খুঁজুন
                               
, ,
           

ভোটের চার সপ্তাহ বাকী অথচ উন্নতি নেই আইনশৃঙ্খলায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
ভোটের চার সপ্তাহ বাকী অথচ উন্নতি নেই আইনশৃঙ্খলায়

কালের আলো রিপোর্ট:

ত্রয়োদশ ভোটের বাকী আর ৪ সপ্তাহ। কিন্তু চোরাগোপ্তা হামলা, খুন, ‘মব’ সন্ত্রাস রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। এখনও উন্নতি হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। এক মাস আগে তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ভোটের পরিবেশে শঙ্কা জাগে। এরপর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নানা গোলযোগ, সহিংসতা ঘটলেও ‘উদ্বেগ’ কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটের আশায় রয়েছে এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও যাতে উন্নত হয় এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হয়েছে। সরকারও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।’

জানা যায়, ‘মব’ সন্ত্রাসের ঘটনাও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধের অভাব তৈরি করেছে। ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোটরসাইকেরেল সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ‘মব’ তৈরি করে একজন আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একইদিন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার লাশ গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল বছর রাজনৈতিক সহিংসতার ৪০১টি ঘটনা ঘটেছে, তাতে ১০২ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছে ৪৭৪৪ জন। আর ‘মব’ হামলা ও গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮১ জন মারা গেছেন। শঙ্কার কারণ ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় থানাগুলো থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া। হাদিকে গুলি করার পরদিন ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপরারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ শুরু হওয়ার পর ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সেদিন পর্যন্ত ১৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এছাড়া রয়েছে অবৈধ অস্ত্র।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘যতখানি স্থিতিশীল হওয়ার কথা ছিল, ততখানি নয়। এগুলো মোকাবেলা করতে হবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে।’

নির্বাচনকে ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক সপ্তাহের জন্য নির্বাচনি এলাকায় থাকবেন। ভ্রাম্যমাণ ও ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন তাদের সাথে। ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে একগুচ্ছ কাজের নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, ৯ লাখ টাকা খরচে ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিক

কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, ৯ লাখ টাকা খরচে ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিক

মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’ করে ফেললেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের রফিকুল ইসলাম (৬২)। তার ইচ্ছা ছিল জীবিত থাকতেই নিজের হাতে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। সেই ইচ্ছা থেকেই স্ত্রী বেগম আক্তারকে (৫৫) সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করেন বিশাল ভোজের। এতে অংশ নেন প্রায় পাঁচ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘চল্লিশা’র আয়োজন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন।

বিশাল মাঠজুড়ে টানানো হয় শামিয়ানা। বসে খাওয়ার জন্য সারি সারি চেয়ার-টেবিল। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও ধাপে ধাপে চলে পরিবেশন। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী অসহায় মানুষ এতে অংশ নেন।

মেন্যুতেও ছিল আয়োজনের ছাপ। গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। কেউ খাবার হাতে নিয়ে ফিরেছেন, কেউ আবার বসে তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। জীবিত থাকতে নিজের ‘চল্লিশা’ করার পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিগত এক ভাবনা।

রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে তিনি মারা গেলে সন্তানদের পক্ষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই মৃত্যুর পরের আয়োজনের অপেক্ষায় না থেকে জীবিত থাকতেই নিজের ইচ্ছাটি পূরণ করেছেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই এই আয়োজন করেছি। আমি বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দিতে চেয়েছি।’

রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে ভোজের অর্থ ব্যয় করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে কখনো দেখিনি। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে খাবার খেয়েছে। সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা রফিকুল ইসলাম আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৭০ জনের শরীরে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৬১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন মারা গেছে, আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের। একই সময়ে ৭০ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আইএমএফের পূর্বাভাস

অর্থনীতির আকারে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির আকারে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ সময়ে অর্থনীতির আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলতে পারে বাংলাদেশ।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টে প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপি দাঁড়াতে পারে ৬৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৬৬৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ৬৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলার হওয়ায় এসব দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে।

এ ছাড়া জার্মানি ও ভারত যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকতে পারে। জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধানে দুই দেশের অবস্থান হবে কাছাকাছি।

এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে জাপানের অর্থনীতি প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে একই সময়ে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকোচনের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি