ক্লান্তিহীন তারেক রহমানে নির্বাচনমুখী দেশ
কালের আলো রিপোর্ট:
তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল গভীর শূন্যতা। ছিল নানাজনের নানা প্রশ্ন। সব প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে তিনি ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে। স্বভাবতই তাঁর দেশে ফেরায় উজ্জীবিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঢাকায় তাঁর সংবর্ধনা সমাবেশে অভূতপূর্ব উপস্থিতির ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা রয়েছে চাঙ্গা। ফুরফুরে মেজাজে প্রতিদিন কর্মব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন স্বয়ং তারেক রহমানও। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজধানীতে বিশাল গণজমায়েতের প্রভাব মাঠপর্যায়ে নিয়ে এসেছে ইতিবাচক প্রভাব। উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে দলটির তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। অপেক্ষার পালা শেষে ভোটার হয়েছেন দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। স্বগৌরবে দেশের মাটিতে তারেক রহমানের সদর্প উপস্থিতি একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সব সংশয়ের দাঁড়ি টেনেছে। নির্বাচনমুখী হয়েছে দেশ। এসবের মধ্যে দিয়ে এখন নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে পূর্ণ মনোযোগ তারেক রহমানের।
জানা যায়, দলীয় এবং সমমনা প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ভোটের মাঠে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি মানেই দ্বিগুণ উদ্দীপনা তৈরি করবে নেতাকর্মীদের মাঝে। এর মধ্যে তিনি দেশে ফিরে এসে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন। সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারেও ফিরেছে গতি। গা ঝাড়া দিচ্ছেন এতোদিন গা ছাড়া দেওয়া নেতাকর্মীরাও। সূত্র মতে, শিগগিরই তারেক রহমানের বগুড়া ও সিলেটে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করবেন। তাঁর শ্বশুরবাড়িও সিলেটে। আর বগুড়া তাঁর নির্বাচনী এলাকা। তিন দিনের জন্য তিনি বগুড়ায় যেতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানা যায়নি। তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। পাশের বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে তাঁর মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কথা। ইতোমধ্যেই দুজনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৮ ডিসেম্বর তারেক রহমান বগুড়ায় যেতে পারেন। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের পর ৩০ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ফিরবেন-এমন পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমান কয়েক দিন বগুড়ায় থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারের বিষয়ে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। তবে দলের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ডিসেম্বর তারেক রহমান সিলেট সফরে যেতে পারেন। তবে সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।
- অপেক্ষার পালা শেষে হয়েছেন ভোটার
- দিনমান ব্যস্ত সূচি তবুও ক্লান্তিহীন
- শহীদ হাদির কবর জিয়ারত
- কবি নজরুলের সমাধিতে পুষ্পস্তবক
- কোকো, শ্বশুর ও শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তার কবর জিয়ারত
- ১৭ বছর পর শ্বশুরবাড়ি মাহবুব ভবনে
- রাতে মাকে দেখতে এভারকেয়াওে
- মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়: তারেক রহমান
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পাশাপাশি তারেক রহমানকে এরই মধ্যে ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তারেকের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষ খুশি হয়েছে, জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, জনগণ উজ্জীবিত হয়েছে।’

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদি ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। হাদির মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন হবে কি না সে শঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। সর্বশেষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কারও কারও মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। জল্পনা-কল্পনা ছিল। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সমালোচকদের যে সংশয় ছিল তা দূর হয়েছে।’ তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট এখন মাত্র সাত সপ্তাহ দূরে ৪৯ দিন। নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আমার কখনোই সংশয় ছিল না; যদিও কিছু সময়ে আমাকে নিজের উচ্ছ্বাস সংযত করতে হয়েছে। তবে, গতকালের (২৫ ডিসেম্বার বৃহস্পতিবার) ঘটনাবলি সমালোচকদের মনে থাকা শেষ সন্দেহটুকুও দূর করে দিয়েছে।’
দিনমান ব্যস্ত সূচি তবুও ক্লান্তিহীন
যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দীর্ঘ যাত্রার পর এক মুহুর্ত বসে নেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিন-রাত একাকার করে ছুটোছুটি করছেন। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনেই একের পর এক কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করছেন। তাঁর ছুটে চলা প্রতিটি পথে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল। ভালোবাসার উচ্ছ্বাস। দেশে ফেরার একদিন পরেই ১৯ বছর পর শেরেবাংলা নগরে তার বাবা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন। নিজে কেঁদেছেন, সবাইকে কাঁদিয়েছেন। একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে গেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সমানতালে খোঁজ রাখছেন এভারকেয়ারে শয্যাশায়ী মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। সব কর্মসূচি শেষ করে মায়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, শক্তি-সাহস জুগাচ্ছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টায় গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছান। তারেক রহমানের আগমন অপেক্ষায় ঢাবি ছাত্রদল টিএসসিতে অবস্থান নেয়। তাঁর আগমনকে ঘিরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। টিএসসি থেকে হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড ও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিপরীত দিকে শাহবাগের দিক থেকেও রয়েছে এক স্তরের ব্যারিকেড। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পাশেই অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি উভয় মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম।

অপেক্ষার পালা শেষে ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান, ছোট ভাই কোকো’র কবর জিয়ারত
অপেক্ষার পালা শেষে ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার দুদিন পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পর নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বনানীতে নিজের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করতে যান তিনি। শনিবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সেখানে পৌঁছান। কোকোর কবর জিয়ারতের পর তারেক রহমান তাঁর শ্বশুর মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন।
২৭ ডিসেম্বরই ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান- বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছিল আগেই। সেজন্য সব প্রস্তুতিও সেরে রাখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ। বিএনপি মিডিয়া সেল শনিবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শনিবার, আঙুলের ছাপ, চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তারেক রহমানের এনআইডি পেতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ভোটার হতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি, আইরিশ ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এগুলো ইসির ডাটাবেজে আপলোড করা হয়। ডাটা সেন্টারে থাকা ভোটারদের তথ্যের সঙ্গে ক্রসম্যাচ করা হয়। এরপর একটি নাম্বার তৈরি হয়। এটা সফটওয়্যারে করা হয়। এ কাজে কত সময় লাগবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ৫ ঘণ্টা, ৭ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে আরও বেশি লাগে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে একটু কম লাগে।
দুপুর ১টার দিকে নির্বাচন ভবনের পেছনে অবস্থিত নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে যান তারেক রহমান। ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ প্রবাসী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। ওই কক্ষে গিয়ে ছবি তোলা, দশ আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া, চোখের আইরিশ (চোখের মণির ছাপ) ও স্বাক্ষর করার কাজ করেন তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। একই দিনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আসেন ডা. জুবাইদা রহমান। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন ভবন ত্যাগ করেন তারা।
এদিন পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তার কবর জিয়ারত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে এ জিয়ারত করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

পরে বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শ্বশুরবাড়ি মাহবুব ভবনে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকে তাকে বহনকারী গাড়িবহর শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে বলে জানায় দলীয় সূত্র।
রাতে মাকে দেখতে এভারকেয়ারে
চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে দেশে অবস্থানের তৃতীয় দিনেও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরেই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ ত্যাগ করে তিনি হাসপাতালে যান তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে।
মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়: তারেক রহমান
দেশের সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনারাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশের বন্ধুরা, বোনেরা ও ভাইয়েরা, গত শুক্রবার দিনটা সারাজীবনের জন্য আমার হৃদয়ে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমি আবার আমার মাতৃভূমির মাটিতে পা রেখেছি। আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, ঢাকার রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল, আর লাখো মানুষের দোয়া-এই মুহূর্তগুলো আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না। সবার প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।’ তিনি বলেন, ‘এই ফিরে আসা নিয়ে আমার আর আমার পরিবারের মনে যে ভালোবাসা আর সম্মান কাজ করছে, তা শুধুমাত্র কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যারা সব প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের পাশে ছিলেন, কখনো আশা হারাননি, আপনাদের সাহস আমাকে প্রতিনিয়ত শক্তি জোগায়।’ ‘নাগরিক সমাজের মানুষজন, তরুণরা, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক-সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ধন্যবাদ। আপনারাই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে।” তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দায়িত্বশীলতা ও যত্নের সঙ্গে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আর যারা আমার ফিরে আসার সময় নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করেছেন, সেই সাথে দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, সেইসব আইন-শঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেবার গুরুত্ব অপরিসীম।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমার দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। গণতন্ত্র, বহুদলীয় সহাবস্থান এবং জনগণের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর জোর দেওয়া এসব ভাবনার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির আশাবাদ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানকেও আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। এসব পরামর্শ আমি বিনয় ও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার সেদিনের ভাষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি শুধু কোনো স্বপ্নের কথা বলিনি, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বাস্তব পরিকল্পনার কথা বলেছি; যে বাংলাদেশে শান্তি ও মর্যাদা থাকবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে, আর প্রতিটি শিশু আশার আলো নিয়ে বড় হবে। এই পরিকল্পনা সব বাংলাদেশির জন্য। একটি ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের জন্য। সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার মত বাংলাদেশের জন্য।’ দেশে ফিরে আসার সময় তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ বাংলাদেশকে এবং আপনাদের সবাইকে সবসময় তাঁর রহমতে রাখুন।’
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array