খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

যেন রাজধানীজুড়েই জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ, ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
যেন রাজধানীজুড়েই জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ, ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম

আব্দুল্লাহ আল নোমান, কালের আলো:

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের একদিন আগেই শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে দলটির নেতাকর্মীরা ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেন আগের দিনেই। শনিবার (১৯ জুলাই) ফজরের নামাজের আগেই পূর্ণ হয়ে গেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশস্থল। কারো হাতে ছিল দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। অনেকের গায়ে ছিল সাদা গেঞ্জি, যেখানে লেখা—‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, জামায়াতের পক্ষে হোক’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন’। দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো উদ্যান।

শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মঞ্চে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের প্রথম পর্ব। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ইসলামি সংগীত-দেশাত্মবোধক ও জুলাই আন্দোলনের গানে মুখর হয়ে উঠে সমাবেশ। মাইকে ভেসে আসে ইসলামি ভাবধারার গান, দেশাত্মবোধক গান, রাজশাহী অঞ্চলে ভাওয়াইয়া ও বিভিন্ন স্লোগান। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী, মহানগর শিল্পী গোষ্ঠীসহ দেশের বিভিন্ন ইসলামি গান ও নাটকের শিল্পী গোষ্ঠী।

মূল পর্ব শুরু হয় দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সংস্কার ও বিচারসহ বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। জামায়াতের মহাসমাবেশস্থলে অজু ও জরুরি প্রয়োজনে টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। ছিল নামাজের ব্যবস্থা ও মেডিকেল বুথ। পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। দুপুর গড়াতেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে। সমাবেশ শুরুর আগেই ব্যাপক জনসমাগমের কারণে উদ্যানের ফটকগুলো আটকে দেন জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকরা।

জাতীয় সমাবেশে আগতরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশের সড়ক ছাপিয়ে কাঁটাবন-বাংলামোটর-কারওয়ান বাজার-মৎস ভবন-কাকরাইল এলাকায় অবস্থান করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়া, পল্টন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, গুলিস্তান ছাড়িয়ে যায় জনসমাগম। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতেও ছিল তাদের সরব উপস্থিতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশে ছোট ছোট দলে জোহরের নামাজ আদায় করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মূলমঞ্চে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর চলমান সমাবেশ সরাসরি দেখানোর জন্য বড় স্ক্রিন (পর্দা) বসানো হয়। ভিড় বেশি হওয়ায় সমাবেশের মূল বক্তব্য ও কার্যক্রম সবাই যেন দেখতে পান, সেজন্য মোড়ে মোড়ে বড় স্ক্রিন স্থাপন করা হয়। রাজধানীর রমনা পার্কেও অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। কেউ আড্ডা দিয়েছেন কেউবা ভ্যাপসা গরমের মাঝেও শুয়ে বিশ্রামও নিয়েছেন।

জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে নেতাকর্মীদের বহনকারী সারি সারি গাড়ি প্রবেশ করে সকাল থেকেই। এতে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজলা, শনির আখড়া, রায়েরবাগ এলাকা ঘুরে এই চিত্রের দেখা মেলে সকালেই। বেশিরভাগ বাসের বাম পাশের বডিতে সমাবেশের ব্যানার লাগানো ছিল। এছাড়া সমাবেশে অংশ নিতে প্রচুর মাইক্রোবাসও দেখা যায়। বাসগুলো মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্তান হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যায়।

সড়ক পথের মতো একই অবস্থা ছিল ট্রেনেও। জাতীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনভর্তি করে নেতাকর্মীরা ঢাকায় প্রবেশ করেন। সকাল থেকে যতগুলো ট্রেন কমলাপুরে এসে পৌঁছে প্রতিটিতেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে পেরে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, বিগত সরকারের দমনপীড়নের কারণে জামায়াত দীর্ঘদিন এমন সমাবেশ আয়োজন করতে পারেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক জনসমাগম করার লক্ষ্যে তারা সমাবেশে আসেন। সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা কায়কোবাদ আহম্মদ বলেন, ‘আমরা ১০০ জনের একটা দল এসেছি। আসার সময় নিজেদের প্রয়োজনীয় পানির বোতল, চিড়া, বিস্কুট এনেছি। আশা আশা করছি আমাদের সমাবেশ সফল হবে।’ ফেনী থেকে আসা সাদ্দাম হুসাইন বলেন, ‘আমরা অনেক আশা-আগ্রহ নিয়ে সমাবেশে এসেছি। সমাবেশ সফল হয়েছে।’

সমাবেশে নেতাকর্মীদের আনতে চারটি বিশেষ ট্রেন ভাড়ায় বরাদ্দের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে দলটি। এতে দলটি প্রায় ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে। ভাড়া করা সবকটি ট্রেন সঠিক সময়ে এদিন ঢাকায় পৌঁছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম, জানান, বিশেষ চারটি ট্রেনে চড়ে এসেছেন অনেকেই। তিনি জানান, জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটি রেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চারটি বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ নিয়েছিল। সবকটি ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ট্রেনগুলো আবার গন্তব্যে ফিরে যায়। রেলের সব নিয়মকানুন মেনেই ট্রেনগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই সমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ। ডিএমপি জানায়, ঢাকায় অতিরিক্ত চার হাজার পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ১২ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায় যুক্ত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি করেন ডিবির সদস্যরা। ১২ হাজার পুলিশ ছাড়াও আরও কয়েক হাজার র‌্যাব সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও জামায়াতের ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত ছিলেন। স্মরণকালের বিশাল এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল যেন কোনো বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য আগে থেকেই সজাগ থাকতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল পুলিশের। কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং চলে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি পড়েনি চোখে।

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকার বেশ কিছু সড়কে যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে বাংলামোটর, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, মৎস্যভবন, পুরানা পল্টনসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কর্মস্থলমুখী মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছুতে ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়। সমাবেশ ঘিরে যানজট ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সাময়িক অসুবিধার জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জামায়াত। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি গুগল ম্যাপের ছবি পোস্ট করে এ দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই পোস্টে লেখা হয়- ‘সুপ্রিয় নগরবাসী, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনাদের সুবিধার্থে ম্যাপটি সংযুক্ত করা হলো।’

জাতীয় সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর জামায়াত পৃথকভাবে বিশাল শোডাউন করে জাতীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও ময়মনসিংহ-৬-ফুলবাড়িয়া আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল কামরুল হাসান মিলন কালের আলোকে বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগমের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।’

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুল হক বলেন, ‘সৃষ্টি যার, শাসন চাই তার। অনেক শাসন দেখলাম। এবার আল্লাহর শাসন চাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে আল কোরআনের আলোকে দেশ চলবে। দেশে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। দেশে অপশাসন থাকবে না।’

কালের আলো/এএএন/এমকে

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে