খুঁজুন
                               
, ,
           

নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের পরিবারে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর অনবদ্য প্রয়াস বিএসসি’র, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটির জন্যও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫, ১০:২০ অপরাহ্ণ
নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের পরিবারে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর অনবদ্য প্রয়াস বিএসসি’র, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটির জন্যও

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলাম, দৈনিক ভিত্তিক ফিটার হারুন অর রশিদ ও মো. সাদিক মিয়া। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন তাঁরা। জীবন জয়ের দুয়ারে এসে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর এম.টি বাংলার জ্যোতি ও এম.টি বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নি দুর্ঘটনায় চিরতরে নিভে যায় তাদের প্রাণ প্রদীপ। সঙ্গে সঙ্গে ধূলিসাৎ হয় চার পরিবারের সুখের মুখ দেখার তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের পাহাড়। সহকর্মীদের হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনেও। আজও তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত চিরপ্রস্থানের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। স্বজন হারানোর বেদনায় ডুকরে কাঁদে তাঁরা।

পরিবারের উপার্জনক্ষম এসব ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। দুর্ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রাথমিকভাবে চারটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কিন্তু দুর্মূল্যের বাজারে সংযমী হয়েও এই টাকায় জীবন-সংসার পরিচালনা অসম্ভবই বটে! ধূসর স্বপ্নগুলোকে তাই রাঙিয়ে; ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিক সদিচ্ছার প্রাবল্যেই আর্থিক সহায়তার চিরায়ত প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর নতুন এক প্রয়াস গ্রহণ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন এর সার্বভৌম মানবিক মানসিকতায় জাহাজ দুটিতে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা করে চারটি পরিবারকে মোট এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএসসিকে একটি অখণ্ড পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক এর সৌম্য ও হৃদয়বান মানসিকতাও মোটাদাগে প্রতীয়মান হয়েছে। পরিবারগুলোর সদস্যরা যাদের হারিয়েছেন, তাঁরা ফিরবে না আর কোনদিন। প্রিয়জনের জন্য বুকের ভেতর স্বভাবতই মোচড় দিয়ে ওঠে স্বজনদের। চোখের কোণ জল ঝলমল করলেও সংবিৎ ফিরে পেতেই ফিক করে সামান্যতম স্বস্তির আভাস! আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্বজনদের কাছে বিএসসি’র এই সহায়তা এখন বেঁচে থাকার বড় এক অবলম্বন।

ওদের জীবনে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে এখন উজ্জ্বল রোদ্দুর, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটিতেও
মঙ্গলবার (২০ মে) বেলা ১২টায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি নিহত পরিবারের সদস্যদের জীবনের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ তাড়িয়ে সন্ধান দিয়েছে উজ্জ্বল রোদ্দুরের। মনচৈতন্যে বিরহ ছায়া ফেললেও তাদের চোখেমুখে ঝলমল করেছে আনন্দ। তাঁরা নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও বিএসসি’র এমডি’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন ছাড়াও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রয়াত হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তার কণা কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জীবন থেকে সব আনন্দ হারিয়ে গেছে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার এক জীবন আমাদের। আলহামদুলিল্লাহ দারিদ্র্যের কশাঘাতের জীবনে বিএসসি’র এই সহায়তা আমাদের জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাঁরা আমাকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরিরও ব্যবস্থা করেছে।’

ঠিক পাশের আসনে বসে থাকা প্রয়াত ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহার বাবা মানিক সাহা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসি’র কাছে অনুরোধ ছিল আমাদের জন্য চলার মতো সহায়তা করা হয়। তাঁরা আমাদের কথা দিয়েছিলেন আমাদের পাশে থাকবেন। তাঁরা কথা রেখেছেন। তাদের এই সহায়তা আমাদের অসহায় জীবন-যাপনের যন্ত্রণা লাঘবে সহায়তা করবে।’

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এম.টি বাংলার জ্যোতি জাহাজ ডলফিন জেটিতে অবস্থানকালে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করপোরেশনের ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলাম, দৈনিক ভিত্তিক ফিটার হারুন অর রশিদ নিহত হন। একই বছরের ৫ অক্টোবর এম.টি বাংলার সৌরভ জাহাজের অগ্নি দুর্ঘটনায় মো. সাদিক মিয়া আহত হওয়ার পর চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতদের পরিবারকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিয়ে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের কর্মসংস্থান ও পড়ালেখার বিষয়েও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সহযোগিতা করছে। তাছাড়া এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বিএসসি মেরিন কমিউনিটির জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে।’

বিএসসি সরকারের একটি লাভজনক সংস্থা, দুটি এলএনজি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা
দ্রুত বিকশিত হচ্ছে বাংলাদেশের শিপিং খাত। এই সময়টিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরের সক্ষমতাও বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের শিপিং শিল্পে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে দক্ষ নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি। চেষ্টা চলছে বিএসসি’র জাহাজের বহর আরও বড় করার। শুধু তাই নয় গত ৫৩ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফা আয়ের একটি বিরল রেকর্ডও গড়েছে তাঁরা। গত বছরের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে। একই সঙ্গে শেয়ার হোল্ডারদের বদৌলতে সরকারকে পৌঁনে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত দিয়ে নিজেদের সক্ষমতারও পরিচয় দিয়েছে বিএসসি। অতীতে বাংলাদেশের সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন নজির নেই। স্বভাবতই এই ধরনের ঘটনাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এজন্যই বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএসসি মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের শিপিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও লাভজনক করতে দুটি এলএনজি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

১৪ বছর বয়সেই শুনেছিলেন মা হতে পারবেন না

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
১৪ বছর বয়সেই শুনেছিলেন মা হতে পারবেন না

দক্ষিণী ও বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে দীর্ঘ এক কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে যখন কৈশোরের স্বাভাবিক সময় কাটানোর কথা, তখনই তাকে শুনতে হয়েছিল এক কঠিন কথা—ভবিষ্যতে হয়তো তিনি মা হতে পারবেন না।

ডিম্বাশয়ের জটিলতা পিসিওএস (PCOS) শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই গর্ভধারণ নিয়ে মানসিক চাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন শ্রুতি। ৪০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও মাতৃত্বের ইচ্ছা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

কৈশোরেই শুনেছিলেন কঠিন কথা

শ্রুতি জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার পিসিওএস ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন ধারণা পেয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে তার মা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। বছরের পর বছর তিনি ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জীবনে কখনোই মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না।

চিকিৎসকের পরামর্শে বদলে গেল ধারণা

সম্প্রতি বিখ্যাত গাইনোকোলজিস্ট ড. ধ্রুপতি দেধিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করেন শ্রুতি। সেখানেই দীর্ঘদিনের ভয় ও ভুল ধারণা অনেকটাই কেটে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে বুঝিয়েছেন যে পিসিওএস থাকা মানেই মাতৃত্বের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের পথ খোঁজা সম্ভব।

চিকিৎসকের ইতিবাচক পরামর্শ শ্রুতির মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসক তাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে বলেছেন।

‘যখন প্রস্তুত হব, উপায় খুঁজে বের করব’

মাতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শ্রুতি বলেন, তিনি শুধু একজন মা হতে চান। সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে জৈবিক ও দত্তক—দুই পথের প্রতিই তার ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

তার মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তায় নিজের সন্তান নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি সেটি চেষ্টা করে দেখতে চান। তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে দত্তক নেওয়ার বিষয়েও তার আপত্তি নেই।

অর্থাৎ, তার কাছে মাতৃত্বের মূল বিষয় হলো একটি শিশুকে ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে বড় করে তোলা।

বয়স নিয়ে বদলেছে ভাবনা

মাতৃত্বের ক্ষেত্রে বয়স যে সবসময় একমাত্র বাধা নয়, সেটিও এখন নতুন করে উপলব্ধি করছেন শ্রুতি। এ প্রসঙ্গে হলিউড অভিনেত্রী ক্যামেরন ডায়াজের ৫৩ বছর বয়সে মা হওয়ার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন তিনি।

শ্রুতির বক্তব্য, সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থাকলে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়েই মাতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবা যায়।

পিসিওএস নিয়ে খোলামেলা শ্রুতি

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে পিসিওএসের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন শ্রুতি হাসান। তার এই খোলামেলা বক্তব্যের মাধ্যমে পিসিওএস নিয়ে প্রচলিত ভয় ও ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কৈশোরে এমন একটি রোগ শনাক্ত হওয়ার পর কীভাবে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি।

মাতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের ভয় কাটিয়ে বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে আশাবাদী শ্রুতি। তার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিকমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

‘লোকে বলে’ থেকে ‘লজ্জা’, নতুন রূপে নুসরাত ফারিয়া

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
‘লোকে বলে’ থেকে ‘লজ্জা’, নতুন রূপে নুসরাত ফারিয়া

অভিনয় থেকে শুরু করে গ্ল্যামার, উপস্থাপনা, গায়কি কিংবা আইটেম গানের নাচ—সব ক্ষেত্রেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। বাংলাদেশ ও ভারতের বৃহত্তর বাঙালি দর্শকের কাছেও রয়েছে তার পরিচিতি। সম্প্রতি তার নতুন গান ‘লোকে বলে’ প্রকাশের পর প্রশংসিত হয়েছে মিউজিক ভিডিওটি। অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও নতুন চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী।

তার নতুন গান, চলচ্চিত্র ও অভিনয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন পান্থ আফজাল।

‘লোকে বলে’ নিয়েই এখনো মুগ্ধ নুসরাত

নতুন গান ‘লোকে বলে’ প্রকাশের পর থেকেই দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া। গানটির সাড়া নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, এখনো তিনি গানটির মেজাজেই রয়েছেন।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে তার জন্মদিন ছিল। কাছের মানুষদের অনেকেই ‘লোকে বলে’ গানটি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিষয়টি তার কাছে বিশেষ পাওয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নুসরাত বলেন, নতুন গান নিয়ে এখনই তাড়াহুড়া করতে চান না। আরও কিছুদিন ‘লোকে বলে’ উপভোগ করতে চান। তবে সামনের পূজায় নতুন কোনো ধামাকা নিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সে জন্য তার গানের ভক্তদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

‘ট্রাইব্যুনাল’ থেকে কেন সরে গেলেন?

নুসরাত ফারিয়ার অভিনয়ের কথা ছিল ‘ট্রাইব্যুনাল’ চলচ্চিত্রে। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে অভিনেত্রী জানান, এর পেছনে কোনো বড় বা সমালোচনামূলক কারণ নেই।

চলচ্চিত্রটির গল্প ও চরিত্র দুটিই তার পছন্দ হয়েছিল। বিদেশফেরত এক তরুণী ব্যারিস্টারের চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল তার। একটি মামলা নিয়ে কাজ করতে দেশে ফিরে আসা সেই ব্যারিস্টারের চরিত্রটি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিতও ছিলেন তিনি।

তবে শুটিংয়ের শিডিউলসহ কিছু জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। তাই নিজেই চলচ্চিত্রটি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান নুসরাত।

‘লজ্জা’র জন্য নিয়েছেন মিলিটারি ট্রেনিং

নতুন চলচ্চিত্র ‘লজ্জা’ নিয়ে বেশ প্রস্তুতি নিচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া। সিনেমাটির চরিত্রের জন্য ইতোমধ্যে মিলিটারি ট্রেনিং নিয়েছেন তিনি। শুধু প্রশিক্ষণই নয়, চরিত্রটিকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আরও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

নুসরাত জানান, ‘লজ্জা’ কিছুটা ভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র। আগামী বছরের ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তাই সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ ছিল পুরোপুরি বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র। পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা জিৎ-এর সঙ্গে অভিনয় করা সেই সিনেমায় ছিল বিনোদনের নানা উপাদান।

তবে ‘লজ্জা’ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের গল্পের সিনেমা বলে জানান নুসরাত। তার প্রত্যাশা, দর্শক এখানে তাকে নতুনভাবে দেখতে পাবেন।

উচ্চতা নিয়ে শুটিংয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি

নুসরাত ফারিয়ার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির কিছু বেশি। নিজের উচ্চতা প্রসঙ্গে মজা করে তিনি নিজেকে ‘টিনি-টিনি-প্রিটি বাংলাদেশি মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শুটিং, অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন শোতে অনেক সময় উচ্চতা বাড়াতে হিল পরতে হয় তাকে। তবে আরামদায়ক ও ভালো মানের জুতা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন বলে জানান তিনি।

চরিত্র ও শুটিংয়ের প্রয়োজনে পোশাক, চুল, জুতা এবং লুক—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয় একজন অভিনেত্রীকে। এটিকে অভিনয়জগতের বাস্তবতা হিসেবেই দেখেন নুসরাত।

আরিফিন শুভর সঙ্গে শুটিংয়ে ৫ ইঞ্চি হিল!

উচ্চতা নিয়ে তার ক্যারিয়ারের একটি মজার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৬ সালে ‘প্রেমী ও প্রেমী’ চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছিল বান্দরবানে। সিনেমাটিতে নুসরাতের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন আরিফিন শুভ।

শুটিং হয়েছিল পাহাড়ি এলাকায়। শুভর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ১ ইঞ্চি হওয়ায় তার কাছাকাছি উচ্চতায় যেতে নুসরাতকে প্রায় ৫ ইঞ্চি হিল পরতে হয়েছিল।

প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে তাকে একটু বেশি উচ্চতার জুতা দেওয়া হয়েছিল। সেই জুতা পরেই শুটিং শেষ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই অভিজ্ঞতা এখনো তার কাছে বেশ স্মরণীয়।

‘ভাইরাল’ হওয়ার পেছনে ছুটতে চান না

নুসরাত ফারিয়া যা করেন, সেটিই অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। তবে নিজেকে ভাইরাল করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

তার বিশ্বাস, সঠিকভাবে যত্ন নিয়ে কাজ করা এবং কাজটি মানসম্মত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, আবার কোনো কাজের জন্য সময় লাগতে পারে। কিন্তু ভালো কাজ শেষ পর্যন্ত দর্শকের কাছে পৌঁছাবে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করবে—এমনটাই মনে করেন নুসরাত।

তার কথায়, ভাইরালের চেয়ে মানসম্মত ও টেকসই কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

ডিআইজিসহ ৩১ পদে রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ডিআইজিসহ ৩১ পদে রদবদল

বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৩১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিআইজি পর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে পুলিশের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ এনামুল হককে সিলেট মহানগর থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। ওই পদে থাকা পরিতোষ ঘোষকে এপিবিএন (পার্বত্য জেলাসমূহ) কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার হিসেবে ওএসডি থাকা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এসপি পর্যায়ে র‍্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মো. বদরুদ্দোজাকে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

পুলিশ অধিদপ্তরের এআইজি মুহা. জালাল উদ্দিন ফাহিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

র‍্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেনকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের এআইজি আলী হায়দার চৌধুরীকে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার মো. নূরুল আমীন আকন্দকে পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ