খুঁজুন
                               
, ,
           

নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের পরিবারে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর অনবদ্য প্রয়াস বিএসসি’র, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটির জন্যও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫, ১০:২০ অপরাহ্ণ
নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের পরিবারে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর অনবদ্য প্রয়াস বিএসসি’র, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটির জন্যও

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলাম, দৈনিক ভিত্তিক ফিটার হারুন অর রশিদ ও মো. সাদিক মিয়া। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন তাঁরা। জীবন জয়ের দুয়ারে এসে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর এম.টি বাংলার জ্যোতি ও এম.টি বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নি দুর্ঘটনায় চিরতরে নিভে যায় তাদের প্রাণ প্রদীপ। সঙ্গে সঙ্গে ধূলিসাৎ হয় চার পরিবারের সুখের মুখ দেখার তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের পাহাড়। সহকর্মীদের হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনেও। আজও তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত চিরপ্রস্থানের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। স্বজন হারানোর বেদনায় ডুকরে কাঁদে তাঁরা।

পরিবারের উপার্জনক্ষম এসব ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। দুর্ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রাথমিকভাবে চারটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কিন্তু দুর্মূল্যের বাজারে সংযমী হয়েও এই টাকায় জীবন-সংসার পরিচালনা অসম্ভবই বটে! ধূসর স্বপ্নগুলোকে তাই রাঙিয়ে; ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তরিক সদিচ্ছার প্রাবল্যেই আর্থিক সহায়তার চিরায়ত প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে মুক্ত ঝরা হাসি ফুটানোর নতুন এক প্রয়াস গ্রহণ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন এর সার্বভৌম মানবিক মানসিকতায় জাহাজ দুটিতে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত ক্যাডেট ও নাবিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা করে চারটি পরিবারকে মোট এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএসসিকে একটি অখণ্ড পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক এর সৌম্য ও হৃদয়বান মানসিকতাও মোটাদাগে প্রতীয়মান হয়েছে। পরিবারগুলোর সদস্যরা যাদের হারিয়েছেন, তাঁরা ফিরবে না আর কোনদিন। প্রিয়জনের জন্য বুকের ভেতর স্বভাবতই মোচড় দিয়ে ওঠে স্বজনদের। চোখের কোণ জল ঝলমল করলেও সংবিৎ ফিরে পেতেই ফিক করে সামান্যতম স্বস্তির আভাস! আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্বজনদের কাছে বিএসসি’র এই সহায়তা এখন বেঁচে থাকার বড় এক অবলম্বন।

ওদের জীবনে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে এখন উজ্জ্বল রোদ্দুর, দৃষ্টান্ত মেরিন কমিউনিটিতেও
মঙ্গলবার (২০ মে) বেলা ১২টায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি নিহত পরিবারের সদস্যদের জীবনের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ তাড়িয়ে সন্ধান দিয়েছে উজ্জ্বল রোদ্দুরের। মনচৈতন্যে বিরহ ছায়া ফেললেও তাদের চোখেমুখে ঝলমল করেছে আনন্দ। তাঁরা নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও বিএসসি’র এমডি’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন ছাড়াও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রয়াত হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তার কণা কথা বলেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জীবন থেকে সব আনন্দ হারিয়ে গেছে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার এক জীবন আমাদের। আলহামদুলিল্লাহ দারিদ্র্যের কশাঘাতের জীবনে বিএসসি’র এই সহায়তা আমাদের জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাঁরা আমাকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরিরও ব্যবস্থা করেছে।’

ঠিক পাশের আসনে বসে থাকা প্রয়াত ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহার বাবা মানিক সাহা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসি’র কাছে অনুরোধ ছিল আমাদের জন্য চলার মতো সহায়তা করা হয়। তাঁরা আমাদের কথা দিয়েছিলেন আমাদের পাশে থাকবেন। তাঁরা কথা রেখেছেন। তাদের এই সহায়তা আমাদের অসহায় জীবন-যাপনের যন্ত্রণা লাঘবে সহায়তা করবে।’

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এম.টি বাংলার জ্যোতি জাহাজ ডলফিন জেটিতে অবস্থানকালে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করপোরেশনের ডেক ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা, হাইলি স্কিল্ড অটোমেকানিক মো. নুরুল ইসলাম, দৈনিক ভিত্তিক ফিটার হারুন অর রশিদ নিহত হন। একই বছরের ৫ অক্টোবর এম.টি বাংলার সৌরভ জাহাজের অগ্নি দুর্ঘটনায় মো. সাদিক মিয়া আহত হওয়ার পর চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতদের পরিবারকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দিয়ে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের কর্মসংস্থান ও পড়ালেখার বিষয়েও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সহযোগিতা করছে। তাছাড়া এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বিএসসি মেরিন কমিউনিটির জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে।’

বিএসসি সরকারের একটি লাভজনক সংস্থা, দুটি এলএনজি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা
দ্রুত বিকশিত হচ্ছে বাংলাদেশের শিপিং খাত। এই সময়টিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরের সক্ষমতাও বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের শিপিং শিল্পে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে দক্ষ নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি। চেষ্টা চলছে বিএসসি’র জাহাজের বহর আরও বড় করার। শুধু তাই নয় গত ৫৩ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফা আয়ের একটি বিরল রেকর্ডও গড়েছে তাঁরা। গত বছরের জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে। একই সঙ্গে শেয়ার হোল্ডারদের বদৌলতে সরকারকে পৌঁনে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত দিয়ে নিজেদের সক্ষমতারও পরিচয় দিয়েছে বিএসসি। অতীতে বাংলাদেশের সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন নজির নেই। স্বভাবতই এই ধরনের ঘটনাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এজন্যই বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএসসি মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের শিপিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও লাভজনক করতে দুটি এলএনজি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা টেকসই হবে না। মানসম্মত উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটবল, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল ও এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এজন্য বরিশালসহ আশপাশের নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের অংশ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এ জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে। দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে সেটিই হবে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি