খুঁজুন
                               
, ,
           

বিজিবিতে যুক্ত হলেন ৬৯৫ সদস্য, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকার বার্তা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
বিজিবিতে যুক্ত হলেন ৬৯৫ সদস্য, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকার বার্তা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’-এর ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ। নতুন বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জিং সময়টিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটিতে যুক্ত হলেন ৬৯৫ জন সদস্য। দীর্ঘ ২৩ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সমাপনী কুচকাওয়াজে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল থাকার দৃপ্ত শপথ করলেন নতুন এই সৈনিকরা।

সীমান্তের কাণ্ডারি হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাহেন্দ্রক্ষণটিতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবি এর ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)’-এর ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সে-ই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।’ নবীন সৈনিকরা এসব গুণাবলির প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বিজিবি’র চারটি মূলনীতি-‘মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা’-এ উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে বিজিবি’র ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সূচারুরূপে পালন করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব পালনে সদা জাগ্রত থাকতে আহ্বান জানান।’

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বিজিবি’র ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চলতি বছরের ৩০ জুলাই ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে সর্বমোট ৬৯৫ জন রিক্রুটের মধ্যে ৬৪৯ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন নারী রিক্রুট মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
এদিন সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মধ্য দিয়ে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণের শুরুতে তিনি বিজিবি’র সেই সকল অকুতোভয় সদস্যদের, যাঁরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বিজিবি’র ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ৮ জন বীরউত্তম, ৩২ জন বীরবিক্রম এবং ৭৮ জন বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত বীরসহ ৮১৭ জন অকুতোভয় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

উপদেষ্টা চলতি বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ‘গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিজিবি সদস্যরা ছাত্র-জনতার দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আন্দোলনে আহত ও নিহত ব্যক্তি ও পরিবারবর্গের সহায়তার ক্ষেত্রেও বিজিবি এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। আহত ছাত্র-জনতাকে নিজস্ব উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা ও তাদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা প্রদান বিজিবিকে জনমানুষের আস্থা ও ভালবাসার প্রতীকে পরিণত করেছে।’

সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে বিজিবি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে এর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।’ বিজিবি ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা এবং সীমান্তের ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচাররোধ, নারী ও শিশু পাচারসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমন এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

সীমান্তে দায়িত্ব পালনে পিঠ প্রদর্শন না করার আহ্বান
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবি’র নবীন সৈনিকদের প্রদর্শিত তেজদীপ্ত কুচকাওয়াজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি নতুন জীবনে পদার্পণের শুভলগ্নে তাদেরকে স্বাগত জানান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সৈনিকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার ওপরই বাহিনীর ভাবমূর্তি ও গৌরব নির্ভর করে।’ তাই সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিপক্ষ বাহিনীর কাছে কোনো অবস্থাতেই পিঠ প্রদর্শন না করার জন্য বিজিবির প্রতিটি সদস্যকে উদাত্ত আহ্বান জানান। দেশ মাতৃকার এক ইঞ্চি মাটিও যেন হাতছাড়া না হয় বিজিবি সদস্যরা তা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিজিবির দেয়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই দেশের মানুষের নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করবে। বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক।’

সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে প্রথম নাঈম মন্ডল
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে প্রথম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর-১৯৩ রিক্রুট (জিডি) মো. নাঈম মন্ডল এবং অন্যান্য বিষয়ে সেরা সৈনিকদের হাতে তাদের সফলতার জন্য ক্রেস্ট তুলে দেন। এরপর নবীন সৈনিকদের চৌকস দল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মাধ্যমে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষ হয়। বিজিবি’র প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং বিজিবি’র সুসজ্জিত বাদকদল মনোজ্ঞ ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।

মিয়ানমার সীমান্ত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মিয়ানমার সীমান্ত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আরাকান আর্মি নিয়ে কোনো আশঙ্কার কারণ নেই। পরিস্থিতির কারণে বন্ধু শত্রু হয়ে যায়, আবার শত্রু বন্ধু হয়ে যায়। করণীয় নিয়ে সরকার সজাগ আছে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যাতে কোনো অবস্থাতেই পিঠ নয়, বুক দেখায়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সীমান্ত হত্যার পেছনে দুই প্রান্তের খাসিয়া সম্প্রদায় দায়ী।’

কালের আলো/এমএএএমকে

তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জে ২০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আটতলা ভবন। তবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় নিজস্ব ভবনে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একটি ভাড়া বাসায় সীমিত পরিসরে চলছে কেন্দ্রটির কার্যক্রম।

শহরের হাসনগর ময়নার পয়েন্টসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে প্রায় তিন বছর ধরে চলছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে চিকিৎসাসামগ্রী, চেয়ার-টেবিল ও নথিপত্র। একটি কক্ষে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কক্ষে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে একসঙ্গে বসে কাজ করতে হচ্ছে।

একটি ছোট কক্ষে দুটি শয্যা বসিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে লেবার রুম হিসেবে। ভবনের সিঁড়ির নিচে করা হয়েছে ডিসপেনসারি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গাও নেই।

কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা, শিশু ও কিশোরীদের জন্য ২০ শয্যার চিকিৎসাসুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কক্ষ, পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটার (ওটি), কেবিন ও অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের ডিএস রোড এলাকায় কেন্দ্রটির নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৫ মে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিলেটের অধীনে আটতলা ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। দরপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

নির্মাণাধীন ভবনটির সাততলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই ও গাঁথুনির কাজ শেষ হলেও অষ্টম তলার ছাদ ও ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় পড়ে আছে বাঁশ, কাঠের তক্তাসহ নির্মাণসামগ্রী।

রোগীর স্বজন নুরুল আমিন বলেন, গুরুতর রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিলেট ও ঢাকায় যেতে হয়। এতে দরিদ্র মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো উপকৃত হতো।

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. প্রিয়াঙ্কা পাল চৌধুরী বলেন, বর্তমান ভবনে আরও কয়েকটি কক্ষ থাকলে আলাদা ওটি, পোস্ট-অপারেটিভ সেবা ও রোগীদের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা করা যেত।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। ২০২৪ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ অসমাপ্ত থাকে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নতুন ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ করা হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাবারের সংকটে পড়েছে বানর। বনের ভেতরে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় লোকালয়ে গিয়ে খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে এসব প্রাণীকে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে অপছন্দের টক ফল আনারকলিও খেতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

লাউয়াছড়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিরহরিৎ বনাঞ্চল। প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এখানে ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।

উল্লুকের জন্য বিখ্যাত লাউয়াছড়ায় চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছো বিড়াল, রাম কুকুর ও মায়া হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। তবে বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বানরের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

কমেছে বনের প্রাকৃতিক খাদ্য

বানর মূলত ফলভোজী প্রাণী। কলাসহ বিভিন্ন মিষ্টি ও নরম ফল তাদের পছন্দ। পাশাপাশি তারা পাতা, বীজ, ফুল ও পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে বনের অনেক ফলদ গাছ কমে যাওয়ায় তাদের প্রাকৃতিক খাদ্যের জোগানও কমেছে।

বন উজাড় ও বনাঞ্চলের পরিবর্তনের ফলে বানরের খাদ্যসংকট আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। খাবারের সন্ধানে অনেক সময় বানরের দল লোকালয়ে চলে আসে। লাউয়াছড়ার প্রধান প্রবেশপথেও পর্যটকদের আশপাশে নিয়মিত দেখা যায় তাদের।

পর্যটকদের খাবারের ওপর নির্ভরতা

লাউয়াছড়ায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে কলা, বাদাম, মুড়ি ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাবার পেয়ে থাকে বানরগুলো। অনেক সময় পর্যটকদের ফেলে যাওয়া খাবারও তারা সংগ্রহ করে খায়।

তবে ক্ষুধার তাড়নায় এখন তাদের টক জাতীয় পাহাড়ি ফল ট্যাং ফল বা আনারকলি খেতেও দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে টক ফল বানরের খুব একটা পছন্দ নয়। তারপরও খাদ্যসংকটের কারণে এসব ফল খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল গেটের সামনে একটি বানরকে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আনারকলি খেতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নেত্রকোনা-দুর্গাপুর সড়ক

কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেএকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেত্রকোনা ও দুর্গাপুরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ডেউটুকোন এলাকায় কংস নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ ৫০ বছরের। কিন্তু নানা উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতু। ফলে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।

নেত্রকোনা-ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কের মাঝখানে কংস নদী অবস্থিত। নদীর দুই পাশে সড়ক যোগাযোগ সচল থাকলেও সেতু না থাকায় নৌকায় নদী পার হতে হয়। নেত্রকোনা সদর থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। অথচ রাজুর বাজার হয়ে ডেউটুকোন সেতু নির্মাণ করা গেলে দুর্গাপুরের সঙ্গে দূরত্ব কমে প্রায় ২৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকেই কংস নদী পারাপারে দুর্ভোগ চলছে। বিশেষ করে রাতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে নদী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে নদী পারাপারের জন্য একটি ফেরি চালু করা হলেও সেটিও অল্পদিনের মধ্যে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে নৌকাই পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে ডেউটুকোন ঘাটে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে মাপজোখ ও টেন্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী শুধু আশ্বাসই পেয়ে আসছেন।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খারুল ইসলাম বলেন, ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। কংস নদীর ওপর সেতুটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফিজিবিলিটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডিজাইন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ড্রয়িং ও ডিজাইন শেষ হলে ডিপিপি তৈরি করে প্রকল্প জমা দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডেউটুকোন সেতুর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সার্ভেও সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেউটুকোন, সোমেশ্বরী ও বরুয়াকোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেউটুকোন সেতুটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতুটি নির্মিত হলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নেত্রকোনা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে কমবে যাতায়াতের দূরত্ব, সময় ও খরচ।

কালের আলো/এমএসআইপি