খুঁজুন
                               
, ,
           

জেনারেল ওয়াকারের বার্তা পরিস্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
জেনারেল ওয়াকারের বার্তা পরিস্কার

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর; কালের আলো:

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ মে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর দু’টি বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঠাঁই করে নিয়েছে। রাওয়ার প্রথম বক্তব্যটিতে তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। একইভাবে বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে সোজা সাপ্টা কথা বলেছেন তিনি। দু’টি বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বা মাজেজা অভিন্ন হলেও দেশের চলমান অরাজকতা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সময়টিতে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যে কী বার্তা দিলেন, এ নিয়ে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ। কম কথার মানুষ হিসেবে পরিচিত সেনাপ্রধান দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ দূরে সরিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনরায় খোলাসা করেছেন।

দ্রুত নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর এই ভাষা প্রয়োগ অত্যন্ত শক্ত এবং কঠোর। চলমান সংস্কার, মিয়ানমারে মানবিক করিডর, চট্টগ্রাম বন্দর, মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি যে সন্তুষ্ট নন বরং বিরক্ত সেটি তাঁর অভিব্যক্তিতেই সহজেই অনুমান করা যায়। বলতে দ্বিধা করেননি তিনি নয় মাস ধরে অভিভাবকহীন হয়ে রয়েছেন। বলেছেন, ‘এক চাতক পাখির মতো একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটি নির্বাচিত সরকার সেনাবাহিনীর জন্য অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং যার ফলে সার্বিকভাবে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে।’

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই মানবিক করিডরের নামে প্রক্সি ওয়ারের শঙ্কা ও বিদেশিদের কাছে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার পায়তাঁরার ঘটনায় এমনিতেই উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ হচ্ছে একদিন-প্রতিদিন। সময়, পরিবেশ-প্রতিবেশ ও ঘটনা প্রবাহ বিবেচনায় সেনাপ্রধানের সময়োচিত কথাবার্তা রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে চায়ের কাপেও ঝড় তুলেছে। সচেতন মহল তাঁর এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে সেনাপ্রধান যখন উচ্চারণ করেছেন- ‘প্রথম দিন থেকেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বারবার সরকারকে অনুরোধ করেছেন। তবে সরকার অনুরূপ সংস্কারের বিষয়ে সত্যিকার অর্থে সিরিয়াস নয়।’ সংস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বা কীভাবে নিচ্ছে সে বিষয়ে দেশবাসীর পাশাপাশি তিনি এবং সেনাবাহিনী অবগত নন বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এ থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় অন্তর্বর্তী সরকার এসব ক্ষেত্রে গণঅভ্যুত্থান সফলের অব্যর্থ হাতিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে এক প্রকার অন্ধকারে রেখেছে। কোন রকম মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘জাতিসংঘ কর্তৃক জুলাই-আগস্ট বিষয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানতে পারেন, জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও বর্তমান সরকার জাতিসংঘকে সে সুযোগ দেয়নি।’ এমন পরিস্কার বক্তব্যের পর আকার-ইঙ্গিতের আর কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তাঁর প্রতিটি শব্দ, বাক্য ও অভিব্যক্তি লক্ষ্য করলে খোলাসা হয় তিনি এসব ঘটনায় আশাহত হয়েছেন। তাঁর এই স্পষ্ট বার্তাটি আর ব্যাখ্যা করার অবকাশ নেই। যে যার মতো বুঝে-শুনে মিলিয়ে নিতে পারেন।

সেনাপ্রধান অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে বক্তব্যের এক জায়গায় সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দেয়ার উইল বি নো করিডর’। তিনি বলেছেন, ‘মানবিক করিডরের মতো স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বর্তমান সরকারের নেই। শুধু একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারই যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক এরূপ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ চারতারকা জেনারেল আরও বলেছেন, ‘করিডর বিষয়ে সরকার কী ভাবছে অথবা জাতিকে একটি প্রক্সি ওয়ারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, এ বিষয়ে সরকার স্পষ্টভাবে কিছুই জানাচ্ছে না।’ একইভাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এই সরকারের নেই। এখানে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’ বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগণের কোনোরকম ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজ সেনাবাহিনী করবে না, কাউকে করতে দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির নিজেদের মধ্যে বিরোধ-বিভক্তি চরমে ওঠে। পরমতসহিষ্ণুতা তথা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাই যে একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রতিশোধপরায়ণতা ভীষণরকম বেড়েছে। বিগত বছরগুলোয় যারা রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত ও বঞ্চিত হয়েছেন, তারা এখন প্রতিশোধ নিচ্ছেন। অতীতে একটি পক্ষ যেমন প্রতিপক্ষকে চিরতরে নির্মূল করতে চেয়েছে, ৫ আগস্টের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই শক্তিকেই নির্মূলের চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ ক্ষমতায় গেলে সবাই যে তার প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে এককভাবে টিকে থাকতে চায়, এই প্রবণতাটি বেড়েছে-যা দেশকে স্থিতিশীল করার বিপরীতে আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, ‘আন্দোলনের নাম করে দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোনভাবেই কোন পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বেড়েই চলেছে অপরাধ প্রবণতা। বাড়বাড়ন্ত হয়ে ওঠেছে মব সন্ত্রাস। আইনবহির্ভূতভাবে মব সৃষ্টিকারীদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হচ্ছে না। হত্যা মামলার নামে তামাশা চলছে। একের পর এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র চলছে। সামগ্রিক এসব পরিস্থিতিতে মোটেও সন্তুষ্ট নন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আবার, শুধু ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির বিষোদগার নয়, বরং সেনাবাহিনীকে নিয়েও অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে ইচ্ছেমতো বিষোদগার করছেন-যা স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সেনাপ্রধান এই বিষয়টিও উত্থাপন করেছেন অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে। তিনি অভিযোগের সুরেই বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সেনাবাহিনীর অক্লান্ত ও নিঃস্বার্থ ভূমিকা সত্ত্বেও বিভিন্ন মহল থেকে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে টার্গেট করা হচ্ছে, যা হতাশাজনক। দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে যাচ্ছে যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে।’ তিনি দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসনসহ সব সংস্থা ভেঙে পড়েছে এবং পুনর্গঠিত হতে পারছে না। শুধু সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত টিকে আছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’

একটি আধুনিক রাষ্ট্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়। তাই নতুন-আধুনিক ও স্বপ্নময় দিগন্তকে টেকসই করতে অপিরহার্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপক্ষে জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, এটি এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে বলেন, ‘যথাশীঘ্র সম্ভব একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’ আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে সততার সঙ্গে নিরপেক্ষ থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবার জন্যও তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন।

দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেছেন, ‘এত দীর্ঘ সময় ধরে সেনাসদস্যরা শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন রয়েছেন; যা সার্বিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই তিনি একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যথাশীঘ্র সম্ভব সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেবেন বলে উল্লেখ করেন। এটা না করতে পারলে বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী অঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’ তিনি সবাইকে অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ কর্তব্যপরায়ণতা ও আনুগত্যের সঙ্গে পালন এবং মজলুমদের অশ্রুজল যাতে না ঝরে এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করার জন্য বাহিনীটির সর্বস্তরের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ এবং অর্পিত দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন। নিজ অবস্থান ও আদর্শে অবিচল থাকলে কোনো মহলই সেনাবাহিনী ও দেশের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সেনাপ্রধানের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা একটা বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের ৩ আগস্ট সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেছিলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালাবে না।’ তাঁর এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হয়েছিল পতিত সরকারের ভাগ্য। ফলে এবারের অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানটিও স্বভাবতই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ৯ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। প্রকট হয়ে ওঠেছে আস্থার অভাব। রাজনৈতিক দলগুলোও মনে করছে, সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। এর প্রভাব পড়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। রাজপথে নানান দাবিদাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন, অন্যদিকে বিভিন্ন পেশাজীবীর অবস্থান, অবরোধের কারণে রাজধানী এখন অচল। জনদুর্ভোগ-ভোগান্তি নিত্যদিন। কোথাও সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সন্ত্রাস ও সহিংসতাও থামানো যাচ্ছে না। পরিকল্পিত তাণ্ডবে ‘বরবাদ’ হচ্ছে দেশ। এমন প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানই এখন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে এসব বিষয়ই বুঝাতে চেয়েছেন। এখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের টনক থাকলে নড়া উচিত।’

সেনাপ্রধানের সময়োপযোগী এসব বার্তার একদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রাণরক্ষায় রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ মোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া ও আশ্রয় দেওয়া মানুষদের মধ্যে ৫৭৮ জনের নাম প্রকাশ করেছে সেনা সদর দপ্তর। এদিন রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর কতিপয় কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। ফলশ্রুতিতে, সরকারি দপ্তর, থানাসমূহে হামলা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি, ডাকাতিসহ বিবিধ বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এ ধরনের সংবেদনশীল ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম নেয়। এ অবস্থায়, ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষার্থে কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নাগরিকগণ আশ্রয় প্রার্থনা করেন। উদ্ভূত আকস্মিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয় যাচাই বাছাই করার চাইতে তাদের জীবন রক্ষা করা প্রাধান্য পেয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে, ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিবিধ ১২ জন ও ৫১ জন পরিবার পরিজন (স্ত্রী ও শিশু) সহ সর্বমোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল। সেসময়ে শুধু মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে আশ্রয় প্রার্থীদের জীবন রক্ষা করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে, আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ১/২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন এবং এর মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ/মামলার ভিত্তিতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।’ বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘বিভিন্ন সময়ে অনেকেই এই তালিকা প্রকাশের বিষয়ে নানা কথা বলছিলেন। সঠিক সময়েই এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সেনা সদর দপ্তর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্বশীলতারও স্বাক্ষর রেখেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

নেপালের দুর্যোগ থেকে কীভাবে রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা মানসী পারেখ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
নেপালের দুর্যোগ থেকে কীভাবে রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা মানসী পারেখ

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা মানসী পারেখ। বর্তমানে তিনি নিরাপদে চীনে অবস্থান করছেন। সদগুরুর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে সেখানে গেছেন তিনি।

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর এলাকায় সাম্প্রতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ২৭ আগস্ট যাওয়ার কথা ছিল মানসীর। তবে তার আগেই ওই এলাকা ছেড়ে চীনে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

নেপালের বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন মানসী। একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘কী খারাপ অবস্থা হয়েছে! বৃহস্পতিবার তো এখানেই থাকার কথা ছিল আমার। মাত্র কয়েক দিন আগেই এই জায়গায় আমি গিয়েছিলাম। সকলে এত ভালোভাবে আমাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, সেটা ভোলার নয়। এখন তো গোটা রাজ্যই পানির নিচে।’

অন্য এক পোস্টে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে মানসী লিখেছেন, ‘জীবন বড্ড অনিশ্চিত, কিন্তু যা ঘটেছে তা সত্যিই মন ভেঙে দিচ্ছে বারবার।’

নেপালে আটকে পড়া এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ঈশ্বরের কৃপায় তাঁরা চীনে নিরাপদে আছেন। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বন্যার মধ্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ইশা ফাউন্ডেশনও যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

নেপালের চলমান দুর্যোগে বেশ কয়েকজন ভারতীয় তারকাও আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। অন্যদিকে বাংলাদেশি অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসও নেপালে গিয়ে দুর্যোগের মধ্যে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, পাহাড়ধস ও আকস্মিক ঢলের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

কালের আলো/এসএ

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচার, স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে পিসিবির অভিযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচার, স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে পিসিবির অভিযোগ

লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার করায় ব্রিটিশ ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকার প্রচারের প্রতিবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর কথাও ভেবেছিল পিসিবি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করতে মাঠে নামে পাকিস্তান।

লাঞ্চ বিরতিতে প্রচারিত ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও স্কাই স্পোর্টসের সম্প্রচারক মাইকেল আথারটন। সাক্ষাৎকারে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁর দুই ছেলে। তাঁরা জানান, কারাগারে বাবার জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।

ইমরান খান প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাবার জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁর দুই ছেলে বিভিন্নভাবে সরব হয়েছেন।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, লাঞ্চের বিরতির আগে স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারটি নিয়ে আপত্তি জানায় পিসিবি। এরপর সম্প্রচারের সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।

সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার সময় পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা দ্বিতীয় সেশনের জন্য মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাঁদের মাঠে নামার কথা ছিল এবং নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে দলটি।

আথারটন বুধবার সকালে লর্ডসের রাইটার্স রুমে ইমরানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার নেন। টেস্ট শুরুর আগেই স্কাই স্পোর্টস সাক্ষাৎকারটির একটি টিজারও প্রচার করেছিল। তবে পাকিস্তানে সিরিজটির সম্প্রচারকারী পিটিভি সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তাঁকে সেখানে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ইমরানের পরিবার ও ছেলেদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাইকেল আথারটনসহ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কেরা।

এটি ছিল ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের দ্বিতীয় চিঠি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই বিষয়ে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন।

তবে ইমরানকে কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের দাবি, ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে তাঁর পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা তাঁর সঙ্গে ৯০০ বারের বেশি দেখা করেছেন।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

আজ শুরু নারী এশিয়া কাপ, কবে মাঠে নামছে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
আজ শুরু নারী এশিয়া কাপ, কবে মাঠে নামছে বাংলাদেশ?

আট বছর পর আবারও নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আজ হংকং ও থাইল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের নারী এশিয়া কাপের দশম আসর।

বাংলাদেশের অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে কয়েক দিন পর। নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দলের প্রথম ম্যাচ ৩১ আগস্ট, প্রতিপক্ষ এশিয়া কাপে অভিষেক হতে যাওয়া ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপের অন্য দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা এবং স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত। ‘এ’ গ্রুপে আছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ড। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৩ সেপ্টেম্বর।

২০১৮ সালে কুয়ালালামপুরে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেটিই অন্যতম বড় সাফল্য।

তবে এরপরের দুই আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে ফিরতে চায় দলটি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে অবশ্য ধাক্কা এসেছে ফারিহা ইসলামের চোটে। ঊরুর চোটে গত ২৫ আগস্ট এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যান বাঁহাতি এই পেসার। একই কারণে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমস থেকেও ছিটকে পড়েছেন তিনি।

ফারিহার বদলি হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার ফারজানা ইয়াসমিন। এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি তাঁর।

নারী এশিয়া কাপের সবচেয়ে সফল দল ভারত। সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও অন্যতম ফেবারিট। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত নয়। ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।

এবারের আসরে নতুন দল হিসেবে এসেছে ইন্দোনেশিয়া। বাছাইপর্বে তৃতীয় হয়ে মূল টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি

  • ৩১ আগস্ট: বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া
  • ৬ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা
  • ৮ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত

বাংলাদেশের সব ম্যাচই হবে দুবাইয়ে, বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর দুই গ্রুপের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেখান থেকে জয়ী দুই দল খেলবে ১৩ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে।

কালের আলো/এসএ