খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মা-ছেলের আবেগঘন মহামিলনের স্বাক্ষী হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
মা-ছেলের আবেগঘন মহামিলনের স্বাক্ষী হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

সাড়ে সাত বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষা। দীর্ঘ এই সময়টিতে নানা ষড়যন্ত্র ও পতিত সরকারের নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য মা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যেতে পারেননি বিদেশে। উল্টো কারাগারের অন্ধ নির্জন প্রকোষ্ঠে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে তাকে। মিথ্যা আর হয়রানিমূলক মামলার জেরে দেশে ফিরতে পারেননি ছেলে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। ছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাজ্যে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। রাষ্ট্রপতির এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল হয় আদালতে। একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা থেকে খালাস পাচ্ছেন দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি তারেক রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ১০ মিনিটে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান সিঁথিকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। মূলত তখন থেকেই মা বেগম জিয়াকে বরণ করে নিতে উন্মুখ ছিলেন তারেক রহমান। অবশেষে সূর্যের ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত সকালে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেগম জিয়া। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাকে কাছে পেলেন, স্পর্শ নিলেন সন্তান তারেক রহমান। হুইল চেয়ারে বসে থাকা মাকে জড়িয়ে ধরলেন। মাও বুকে টেনে নিলেন আত্মজকে। এ যেন এক মধুর মুহুর্ত। দু’জনেই আবেগাপ্লুত। জিয়া পরিবারের জন্য অবিস্মরণীয়-অভাবনীয় ও অনির্বচনীয় আনন্দের মুহুর্ত।

মা-ছেলের আবেগঘন এক মহামিলনের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো যুক্তরাজ্যের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দীর্ঘদিন পর শাশুড়িকে পেয়ে আবেগাপ্লুত পুত্রবধূ চিকিৎসক জুবাইদা রহমানও, যিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জীবন সংগ্রামের জীবন্ত ডায়েরি। তিনিও জড়িয়ে ধরেন শাশুড়িকে। মা-ছেলের পুনর্মিলের মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত অন্যদের নয়নেও যেন বর্ষার বারিধারা। দিনটি অবশ্যই সোনালী দিনের পাতায় জ¦লজ¦ল করে থাকবে অনন্তকাল।

যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমেই ফুলের শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার হযরত আলী খান। পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। শাশুড়ি-পুত্রবধূর মাঝে ক্ষণিক সময় ভাব বিনিময়। তারপর তারেক রহমান মায়ের হুইল চেয়ারের কাছে এসে হাঁটু গেড়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পাশেই দাঁড়িয়ে থেকে মা-ছেলের পুনর্মিলনের মাহেন্দ্রক্ষণ উপভোগ করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান সিঁথি, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ দলটির নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভিআইপি প্রটোকল দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে।

২০০৭-০৮ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খড়গ নেমে আসে জিয়া পরিবারে। খালেদা জিয়ার মত তার বড় ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে কারাগারে নির্যাতন করে পাজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান, দেশে আর ফিরতে পারেননি। এর মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু আর মায়ের কারাগারে যাওয়ার মত দু:সময়েও তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। তার মতো ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার আর কজন রাজনীতিক আছেন! যিনি কিনা স্নেহের আপন ছোটভাইয়ের লাশটি দেখার সুযোগ পাননি-তার কবরটি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলে কেবল তখনই মায়ের স্পর্শ পাওয়ার সুযোগ হতো তারেক রহমানের। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে শেষবারের মতো পেয়েছিলেন এই সুযোগ। সেবার নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছর পর হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে নিয়ে লন্ডন ক্লিনিকে নিয়ে যান তারেক রহমান। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এদিন কালো রঙের জ্বিপ গাড়িতে সামনের সিটে ছিলেন জোবাইদা রহমান। আর পেছনের সিটে ছিলেন খালেদা জিয়া ও সিঁথি। পরে সেখানে ভর্তি করেন মা খালেদা জিয়াকে।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপোসহীন সংগ্রামী বেগম খালেদা জিয়ার মতো জুলুমের শিকার নারী রাজনীতিক বিশ্বে দ্বিতীয়জনও নেই। যিনি অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। গৃহবধূ থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম করে আপোষহীন নেত্রীর উপাধি পেয়েছেন। সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার বারবার দেশত্যাগের চাপ দিলেও জনগণের কথা ভেবে দলের নেতাকর্মীদের কথা ভেবে যাননি। অথচ জীবন সায়াহ্নে চিকিৎসার বিদেশে যাওয়ার জন্য বারবার আবেদন করেও সেই অধিকারটুকু দীর্ঘকাল পাননি। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি নেত্রীর দীর্ঘ সংগ্রাম পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। কিন্তু দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের জীবনে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য বারবার অনুমতি চাইলেও তাতে সাড়া দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার।

এবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যাত্রা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয়তা যে কতটুকু তা বলে বোঝানো যাবে না। রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ সবাই উপলব্ধি করেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। গত বছরের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাদের আমন্ত্রণে দীর্ঘ সময় পর স্বশরীরে অনুষ্ঠানে যোগ দেন বেগম জিয়া। এরপর ক’দিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ