খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

পদের প্রভাবে আইনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন তুরিন 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
পদের প্রভাবে আইনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন তুরিন 

কালের আলো রিপোর্ট:

আলোচিত থেকে হয়েছেন চরম বিতর্কিত। একসময় ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দাপুটে প্রসিকিউটর। ২০১০ সালে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে তিনি প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পান ২০১৩ সালে। পরবর্তীকালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা গোলাম আযমের মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আলোচনায় আসেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিজের মাকে কারাগারে পর্যন্ত পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। মূলত পদের প্রভাবে বারবার আইনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন তিনি। নিজের স্বার্থের বাইরে গেলে দেখাতেন মামলা-মোকদ্দমার ভয়। টাকা কামাতে প্রথিতযশা ব্যক্তিদেরও করতেন ব্ল্যাকমেইল।

কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। গত ৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। মঙ্গলবার তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত।

জানা যায়, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম হাতিয়ার ছিলেন তুরিন। সেই সুবাদে ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পান তিনি। আর দায়িত্ব নিয়েই জড়িয়ে পড়েন একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে থাকলেও অর্থের কাছে হার মানেন এই ব্যারিস্টার। কয়েক কোটি টাকার লোভে গোপনেই দেখা করেন যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে।

ওয়াহিদুল ছিলেন এনএসআই ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে হওয়া একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে তুরিনের কাঁধে। অনৈতিকভাবে ওয়াহিদুলের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ২০১৮ সালের মে মাসে তুরিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালের সব মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদটিও খোয়ান তিনি। মূলত নানান অপকর্মের কারণেই তাকে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ গ্রেফতারের পর ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলেই চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন’ বলে আদালতকে জানান ‘ধূর্ত’ এই আইনজীবী।

আইনজীবী মনোয়ার পাটোয়ারী বলেন, ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ওয়াহিদুল হকের মোবাইলে যোগাযোগ করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে বলে দেখা করতে চেয়েছেন তিনি। তবে দেখা না করলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির হুমকি দেন তিনি। ওই সাক্ষাতে ঘুষের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তুরিন। তার এমন আচরণ একেবারেই অপেশাদার ছিল। মূলত মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওয়াহিদুলকে বাঁচাতে চেয়েছেন তিনি। এক কথায় টাকার জন্য যেকোনো কাজই করতেন তুরিন।

এরপর হঠাৎই সামনে আসে তার পারিবারিক কেলেঙ্কারি। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিজের মাকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে এ আইনজীবীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে জন্মদাতা মাকে বাড়ি থেকেও বের করে দেন তিনি। এমনকি নিজের মাকে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তুরিনের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তার মা সামসুন নাহার তসলিম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উত্তরায় আমার নিজের বাড়িতে আমি থাকতে পারছি না। আমাকে বের করে দিয়েছে। আমি এ বাড়ি ও বাড়ি, ভয়ে ভয়ে থাকি। যেখানেই থাকি সে (তুরিন) খবর পেলেই সেখানে লোকজন পাঠায়।

ওইদিন সামসুন নাহার তসলিম আরও বলেন, ও আগে ভালোই ছিল। কিন্তু আমার বাবা (তুরিনের নানা) মারা যাওয়ার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলো। থানা পুলিশের ভয় দেখায়, আমি তো একা থাকি, আমি বাধ্য হয়েছি এখান থেকে চলে যেতে। শুধু এখানেই নয়, নীলফামারীতে আমার গ্রামের বাড়ি, সেখানেও আমাকে নিষিদ্ধ করেছে। আমি যেন এলাকায় যেতে না পারি সে সন্ত্রাসীর ভয় দেখায়। আমাকে জামায়াতের রোকন বানিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছে। অথচ জামায়াতের সঙ্গে কোনোদিন আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

তখনকার সময়ে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীসহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করে আলোচনায় চলে আসেন এ আইনজীবী। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রভাবশালী দুই আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ ছিল তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে। এরপরই ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে অনৈতিকভাবে আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ তদন্তের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়। ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন তুরিন আফরোজ। তবে দল তাতে সাড়া দেয়নি।

ইসলামপন্থি রাজনীতিতে অর্থায়ন ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ এনে ১১৬ জন ধর্মীয় বক্তার একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেয় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত তথাকথিত গণকমিশন।

২০২২ সালের ১১ মে দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার হাতে এ তালিকা তুলে দেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির গণকমিশনের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক (বর্তমানে কারাবন্দি)। সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এতে এক হাজার মাদরাসা ও ১১৬ জন ধর্মব্যবসায়ী বা ওয়াজকারী সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়। যা সেসময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

কালের আলো/এমএএইচএন

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩০ মে) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পাশাপাশি সরকার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আসা-যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে তারা নিজেদের অপমানিত বোধ করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। পরে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে। এরপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের একটি ভবনে অবৈধ বিস্কুট কারখানা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টাফ নার্সদের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।

একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে টাইমস অফ বাংলাদেশ স্টাফ রির্পোটার কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন আহত, বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

তিনি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছকে বাঁধা নয় মোটেও। সবার উর্ধ্বে দায়িত্ব ও মানবিকতাকে স্থান দিয়ে মন্ত্রীত্বের পুরাতন সব রীতি ভেঙে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সব সময় নিজ নির্বাচনী এলাকার ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে মানুষের কাছাকাছি তিনি। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের এই সংসদ সদস্য এলাকার সাধারণ মানুষের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজের কাঁধেই তিনি লাশ বহন করেছেন। দাফন কাজে নিজের সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি কবরে শায়িত করতে নেমে গেছেন। প্রকৃত মনুষ্যত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দু’মাস। এ সময়ে নিজ কাঁধে খাটিয়া বহন করে দুটি মরদেহ দাফন কাজে অংশ নিয়ে অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রথমটি উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ২৭ মার্চ। অন্যটি গত ২৯ মে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায়। প্রটোকলের চিরায়ত প্রথা ভেঙেছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায় মরহুম আব্দুল হামিদের জানাজায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার সময় তিনি নিজ কাঁধে খাটিয়া তুলে নেন এবং অন্যদের সঙ্গে মরদেহ বহন করেন। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে নিজেই কবরে নেমে পড়েন। মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মৃতের স্বজনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিকতা ও উদারতা অপার বিস্ময়ে উপভোগ করলেন। মুহুর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়লো সোশ্যাল হ্যাণ্ডেলে। নেটিজেনরা সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অনন্য মানবিকবোধ নিয়ে মেতে উঠলেন প্রশংসায়। কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই তার এই প্রতিমন্ত্রীও অতি সাধারণ। যোগ্য ব্যক্তিই ক্যাবিনেটে স্থান পেয়েছে।’

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে সবাই অভিভূত। অতীতে কোন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে দেখেনি মানুষ। জনতার নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি তার এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নান্দাইলবাসীর কাছে এক বিমুগ্ধ বিস্ময়।

স্থানীয়রা বলছেন, এখনও অনেক রাজনীতিকের ভেতরে দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আছে। মনুষ্যত্ববোধ যে টিকে আছে তার বড় এক উদাহরণ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই মানবিকবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

কালের আলো/এমএএএমকে