খুঁজুন
                               
, ,
           

জনতার মঞ্চে ১৬ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান-‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
জনতার মঞ্চে ১৬ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান-‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

অধীর অপেক্ষার অবসান হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটি স্পর্শ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ১৬ মিনিটের অবিস্মরণীয় এক ভাষণ দিয়েছেন। নিজের ভাষণে তিনি বর্ণবাদবিরোধী আমেরিকান নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ এর অনুকরণে দেশ ও জাতিকে নিয়ে একটি নতুন স্লোগান ধারণ করার কথা বলেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্যা পিপল, ফর দ্যা কান্ট্রি। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন করব।’

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে লাল গালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে’ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। দেশবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাত্র ১৬ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন। গোছানো, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বক্তব্য রূপান্তরিত হয় ভাষণে। যেখানে তিনি তুলে ধরেন মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাঁথার কথা। উঠে আসে দেশের মানুষের অধিকার, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা আর ভাগ্যের উন্নয়নের কথা। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ। উপস্থিত মুরুব্বিবর্গ, মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, আমার সামনে উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা দেখছেন এই অনুষ্ঠান; প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় মা-বোনেরা আসসালামু আলাইকুম।’

দলের পক্ষ থেকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান বলেন, ‘ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন আপনারা। নাম শুনেছেন তো? মার্টিন লুথার কিং-এর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে- ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই- ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’

প্রিয় নবীর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়- প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী-আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে; আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে থাকে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব’। তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

আল্লাহর রহমতে মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজের বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারো লক্ষ-কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই। রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায় আপনাদের মাঝে আসতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ৭৫-এ আবার ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেদিন সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তীতে ৯০-এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ, এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।’ তিনি আরও বলেন, আমরা তারপর দেখেছি ২০২৪ সালে.. ৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ; কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ সেদিন ৫ই আগস্ট এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।

একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃপ্ত অঙ্গীকার
আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই, সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব— যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে, এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই লক্ষ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

বক্তব্যে উঠে এলো একাত্তর ও চব্বিশ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ৭১’ সালে আমাদের শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত, হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে; শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সাল, মাত্র সেদিনের ঘটনা- আমরা দেখেছি আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য।

ওসমান হাদি চেয়েছিল মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক
তারেক রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের এক সাহসী প্রজন্মের সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে; ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। আজ ২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন-ওসমান হাদিসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন এবং বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন— এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।

আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে
বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, তোমরাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশকে গড়ে তুলবে। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত ভিত্তির ওপরে, গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।’

যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে
দেশের শন্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমার সাথে আজকে মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহর রহমত আমরা চাই। যে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন এবং মঞ্চের বাইরে যে সকল জাতীয় আরও নেতৃবৃন্দ আছেন- আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।

তিনি বলেন, আজ আপনারা জানেন এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি ও এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন- তার সাথে কী হয়েছে, আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে আমি চাইব- আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।

সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে
তারেক রহমান বলেন, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন- অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। এবং সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি এবং টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন- আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, আসুন আমাদেরকে আজ নিশ্চিত করতে হবে— আমরা যে ধর্মের মানুষই হই, আমরা যে শ্রেণির মানুষই হই, আমরা যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই-আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখব। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক- যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণি, যেকোনো পেশা, যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে। এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।

সবাই মিলে করব কাজ-গড়ব সুন্দর বাংলাদেশ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আসুন সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। সবাই মিলে করব কাজ গড়ব সুন্দর বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ। বক্তব্যের শেষ দিকে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়ে, আবারো সকলকে যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আবারো আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

 

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ট্যাংকারটির নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরিও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। এতে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করতে পারে।

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। এর পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। নাবিকেরা নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে অপরিশোধিত তেল নাকি এলএনজি ছিল, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে এ জলপথে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই বাহিনীতে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন সদস্য রয়েছেন। তাদের বহনকারী নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।

থিওডোর রুজভেল্টের সঙ্গে রয়েছে ইউএসএস চোসিন ক্রুজার। অন্যদিকে মাকিন আইল্যান্ড গ্রুপে রয়েছে উভচর অবতরণকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ।

অক্টোবরের শেষে তিন বিমানবাহী রণতরি

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা তিনটিতে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে রয়েছে।

নতুন মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে। এ পদক্ষেপের সময় ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক উত্তেজনা—দুই দিকই সামনে রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে টানাপোড়েন

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব তাঁর কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। একই সঙ্গে তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

এদিকে সাম্প্রতিক একটি বিমান-সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা বক্তব্যও এসেছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন—তিনটি ঘটনাই অঞ্চলটির সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ

 

অরাজকতা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর হবে: নুরুল ইসলাম মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
অরাজকতা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর হবে: নুরুল ইসলাম মনি

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ক্লাব প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবার সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে কেউ এই সুযোগের অপব্যবহার করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। দেশের স্বার্থের বাইরে কোনো কার্যক্রমে কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সংসদে আলোচনা করে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তাই রাস্তায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সংসদে এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। বিরোধী দলের সদস্যদেরও সংসদে এসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নুরুল ইসলাম মনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে সরকার অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লংমার্চ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আন্দোলনের নামে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা কাম্য নয়। তার ভাষ্য, কোনো পক্ষ যদি পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে, সরকার তা মোকাবিলা করবে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ কোনো অনিয়মকে সরকার বৈধতা দেয় না। প্রয়োজন হলে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের তরুণদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে খেলাধুলার গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের নিজেদের গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে নুরুল ইসলাম মনি তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ক্লাব প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নাসার নতুন মিশন, আইএসএসে চার নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
নাসার নতুন মিশন, আইএসএসে চার নভোচারী

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছে চার সদস্যের নতুন একটি মহাকাশচারী দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তারা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে ডকিং সম্পন্ন করেন। সেখানে তারা প্রায় ছয় মাস অবস্থান করবেন।

নতুন ক্রু সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ।

৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে আইএসএসে পৌঁছাল ক্যাপসুল

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ক্রু-১৩ মিশনের চার সদস্যকে নিয়ে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।

উৎক্ষেপণের ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর স্পেসএক্সের ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়।

নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো মার্কিন মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের রেকর্ড।

নাসা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বা ২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার বেগে মহাকাশে ছুটতে থাকা ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে আইএসএসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, ড্রাগনের ‘হার্ড ক্যাপচার’ সম্পন্ন হয়েছে।

এরপর ক্যাপসুলের হ্যাচ বা দরজা খুলে নতুন চার সদস্য চাপ-নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করবেন।

লিকের কারণে পিছিয়েছিল উৎক্ষেপণ

ক্রু-১৩ দলের মূলত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইএসএসে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি লিক ধরা পড়ায় তাদের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর আইএসএসে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা মহাকাশ স্টেশনের অবস্থান ও উৎক্ষেপণের সময় ক্যাপসুলটি স্টেশন থেকে কতটা দূরে ছিল—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করা সর্বশেষ একটি ক্রুকে আইএসএসে পৌঁছাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

পুরোনো ক্রুর কাছ থেকে দায়িত্ব নেবে নতুন দল

ক্রু-১৩ দল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা বর্তমান ক্রু-১২ দলের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে।

ক্রু-১২ দলের সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ।

আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্রু-১২ দলের সদস্যরা আগামী সোমবারের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন।

২০৩০ সালের দিকে শেষ হতে পারে আইএসএসের যাত্রা

প্রায় ২৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটিতে নিয়মিতভাবে মানুষের বসবাস ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলছে। তবে পুরোনো হয়ে যাওয়া এই মহাকাশ স্টেশনকে ২০৩০ সালের দিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে পৃথিবীর কোনো একটি মহাসাগরে পতন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তিতে টানাপোড়েন তৈরি হলেও আইএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

নতুন ক্রু-১৩ দলের ছয় মাসের মিশনেও মহাকাশ গবেষণা ও স্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এসএ