খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

ক্ষমতা বাড়বে রাষ্ট্রপতির কমবে প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমতা বাড়বে রাষ্ট্রপতির কমবে প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:

আর থাকছে না প্রধানমন্ত্রীর সর্বময় ক্ষমতা। বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একচেটিয়া ক্ষমতাও হারাবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দলীয়প্রধান ও সংসদ নেতা হতে না পারলে ক্ষমতাসীন দল এবং সংসদে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ হারাবেন প্রধানমন্ত্রী।

ইতোমধ্যেই সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রশ্নে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো এবং অংশীজনদের অবশ্য এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে কীভাবে সেই ক্ষমতার ভারসাম্য আনা যাবে এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে যাচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই সংলাপ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে উপায় বের করার প্রচেষ্টা থাকবে।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয় বাংলাদেশে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করেন শেখ মুজিবুর রহমান। একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ- আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন হলে রাষ্ট্রপতির সব ক্ষমতা চলে যায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া কিছুই রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে চলতে হয়। ৫৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় দলের সমর্থিত নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগে রাষ্ট্রপতি বাধ্য।

এখন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করতে হয়। সংবিধানের এই জায়গায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। কিছু সাংবিধানিক পদে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার কথা বলেছে তারা। এসব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হবে না। গত ১৫ জানুয়ারি নিজেদের সুপারিশের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে সংবিধান সংস্কার কমিশন। সেখানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, কমিশন রাষ্ট্রপতির কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা সুপারিশ করছে। এই বিশেষ কার্যাবলি বা সংবিধানে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।

সংবিধান সংস্কার কমিশন সূত্র জানায়, তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদনে বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ চলছে। এরপর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। কমবে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা।

জানা যায়, ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। এ পদের মেয়াদ রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। ১৩৮ (১) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সরকারি কর্ম-কমিশনের (পিএসসি) সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের, ১২৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। স্পিকারের নেতৃত্বাধীন বাছাই কমিটির মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। বাছাই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী এবং সরকারের বিভিন্ন কমিশন এবং সংস্থার কর্মকর্তারা। ফলে এসব নিয়োগও হয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়।

তা রোধে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের কাউন্সিলের সদস্য হবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, নিম্ন ও উচ্চকক্ষের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধী দল মনোনীত দুই কক্ষের ডেপুটি স্পিকার, সংসদের অন্যান্য দল থেকে একজন সদস্য। এনসিসির পাঠানো নাম থেকে নির্বাচন কমিশনার, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার, অ্যাটর্নি জেনারেল, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

২০১৮ সালে প্রণীত ‘প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগ’ আইনানুযায়ী সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর প্রধান নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে এসব নিয়োগও আসলে হয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়। সশস্ত্র বাহিনীতে প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধান প্রস্তাবিত এনসিসির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। অন্যান্য নিয়োগেও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে এনসিসির সুপারিশে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য বিভাগ নির্বাহীর অধীনে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী প্রধান। তাঁর হাতে নির্বাহী বিভাগের নিয়োগের ক্ষমতা না থাকলে কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন– এ প্রশ্নে কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, এগুলো শুধু সুপারিশ। সাংবিধানিক পদে নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী একচ্ছত্র না থাকলেও নির্বাহী বিভাগে থাকবে।

বিএনপির ৩১ দফায় ক্ষমতার ভারসাম্য তথা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীকে একেবারেই ক্ষমতাহীন করাকে সমর্থন করছে না দলটি। তবে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা কমানোর পক্ষে। দল দুটির নেতারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেননি। সুপারিশ পর্যালোচনা ছাড়া তাঁরা কোন কথা বলতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রস্তাব দিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আপাতদৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছুটা বাড়বে। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে কতটা কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় থাকে। কারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে। তবে সংবিধান সংস্কার কমিশন যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির কথা বলেছে, সেটা বাস্তবায়িত হলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

কালের আলো/এমএসএকে/এমকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম