খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ভিডিও প্রচার, আমিরাতে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ভিডিও প্রচার, আমিরাতে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ১০

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য নাগরিকরা হলেন ইরান, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মিশর, নেপাল, ক্যামেরুন ও ভারতের। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত নজরদারির ভিত্তিতে এই অসাধু চক্রটিকে শনাক্ত করা হয় এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাস্তব ফুটেজ থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বানোয়াট ভিডিও প্রচার করে আসছিল। এসব ভিডিওতে আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণ, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের মিথ্যা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই ছিল এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে এবং বিদেশের কোনো ঘটনাকে আমিরাতের ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রযুক্তির অপব্যবহার করেছে। এমন কিছু ভিডিও ক্লিপ তারা ছড়িয়েছে যেখানে মাটিতে পড়ে থাকা প্রজেক্টাইল বা উৎসুক জনতার ভিড় দেখিয়ে নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, এ ধরনের কন্টেন্ট—তা বাস্তব হোক বা এআই দিয়ে তৈরি—প্রকাশ করা জননিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এটি শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমকে তথ্য বিকৃত করার এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করার সুযোগ করে দেয়।

পাবলিক প্রসিকিউশন ইতিমধ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ফাঁস করে দেয় এমন কোনো ফুটেজ বা ভিডিও শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ডিজিটাল স্পেসকে নিরাপদ রাখতে এবং জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে নিয়মিত কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল ড. আল শামসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ভিডিও প্রচার করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ সকল নাগরিক ও প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে আরব আমিরাত প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

কালের আলো/এসএকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ