খুঁজুন
                               
, ,
           

নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের পরিবারে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর অনবদ্য প্রয়াস বিএসসি’র, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটির জন্যও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫, ১০:২০ অপরাহ্ণ
নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের পরিবারে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর অনবদ্য প্রয়াস বিএসসি’র, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটির জন্যও

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলাম, দৈনিক ভিত্তিক ফিটার হারুন অর রশিদ ও মো. সাদিক মিয়া। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন তাঁরা। জীবন জয়ের দুয়ারে এসে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর এম.টি বাংলার জ্যোতি ও এম.টি বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নি দুর্ঘটনায় চিরতরে নিভে যায় তাদের প্রাণ প্রদীপ। সঙ্গে সঙ্গে ধূলিসাৎ হয় চার পরিবারের সুখের মুখ দেখার তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের পাহাড়। সহকর্মীদের হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনেও। আজও তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত চিরপ্রস্থানের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। স্বজন হারানোর বেদনায় ডুকরে কাঁদে তাঁরা।

পরিবারের উপার্জনক্ষম এসব ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। দুর্ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রাথমিকভাবে চারটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কিন্তু দুর্মূল্যের বাজারে সংযমী হয়েও এই টাকায় জীবন-সংসার পরিচালনা অসম্ভবই বটে! ধূসর স্বপ্নগুলোকে তাই রাঙিয়ে; ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিক সদিচ্ছার প্রাবল্যেই আর্থিক সহায়তার চিরায়ত প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর নতুন এক প্রয়াস গ্রহণ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন এর সার্বভৌম মানবিক মানসিকতায় জাহাজ দুটিতে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা করে চারটি পরিবারকে মোট এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএসসিকে একটি অখণ্ড পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক এর সৌম্য ও হৃদয়বান মানসিকতাও মোটাদাগে প্রতীয়মান হয়েছে। পরিবারগুলোর সদস্যরা যাদের হারিয়েছেন, তাঁরা ফিরবে না আর কোনদিন। প্রিয়জনের জন্য বুকের ভেতর স্বভাবতই মোচড় দিয়ে ওঠে স্বজনদের। চোখের কোণ জল ঝলমল করলেও সংবিৎ ফিরে পেতেই ফিক করে সামান্যতম স্বস্তির আভাস! আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্বজনদের কাছে বিএসসি’র এই সহায়তা এখন বেঁচে থাকার বড় এক অবলম্বন।

ওদের জীবনে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে এখন উজ্জ্বল রোদ্দুর, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটিতেও
মঙ্গলবার (২০ মে) বেলা ১২টায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি নিহত পরিবারের সদস্যদের জীবনের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ তাড়িয়ে সন্ধান দিয়েছে উজ্জ্বল রোদ্দুরের। মনচৈতন্যে বিরহ ছায়া ফেললেও তাদের চোখেমুখে ঝলমল করেছে আনন্দ। তাঁরা নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও বিএসসি’র এমডি’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন ছাড়াও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রয়াত হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তার কণা কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জীবন থেকে সব আনন্দ হারিয়ে গেছে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার এক জীবন আমাদের। আলহামদুলিল্লাহ দারিদ্র্যের কশাঘাতের জীবনে বিএসসি’র এই সহায়তা আমাদের জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাঁরা আমাকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরিরও ব্যবস্থা করেছে।’

ঠিক পাশের আসনে বসে থাকা প্রয়াত ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহার বাবা মানিক সাহা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসি’র কাছে অনুরোধ ছিল আমাদের জন্য চলার মতো সহায়তা করা হয়। তাঁরা আমাদের কথা দিয়েছিলেন আমাদের পাশে থাকবেন। তাঁরা কথা রেখেছেন। তাদের এই সহায়তা আমাদের অসহায় জীবন-যাপনের যন্ত্রণা লাঘবে সহায়তা করবে।’

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এম.টি বাংলার জ্যোতি জাহাজ ডলফিন জেটিতে অবস্থানকালে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করপোরেশনের ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলাম, দৈনিক ভিত্তিক ফিটার হারুন অর রশিদ নিহত হন। একই বছরের ৫ অক্টোবর এম.টি বাংলার সৌরভ জাহাজের অগ্নি দুর্ঘটনায় মো. সাদিক মিয়া আহত হওয়ার পর চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতদের পরিবারকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিয়ে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের কর্মসংস্থান ও পড়ালেখার বিষয়েও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সহযোগিতা করছে। তাছাড়া এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বিএসসি মেরিন কমিউনিটির জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে।’

বিএসসি সরকারের একটি লাভজনক সংস্থা, দুটি এলএনজি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা
দ্রুত বিকশিত হচ্ছে বাংলাদেশের শিপিং খাত। এই সময়টিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরের সক্ষমতাও বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের শিপিং শিল্পে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে দক্ষ নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি। চেষ্টা চলছে বিএসসি’র জাহাজের বহর আরও বড় করার। শুধু তাই নয় গত ৫৩ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফা আয়ের একটি বিরল রেকর্ডও গড়েছে তাঁরা। গত বছরের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে। একই সঙ্গে শেয়ার হোল্ডারদের বদৌলতে সরকারকে পৌঁনে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত দিয়ে নিজেদের সক্ষমতারও পরিচয় দিয়েছে বিএসসি। অতীতে বাংলাদেশের সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন নজির নেই। স্বভাবতই এই ধরনের ঘটনাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এজন্যই বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএসসি মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের শিপিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও লাভজনক করতে দুটি এলএনজি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ছাড়া তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে পর্যটকসহ ১৪০০ এর বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে আসছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পানির উচ্চতা বেশি বেড়ে গেলে ভাটির দিকে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে আশেপাশের বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু নেপালেই নয়, তিব্বতেও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে বাঁধ দিয়ে অবরুদ্ধ একটি হ্রদে আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ থাকতে পারে। এতে করে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলার সহায়তা বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর পৃথক অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য ও দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনিমেল মেডিসিন, খাবার, শ্যাম্পু, মেহেদি, চা পাতা ও জিরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীন সিন্দুরখান বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সীমান্ত পিলার ১৯৪৬-এম থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গান্ধীছড়া চা-বাগান এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় এনিমেল মেডিসিন, খাবার ও শ্যাম্পুসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

অন্য একটি অভিযানে নির্দিষ্ট একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ভারতীয় অবৈধ পণ্য পরিবহনের তথ্য পায় বিজিবি। এর ভিত্তিতে বিজিবির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অবস্থান নেয়।

এ সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তল্লাশি করে মাছের খাবারের বস্তার মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চা পাতা, কাবেরী মেহেদি ও জিরা পাওয়া যায়। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্য ও যানবাহন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে এলো কাতার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার দায়িত্ব এতদিন অনেকটা এককভাবেই পালন করে এসেছে পাকিস্তান। এবার পাকিস্তানের পাশাপাশি এই ভূমিকায় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারও।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে গিয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা-সংলাপ চালিয়ে যেতে আর আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত-বিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে আর কথা বলতে চাই না। (ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে) বৈঠক কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছুর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

তবে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন. “আমরা চাই, ইরান একটি ফলপ্রসূ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিক। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই অর্থনৈতিক অভিযান চলবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেই অভিযান থেকে সূত্রপাত হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস পেরিয়েছে যুদ্ধের। এতদিন মার্কিন এবং ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযান-পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় দু’টি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে, আবার সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে পরস্পরকে লক্ষ্য করে অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তবে ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দেশটির অর্থনীতির ওপর সীমাহীন চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন।

এমন পরিস্থিতিতেই তেহরান সফর করলেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারের প্রধামন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুলরহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার চার দিন পর তেহরানে পৌঁছে দেশটির শীর্ষ আলোচক এবং ক্ষমতসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং সে বৈঠকে ইরানকে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আল-থানির এ আহ্বানের উত্তরে ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তেহরান ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।

আল-থানি এবং ঘালিবাফের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িও ছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরান শিগগিরই হরমুজ প্রনালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়— তাহলে ইরানের হরমুজ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই তা শুরু করতে হবে।

আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা পরিচালনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ