মনোনয়নে এগিয়ে হেভিওয়েট প্রার্থীরা
কালের আলো রিপোর্ট:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। নতুন বছরের ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এরই মধ্যে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও শুরু করে দিয়েছে। অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে চায় দলটি। অনেক আসনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছাড় দেওয়া হবে আসন। এসব আসনের হেভিওয়েটদের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের।
জানা যায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিয়ে সমমনাদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। ওই সময় তাদের সঙ্গী হয় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শরিক দলগুলো। এর বাইরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি), গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে নিজ নিজ প্ল্যাটফর্ম থেকে সরব ছিল।
সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের যেসব আসনে বিএনপি ছাড় দিতে পারে এসব আসনের তথ্য এসেছে সন্ধানী বার্তার হাতে। এর মধ্যে লক্ষীপুর-৪ আসন থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বগুড়া-৪ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-৮ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। ঢাকায় গুলশান বা অন্য একটি আসন থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নির্বাচন করার পরামর্শ দিচ্ছে বিএনপি’র হাইকমান্ড। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আ স ম আব্দুর রব নির্বাচনে অংশ না নিলে সেক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রী জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব তাঁর আসন থেকে প্রার্থী হবেন। তাঁরা সবাই গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক।
১২ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার (পিরোজপুর-১) আসন, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন (কুষ্টিয়া-২) আসন, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১) আসন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস (যশোর-৫), খেলাফত মজলিসের আব্দুল বাছিত আজাদ (হবিগঞ্জ-২) এবং ড. আহমদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪) আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এই জোটেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪), দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ঢাকা-১৭), গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩), দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-২), গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (ফেনী-২), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট-এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩) উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২০টি আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রার্থীতা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেশিরভাগ আসনেই নতুন মুখ আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দলীয় সূত্র। যদিও এসব আসনে দলীয় একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। ঢাকা-৫ আসন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই নির্বাচন করতে পারেন বলে দলীয় পরিমণ্ডলে গুঞ্জন রয়েছে।
ঢাকা-১৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের মনোনয়ন একেবারেই নিশ্চিত। একাধিক মাঠ জরিপে জনপ্রিয়তায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আস্থা-বিশ্বাসের শীর্ষে থাকা বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই ক্রীড়া সম্পাদক লড়াকু, কর্মী বান্ধব ও দলের দু:সময়ে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাহসী ভূমিকা রাখেন। স্বৈরাচার সরকারের সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রক্ত দেওয়া পরিশ্রমী ও এই দক্ষ সংগঠক ইতোমধ্যেই মনোনয়নের বিষয়ে হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র। এছাড়াও ঢাকা-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। ঢাকা-১৫ আসনে দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন।
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array