ভোটের চার সপ্তাহ বাকী অথচ উন্নতি নেই আইনশৃঙ্খলায়
কালের আলো রিপোর্ট:
ত্রয়োদশ ভোটের বাকী আর ৪ সপ্তাহ। কিন্তু চোরাগোপ্তা হামলা, খুন, ‘মব’ সন্ত্রাস রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। এখনও উন্নতি হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। এক মাস আগে তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ভোটের পরিবেশে শঙ্কা জাগে। এরপর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নানা গোলযোগ, সহিংসতা ঘটলেও ‘উদ্বেগ’ কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটের আশায় রয়েছে এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও যাতে উন্নত হয় এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হয়েছে। সরকারও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।’
জানা যায়, ‘মব’ সন্ত্রাসের ঘটনাও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধের অভাব তৈরি করেছে। ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোটরসাইকেরেল সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ‘মব’ তৈরি করে একজন আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একইদিন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার লাশ গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল বছর রাজনৈতিক সহিংসতার ৪০১টি ঘটনা ঘটেছে, তাতে ১০২ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছে ৪৭৪৪ জন। আর ‘মব’ হামলা ও গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮১ জন মারা গেছেন। শঙ্কার কারণ ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় থানাগুলো থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া। হাদিকে গুলি করার পরদিন ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপরারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ শুরু হওয়ার পর ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সেদিন পর্যন্ত ১৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এছাড়া রয়েছে অবৈধ অস্ত্র।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘যতখানি স্থিতিশীল হওয়ার কথা ছিল, ততখানি নয়। এগুলো মোকাবেলা করতে হবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে।’
নির্বাচনকে ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক সপ্তাহের জন্য নির্বাচনি এলাকায় থাকবেন। ভ্রাম্যমাণ ও ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন তাদের সাথে। ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে একগুচ্ছ কাজের নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array