খুঁজুন
                               
, ,
           

মা-ছেলের আবেগঘন মহামিলনের স্বাক্ষী হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
মা-ছেলের আবেগঘন মহামিলনের স্বাক্ষী হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

সাড়ে সাত বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষা। দীর্ঘ এই সময়টিতে নানা ষড়যন্ত্র ও পতিত সরকারের নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য মা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যেতে পারেননি বিদেশে। উল্টো কারাগারের অন্ধ নির্জন প্রকোষ্ঠে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে তাকে। মিথ্যা আর হয়রানিমূলক মামলার জেরে দেশে ফিরতে পারেননি ছেলে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। ছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাজ্যে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। রাষ্ট্রপতির এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল হয় আদালতে। একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা থেকে খালাস পাচ্ছেন দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি তারেক রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ১০ মিনিটে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান সিঁথিকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। মূলত তখন থেকেই মা বেগম জিয়াকে বরণ করে নিতে উন্মুখ ছিলেন তারেক রহমান। অবশেষে সূর্যের ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত সকালে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেগম জিয়া। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাকে কাছে পেলেন, স্পর্শ নিলেন সন্তান তারেক রহমান। হুইল চেয়ারে বসে থাকা মাকে জড়িয়ে ধরলেন। মাও বুকে টেনে নিলেন আত্মজকে। এ যেন এক মধুর মুহুর্ত। দু’জনেই আবেগাপ্লুত। জিয়া পরিবারের জন্য অবিস্মরণীয়-অভাবনীয় ও অনির্বচনীয় আনন্দের মুহুর্ত।

মা-ছেলের আবেগঘন এক মহামিলনের স্বাক্ষী হয়ে থাকলো যুক্তরাজ্যের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দীর্ঘদিন পর শাশুড়িকে পেয়ে আবেগাপ্লুত পুত্রবধূ চিকিৎসক জুবাইদা রহমানও, যিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জীবন সংগ্রামের জীবন্ত ডায়েরি। তিনিও জড়িয়ে ধরেন শাশুড়িকে। মা-ছেলের পুনর্মিলের মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত অন্যদের নয়নেও যেন বর্ষার বারিধারা। দিনটি অবশ্যই সোনালী দিনের পাতায় জ¦লজ¦ল করে থাকবে অনন্তকাল।

যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমেই ফুলের শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার হযরত আলী খান। পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। শাশুড়ি-পুত্রবধূর মাঝে ক্ষণিক সময় ভাব বিনিময়। তারপর তারেক রহমান মায়ের হুইল চেয়ারের কাছে এসে হাঁটু গেড়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পাশেই দাঁড়িয়ে থেকে মা-ছেলের পুনর্মিলনের মাহেন্দ্রক্ষণ উপভোগ করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান সিঁথি, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ দলটির নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভিআইপি প্রটোকল দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে।

২০০৭-০৮ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খড়গ নেমে আসে জিয়া পরিবারে। খালেদা জিয়ার মত তার বড় ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে কারাগারে নির্যাতন করে পাজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান, দেশে আর ফিরতে পারেননি। এর মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু আর মায়ের কারাগারে যাওয়ার মত দু:সময়েও তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। তার মতো ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার আর কজন রাজনীতিক আছেন! যিনি কিনা স্নেহের আপন ছোটভাইয়ের লাশটি দেখার সুযোগ পাননি-তার কবরটি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলে কেবল তখনই মায়ের স্পর্শ পাওয়ার সুযোগ হতো তারেক রহমানের। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে শেষবারের মতো পেয়েছিলেন এই সুযোগ। সেবার নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছর পর হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে নিয়ে লন্ডন ক্লিনিকে নিয়ে যান তারেক রহমান। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এদিন কালো রঙের জ্বিপ গাড়িতে সামনের সিটে ছিলেন জোবাইদা রহমান। আর পেছনের সিটে ছিলেন খালেদা জিয়া ও সিঁথি। পরে সেখানে ভর্তি করেন মা খালেদা জিয়াকে।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপোসহীন সংগ্রামী বেগম খালেদা জিয়ার মতো জুলুমের শিকার নারী রাজনীতিক বিশ্বে দ্বিতীয়জনও নেই। যিনি অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। গৃহবধূ থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম করে আপোষহীন নেত্রীর উপাধি পেয়েছেন। সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার বারবার দেশত্যাগের চাপ দিলেও জনগণের কথা ভেবে দলের নেতাকর্মীদের কথা ভেবে যাননি। অথচ জীবন সায়াহ্নে চিকিৎসার বিদেশে যাওয়ার জন্য বারবার আবেদন করেও সেই অধিকারটুকু দীর্ঘকাল পাননি। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি নেত্রীর দীর্ঘ সংগ্রাম পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। কিন্তু দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের জীবনে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য বারবার অনুমতি চাইলেও তাতে সাড়া দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার।

এবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যাত্রা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয়তা যে কতটুকু তা বলে বোঝানো যাবে না। রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ সবাই উপলব্ধি করেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। গত বছরের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তাদের আমন্ত্রণে দীর্ঘ সময় পর স্বশরীরে অনুষ্ঠানে যোগ দেন বেগম জিয়া। এরপর ক’দিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিমানের ডানায় এবার ৩৫ নতুন শক্তি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
বিমানের ডানায় এবার  ৩৫ নতুন শক্তি

বহর সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজের পর এবার আরও ১০টি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার জন্য আন্তর্জাতিক আকাশে বড় পরিসরে বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন প্রজন্মের ৩৫টি উড়োজাহাজের সরবরাহ পাইপলাইন শুধু বহরের আকারই বদলাবে না, বদলে দিতে পারে বিমানের রুট নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার কাঠামোও।

  • দীর্ঘপথে এ৩৫০, মাঝারি রুটে এ৩২১নিও
  • এয়ারবাস-বোয়িংয়ের আধুনিক বহরে বাড়ছে রুট
  • সক্ষমতা ও সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সম্ভাবনা

একসঙ্গে ৩৫ নতুন উড়োজাহাজ
আগামী অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। প্রস্তাবিত বহরে থাকছে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। ২০৩৩ সাল থেকে এগুলো দেশে আসা শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সরবরাহ হওয়ার কথা।

এর আগে ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮। সব মিলিয়ে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হওয়ায় বিমানের বহর পরিকল্পনা পাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি। এটি একই সঙ্গে বহর আধুনিকীকরণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অবস্থান শক্ত করার বড় সুযোগ।

দীর্ঘপথের আকাশ খুলবে এ৩৫০-এ
চারটি এ৩৫০-৯০০ বিমানের জন্য সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার জায়গা হতে পারে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট। প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ যাত্রী বহনের সক্ষমতা এবং প্রায় ৮ হাজার ৬০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত উড়তে পারার কারণে উড়োজাহাজটি দূরবর্তী গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়াবে। সিডনি কিংবা ভবিষ্যতের নিউইয়র্ক রুটের মতো দীর্ঘপথের বাজারে এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি ও তুলনামূলক জ্বালানি দক্ষতার কারণে এ৩৫০ বিমানের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, ছয়টি এ৩২১নিও অপেক্ষাকৃত ছোট বাজারে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দেবে। দুই শ্রেণির বিন্যাসে ১৮০ থেকে ২২০ যাত্রী বহন করতে পারা এই উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী মাঝারি দূরত্বের রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

শুধু বহর নয়, বাড়বে রুটের শক্তি
বিমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রুট সম্প্রসারণে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি সিডনিতে নতুন করে ফ্লাইট চালু, জাপানে দ্বিতীয় ফ্লাইট এবং প্রয়োজনীয় অ্যাভিয়েশন অডিট সম্পন্ন হলে নিউইয়র্ক রুটে ফেরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন উড়োজাহাজ হাতে এলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি হবে। যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে বেশি চাহিদার রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে বাজারের বড় অংশ ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থাৎ নতুন বহরের মূল শক্তি শুধু উড়োজাহাজের সংখ্যা নয়; একই বহরের মধ্যে বিভিন্ন সক্ষমতার উড়োজাহাজ থাকায় রুট পরিকল্পনায়ও বাড়বে নমনীয়তা।

বোয়িং-এয়ারবাসে ভারসাম্যের বহর
বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস যুক্ত হওয়ায় বিমানের বহর আরও বৈচিত্র্যময় হবে। এর ফলে একটি নির্মাতার সরবরাহ বা অপারেশনাল সমস্যায় বিকল্প বহর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনাতেও বিভিন্ন মডেলের সক্ষমতা কাজে লাগানো যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈচিত্র্য যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ বাড়াবে। ফলে কোনো রুটে বড় উড়োজাহাজ, আবার অন্য রুটে তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসন সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

সামনে দক্ষতার বড় সুযোগ
বড় বহর পরিচালনার সঙ্গে বাড়বে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। এ৩৫০-৯০০, এ৩২১নিও, ৭৮৭-৯, ৭৮৭-১০ ও ৭৩৭-৮—নতুন পাঁচ ধরনের মডেলের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। তবে এটিকে কেবল ব্যয়ের চাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজের সঙ্গে নতুন দক্ষতা, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো এবং প্রকৌশল সক্ষমতা গড়ে উঠলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনাল শক্তিও বাড়বে। অর্থাৎ বহর সম্প্রসারণ একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে।

যাত্রী আছে, এবার সেবার পালা
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমানের সাবেক পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, দেশে বিমানযাত্রীর অভাব নেই; প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার কারণে অনেক যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্সে চলে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, নতুন উড়োজাহাজের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি।

এই জায়গাটিই বিমানের সামনে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে। দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় বাজার এবং নতুন নতুন গন্তব্যে সরাসরি যোগাযোগের চাহিদা কাজে লাগাতে পারলে নতুন বহর দ্রুতই ব্যবসায়িক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

বিনিয়োগ থেকে প্রবৃদ্ধির পথে
৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ মানে বড় বিনিয়োগ। সঙ্গে থাকবে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটি রাজস্ব বাড়ানোরও বড় সুযোগ। সঠিক রুট নির্বাচন, যাত্রী চাহিদার সঙ্গে আসন সক্ষমতার সমন্বয়, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পারলে নতুন বহর বিমানের আয় বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। বহর সম্প্রসারণ শুধু বিমানের আকারই বাড়াবে না—দেশের পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের জন্য খুলে দিতে পারে প্রবৃদ্ধির নতুন আকাশ।

কালের আলো/টিই/এমকে

এক জমিতে মাছ-সবজি চাষ, বদলে গেছে ওয়ালি উল্লাহর সংসার

হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
এক জমিতে মাছ-সবজি চাষ, বদলে গেছে ওয়ালি উল্লাহর সংসার

কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামে অল্প জমিতে সমন্বিত চাষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. ওয়ালি উল্লাহ। ১৬ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমিতে বিষমুক্ত শাকসবজি চাষ করছেন তিনি। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কমেছে দৈনন্দিন বাজার খরচ।

ওয়ালি উল্লাহর বাড়ির দক্ষিণ পাশে তৈরি করা পুকুরে কার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও বাটা প্রজাতির প্রায় চার হাজার পোনা রয়েছে। নিয়মিত সম্পূরক খাবার দেওয়ায় মাছগুলো বর্তমানে প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। পুকুরের মাছের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঝেমধ্যে কিছু মাছ ধরেও পরিবারের চাহিদা মেটান তিনি।

পুকুরের পাড়ের খালি জায়গাও ফেলে রাখেননি ওয়ালি উল্লাহ। সেখানে লাউ, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, শিম, বেগুন, পুঁইশাক ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। পাশাপাশি পেঁপে, আম ও কলার চারাও লাগিয়েছেন। পুকুরসংলগ্ন প্রায় এক বিঘা জমিতেও রয়েছে বিভিন্ন সবজির বাগান।

ওয়ালি উল্লাহ জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি সমন্বিত পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষ করছেন। এতে পরিবারের আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজার খরচও অনেক কমেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ওয়ালি উল্লাহর উদ্যোগটি অনুকরণীয়। অল্প জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে এমন সমন্বিত চাষ অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ওয়ালি উল্লাহর সমন্বিত চাষ নিরাপদ খাদ্য ও সবজি উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করবে। তাকে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের সবজি চাষে সহযোগিতা এবং সরকারি কৃষক কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ১৬ শতাংশ পুকুরে মাছ চাষের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে ভালো ফলনের জন্য পুকুরের আয়তন অনুযায়ী মাছের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি। এ বিষয়ে ওয়ালি উল্লাহকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

নতুন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষেরও নজর কাড়ছে তার এই সমন্বিত খামার। অল্প জমিতে পরিকল্পিতভাবে মাছ, সবজি ও ফল চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি ও সাশ্রয়ের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় একটি কৃষি মডেল গড়ে তুলেছেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে বাধা, নিন্দা জানালেন আসিফ নজরুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে বাধা, নিন্দা জানালেন আসিফ নজরুল

শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কোনো নিষিদ্ধ বই নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বইটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি বিক্রয়ে বাধা দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, বইটি বিক্রয়ে বাধা দেওয়া, প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মীকে তুলে নেওয়া বেআইনি ও অপরাধমূলক কাজ।
এ বিষয়ে সরকারের উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, শেখ হাসিনার আমলে এভাবে বই বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং বই নিষিদ্ধ করার বহু ঘটনা ঘটেছে। তখন এসব ঘটনার প্রতিবাদ করা হয়েছিল। এখন একই ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনাকেই অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি