খুঁজুন
                               
, ,
           

আর্মি সার্ভিস কোরের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা সেনাপ্রধানের, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে মতবিনিময়  

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
আর্মি সার্ভিস কোরের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা সেনাপ্রধানের, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে মতবিনিময়  

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

উচ্ছ্বাস-আনন্দের অবগাহনে গত বছরের ৫ নভেম্বর চৌকস প্যারেডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরের (এএসসি) সপ্তম ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ওই সময় তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেখতে দেখতে কেটে গেছে একটি বছর। এবার সেনাপ্রধান হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) খুলনাস্থ জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ এএসসি সেন্টার এন্ড স্কুলে এই কোরের ৪৩তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই কোরের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আর্মি সার্ভিস কোরের (এএসসি) গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য, দেশমাতৃকার সেবায় দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সক্রিয় অবদানের কথাও তুলে ধরেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দৃঢ়তা, পেশাগত দক্ষতা এবং সর্বোপরি দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনে যেকোন দায়িত্ব পালনে আর্মি সার্ভিস কোরের সকল সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এদিন সেনাপ্রধান এএসসি সেন্টার এন্ড স্কুলে এসে পৌঁছলে আর্মি  সার্ভিস কোরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। তিনি বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত আর্মি সার্ভিস কোরের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং এই কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী আর্মি সার্ভিস কোরের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আর্মি সার্ভিস কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আর্মি সার্ভিস কোরের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং কোরের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের কর্মকর্তারা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল এএসসি ইউনিটসমূহের অধিনায়করা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সংসদে গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জামায়াত’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
‘সংসদে গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জামায়াত’

সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি, চেয়ার তুলে স্পিকারের দিকে তেড়ে যাওয়াসহ কোনো ধরনের অসভ্য আচরণ করবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচিত হলে দলটির সংসদ সদস্যরা সরকারি নামমাত্র মূল্যের প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাও নেবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘জামায়াত বিট’-এর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে জামায়াত গণতান্ত্রিক, আইনসম্মত ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। ফাইল ছোড়া কিংবা স্পিকারের দিকে চেয়ার নিয়ে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ তারা করবেন না।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নামমাত্র মূল্যে সরকারি প্লট বা শুল্কমুক্ত গাড়ি—কোনোটিই তারা নেবেন না। জনগণের সেবা করতেই সংসদে যেতে চান, ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। দেশের মানুষ যখন অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে, তখন জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সংসদে এলে জামায়াত এর বিরোধিতা করবে বলেও জানান।

তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার প্রত্যাহার করছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের কোনো অদৃশ্য চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাহসের সঙ্গে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে। বাসে আগুন দেওয়া কিংবা জনজীবন অস্থিতিশীল করার রাজনীতিতে দলটি বিশ্বাস করে না।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
দল ‘নিবন্ধিত’ সংগঠন ‘অদৃশ্য’

মিরপুর ডিএইচএসের একটি বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করা হলো বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ইসির নথিতে ঠিকানাটি স্পষ্ট। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর পরিবার জানাল, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস নেই। থাকেন দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবার। দলের কার্যালয়ের বদলে ভবনটি এখন কার্যত একটি আবাসিক ঠিকানা।

  • রাজধানীতে ৮ নিবন্ধিত দলের কার্যালয়ের হদিস নেই; ৩টি তালাবদ্ধ
  • মাঠপর্যায়ে ৩৬ দলের সংগঠনের হদিস নেই
  • কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা—কার্যালয় ও কর্মীহীনতার চিত্র

মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা, সেখানেও নেই কোনো দলীয় তৎপরতা। দরজার ওপাশে রাজনৈতিক কর্মী নয়, থাকছেন ব্যাচেলর ভাড়াটেরা। পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের নামে দেওয়া ঠিকানাতেও মিলল না দলের কোনো চিহ্ন। ভবন মালিকের ভাষ্য, দলটি প্রায় এক বছর আগেই চলে গেছে।

আরও এক ধাপ এগিয়ে পুরানা পল্টনের ইশরাত টাওয়ার। ইসির নথিতে এখানে গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকার কথা। বাস্তবে নেই অফিস, নেই দলীয় কার্যক্রমও। দলের সভাপতিই বলছেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি সেখানে নেই। দলের কার্যক্রমও নেই।’ অর্থাৎ ইসির কাগজে যে ঠিকানাগুলো এখনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করছে, সরেজমিনে তার অনেকগুলোর অস্তিত্বই মিলছে না।

কোথাও অফিস নেই, কোথাও অফিস থাকলেও মাসের পর মাস তালাবদ্ধ। আবার কোনো দলের কার্যালয় এখন ব্যক্তিগত বাসা, কোনোটি আইনজীবীর চেম্বার কিংবা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক বাস্তবতা খুঁজতে গিয়ে এমনই এক অস্বস্তিকর চিত্র উঠে এসেছে।

৬০ দলের মধ্যে ঢাকাতেই ৮টির কার্যালয় নেই
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৬০টি। এর মধ্যে রাজধানীতে ইসির দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে আটটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পাওয়া যায়নি। আরও তিনটি দলের কার্যালয় থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ এই হিসাবের বাইরে।

ইসিতে নিবন্ধিত ৪৮টি দলের কার্যালয় ঘুরে, ভবন কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধনের সময় দলগুলো যে সাংগঠনিক উপস্থিতির দাবি করেছিল, তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার অনেক ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কাগজে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বাস্তবে অন্য ঠিকানা
বিএনএফের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদে তাঁদের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সেখানে আর যাওয়া হয়নি। বর্তমানে ডিওএইচএসের একটি ছোট জায়গা সভাপতির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রেস্তোরাঁ বা কারও বাসায় বৈঠক করতে হয়।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মিরপুরের ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি। দলটির প্রধান আবু লায়েস মুন্না জানিয়েছেন, অফিস এখন বন্ধ এবং পল্টন এলাকায় নতুন কার্যালয় খোঁজা হচ্ছে।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের গুলশানের ঠিকানাতেও নেই দলটির কার্যালয়। মহাসচিব শেখ রায়হান রাহবার জানিয়েছেন, মার্চের পর তাঁরা ওই অফিস ছেড়েছেন; এখনো নতুন জায়গা পাননি।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির পুরানা পল্টনের অফিসও নেই। দলের সংশ্লিষ্ট নেতার ভাষ্য, পুরোনো কার্যালয় ছেড়ে বায়তুল মোকাররমের আশপাশে নতুন অফিস নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট ঠিকানাও তিনি জানাতে পারেননি।

কোথাও সাইনবোর্ড আছে, ভেতরে নীরবতা
তৃণমূল বিএনপির ক্ষেত্রে আবার ইসির ঠিকানায় দলীয় সাইনবোর্ড রয়েছে। তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ১৬ তলায় কার্যালয় থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ। ভবনের কর্মচারী জানান, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম সেখানে হয় না; জায়গাটি মূলত ‘দ্য চ্যানচেরি চেম্বারস’ ল ফার্মের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধানমণ্ডির বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের কার্যালয়ের অবস্থাও প্রায় একই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, তিন মাসে মাত্র দুদিন কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে। বাকি সময় কার্যালয় বন্ধ থাকে।

ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কার্যালয় রয়েছে, কিন্তু সেটিও নিয়মিত খোলে না। নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের আগে সেখানে একজন নিয়মিত থাকতেন; এরপর বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুজন এলেও কার্যালয় প্রায় সবসময় বন্ধ।

মোহাম্মদপুরে বিএনএমের নামে একটি কক্ষ থাকলেও সাইনবোর্ড নেই। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর দলটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। দলটির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরও বলেছেন, এখন আর দলের কার্যক্রম নেই এবং কার্যালয়ও বন্ধ থাকে।

ঢাকার বাইরে চিত্র আরও ফ্যাকাশে
রাজধানীর বাইরের বাস্তবতা আরও দুর্বল। নিবন্ধনের সময় অন্তত ২১টি জেলা এবং ১০০টি উপজেলা বা থানায় দলীয় কার্যালয়ের তথ্য দিয়েছিল বিভিন্ন দল। কিন্তু সরেজমিনে এসব কার্যালয়ের বড় একটি অংশের অস্তিত্ব বা নিয়মিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

নড়াইলে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, বাসদ, এনপিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কার্যালয় বছরের পর বছর তালাবদ্ধ।

নিয়মিত কার্যক্রমের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দেখা যায় বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার ও এনসিপির। ঝালকাঠিতেও কয়েকটি নিবন্ধিত দলের কার্যালয় রয়েছে। তবে সব দলের সাংগঠনিক তৎপরতা সমান নয়।

নিবন্ধনের শর্ত কি শুধু কাগজেই?
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সঙ্গে সাংগঠনিক উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। অথচ নিবন্ধনের পর সেই কাঠামো বাস্তবে কতটা টিকে আছে, তা নিয়মিত যাচাইয়ের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কার্যালয় ও কার্যক্রমহীন দলকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নামের সঙ্গে সংগঠনও কি আছে?
নিবন্ধিত ৬০টি দলের সবাই যে একই অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের নিয়মিত রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান। আবার অনেক দলের কার্যক্রম সীমিত, কোনো কোনো দলের ক্ষেত্রে তা প্রায় অদৃশ্য।

তবে প্রশ্নটি থেকেই যায়—নিবন্ধনের সময় যে সাংগঠনিক কাঠামো দেখিয়ে একটি দল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল, কয়েক বছর পর সেই কাঠামোর অস্তিত্ব কোথায়? কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই, জেলা-উপজেলায় সংগঠন নেই, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমও নেই—তবু নিবন্ধন বহাল থাকছে কোন বাস্তবতার ভিত্তিতে?

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কেবল একটি নাম, প্রতীক ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রশ্ন। তাই ইসির নথিতে থাকা ঠিকানার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখা এখন আর নিছক প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও যুক্ত।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জের জবাব তদন্ত প্রতিবেদনে: শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জের জবাব তদন্ত প্রতিবেদনে: শাহে আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা তদন্ত প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যক্তি বা দলের পরিচয় বিবেচনা করে নয়, অনিয়মের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিবের অনুপস্থিতিতে বিলে সই করার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের জেরে আসিফ মাহমুদ যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তার জবাবও তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে চাইলেই গোপনীয় নথি প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার হবে।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ মাস মেয়াদি একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি, মামলা, জেল ও জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী পিরোজপুরের একটি বড় প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি খাত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বন্ধ এবং সৎ ব্যবসায়ীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস’ (পিপিআর) ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রকৌশলীদের প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কার্পেটিংয়ের পর তা টেকসই হতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মীর শাহে আলম।

কালের আলো/এমএসআইপি