খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্লান্তিহীন তারেক রহমানে নির্বাচনমুখী দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্লান্তিহীন তারেক রহমানে নির্বাচনমুখী দেশ

কালের আলো রিপোর্ট:

তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল গভীর শূন্যতা। ছিল নানাজনের নানা প্রশ্ন। সব প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে তিনি ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে। স্বভাবতই তাঁর দেশে ফেরায় উজ্জীবিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঢাকায় তাঁর সংবর্ধনা সমাবেশে অভূতপূর্ব উপস্থিতির ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা রয়েছে চাঙ্গা। ফুরফুরে মেজাজে প্রতিদিন কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন স্বয়ং তারেক রহমানও। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজধানীতে বিশাল গণজমায়েতের প্রভাব মাঠপর্যায়ে নিয়ে এসেছে ইতিবাচক প্রভাব। উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে দলটির তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। অপেক্ষার পালা শেষে ভোটার হয়েছেন দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। স্বগৌরবে দেশের মাটিতে তারেক রহমানের সদর্প উপস্থিতি একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সব সংশয়ের দাঁড়ি টেনেছে। নির্বাচনমুখী হয়েছে দেশ। এসবের মধ্যে দিয়ে এখন নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে পূর্ণ মনোযোগ তারেক রহমানের।

জানা যায়, দলীয় এবং সমমনা প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ভোটের মাঠে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি মানেই দ্বিগুণ উদ্দীপনা তৈরি করবে নেতাকর্মীদের মাঝে। এর মধ্যে তিনি দেশে ফিরে এসে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন। সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারেও ফিরেছে গতি। গা ঝাড়া দিচ্ছেন এতোদিন গা ছাড়া দেওয়া নেতাকর্মীরাও। সূত্র মতে, শিগগিরই তারেক রহমানের বগুড়া ও সিলেটে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করবেন। তাঁর শ্বশুরবাড়িও সিলেটে। আর বগুড়া তাঁর নির্বাচনী এলাকা। তিন দিনের জন্য তিনি বগুড়ায় যেতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানা যায়নি। তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। পাশের বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে তাঁর মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কথা। ইতোমধ্যেই দুজনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৮ ডিসেম্বর তারেক রহমান বগুড়ায় যেতে পারেন। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের পর ৩০ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ফিরবেন-এমন পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমান কয়েক দিন বগুড়ায় থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারের বিষয়ে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। তবে দলের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ডিসেম্বর তারেক রহমান সিলেট সফরে যেতে পারেন। তবে সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।

  • অপেক্ষার পালা শেষে হয়েছেন ভোটার
  • দিনমান ব্যস্ত সূচি তবুও ক্লান্তিহীন
  • শহীদ হাদির কবর জিয়ারত
  • কবি নজরুলের সমাধিতে পুষ্পস্তবক
  • কোকো, শ্বশুর ও শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তার কবর জিয়ারত
  • ১৭ বছর পর শ্বশুরবাড়ি মাহবুব ভবনে
  • রাতে মাকে দেখতে এভারকেয়াওে
  • মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়: তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পাশাপাশি তারেক রহমানকে এরই মধ্যে ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তারেকের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষ খুশি হয়েছে, জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, জনগণ উজ্জীবিত হয়েছে।’

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদি ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। হাদির মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন হবে কি না সে শঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। সর্বশেষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কারও কারও মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। জল্পনা-কল্পনা ছিল। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান।

গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সমালোচকদের যে সংশয় ছিল তা দূর হয়েছে।’ তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট এখন মাত্র সাত সপ্তাহ দূরে ৪৯ দিন। নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আমার কখনোই সংশয় ছিল না; যদিও কিছু সময়ে আমাকে নিজের উচ্ছ্বাস সংযত করতে হয়েছে। তবে, গতকালের (২৫ ডিসেম্বার বৃহস্পতিবার) ঘটনাবলি সমালোচকদের মনে থাকা শেষ সন্দেহটুকুও দূর করে দিয়েছে।’

দিনমান ব্যস্ত সূচি তবুও ক্লান্তিহীন
যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দীর্ঘ যাত্রার পর এক মুহুর্ত বসে নেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিন-রাত একাকার করে ছুটোছুটি করছেন। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনেই একের পর এক কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করছেন। তাঁর ছুটে চলা প্রতিটি পথে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল। ভালোবাসার উচ্ছ্বাস। দেশে ফেরার একদিন পরেই ১৯ বছর পর শেরেবাংলা নগরে তার বাবা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন। নিজে কেঁদেছেন, সবাইকে কাঁদিয়েছেন। একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে গেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সমানতালে খোঁজ রাখছেন এভারকেয়ারে শয্যাশায়ী মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। সব কর্মসূচি শেষ করে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, শক্তি-সাহস জুগাচ্ছেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টায় গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছান। তারেক রহমানের আগমন অপেক্ষায় ঢাবি ছাত্রদল টিএসসিতে অবস্থান নেয়। তাঁর আগমনকে ঘিরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। টিএসসি থেকে হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড ও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিপরীত দিকে শাহবাগের দিক থেকেও রয়েছে এক স্তরের ব্যারিকেড। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পাশেই অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি উভয় মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম।

অপেক্ষার পালা শেষে ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান, ছোট ভাই কোকো’র কবর জিয়ারত
অপেক্ষার পালা শেষে ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার দুদিন পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পর নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বনানীতে নিজের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করতে যান তিনি। শনিবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সেখানে পৌঁছান। কোকোর কবর জিয়ারতের পর তারেক রহমান তাঁর শ্বশুর মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন।

২৭ ডিসেম্বরই ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান- বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছিল আগেই। সেজন্য সব প্রস্তুতিও সেরে রাখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ। বিএনপি মিডিয়া সেল শনিবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শনিবার, আঙুলের ছাপ, চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তারেক রহমানের এনআইডি পেতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ভোটার হতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি, আইরিশ ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এগুলো ইসির ডাটাবেজে আপলোড করা হয়। ডাটা সেন্টারে থাকা ভোটারদের তথ্যের সঙ্গে ক্রসম্যাচ করা হয়। এরপর একটি নাম্বার তৈরি হয়। এটা সফটওয়্যারে করা হয়। এ কাজে কত সময় লাগবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ৫ ঘণ্টা, ৭ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে আরও বেশি লাগে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে একটু কম লাগে।

দুপুর ১টার দিকে নির্বাচন ভবনের পেছনে অবস্থিত নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে যান তারেক রহমান। ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ প্রবাসী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। ওই কক্ষে গিয়ে ছবি তোলা, দশ আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া, চোখের আইরিশ (চোখের মণির ছাপ) ও স্বাক্ষর করার কাজ করেন তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। একই দিনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আসেন ডা. জুবাইদা রহমান। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন তারা।

এদিন পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তার কবর জিয়ারত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে এ জিয়ারত করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

পরে বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শ্বশুরবাড়ি মাহবুব ভবনে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকে তাকে বহনকারী গাড়িবহর শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে বলে জানায় দলীয় সূত্র।

রাতে মাকে দেখতে এভারকেয়ারে
চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে দেশে অবস্থানের তৃতীয় দিনেও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরেই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ ত্যাগ করে তিনি হাসপাতালে যান তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে।

মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়: তারেক রহমান
দেশের সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনারাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশের বন্ধুরা, বোনেরা ও ভাইয়েরা, গত শুক্রবার দিনটা সারাজীবনের জন্য আমার হৃদয়ে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমি আবার আমার মাতৃভূমির মাটিতে পা রেখেছি। আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, ঢাকার রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল, আর লাখো মানুষের দোয়া-এই মুহূর্তগুলো আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না। সবার প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।’ তিনি বলেন, ‘এই ফিরে আসা নিয়ে আমার আর আমার পরিবারের মনে যে ভালোবাসা আর সম্মান কাজ করছে, তা শুধুমাত্র কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যারা সব প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের পাশে ছিলেন, কখনো আশা হারাননি, আপনাদের সাহস আমাকে প্রতিনিয়ত শক্তি জোগায়।’ ‘নাগরিক সমাজের মানুষজন, তরুণরা, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক-সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ধন্যবাদ। আপনারাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে।” তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দায়িত্বশীলতা ও যত্নের সঙ্গে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আর যারা আমার ফিরে আসার সময় নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করেছেন, সেই সাথে দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, সেইসব আইন-শঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেবার গুরুত্ব অপরিসীম।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমার দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। গণতন্ত্র, বহুদলীয় সহাবস্থান এবং জনগণের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর জোর দেওয়া এসব ভাবনার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির আশাবাদ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানকেও আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। এসব পরামর্শ আমি বিনয় ও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার সেদিনের ভাষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি শুধু কোনো স্বপ্নের কথা বলিনি, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বাস্তব পরিকল্পনার কথা বলেছি; যে বাংলাদেশে শান্তি ও মর্যাদা থাকবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে, আর প্রতিটি শিশু আশার আলো নিয়ে বড় হবে। এই পরিকল্পনা সব বাংলাদেশির জন্য। একটি ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য। সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার মত বাংলাদেশের জন্য।’ দেশে ফিরে আসার সময় তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ বাংলাদেশকে এবং আপনাদের সবাইকে সবসময় তাঁর রহমতে রাখুন।’

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি