খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্বাচনী ট্রেনে গতি, ‘সুপার ক্যারাভান’ জানাবে ভোটের গুরুত্ব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১১ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী ট্রেনে গতি, ‘সুপার ক্যারাভান’ জানাবে ভোটের গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট:

গণঅভ্যুত্থানে পাল্টে যাওয়া দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষ। এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের বাদ্য বেজেছে আরও আগেই। তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী ট্রেনে উঠেছে দেশ। গণতন্ত্রের মজবুত গড়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট এনেছে অনন্য মাত্রা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে। আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়তে ইতিহাসের সেরা একটি নির্বাচন ও গণভোট উপহার দিতে বারবার নিজের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের লক্ষ্যপূরণে প্রচারণায় বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ও ভোটারদের সচেতনতা বিকাশে মাঠে নামিয়েছে ১০টি ভোটের গাড়ি-সুপার ক্যারাভান। দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় ঘুরে বেড়াবে এসব ‘ভোটের গাড়ি’। সারাদেশে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই সুপার ক্যারাভানের যাত্রা শুরু হয়। ১০টি ভোটের গাড়ি বা ‘সুপার ক্যারাভান’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। রেকর্ডেড বক্তব্যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে তিনি এ সময় বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে না ভয়, থাকবে না বাধা-থাকবে কেবল জনগণের মুক্ত ও নির্ভীক মতপ্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

  • ভোটাধিকার কারো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার’ : প্রধান উপদেষ্টা
  • মাঠ পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
  • গণভোট কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনমাত্র নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা
  • প্রায় চূড়ান্ত গণভোটের লিফলেট, গণভোট বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন

‘ভোটাধিকার কারো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার’ মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা নির্ধারণ করি, আমাদের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।’ তিনি তরুণ ভোটার, নারী ভোটার ও প্রথমবারের ভোটারদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। বলেন, ‘আপনি দেশের মালিক। আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশকে কে চালাবে, তা ঠিক করতে আপনার ভোট গুরুত্বপূর্ণ। চিন্তা-ভাবনা করে সৎ ও সমর্থ প্রার্থীকে ভোট দিন। অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।’ প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘এবারের নির্বাচনে জনগণ আরও একটি ভোট দেবে। জুলাই সনদে ভোট দেবে। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সনদ প্রস্তুত হয়েছে। দেশবাসী যদি এটি সমর্থন করেন, গণভোটে অবশ্যই ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস ও মনিটরিং) ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনমাত্র নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ
‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে পরিবর্তনের ধারাটি সত্যিকার অর্থেই সূচিত হয়।’ এবারের গণভোট কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজনমাত্র নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘যার মাধ্যমে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে-সে বিষয়ে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

জানা যায়, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে মাঠ পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জেলা তথ্য অফিসারদের সঙ্গে জুম প্ল্যাটফর্মে মতবিনিময় সভা করে এই সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুল রহমান সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। এই সভাতেও সুনির্দিষ্ট প্রচার সূচি তৈরি করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। এতে সরকারি অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগে কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রথম শর্ত হলো সরকারের সদিচ্ছা। সরকার বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে নিজেদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রচারণায় মুখ্য ভূমিকা পালন করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের নীতিতে বিশ্বাসী। কাক্সিক্ষত বন্দরে নোঙরের মাধ্যমে আক্ষরিক অর্থেই এর প্রমাণ দিতে চান তাঁরা। সরকারের নিরপেক্ষতা, কমিশনের দক্ষতা, রাজনৈতিক দলগুলোর পরিপক্বতা, নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব সব মিলেই ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা হবে। এজন্য সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে
ভোটের গাড়ির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এদিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কিছু মহল জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, তবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম সফল করতে হলে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে-পরিবর্তন কেন প্রয়োজন এবং এই পরিবর্তন তাদের জীবন ও ভবিষ্যতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি জানান, সকল জেলা ও উপজেলার জন্য বিস্তারিত প্রচার ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ প্রচারণা পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত পাঁচটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জানা গেছে, এবারের নির্বাচনি ও গণভোট প্রচারণায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সারা দেশে মোট ১০টি ‘ভোটের গাড়ি’ পরিচালনা করবে। এর আগে উপদেষ্টা, হামলার শিকার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় পরিদর্শনে যান এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

প্রায় চূড়ান্ত গণভোটের লিফলেট, গণভোট বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জুম প্ল্যাটফর্মে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় জেলা তথ্য অফিসারদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, গণভোটের ডেমোসহ একটি লিফলেট প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে, যা অনুসরণ করলে প্রচার কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির সঙ্গে জেলা তথ্য অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্বাচনি প্রচারণার সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের দপ্তরগুলো যুক্ত হতে পারে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে নির্বাচনি প্রচারে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।’ সঞ্চালনাকালে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ প্রচার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৬৪ জেলা ও চারটি উপজেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনি প্রচারে গণভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটার, তরুণ প্রজন্ম, নারী ভোটার ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারদের উৎসাহিত করতে অঞ্চলভিত্তিক জনপ্রিয় সংগীত তৈরি ও প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘ভোটালাপ’ ও ‘টেন মিনিট ব্রিফ’ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে গণভোট বিষয়ে প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন দেখানো হবে। এই মতবিনিময় সভায় ৬৮ জেলার তথ্য অফিসের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিগরি) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন, পরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ এ মু’মেন এবং পরিচালক (প্রচার) ডালিয়া ইয়াসমিন সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো। নতুন আইনে বাহিনীটির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে এপিবিএন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বও বাহিনীটির ওপর থাকছে।

নতুন আইনে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে এপিবিএনের একক কাঠামোর অধীনে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএন নিজস্ব ডিটেনশন সেল, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদর দপ্তরে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে।

এপিবিএন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং আইজিপির সার্বিক তদারকিতে থাকবে। প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরে থেকেও আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের মতো বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে নতুন আইনে এপিবিএনের বিচারিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের ‘পুলিশ-প্রধান আদালত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে এপিবিএন বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আবেদন করা যাবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

র‍্যাবের জায়গায় এসআরবি, সংসদে আইন পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জায়গায় এসআরবি, সংসদে আইন পাস

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

বিলটির ওপর বিরোধী দল সাতটি আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ পরামর্শ, স্বাধীন নজরদারি ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। র‍্যাবের জনবল, সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষমতা এবং অভিযোগ তদন্তের কাঠামো নিয়েও তারা আপত্তি তোলে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তিনি বিলটি পাস না করার আহ্বান জানান।

পাস হওয়া আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটির সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এসআরবি।

আইনে এসআরবিকে বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

এ ছাড়া এসআরবির সদস্যদের কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকবে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানার হেফাজতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সদস্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগও থাকবে।

আইনে সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটিতে এসআরবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, বিচার বিভাগ এবং মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে র‍্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। একই সঙ্গে র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ, তহবিল, সম্পত্তি, নথিপত্র ও রেকর্ড এসআরবির অনুকূলে স্থানান্তর ও ন্যস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিরোধী সদস্যরা অবশ্য র‍্যাবের পুরোনো নথি ও রেকর্ড হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, গুমসহ গুরুতর অপরাধের মামলায় এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। তাই হস্তান্তরের আগে নথি ও আলামতের তালিকা তৈরি এবং সেগুলো সংরক্ষণের পৃথক বিধানের দাবি জানান তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আজও দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার এক বিস্মৃত উপনিবেশের স্মৃতি—ফোর্ট রস। ১৮১২ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর এই অঞ্চলের একটি অংশ রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। সেই সময় এটি ‘রাশিয়ান আমেরিকা’র অংশ হিসেবে পরিচালিত হতো। সোনোমা থেকে সান ফ্রান্সিসকোর দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ এগোলেই দেখা মেলে ছোট্ট একটি অর্থোডক্স গির্জা ও কাঠের দুর্গসদৃশ স্থাপনার। রুশ ভাষায় যার নাম ‘ক্রেপস্ত রস’।

আলাস্কার খাদ্যসংকট থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশদের আগমন

১৬০০ ও ১৭০০-এর দশকে রুশ পশম ব্যবসায়ীরা সাইবেরিয়া পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে পৌঁছান। পরে আলাস্কায় রুশ বসতি গড়ে ওঠে। তবে সেখানে কৃষিকাজ কঠিন হওয়ায় খাদ্যসংকট ছিল বড় সমস্যা। ১৮০৬ সালে রুশ-আমেরিকান কোম্পানির পরিচালক নিকোলাই রেজানোভ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে আসেন। আলাস্কার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ার উষ্ণ ও কৃষির উপযোগী পরিবেশ তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নেয় রুশরা। ১৮১২ সালে তৈরি হয় ফোর্ট রস। শুরুতে সেখানে ২৫ জন রুশ ও প্রায় ৮০ জন স্থানীয় আলাস্কান শিকারি ছিলেন।

বহুজাতিক জনপদে পরিণত হয়েছিল ফোর্ট রস

সময়ের সঙ্গে ফোর্ট রস শুধু সামরিক ঘাঁটি না থেকে বহুজাতিক বাণিজ্যিক ও উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৮৩০-এর দশকে সেখানে প্রায় ৪০০ মানুষ বসবাস করতেন। রুশ ও আলাস্কানদের পাশাপাশি স্থানীয় কাশায়া পোমো ও কোস্ট মিউক জনগোষ্ঠীর মানুষও সেখানে বসবাস করতেন। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। ফিনল্যান্ড ও হাওয়াই থেকেও দক্ষ কারিগরেরা সেখানে কাজ করতে আসতেন।

জাহাজ, কাচ ও ইট তৈরির কেন্দ্র

ফোর্ট রসে কৃষির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলত। এখানে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মিত হয়। তৈরি করা হতো ইট ও কাচ। ছিল বাতাসচালিত কলও। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন শিল্পের ইতিহাসেও ফোর্ট রসের নাম রয়েছে। ১৮১৭ সালে বর্তমান সোনোমা কাউন্টিতে রুশরা প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আঙুর দিয়ে তারা অল্প পরিমাণে ওয়াইনও তৈরি করত।

কেন টিকল না রুশ উপনিবেশ?

বাণিজ্যিক ও কৃষি কর্মকাণ্ড চললেও ফোর্ট রস শেষ পর্যন্ত রুশদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এটি যথেষ্ট লাভজনক হয়ে ওঠেনি এবং আলাস্কার বসতিগুলোতেও পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত শিকারের কারণে সমুদ্রভোঁদড়ের সংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি উপকূলের কুয়াশা ও ইঁদুরের উপদ্রবে কৃষি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। ১৮৩৯ সালে হাডসনস বে কোম্পানি রুশ আলাস্কায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে রাজি হলে ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ কৃষি ও উৎপাদনকেন্দ্র রাখার প্রয়োজন আরও কমে যায়। ১৮৪১ সালে সুইস অভিবাসী জন সাটার রুশদের কাছ থেকে ফোর্ট রসের ভবন ও অন্যান্য সম্পদ কিনে নেন। এর মধ্য দিয়েই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ উপনিবেশের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে রুশদের ছাপ

রুশরা চলে গেলেও ফোর্ট রস ও আশপাশের অঞ্চলে তাদের উপস্থিতির চিহ্ন রয়ে গেছে। সান ফ্রান্সিসকোর রুশ হিল, রুশ রিভার ও বডেগা বে—এসব নামেও সেই ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা যায়। আজ ফোর্ট রস তুলনামূলক নির্জন হলেও কাঠের দুর্গ, অর্থোডক্স গির্জা ও পুরোনো স্থাপনাগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রায় দুই শতাব্দী আগে ক্যালিফোর্নিয়ার এই উপকূলে রাশিয়ার যে ছোট্ট উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল, তার গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ