খুঁজুন
                               
, ,
           

অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও নেই নেতানিয়াহু, জোরালো হচ্ছে মৃত্যুর গুঞ্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও নেই নেতানিয়াহু, জোরালো হচ্ছে মৃত্যুর গুঞ্জন

ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ১৬তম দিনে এসে দেশের প্রধান নির্বাহীর জনসমক্ষে না আসা বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ না নেওয়াকে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে রোববার (১৫ মার্চ) ইসরায়েলে বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এসব স্পর্শকাতর বৈঠক নেতানিয়াহু নিজেই পরিচালনা করে থাকেন। তবে রোববারের বৈঠকে তার আসনটি খালি ছিল।

জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়া নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে। তার পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গুরুতর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর থেকেই এই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোব অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের উচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যত ‘নিখোঁজ’। প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গুরুত্বপূর্ণ এই নিরাপত্তা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন। যুদ্ধের এই সন্ধিক্ষণে, যখন প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসেব করে নিতে হয়, তখন নেতার অনুপস্থিতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত এই অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো ভিডিও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো সরাসরি উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো কোনো গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন অথবা কোনো ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন।

কয়েকদিন আগে তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ দাবি করেছে, ইরানের সাম্প্রতিক এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর গোপন আস্তানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত নিহত অথবা অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে।

তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পর্দার অন্তরাল থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছেন।

নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রহস্য আরও গভীর হয়েছে গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায় নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। তবে নেটিজেনদের একটি অংশ দাবি করেছেন, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল এবং অঙ্গভঙ্গি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে, যা ‘ডিপফেক’ বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করার ইঙ্গিত দেয়। এমনকি এক পর্যায়ে তার হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন। যদিও ফ্যাক্ট-চেকাররা একে ‘ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল’ বা লেন্সের কারসাজি বলে দাবি করেছেন, তবুও প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘকালীন নীরবতা এই জল্পনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে নেতানিয়াহুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত ইসরায়েল সফর আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ায় গুঞ্জনটি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এদিকে, রোববার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ওয়েবসাইটে এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যদি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে তারা তাকে খুঁজে বের করে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান থামাবে না।

আইআরজিসি জানায়, “আমরা এই শিশুহত্যাকারী অপরাধীকে পূর্ণ শক্তিতে ধাওয়া অব্যাহত রাখব।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও।

কালের আলো/এসএকে

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়: ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা ভিন্ন ন্যারেটিভ নিয়ে হাজির হয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, একটি পক্ষ বাংলাদেশকে ভারত বানাতে চায়, আরেকটি পক্ষ বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। এসব ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকতে হলে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা থেকেই আমরা দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। সেটিরই একটি চূড়ান্ত ফলাফল ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। চব্বিশের পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা ভিন্ন ন্যারেটিভ নিয়ে হাজির হয়েছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। এক দল বাংলাদেশকে ভারত বানাতে চেয়েছিল, আরেক দল বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। এই দেশকে ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকতে হলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, জামায়াতের লং মার্চের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। বিদেশে থাকা শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। তারা মনে করে একমাত্র জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নষ্ট করতে পারলেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে। বাংলাদেশবিরোধী শক্তি দেশকে পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তিতে আঘাত হানতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কাজ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা চিরকাল থাকবেন না, কোনো মানুষই চিরকাল বেঁচে থাকেন না। কিন্তু বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হচ্ছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি, স্বাধীন পতাকা পেয়েছি, স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি এবং স্বাধীন পরিচয় পেয়েছি। তাই আমাদের এই পরিচয়কে ধরে রাখতে হলে এবং বাংলাদেশকে যদি ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চাই, বহির্বিশ্বের যেকোনো ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে চাই, তাহলে মুক্তিযুদ্ধকে মনে-প্রাণে জীবনের প্রত্যেকটি স্তরে ধারণ করতে হবে। এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীনির্ভর দল নয়। পুলিশের ওপর নির্ভরশীল থাকা যাবে না। তাদের কাজ করতে বাধ্য করতে হবে।

গ্যাস ও তেল সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সংকট সমাধানে কিছু সময় প্রয়োজন। তবে রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করতে হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছরই নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে কয়েকটি শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে কিছু এলাকার বাজারে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান। তার মতে, পণ্যের দামে সামান্য অস্বাভাবিক ওঠানামাও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই মূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, বাজার মনিটরিং জোরদারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কার্যক্রম বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপনায় জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে ১ লাখ ৬ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিও বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে ২ লাখ ৭৩ হাজার টন সিড আমদানি হলেও চলতি বছরে তা বেড়ে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টনে পৌঁছেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্যের সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ এ ব্যবস্থার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডিম ও পোল্ট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যকে প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

আইইডিসিআরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
আইইডিসিআরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) কেবল কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, কাজের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। রোগ নির্ণয় ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির তরুণ গবেষকরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার আইইডিসিআরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের উদ্যোগ নেবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহাখালীতে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চে (আইইডিসিআর) ২য় বাংলাদেশ এফইটিপি কনফারেন্স ২০২৬’ শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আইইডিসিআরে অবদান অনস্বীকার্য।

করোনা মহামারির সময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই বাংলাদেশে মৃত্যুহার বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম ছিল। এজন্য তিনি চিকিৎসকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সবার জন্য সুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ শুরু করেছে। এসব হাসপাতালে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সুবিধা, ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।

এর আগে সরদার সাখাওয়াত হোসেন কলেজ অব নার্সিং, ঢাকায় বিশ্ব আলঝেইমার্স দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেন৷ এসময় আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে এ রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ