কাজও একই ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে।

পুরোনো ট্রাভেল এজেন্টের আধুনিক বিকল্প

এ ব্যবস্থাকে পুরোনো দিনের ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন গ্লেন ফোগল। তবে তাঁর মতে, বড় পার্থক্য হলো তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতায়।

একজন ট্রাভেল এজেন্ট সাধারণত সীমিত কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করতেন। বিপরীতে এআই একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ভ্রমণকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প সাজিয়ে দিতে পারে।

এমনকি ভ্রমণের কোনো একটি অংশে পরিবর্তন এলে পুরো পরিকল্পনাটিও নতুন করে সাজিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে সময়, বাজেট কিংবা গন্তব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করাও সহজ হবে।

তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্নও

তবে পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এআই কোন গন্তব্যগুলোকে ভ্রমণকারীদের সামনে বেশি তুলে ধরবে—এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অর্থের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য, হোটেল বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এআইয়ের পরামর্শে বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুবিধা পেতে পারে। এতে পর্যটকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা প্রভাবিত হবে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের পর্যটনে শুধু তথ্য পাওয়ার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সেই তথ্য কে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোন তথ্য ভ্রমণকারীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে

পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লেন ফোগলের মতে, এআই গ্রাহকসেবা দ্রুত ও সহজ করতে পারলেও এর ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা কিছু চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি ও কল সেন্টারের মতো কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ

পর্যটনে এআইয়ের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণকারীরা যখন গন্তব্য খুঁজতে এআইনির্ভর ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবেন, তখন বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য এসব এআই ব্যবস্থায় থাকা জরুরি হয়ে উঠবে।

কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য, ছবি, যোগাযোগব্যবস্থা, থাকার জায়গা ও পর্যটন সুবিধার তথ্য সহজলভ্য করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের গন্তব্যগুলো আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তাই এআই শুধু ভ্রমণকারীর পরিকল্পনাকে সহজ করছে না, একই সঙ্গে কোন দেশ বা গন্তব্য বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে কতটা দৃশ্যমান হবে, সেই প্রতিযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ