খুঁজুন
                               
, ,
           

যেন রাজধানীজুড়েই জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ, ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
যেন রাজধানীজুড়েই জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ, ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম

আব্দুল্লাহ আল নোমান, কালের আলো:

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের একদিন আগেই শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে দলটির নেতাকর্মীরা ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেন আগের দিনেই। শনিবার (১৯ জুলাই) ফজরের নামাজের আগেই পূর্ণ হয়ে গেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশস্থল। কারো হাতে ছিল দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। অনেকের গায়ে ছিল সাদা গেঞ্জি, যেখানে লেখা—‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, জামায়াতের পক্ষে হোক’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন’। দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো উদ্যান।

শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মঞ্চে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের প্রথম পর্ব। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ইসলামি সংগীত-দেশাত্মবোধক ও জুলাই আন্দোলনের গানে মুখর হয়ে উঠে সমাবেশ। মাইকে ভেসে আসে ইসলামি ভাবধারার গান, দেশাত্মবোধক গান, রাজশাহী অঞ্চলে ভাওয়াইয়া ও বিভিন্ন স্লোগান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী, মহানগর শিল্পী গোষ্ঠীসহ দেশের বিভিন্ন ইসলামি গান ও নাটকের শিল্পী গোষ্ঠী।

মূল পর্ব শুরু হয় দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সংস্কার ও বিচারসহ বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। জামায়াতের মহাসমাবেশস্থলে অজু ও জরুরি প্রয়োজনে টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। ছিল নামাজের ব্যবস্থা ও মেডিকেল বুথ। পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। দুপুর গড়াতেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে। সমাবেশ শুরুর আগেই ব্যাপক জনসমাগমের কারণে উদ্যানের ফটকগুলো আটকে দেন জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকরা।

জাতীয় সমাবেশে আগতরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশের সড়ক ছাপিয়ে কাঁটাবন-বাংলামোটর-কারওয়ান বাজার-মৎস ভবন-কাকরাইল এলাকায় অবস্থান করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়া, পল্টন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, গুলিস্তান ছাড়িয়ে যায় জনসমাগম। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতেও ছিল তাদের সরব উপস্থিতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশে ছোট ছোট দলে জোহরের নামাজ আদায় করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মূলমঞ্চে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর চলমান সমাবেশ সরাসরি দেখানোর জন্য বড় স্ক্রিন (পর্দা) বসানো হয়। ভিড় বেশি হওয়ায় সমাবেশের মূল বক্তব্য ও কার্যক্রম সবাই যেন দেখতে পান, সেজন্য মোড়ে মোড়ে বড় স্ক্রিন স্থাপন করা হয়। রাজধানীর রমনা পার্কেও অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। কেউ আড্ডা দিয়েছেন কেউবা ভ্যাপসা গরমের মাঝেও শুয়ে বিশ্রামও নিয়েছেন।

জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে নেতাকর্মীদের বহনকারী সারি সারি গাড়ি প্রবেশ করে সকাল থেকেই। এতে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজলা, শনির আখড়া, রায়েরবাগ এলাকা ঘুরে এই চিত্রের দেখা মেলে সকালেই। বেশিরভাগ বাসের বাম পাশের বডিতে সমাবেশের ব্যানার লাগানো ছিল। এছাড়া সমাবেশে অংশ নিতে প্রচুর মাইক্রোবাসও দেখা যায়। বাসগুলো মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্তান হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যায়।

সড়ক পথের মতো একই অবস্থা ছিল ট্রেনেও। জাতীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনভর্তি করে নেতাকর্মীরা ঢাকায় প্রবেশ করেন। সকাল থেকে যতগুলো ট্রেন কমলাপুরে এসে পৌঁছে প্রতিটিতেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে পেরে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, বিগত সরকারের দমনপীড়নের কারণে জামায়াত দীর্ঘদিন এমন সমাবেশ আয়োজন করতে পারেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক জনসমাগম করার লক্ষ্যে তারা সমাবেশে আসেন। সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা কায়কোবাদ আহম্মদ বলেন, ‘আমরা ১০০ জনের একটা দল এসেছি। আসার সময় নিজেদের প্রয়োজনীয় পানির বোতল, চিড়া, বিস্কুট এনেছি। আশা আশা করছি আমাদের সমাবেশ সফল হবে।’ ফেনী থেকে আসা সাদ্দাম হুসাইন বলেন, ‘আমরা অনেক আশা-আগ্রহ নিয়ে সমাবেশে এসেছি। সমাবেশ সফল হয়েছে।’

সমাবেশে নেতাকর্মীদের আনতে চারটি বিশেষ ট্রেন ভাড়ায় বরাদ্দের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে দলটি। এতে দলটি প্রায় ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে। ভাড়া করা সবকটি ট্রেন সঠিক সময়ে এদিন ঢাকায় পৌঁছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম, জানান, বিশেষ চারটি ট্রেনে চড়ে এসেছেন অনেকেই। তিনি জানান, জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটি রেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চারটি বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ নিয়েছিল। সবকটি ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ট্রেনগুলো আবার গন্তব্যে ফিরে যায়। রেলের সব নিয়মকানুন মেনেই ট্রেনগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই সমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ। ডিএমপি জানায়, ঢাকায় অতিরিক্ত চার হাজার পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ১২ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায় যুক্ত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি করেন ডিবির সদস্যরা। ১২ হাজার পুলিশ ছাড়াও আরও কয়েক হাজার র‌্যাব সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও জামায়াতের ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত ছিলেন। স্মরণকালের বিশাল এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল যেন কোনো বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য আগে থেকেই সজাগ থাকতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল পুলিশের। কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং চলে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি পড়েনি চোখে।

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকার বেশ কিছু সড়কে যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে বাংলামোটর, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, মৎস্যভবন, পুরানা পল্টনসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কর্মস্থলমুখী মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছুতে ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়। সমাবেশ ঘিরে যানজট ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সাময়িক অসুবিধার জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জামায়াত। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি গুগল ম্যাপের ছবি পোস্ট করে এ দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই পোস্টে লেখা হয়- ‘সুপ্রিয় নগরবাসী, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনাদের সুবিধার্থে ম্যাপটি সংযুক্ত করা হলো।’

জাতীয় সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর জামায়াত পৃথকভাবে বিশাল শোডাউন করে জাতীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও ময়মনসিংহ-৬-ফুলবাড়িয়া আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল কামরুল হাসান মিলন কালের আলোকে বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগমের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।’

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুল হক বলেন, ‘সৃষ্টি যার, শাসন চাই তার। অনেক শাসন দেখলাম। এবার আল্লাহর শাসন চাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে আল কোরআনের আলোকে দেশ চলবে। দেশে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। দেশে অপশাসন থাকবে না।’

কালের আলো/এএএন/এমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি