খুঁজুন
                               
, ,
           

মুক্ত স্বাধীন বিজয়ের স্বাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত স্বাধীন বিজয়ের স্বাদ

কালের আলো রিপোর্ট:

পাকিস্তানের নৃশংস সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে একাত্তরের এই দিনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল দেশের সাধারণ মানুষ। তাদের বুকে ছিল মৃত্যুকে উপেক্ষা করার সাহস, অন্তরে মুক্তির স্বপ্ন। স্বাধীন দেশে বারবার পরাহত হয়েছে সেই স্বপ্ন। দিনটি বাঙালির জন্য মহান। গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার ও আত্মোপলব্ধির। দেশের বীর সন্তানেরা তখন যুদ্ধের ময়দানে ছুটে গিয়েছিলেন শত্রুর মোকাবিলায়। জীবনের মায়া তাঁদের কাছে ছিল তুচ্ছ। তাঁদের ছিল না যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, ছিল না কোনো উন্নত সমরাস্ত্র। আক্ষরিক অর্থেই যার কাছে যা ছিল, তা নিয়েই দেশের বীর সন্তানেরা শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মরণপণ লড়েছিলেন মুক্তির সংগ্রামে। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ করেছিলেন দেশের সব ধর্ম, বর্ণ, ভাষার বীর সন্তানেরা। শেষ পর্যন্ত ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল সম্পদহানির ভেতর দিয়ে মুক্তির সংগ্রামে সফল হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। ছিনিয়ে এনেছিলেন চূড়ান্ত বিজয়। জাতিকে মুক্ত করেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে।

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে এবারের বিজয় দিবস জাতির সামনে এক নতুন প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস-এর সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তারা বলেছেন, বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশে, বিজয় দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে আনন্দের সঙ্গে রয়েছে ঘোর সংশয়। ফ্যাসিবাদী অপশক্তি আবারো মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে গণতন্ত্রের উত্তরণের প্রাক্কালে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে বিজয়ের আনন্দ চিরস্থায়ী হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়: ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বিজয় দিবস জাতির ইতিহাসে আত্মত্যাগের মহিমায় এক গৌরবের দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব মুক্তিযুদ্ধকে পরিপূর্ণতা দানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে জাতির আকাক্সক্ষা ধারণ করে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই বিজয়ের এই দিনে সকলের প্রতি আহ্বান থাকবে আসুন, আমরা সকল বিভেদ ভুলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।

বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগ্রামী জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মুক্তির লড়াইয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, মহান আল্লাহর দরবারে তাদের সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। তিনি বলেন, বিজয়ের দিনে আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সাম্য ও সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার তওফিক দান করেন।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যকে জাতীয় শক্তিতে পরিণত করতে হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম বিজয় দিবস আমরা গত বছর পালন করেছি। সেই বিজয় দিবসের আনন্দ উৎসব বিজয় উল্লাস ছিলো অন্যরকম। মুক্ত স্বাধীন পরিবেশে মানুষ মন ভরে বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছে। এরপরে এক বছর পার হয়ে গেলেও নানা পরিক্রমার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে কিছু বিভক্তি দৃশ্যমান হয়েছে। এসব বিভক্তির ফলে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, সেটা এখন দৃশ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার পরে একটি ঘটনায় (হাদির ওপর হামলা) বেদনা বিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে রুদ্ধ করতে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং তার দোসররা সকল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই সময়ে আমাদেরকে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তি ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্য এখন সবচাইতে বেশি জরুরি। কারণ, এর মাধ্যমেই আমরা কেবল মাত্র সন্ত্রাসবাদী, গণতন্ত্র বিরোধী তৎপরতা বা ফ্যাসিবাদী শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার যে অপচেষ্টা, সেটা রুখে দিতে পারব।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সব মানুষেরই সংগ্রাম ছিল। ৭১ কে যারা দলীয়করণ করতে চেয়েছে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখন চব্বিশের গণ-অভ্যূত্থানে শহীদদের রক্তের আকাক্সক্ষা, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং হারানো মানবাধিকার ফিরে পেতে চেয়েছে। এগুলোর সমষ্টিগত অভিপ্রায়ের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হলো-ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যকে জাতীয় শক্তিতে পরিণত করা। একইসঙ্গে আগামী দিনের সকল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতপক্ষে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে পারব। এটাই আমাদের বিজয়ের উচ্ছ্বাস, জাতীয় প্রত্যাশা এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের উপায়।

২০২৪-কে ১৯৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করি: মাহফুজ আলম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের উপনিবেশ বিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে পাকিস্তান আন্দোলন হয়ে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান সবগুলোর ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘসময় ধরে নিজেদের মর্যাদা ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে এসেছে। ফলে ২০২৪-কে ১৯৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে প্রচেষ্টা সেটি আমরা প্রত্যাখ্যান করি।

মাহফুজ আলম বলেন, কেউ কেউ ১৯৭১-কে ১৯৪৭-এর ‘অ্যান্টিথিসিস হিসেবে দেখেন, কিন্তু আমরা এটিকে ঐতিহাসিকভাবে ভুল বলে মনে করি। বরং প্রতিটি পর্বেই বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের আত্মমর্যাদা, গণতন্ত্র, ভাষা ও সংস্কৃতিসহ নিজেদের পরিচয় রক্ষা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেছে। ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি প্রজন্মই এই দীর্ঘ লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নিজেদের ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, তাই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে আগের সংগ্রামগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষের স্বাধীনতা, মুক্তি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ যতবারই অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক উপনিবেশিকতার শিকার হয়েছে, ততবারই বাংলাদেশের মানুষ তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

মাহফুজ আলম আরো বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় লড়াই চলেছে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে। আর ১৯৭১-এর পর সেই লড়াই রূপ নিয়েছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদার এই সংগ্রামে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪—সবই একই সুতোয় গাঁথা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের কোনো শহীদের রক্তের রঙ আলাদা নয়। সবাই এই মাটির মানুষ, এই মাটির পক্ষে লড়া সৈনিক।

বিজয় কোনো স্থির অর্জন নয়, এটি নিরন্তর সংগ্রাম: আ স ম আবদুর রব
স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক, ডাকসুর সাবেক ভিপি, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, বিজয় দিবসের তাৎপর্যকে কেবল অতীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটি একটি নৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রগতিশীল অঙ্গীকারের দিন। সুদীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান চরম সত্যটি উন্মোচিত করেছে—যে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, তার অভ্যন্তরে এখনো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ভিত্তিক প্রজাতন্ত্র অনুপস্থিত।

তিনি বলেন, নতুন বাস্তবতায় বিজয় দিবসের নতুন পাঠ। এই নতুন এবং কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায়, বিজয় দিবসে ‘৭১ ও ২৪ এর গণআকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান কর্তব্যটি যুক্ত হয়ে যায়। সেই কর্তব্যটি হলো: ঔপনিবেশিক নিপীড়নমূলক, স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সকল জনগণের অংশগ্রহণ ভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল শোষণমুক্ত সমাজ, জনগণের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা। দীর্ঘ স্বৈরশাসন ও বৈষম্যের ফলে সেই চেতনা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

আ স ম আবদুর রব বলেন, বিজয় কোনো স্থির বা স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং নিরন্তর সংগ্রামের নাম। যখন শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়, তখন আমাদের বিজয় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সেই অসম্পূর্ণতা পূরণের এক ঐতিহাসিক ডাক দিয়েছে। সুতরাং, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই বিজয় দিবসের প্রকৃত লক্ষ্য হবে- বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ করা, যেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার সুরক্ষিত থাকবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত করা-কোনো অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত শক্তি যেন রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে। প্রজাতন্ত্রের ওপর জনগণের প্রকৃত মালিকানা অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আজকের বিজয় দিবস হোক বৈষম্যহীন প্রজাতন্ত্র নির্মাণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশীদারিত্বের গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের নতুন অঙ্গীকার।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে এসব কেন্দ্রে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রসূতিদের প্রাথমিক সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে।

আটটি কেন্দ্রে নেই চিকিৎসক, ছয়টি পদ শূন্য

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া এফডব্লিউবি পদে আটটি পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন কর্মী দিয়ে আটটি ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবের পাশাপাশি ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে প্রসূতি মায়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক প্রসূতি নারীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতেন। দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ভবনগুলো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরাজীর্ণ ভবন

গত শনিবার উপজেলার একতারপুর গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের মূল ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের গেট তালাবদ্ধ দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির মূল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পানির মোটর ও মূল ভবনের ফ্যানও চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির রং করে বাইরের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ভেতরের অবস্থা ও সেবার অনুপস্থিতি স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষ সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মানুষকেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে। আব্দুস সামাদ শেখ জানান, আগে এই কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্য কর্মীরাও থাকতেন। সেখান থেকে ওষুধও দেওয়া হতো। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

১৩–১৪ মাইল দূরে হাসপাতাল, দুর্ভোগে প্রসূতিরা

শুভরাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় তাঁদের ১৩ থেকে ১৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। প্রসূতি নারী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এত দূরের পথ যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। এ কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে পল্লিচিকিৎসকদের কাছে যেতে হয় তাঁদের।

সিদ্দিপাশা গ্রামের একলাস উদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকা থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২২ থেকে ২৩ মাইল। নদী পার হয়ে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে। যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ওষুধ ও জনবলসংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং জনবলও প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজীব বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা চালুর অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা

অভয়নগরের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সেবা বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাছাকাছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু, চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালু হবে এবং গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি