খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

কালের আলো রিপোর্ট:

প্রায় দেড় দশকের নিরলস সংগ্রামী পথচলা তারেক রহমানকে দিয়েছে স্বতন্ত্র এক পরিচিতি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পাড়ি দিয়েছেন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ। সামাল দিয়েছেন বহু শোক আর সংকট। ১৭ বছরেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তবে দল পরিচালনায় আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে নিজ ভূমিতে ফিরতে না পারলেও প্রবাস থেকেই দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। ঐক্য বজায় রেখেছেন। ভার্চুয়াল সভা, সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করেছেন। দীর্ঘ সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। যে কারণে শত নির্যাতনের পরও বিএনপির ঐক্য বিনষ্ট হয়নি বা দল দুর্বল হয়নি। রাজনীতিতে তাঁর দূরদর্শিতা এক কিংবদন্তি। সৃষ্টি করেছে নতুন এক অধ্যায়ের।

১৭ বছর পর দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দ লাভ পেয়েছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। এ সময়টিতে একজন ধীরস্থির, শান্ত, সৌম্য ও হৃদয়বান এক তারেক রহমানকেই দেখতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। নিজের স্বকীয় রাজনৈতিক স্টাইলে ছড়াচ্ছেন মুগ্ধতা। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, অবিচল থাকছেন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। প্রতিহিংসা মূলক কোনো ধরনের কথা বলেননি। সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত বলেই কীনা লাল-সবুজের বিশেষ বাসে করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন। দেশগড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে দেশের মানুষকে আশ^স্ত ও উদ্দীপ্ত করেছেন। নিয়মিতই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে অন্তিম শয্যাশায়ী মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থাকছেন।

দেশে ফিরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করেই ওইদিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। বিমানবন্দর থেকে নেমে কেন শয্যাশায়ী মায়ের কাছে না গিয়ে আগে জনসমাবেশে এলেন, তার ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাঁদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা-এই মানুষগুলোকে। সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি, টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যাঁরা আমাকে দেখছেন, আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রথম তিনদিন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিমান বন্দর থেকে নেমেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পরদনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। গত শনিবার জুলাই আন্দোলনের চেনা মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একইভাবে পারিবারিক দায়িত্বও পালন করেছেন। শয্যাশায়ী মাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেদে ফেলেন তারেক রহমান। সবশেষ শনিবার নিজের ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে হয়েছেন আবেগাপ্লুত।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের আগমনেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস ছাত্তার এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আসার পর এই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রথম অফিস করলেন। নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু বলেন, দলীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানকে পেয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি যাত্রা করবেন। দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র মন্তব্য করেন, তারেক রহমানের আগমন দলের মনোবল অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যোগ করেন, তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে আগমন দলকে নতুন উদ্দীপনা দেবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি এই দুই আসনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বসেন তারেক রহমান। সভা শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজ হাতে মনোনয়নপত্রে সই সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী দাপ্তরিক কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

এর আগে গুলশানের ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি আর বায়োমেট্রিক তথ্য দেন। এরপর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে তারেক রহমান শনিবার আনুষ্ঠানিকতা সারলেও তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে সময় লাগবে একদিন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।

এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন দলীয় নেতারা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে এই স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ থাকলেও শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান ও বেগম জিয়ার শ্বশুরবাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং বগুড়ার মানুষের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মনোনয়নপত্রে সই করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এতেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এসব ফরম উত্তোলন করেন। পরে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ফরমগুলো নির্ভুলভাবে পূরণের পর তা সই করার জন্য গুলশান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জানান, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ম্যাডাম জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে বগুড়া-৭ আসনের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসময় গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আমরা আশাবাদী তিনি নির্বাচনে লড়বেন। তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শিক্ষা ও উন্নয়নে দুই দেশের বন্ধুত্ব, আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ‘চীনা মডেল’ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছি।

বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণীয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একইভাবে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কাজ চলছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। রোবটিক্স ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতেও চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার নেতাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাশালী মহলের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার, ব্যাংক মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখল ও জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ব্যাংক নেতারা বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

ব্যাংক নেতারা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালু, ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে শাখা সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক টিম কেলি এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যথেষ্ট প্রমাণ প্রশাসন দেখাতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেছেন বিচারক।

১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

বিচারক টিম কেলি ট্রাম্প প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা আবারও হোয়াইট হাউসে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নাকচ

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিচারক কেলি প্রশাসনের এই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা হবে—এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ ট্রাম্পের

সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর পর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নামও উল্লেখ

এ সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন কোন সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী হিসেবে দেখছেন। জবাবে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন অধ্যায়

ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নানা বিষয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গেছে।

তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

বৃহস্পতিবারের আদেশে আপাতত সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা বন্ধ হয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যকার চলমান বিরোধে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট তিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ