খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

গুপ্তরা দেশে নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গুপ্তরা দেশে নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান

বরিশাল ও ফরিদপুর প্রতিবেদক, কালের আলো:

দেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গুপ্ত দলের লোকেরা জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নতুন জালেম, যাদের মানুষ ‘গুপ্ত’ হিসেবে চেনে, সেই জালেমদের নেতা নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। এরা ইসলামের রাজনীতি করে কিন্তু নারীদের নিয়ে কীভাবে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে।’

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করে। এমনকি কৃষিকাজেও পুরুষের সঙ্গে নারীরা কাজ করছেন ফসল উৎপাদনে। বিশেষ করে, গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন নারীরা। আর গুপ্ত রাজনৈতিক দলটি প্রকাশ্যে সেই নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করছে। মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সেই দলের কাছ থেকে দেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে নারীদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেশের উন্নয়ন কোনও দিনই সম্ভব নয়। দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। গুপ্ত সংগঠন নারী সমাজের বিরুদ্ধে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে তাদের দূরে ঠেলে রাখতে চাচ্ছে।’ গুপ্ত সংগঠনের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা জেলায় বাড়ি গুপ্ত সংগঠনের এক নেতা তার নেতাকর্মীদের বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে, নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে।’ এসব লোক নির্বাচিত হলে দেশের কী অবস্থা হবে তা ভেবে দেখতে বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। এইচএসসি পর্যন্ত মেয়েরা বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগামীতে আমরা দায়িত্ব পেলে নারীদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে কর্মজীবী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বড় একটি অংশ বেকার যুবক। তাদের কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ অঞ্চলে কৃষিজমি বেশি। এ কারণে কৃষকও ফসল উৎপাদনে বেশি মনোযোগী। কিন্তু সেভাবে তারা মূল্য পাচ্ছে না। তারা যাতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পান এ জন্য একাধিক হিমাগারের ব্যবস্থা করা হবে। সেই হিমাগারে উৎপাদিত ফসল রাখা হলে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারবে। ‘কৃষকদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। সেই কার্ড দিয়ে কৃষক তার জমি অনুপাতে সার ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। এমনকি যাদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ রয়েছে, দেশের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মওকুফ করা হবে।’

‘ভোলাকে সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বরিশাল-ভোলা ব্রিজ করা হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলায় মেডিক্যাল স্থাপন করা হবে। শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার উন্নয়ন করা হবে। বিশেষ করে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর করা হবে।

‘বরিশালের বেশির ভাগ এলাকা নদী ভাঙনকবিলত। ভাঙনের কারণে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি মা-বাবার কবরও ধরে রাখতে পারছেন না। এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর এসব উন্নয়ন সম্ভব হবে ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে। এ জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি কঠিনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা যে বিষয়ে পারদর্শী তাদের সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলা হবে। দেশের জনগণের মাঝে পরিবর্তন করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে।’

তারেক রহমান জানান, ১৯৭৮ সালে তার বাবা জিয়াউর রহমান পল্লী বিদ্যুতের লাইন চালু করেছিলেন। এরপর তার মা বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ করেন। বরিশাল নিয়ে তার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তা সম্ভব হবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন– বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনের প্রার্থী রাজীব আহসান, ঝালকাঠী-২ (ঝালকাঠী-সদর) আসনের ইলেন ভুট্টো, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আবুল হোসেন খান, বরগুনা-২ আসনের নুরুল ইসলাম মণি, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের মজিবর রহমান সরোয়ার, ভোলা-১ (ভোলা সদর) আন্দালিব রহমান পার্থ, ভোলা-৩ আসনের হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, পটুয়াখালী-১ আসনের আলতাফ হোসেন চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ অন্যরা।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নযোগ্য
বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় জনসমাবেশে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য বলেই মনে করছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বক্তব্যে উঠে এসেছে অতীত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং বিএনপির শাসনামলের নানা উদাহরণ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে বিএনপির বিভাগীয় জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নই হবে দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাল খনন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নসহ অনেক কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোসলেম গাজী বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি।

তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর দেশকে নতুন দিশা দিয়েছেন। আর তার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখিয়েছেন কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। এই পরিবার জানে রাষ্ট্র চালাতে হয় কীভাবে। বরিশালের মহিপুর থেকে আসা প্রবীণ সমর্থক মাহতাব ভুইয়া বলেন, অতীতে বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছে।

গ্রামগঞ্জে সড়ক নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, কৃষিতে ভর্তুকি সবই মানুষ চোখে দেখেছে। সেই ধারাবাহিকতার কারণেই তারেক রহমানের কথায় আমরা আস্থা রাখছি। তিনি আমাদের আস্থার প্রতীক। বাবুগঞ্জ থানার এক তরুণ সমর্থক তসলিম মিয়া বলেন, আমরা রাজনীতি দেখি ভবিষ্যতের জন্য। তারেক রহমান তরুণদের কথা বলেছেন, চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন। এ কারণেই তরুণ প্রজন্ম তার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।

ফরিদপুরকে বিভাগ করার ঘোষণা
দল সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় তবে জেলাটিকে বিভাগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি ফরিদপুরবাসীকে এ আশ্বাস দেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ, সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষিখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজে বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাবে।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গুপ্ত দলের নেতা মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক। ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ