খুঁজুন
                               
, ,
           

গুপ্তরা দেশে নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গুপ্তরা দেশে নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান

বরিশাল ও ফরিদপুর প্রতিবেদক, কালের আলো:

দেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গুপ্ত দলের লোকেরা জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নতুন জালেম, যাদের মানুষ ‘গুপ্ত’ হিসেবে চেনে, সেই জালেমদের নেতা নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। এরা ইসলামের রাজনীতি করে কিন্তু নারীদের নিয়ে কীভাবে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে।’

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করে। এমনকি কৃষিকাজেও পুরুষের সঙ্গে নারীরা কাজ করছেন ফসল উৎপাদনে। বিশেষ করে, গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন নারীরা। আর গুপ্ত রাজনৈতিক দলটি প্রকাশ্যে সেই নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করছে। মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সেই দলের কাছ থেকে দেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে নারীদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেশের উন্নয়ন কোনও দিনই সম্ভব নয়। দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। গুপ্ত সংগঠন নারী সমাজের বিরুদ্ধে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে তাদের দূরে ঠেলে রাখতে চাচ্ছে।’ গুপ্ত সংগঠনের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা জেলায় বাড়ি গুপ্ত সংগঠনের এক নেতা তার নেতাকর্মীদের বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে, নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে।’ এসব লোক নির্বাচিত হলে দেশের কী অবস্থা হবে তা ভেবে দেখতে বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। এইচএসসি পর্যন্ত মেয়েরা বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগামীতে আমরা দায়িত্ব পেলে নারীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে কর্মজীবী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বড় একটি অংশ বেকার যুবক। তাদের কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ অঞ্চলে কৃষিজমি বেশি। এ কারণে কৃষকও ফসল উৎপাদনে বেশি মনোযোগী। কিন্তু সেভাবে তারা মূল্য পাচ্ছে না। তারা যাতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পান এ জন্য একাধিক হিমাগারের ব্যবস্থা করা হবে। সেই হিমাগারে উৎপাদিত ফসল রাখা হলে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবে। ‘কৃষকদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। সেই কার্ড দিয়ে কৃষক তার জমি অনুপাতে সার ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। এমনকি যাদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ রয়েছে, দেশের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মওকুফ করা হবে।’

‘ভোলাকে সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বরিশাল-ভোলা ব্রিজ করা হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলায় মেডিক্যাল স্থাপন করা হবে। শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার উন্নয়ন করা হবে। বিশেষ করে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর করা হবে।

‘বরিশালের বেশির ভাগ এলাকা নদী ভাঙনকবিলত। ভাঙনের কারণে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি মা-বাবার কবরও ধরে রাখতে পারছেন না। এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর এসব উন্নয়ন সম্ভব হবে ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে। এ জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি কঠিনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা যে বিষয়ে পারদর্শী তাদের সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলা হবে। দেশের জনগণের মাঝে পরিবর্তন করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে।’

তারেক রহমান জানান, ১৯৭৮ সালে তার বাবা জিয়াউর রহমান পল্লী বিদ্যুতের লাইন চালু করেছিলেন। এরপর তার মা বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ করেন। বরিশাল নিয়ে তার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তা সম্ভব হবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন– বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনের প্রার্থী রাজীব আহসান, ঝালকাঠী-২ (ঝালকাঠী-সদর) আসনের ইলেন ভুট্টো, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আবুল হোসেন খান, বরগুনা-২ আসনের নুরুল ইসলাম মণি, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের মজিবর রহমান সরোয়ার, ভোলা-১ (ভোলা সদর) আন্দালিব রহমান পার্থ, ভোলা-৩ আসনের হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, পটুয়াখালী-১ আসনের আলতাফ হোসেন চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ অন্যরা।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নযোগ্য
বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় জনসমাবেশে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য বলেই মনে করছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বক্তব্যে উঠে এসেছে অতীত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং বিএনপির শাসনামলের নানা উদাহরণ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে বিএনপির বিভাগীয় জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নই হবে দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাল খনন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নসহ অনেক কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোসলেম গাজী বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি।

তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর দেশকে নতুন দিশা দিয়েছেন। আর তার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখিয়েছেন কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। এই পরিবার জানে রাষ্ট্র চালাতে হয় কীভাবে। বরিশালের মহিপুর থেকে আসা প্রবীণ সমর্থক মাহতাব ভুইয়া বলেন, অতীতে বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছে।

গ্রামগঞ্জে সড়ক নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, কৃষিতে ভর্তুকি সবই মানুষ চোখে দেখেছে। সেই ধারাবাহিকতার কারণেই তারেক রহমানের কথায় আমরা আস্থা রাখছি। তিনি আমাদের আস্থার প্রতীক। বাবুগঞ্জ থানার এক তরুণ সমর্থক তসলিম মিয়া বলেন, আমরা রাজনীতি দেখি ভবিষ্যতের জন্য। তারেক রহমান তরুণদের কথা বলেছেন, চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন। এ কারণেই তরুণ প্রজন্ম তার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।

ফরিদপুরকে বিভাগ করার ঘোষণা
দল সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় তবে জেলাটিকে বিভাগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি ফরিদপুরবাসীকে এ আশ্বাস দেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ, সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষিখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজে বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাবে।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গুপ্ত দলের নেতা মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক। ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতিসংঘের বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানকে আরও জোরদার করা এবং ফ্রন্টলাইনে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্রুতকরণ এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি বাহিনীর প্রতিপূরণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করায় ডিওএসকে ধন্যবাদ জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মিশনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ডিওএস-এর পরিবেশ বিভাগকেও সাধুবাদ জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে।

এই খাতের বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশন এলাকায় নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রতিকূল বা শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।

হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রচলিত ইউনিটের চেয়ে এই দলগুলো সোয়াত, র‍্যাপিড রেসপন্স প্ল্যাটুন, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম তদন্ত এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।

হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১৫-১৭ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের একটি ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জাতিসংঘ সদর দফতরে এমওইউ আলোচনায় অংশ নেবে। পূর্ণাঙ্গ এফপিইউ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের স্ব-নির্ভর ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ টিম বা প্ল্যাটুন মোতায়েন করতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচনার শেষ ভাগে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকাতলে বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কওম শহরে খামেনির মরদেহ, চতুর্থদিনের শোকমিছিলেও জনস্রোত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কওম শহরে খামেনির মরদেহ, চতুর্থদিনের শোকমিছিলেও জনস্রোত

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে পবিত্র শহর কওমে নেওয়া হয়েছে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ। এ নিয়ে চতুর্থ দিনে গড়ানো শোকমিছিলেও দেখা গেছে জনসমুদ্র।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সেখানে তার মরদেহ নিয়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে একটি হেলিকপ্টারে করে খামেনির মরদেহ কওমে পৌঁছানোর দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, লাখো-লাখো মানুষ ওই শোক মিছিলে অংশ নেন। অনেকের মতে, ১৯৮৯ সালে ইরানের বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা ও শোকযাত্রার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় জনসমাগমগুলোর একটি।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি ট্রাকে করে খামেনির মরদেহের পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের মরদেহ বহন করা হয়। শোক মিছিলটি ধীরগতিতে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের আজাদি স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়

কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত মানুষেরা কফিনগুলোর ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সি এক নাতনির মরদেহও ছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ছয় দিনের বিরতি শেষে আজ আবারও বসছে সংসদ অধিবেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ছয় দিনের বিরতি শেষে আজ আবারও বসছে সংসদ অধিবেশন

টানা ছয় দিনের বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন-২০২৬) আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় পুনরায় শুরু হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এ অধিবেশনের কার্যক্রম পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হবে।

এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাসের পর অধিবেশন মুলতবি করা হয়। বিরতি শেষে আজ থেকে আবারও সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

চলতি অধিবেশনে ইতোমধ্যে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ বিল এবং বাজেট-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও সংসদে পাস হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের পর সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলাসহ দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন তারা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি