খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্বাচনী ট্রেনে গতি, ‘সুপার ক্যারাভান’ জানাবে ভোটের গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১১ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী ট্রেনে গতি, ‘সুপার ক্যারাভান’ জানাবে ভোটের গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট:

গণঅভ্যুত্থানে পাল্টে যাওয়া দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষ। এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের বাদ্য বেজেছে আরও আগেই। তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী ট্রেনে উঠেছে দেশ। গণতন্ত্রের মজবুত গড়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট এনেছে অনন্য মাত্রা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে। আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়তে ইতিহাসের সেরা একটি নির্বাচন ও গণভোট উপহার দিতে বারবার নিজের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের লক্ষ্যপূরণে প্রচারণায় বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ও ভোটারদের সচেতনতা বিকাশে মাঠে নামিয়েছে ১০টি ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভান। দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে বেড়াবে এসব ‘ভোটের গাড়ি’। সারাদেশে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই সুপার ক্যারাভানের যাত্রা শুরু হয়। ১০টি ভোটের গাড়ি বা ‘সুপার ক্যারাভান’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। রেকর্ডেড বক্তব্যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে তিনি এ সময় বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে না বাধা-থাকবে কেবল জনগণের মুক্ত ও নির্ভীক মতপ্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

  • ‘ভোটাধিকার কারো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার’ : প্রধান উপদেষ্টা
  • মাঠ পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
  • গণভোট কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনমাত্র নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা
  • প্রায় চূড়ান্ত গণভোটের লিফলেট, গণভোট বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন

‘ভোটাধিকার কারো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার’ মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা নির্ধারণ করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।’ তিনি তরুণ ভোটার, নারী ভোটার ও প্রথমবারের ভোটারদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। বলেন, ‘আপনি দেশের মালিক। আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশকে কে চালাবে, তা ঠিক করতে আপনার ভোট গুরুত্বপূর্ণ। চিন্তা-ভাবনা করে সৎ ও সমর্থ প্রার্থীকে ভোট দিন। অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।’ প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘এবারের নির্বাচনে জনগণ আরও একটি ভোট দেবে। জুলাই সনদে ভোট দেবে। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সনদ প্রস্তুত হয়েছে। দেশবাসী যদি এটি সমর্থন করেন, গণভোটে অবশ্যই ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস ও মনিটরিং) ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনমাত্র নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ
‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে পরিবর্তনের ধারাটি সত্যিকার অর্থেই সূচিত হয়।’ এবারের গণভোট কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনমাত্র নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘যার মাধ্যমে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে-সে বিষয়ে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

জানা যায়, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিসারদের সঙ্গে জুম প্ল্যাটফর্মে মতবিনিময় সভা করে এই সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুল রহমান সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। এই সভাতেও সুনির্দিষ্ট প্রচার সূচি তৈরি করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। এতে সরকারি অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগে কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রথম শর্ত হলো সরকারের সদিচ্ছা। সরকার বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে নিজেদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রচারণায় মুখ্য ভূমিকা পালন করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের নীতিতে বিশ্বাসী। কাক্সিক্ষত বন্দরে নোঙরের মাধ্যমে আক্ষরিক অর্থেই এর প্রমাণ দিতে চান তাঁরা। সরকারের নিরপেক্ষতা, কমিশনের দক্ষতা, রাজনৈতিক দলগুলোর পরিপক্বতা, নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব সব মিলেই ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা হবে। এজন্য সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে
ভোটের গাড়ির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এদিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কিছু মহল জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, তবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম সফল করতে হলে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে-পরিবর্তন কেন প্রয়োজন এবং এই পরিবর্তন তাদের জীবন ও ভবিষ্যতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি জানান, সকল জেলা ও উপজেলার জন্য বিস্তারিত প্রচার ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ প্রচারণা পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত পাঁচটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জানা গেছে, এবারের নির্বাচনি ও গণভোট প্রচারণায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সারা দেশে মোট ১০টি ‘ভোটের গাড়ি’ পরিচালনা করবে। এর আগে উপদেষ্টা, হামলার শিকার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় পরিদর্শনে যান এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

প্রায় চূড়ান্ত গণভোটের লিফলেট, গণভোট বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জুম প্ল্যাটফর্মে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় জেলা তথ্য অফিসারদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, গণভোটের ডেমোসহ একটি লিফলেট প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে, যা অনুসরণ করলে প্রচার কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির সঙ্গে জেলা তথ্য অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্বাচনি প্রচারণার সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের দপ্তরগুলো যুক্ত হতে পারে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে নির্বাচনি প্রচারে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।’ সঞ্চালনাকালে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ প্রচার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৬৪ জেলা ও চারটি উপজেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনি প্রচারে গণভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটার, তরুণ প্রজন্ম, নারী ভোটার ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারদের উৎসাহিত করতে অঞ্চলভিত্তিক জনপ্রিয় সংগীত তৈরি ও প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘ভোটালাপ’ ও ‘টেন মিনিট ব্রিফ’ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে গণভোট বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন দেখানো হবে। এই মতবিনিময় সভায় ৬৮ জেলার তথ্য অফিসের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন, পরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ এ মু’মেন এবং পরিচালক (প্রচার) ডালিয়া ইয়াসমিন সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসক-ওষুধ নেই, বন্ধের পথে অভয়নগরের ৮ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

চিকিৎসক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে এসব কেন্দ্রে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রসূতিদের প্রাথমিক সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে।

আটটি কেন্দ্রে নেই চিকিৎসক, ছয়টি পদ শূন্য

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া এফডব্লিউবি পদে আটটি পদের বিপরীতে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন কর্মী দিয়ে আটটি ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবের পাশাপাশি ওষুধ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে প্রসূতি মায়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় উপজেলার আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক প্রসূতি নারীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতেন। দীর্ঘদিন সেবা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রগুলো এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ভবনগুলো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তালাবদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরাজীর্ণ ভবন

গত শনিবার উপজেলার একতারপুর গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের মূল ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের গেট তালাবদ্ধ দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির মূল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পানির মোটর ও মূল ভবনের ফ্যানও চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির রং করে বাইরের সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও ভেতরের অবস্থা ও সেবার অনুপস্থিতি স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষ সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মানুষকেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটতে হচ্ছে। আব্দুস সামাদ শেখ জানান, আগে এই কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী চিকিৎসকসহ অন্য কর্মীরাও থাকতেন। সেখান থেকে ওষুধও দেওয়া হতো। এখন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

১৩–১৪ মাইল দূরে হাসপাতাল, দুর্ভোগে প্রসূতিরা

শুভরাড়া গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় তাঁদের ১৩ থেকে ১৪ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। প্রসূতি নারী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে এত দূরের পথ যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। এ কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে পল্লিচিকিৎসকদের কাছে যেতে হয় তাঁদের।

সিদ্দিপাশা গ্রামের একলাস উদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকা থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২২ থেকে ২৩ মাইল। নদী পার হয়ে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে। যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ওষুধ ও জনবলসংকটের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং জনবলও প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজীব বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা চালুর অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা

অভয়নগরের আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সেবা বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কাছাকাছি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু, চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা চালু হবে এবং গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি