খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

কালের আলো রিপোর্ট:

প্রায় দেড় দশকের নিরলস সংগ্রামী পথচলা তারেক রহমানকে দিয়েছে স্বতন্ত্র এক পরিচিতি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পাড়ি দিয়েছেন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ। সামাল দিয়েছেন বহু শোক আর সংকট। ১৭ বছরেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তবে দল পরিচালনায় আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে নিজ ভূমিতে ফিরতে না পারলেও প্রবাস থেকেই দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। ঐক্য বজায় রেখেছেন। ভার্চুয়াল সভা, সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করেছেন। দীর্ঘ সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। যে কারণে শত নির্যাতনের পরও বিএনপির ঐক্য বিনষ্ট হয়নি বা দল দুর্বল হয়নি। রাজনীতিতে তাঁর দূরদর্শিতা এক কিংবদন্তি। সৃষ্টি করেছে নতুন এক অধ্যায়ের।

১৭ বছর পর দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দ লাভ পেয়েছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। এ সময়টিতে একজন ধীরস্থির, শান্ত, সৌম্য ও হৃদয়বান এক তারেক রহমানকেই দেখতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। নিজের স্বকীয় রাজনৈতিক স্টাইলে ছড়াচ্ছেন মুগ্ধতা। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, অবিচল থাকছেন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। প্রতিহিংসা মূলক কোনো ধরনের কথা বলেননি। সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত বলেই কীনা লাল-সবুজের বিশেষ বাসে করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন। দেশগড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে দেশের মানুষকে আশ^স্ত ও উদ্দীপ্ত করেছেন। নিয়মিতই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে অন্তিম শয্যাশায়ী মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থাকছেন।

দেশে ফিরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করেই ওইদিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। বিমানবন্দর থেকে নেমে কেন শয্যাশায়ী মায়ের কাছে না গিয়ে আগে জনসমাবেশে এলেন, তার ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাঁদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা-এই মানুষগুলোকে। সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি, টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যাঁরা আমাকে দেখছেন, আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রথম তিনদিন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিমান বন্দর থেকে নেমেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পরদনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। গত শনিবার জুলাই আন্দোলনের চেনা মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একইভাবে পারিবারিক দায়িত্বও পালন করেছেন। শয্যাশায়ী মাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেদে ফেলেন তারেক রহমান। সবশেষ শনিবার নিজের ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে হয়েছেন আবেগাপ্লুত।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের আগমনেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস ছাত্তার এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আসার পর এই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রথম অফিস করলেন। নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু বলেন, দলীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানকে পেয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি যাত্রা করবেন। দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র মন্তব্য করেন, তারেক রহমানের আগমন দলের মনোবল অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যোগ করেন, তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে আগমন দলকে নতুন উদ্দীপনা দেবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি এই দুই আসনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বসেন তারেক রহমান। সভা শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজ হাতে মনোনয়নপত্রে সই সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী দাপ্তরিক কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

এর আগে গুলশানের ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি আর বায়োমেট্রিক তথ্য দেন। এরপর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে তারেক রহমান শনিবার আনুষ্ঠানিকতা সারলেও তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে সময় লাগবে একদিন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।

এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন দলীয় নেতারা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে এই স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ থাকলেও শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান ও বেগম জিয়ার শ্বশুরবাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং বগুড়ার মানুষের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মনোনয়নপত্রে সই করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এতেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এসব ফরম উত্তোলন করেন। পরে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ফরমগুলো নির্ভুলভাবে পূরণের পর তা সই করার জন্য গুলশান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জানান, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ম্যাডাম জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে বগুড়া-৭ আসনের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসময় গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আমরা আশাবাদী তিনি নির্বাচনে লড়বেন। তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

২২৪ স্কুলের ৭০টিতে মাঠ নেই, সংকটে শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
২২৪ স্কুলের ৭০টিতে মাঠ নেই, সংকটে শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এতে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। মাঠের অভাবে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণেও পিছিয়ে পড়ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত বসছে সাপ্তাহিক হাট।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুরের ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। শাহজাদপুর পৌর এলাকার চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও মাঠের সংকট রয়েছে।

মাঠ না থাকায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। এতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো বিদ্যালয় ভালো ফল করলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের খাষ কাদাই বাদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট বসে। উপজেলা পরিষদ প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দিলেও এ থেকে বিদ্যালয়ের তহবিলে কোনো অর্থ জমা হয় না বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির হিল্টন।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হলেও সেখান থেকে স্কুলের তহবিলে কোনো টাকা জমা হয় না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের কেউ অবগত নন। তিনি যোগদানের অনেক আগে থেকেই মাঠে হাট বসছে।

শাহজাদপুর পৌর সদরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইব্রাহিম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও মাঠসংকটে রয়েছে।

কিরণবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজা খাতুন বলেন, মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই অ্যাসেম্বলি করতে হয়।

শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আল-মাহমুদ জানান, শত বছরের পুরোনো এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও খেলাধুলায় পিছিয়ে রয়েছে। মাঠের অভাবে জাতীয় দিবস ও আন্তবিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও ভালো ফল করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাঁরা জানান, বিদ্যালয়ের কাছেই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন রয়েছে। সেখানে সরকারের কিছু ফাঁকা জমি আছে, যা স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক পাপ্পু জানান, যেসব বিদ্যালয়ে এখনো খেলার মাঠ নেই, সেসব বিদ্যালয়ের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগী হতে হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলাও জরুরি। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেখানে মাঠের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, স্কুলের মাঠে নিয়মিত হাটবাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর উপজেলায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জায়গায় হাট বসানো হচ্ছে—এমন বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আজান ও কাঁসর-ঘণ্টার সুরে সম্প্রীতির বন্ধনে ফরিদপুর

ফরিদপুর সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আজান ও কাঁসর-ঘণ্টার সুরে সম্প্রীতির বন্ধনে ফরিদপুর

একদিকে মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের সুর, অন্যদিকে পূজামণ্ডপে বাজে কাঁসর-ঘণ্টা। নামাজের সময় বন্ধ রাখা হয় মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এমন অনন্য চিত্র দেখা গেছে ফরিদপুর শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়ে।

শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়সংলগ্ন মডেল মসজিদের দুই পাশে রয়েছে জেলা বাস মালিক সমিতি ও জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির দুটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ। মসজিদ ও পূজামণ্ডপের পাশাপাশি অবস্থান ঘিরে সেখানে বিরাজ করছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে নানা আয়োজন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন, অন্যদিকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষই পরস্পরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নামাজের সময় মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সমন্বয় স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক শহর। মাঝখানে মসজিদ এবং দুই পাশে পূজামণ্ডপ থাকলেও এ নিয়ে কখনো ধর্মীয় বিভেদ তৈরি হয়নি। পরস্পরের বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বহু বছর ধরে পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন তাঁরা। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই ফরিদপুরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস ও উৎসব পালন করে আসছেন। এই সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে রাজনৈতিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের আনসার ব্যাটালিয়নের উপপরিচালকের পক্ষে মাদারীপুর আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক তানজিনা জানান, এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। একই স্থানে মসজিদ ও পূজামণ্ডপের সহাবস্থান সারা দেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব, ফরিদপুরের ভাঙা রাস্তার মোড় তারই একটি দৃষ্টান্ত। উৎসবের এই পরিবেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

অতিথি পাখির কলকাকলিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

নাটোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
অতিথি পাখির কলকাকলিতে প্রাণ ফিরেছে চলনবিলে

ভোরের আলো ফুটতেই জলরাশির ওপর ডানা মেলে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। কোথাও সাদাবকের মাছ শিকার, কোথাও পানকৌড়ির ডুবসাঁতার, আবার কোথাও বালিহাঁসের দলবদ্ধ বিচরণ। পাখির কলকাকলি আর মাছের অবাধ বিচরণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ও শস্যভান্ডারখ্যাত চলনবিল। শীতের আগমনে অতিথি পাখির আনাগোনায় বিলজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

প্রচলিত আছে—গ্রাম দেখলে কলম, আর বিল দেখলে চলন। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত এ বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি প্রতি বছর নানা প্রজাতির পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হয়ে ওঠে। এ বছরও বিলের বিভিন্ন এলাকায় পাখির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সাদাবক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণে মুখর হয়ে উঠেছে বিলের জলরাশি।

বিশেষ করে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশের জলাভূমি এবং সিংড়া-বারুহাঁস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কের আশপাশে পাখির আনাগোনা চোখে পড়ছে। ভোরের আলোয় দলবদ্ধ পাখির উড়ে চলা, অগভীর পানিতে মাছ শিকার এবং জলাভূমিতে তাদের ছোটাছুটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।

চলনবিলের অগভীর পানিতে টেংরা, পুঁটি, পাতাসি, শিং ও মলা মাছের বিচরণ পাখিদের খাবারের জোগান দিচ্ছে। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে খাওয়ার দৃশ্য বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জলাভূমির এই পরিবেশ শুধু পাখির খাদ্য ও আশ্রয়ের জোগানই দেয় না, বরং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিল হালতী ত্রিমোহনী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, প্রতি বছর এ সময় খাবারের সন্ধানে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চলনবিলে আসে। পাখিদের বিচরণে বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

তবে পাখির এই নিরাপদ বিচরণ সব সময় নির্বিঘ্ন থাকে না। একশ্রেণির শিকারি ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। এ কারণে পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁদের সংগঠন ২০১২ সাল থেকে বিলের দুর্গম এলাকায় কাজ করছে। পাখি শিকারের ঘটনা প্রশাসনকে জানানো এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জলাভূমি। এখানে অসংখ্য পাখির আগমন ঘটেছে। পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা ভোর থেকে কাজ করছেন। তাঁদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কয়েকজন পাখি শিকারির বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চলনবিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিলের পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ কাজে প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর পাখির কলকাকলিতে চলনবিল এখন এক অনন্য দৃশ্যপট। তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে পাখি শিকার বন্ধ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা জরুরি। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে চলনবিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি