খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

অবিস্মরণীয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
অবিস্মরণীয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি

কালের আলো রিপোর্ট:

স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার কবলমুক্ত হওয়ার এক বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফার সামনে মুখথুবড়ে পড়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তসমুদ্রে গোটা দেশ ভাসিয়ে পতন ঘটে এই স্বৈরশাসকের। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে চূর্ণ হয় দম্ভের অপশাসন। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে নিয়ে যান ছোট বোন শেখ রেহানাকে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে তাকে ভারতের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেখ হাসিনার পলায়নের খবরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে কারফিউ ভেঙে উল্লাসে মেতে ওঠে ছাত্র-জনতা। রাজপথে নেমে আসে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের লাখো লাখো মানুষ।

কেউ মাথায় বেঁধে লাল কাপড়, কেউ বা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা বেঁধে এই উৎসবে শামিল হন। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জয়ের উচ্ছ্বাস ছিল তাদের চোঁখে-মুখে। পরাধীনতার শিকল ভেঙে নতুন এক স্বাধীনতা অর্জনের তৃপ্তি ছিল চোখে-মুখে। এ যেন নিজ দেশে বুকভরে শ্বাস নেওয়ার উল্লাস। নতুন বিজয়ের স্বাদ। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়া এসব মানুষের সারিতে ছিলেন শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, দিনমজুর, রিকশাচলক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্লোগানে স্লোগানে তারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে এক ‘স্বৈরাচারের’ পতন হয়েছে। স্বৈরাচারের বিদায়ে সন্ধ্যার পরও আনন্দ মিছিল চলে দেশজুড়ে। ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করেন ছাত্র-জনতা।

ঐতিহাসিক এই অভ্যুত্থানের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরও প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। প্রায় ১৫০০ মানুষকে হত্যার প্রেক্ষিতে বিগত প্রায় পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশকে শাসন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। সেই দিন, জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা ঘোষণা দেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সকল হত্যার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন।

  • ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে চূর্ণ হয় দম্ভের অপশাসন
  • উল্লাসে মেতে ওঠে ছাত্র-জনতা
  • রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জয়ের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে-মুখে
  • গণভবন ও সংসদ ভবনে সরকার পতনের উৎসব

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট)। একদিকে স্বৈরাচারের থাবামুক্ত হওয়ার আনন্দ, আরেক দিকে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে সময় পার করছে দেশের মানুষ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের তিন দিন পর সরকারহীন ছিলো দেশ। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন’র সাহসী, দক্ষ ও কুশলী নেতৃত্বে চরম বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পায় দেশ। পরে ৮ আগস্ট ৮৪ বছর বয়সী দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী এবং ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।

গতবছরের ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কারফিউ অমান্য করে রাজধানীর কেন্দ্রে একত্রিত হয়। শেখ হাসিনার পতনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে আগ্রাসন প্রদর্শন করে। ‘মার্চ টু ঢাকা’ ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও দেশবাসী রাজধানী অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। দুপুর নাগাদ ভিড় করে হাসিনার সরকারি বাসভবনে। এরপর শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সামরিক বিমানে করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যান।

ফ্যাসিবাদের জননী শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে চুপসে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে তারা সরে যান। ওই সময়ে রাজধানীতে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন এবং জাতীয় সংসদ ভবনে হাজার হাজার মানুষ ঢুকে পড়েন। সেখানে তারা সরকার পতনে উৎসব করেন। ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দেন। শ্রীলংকার মতোই প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বেডরুমে ছবি তোলেন। নিয়ে যান বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র। এমনকি আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, হাঁস, ক্ষেতের ফসলও নিয়ে যান তারা। জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের চেয়ারে বসে ছবিও তোলেন। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেননি।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং পরে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জনসাধারণ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে, জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করার সাথে সাথে ঢাকা জুড়ে উদযাপনের কুচকাওয়াজ শুরু হয়। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।

ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিহতদের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রায় দু’শতাধিক হত্যা মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনার পরিবারের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এর মধ্যেই স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলার অন্যতম আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘অ্যাপ্রুভার’ (দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য বিবরণ প্রকাশ করেন যে আসামি; সাধারণত তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে পরিচিত) হিসেবেও ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। পরে সেটি মঞ্জুর করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৫ ধারায় অ্যাপ্রুভারের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই ধারার শিরোনাম ‘পারডন অব এন অ্যাপ্রুভার’। বাংলায় বিষয়টিকে ‘দোষ স্বীকারকারী সাক্ষীর ক্ষমা’ বলা যেতে পারে। এদিকে, রিমান্ডে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। ক্ষমতাধর এসব ব্যক্তিদের দমন, পীড়ন, লুটপাট, দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বিস্ময়ে হতবাক করেছে দেশবাসীকে। এদিকে বিচারের আওতা থেকে বাঁচতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, এমপি বিদেশে পালিয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন তারা।

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন মাইক্রোবাস চালক খোকন চন্দ্র বর্মণ। পুলিশের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত চেহারা নিয়ে দু’দিন আগে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি নিজের জবানবন্দি তুলে ধরেন। ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিজের সামনে পুলিশের গুলিতে একাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার বর্ণনা দেন তিনি। ২৩ বছর বয়সি খোকন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিতে এসেছি আমার সামনে হওয়া হত্যা এবং নিজের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে সে বিষয়ে। ৫ আগস্ট দুপুরের পর যখন খবর আসে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, তখন সেনাবাহিনী চলে যায়। ওই সময় পুলিশ থানা থেকে বেরিয়ে পাখির মতো গুলি করে। ওই সময় মাথায় টার্গেট করে করা এক পুলিশ সদস্যের গুলি তার মাথায় লাগে। এক চোখ ও নাক নষ্ট হয়ে যায়। বিকৃত হয়ে যায় মুখমণ্ডল।’

কালের আলো/এইচএন/এমএএইচ

আবাসিক হল থেকে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকাবাসীর প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আবাসিক হল থেকে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকাবাসীর প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর 

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়৷ তবে পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতে উত্তেজিত এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১২ টা পর্যন্ত উত্তেজিত এলাকাবাসী ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হল থেকে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের দাবি মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এতে রাত ৮ টার পর থেকে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে।

একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গেট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তারা তদন্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করবেন। তৎক্ষণ পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, ওই ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরের উদ্দেশ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

সিলেটে পৌঁছেই সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

এছাড়া বিকেলে শ্রীমঙ্গলের দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচি শেষে বিকেল পৌনে ৬টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টায় বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট ও মৌলভীবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ও সড়কপথের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়েছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত ২ মে প্রথমবার সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তবে এবারের সফরে সিলেট জেলায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি। পুরো সফরসূচিই রয়েছে মৌলভীবাজারকে ঘিরে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ