খুঁজুন
                               
, ,
           

যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ, ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ, ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি টাকা

রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। এতে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। গাড়ির চাপ বাড়ায় যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই সড়কের গোড়াই, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতু পূর্ব পাড়ে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজনক। সড়কটির এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথায় যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। এতে মহাসড়ক বাড়ছে যানবাহনের চাপ৷ মহাসড়কের গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা পাচ্ছে যাত্রীরা। এতে নির্বিঘ্নেই যাত্রীরা যেতে পারছে৷ কিন্তু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চারলেনের কাজ চলমান থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘরমুখো হতে পারে সেজন্য ১ হাজার পুলিশ সদস্য চারটি সেক্টরে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে গাড়ির চাপ বাড়ায় যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৫৮৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২০ হাজার ৭৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীত টোল আদায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আগের থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে । এর মধ্যে দুইপাশেই ২টি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করে আসছে। বিগত সময়ে সেতুর টোল আদায় করে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস)। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর ২৪ সালের শেষের দিক থেকে বর্তমানে চায়না রোড ব্রিজ কর্পোরেশন টোল আদায় করছে।

কালের আলো/এসএকে

হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধিতে রোগ প্রতিরোধের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধিতে রোগ প্রতিরোধের বার্তা

সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সুস্থ রাখা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

খাবারের আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর হাত ধোয়া জরুরি
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখলে জীবাণুর সংক্রমণ ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ছোটবেলা থেকে সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিবার ও সমাজেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ঢাকায় পানির চাহিদা মেটাতে পদ্মা থেকে পানি আনার উদ্যোগ
ঢাকার পানি সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

তিনি জানান, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে ঢাকায় অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করা এবং পানির উৎস সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

পুষ্টিকর খাবার ও খেলাধুলায় গুরুত্ব
শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডির ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। তিনি আরও বলেন, সুস্থ থাকার জন্য শুধু পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই হবে না, নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রমেও অংশ নিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস শিশু-কিশোরদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালায় আহমাদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ভারপ্রাপ্ত) রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের ওয়াশ বিভাগের প্রধান পিটার মেস। তাঁরাও নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পাঠ করানো হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ইউপি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার আশ্বাস
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

নির্বাচনে পরাজয়ের পর গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিও বলসোনারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
নির্বাচনে পরাজয়ের পর গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিও বলসোনারো

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর সপরিবার দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর পাসপোর্ট বাতিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ব্রাজিল ছাড়েন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

ব্রাজিলের ৪৫ বছর বয়সী এই সিনেটর দেশ ছাড়ার আগে জানিয়েছিলেন, তাঁর বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং দেশে থেকেই বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ও নির্বাচনে বিজয়ী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরোধিতার নেতৃত্ব দিতে চান তিনি। তবে পরে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর খবর সামনে আসে।

ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর খবর, অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন। সেখানে তাঁর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে তিনি ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

ফ্লাভিওর সঙ্গে পরিবারের কোন কোন সদস্য দেশ ছেড়েছেন, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ফ্লাভিওর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এমনকি তিনি প্রতিবেশী আর্জেন্টিনায় গেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলো পরীক্ষা করেছিলেন ব্রাজিলের ফেডারেল কর্মকর্তারা। তবে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটিতে ফ্লাভিওর প্রবেশের কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।

মানি লন্ডারিং তদন্তে পাসপোর্ট বাতিল
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে ব্রাজিলে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তিনি বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত সোমবার একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছিলেন ফ্লাভিও। এরপর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে আর কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। তাঁর দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ইঙ্গিত
ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাঁদের ভিসা দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাস করেন। তবে নির্বাচনের পর তাঁকে মিয়ামিতে দেখা গেছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ফ্লাভিওর দেশত্যাগের ঘটনাকে আরও আলোচনায় এনেছে।

লুলার কাছে হেরে বিতর্কে ফ্লাভিও
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয় গত রোববার। নির্বাচনে ফ্লাভিওকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করেন ৮১ বছর বয়সী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল বাতিলের দাবি তুলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ডানপন্থী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ফ্লাভিওর এই পরাজয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

নির্বাচনে পরাজয়, মানি লন্ডারিং তদন্ত এবং পাসপোর্ট বাতিলের পর তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘটনা এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দেশত্যাগের সঙ্গে তদন্তের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী

আগাম সবজিতে লাভের আশা, বাড়ছে কৃষকের ব্যস্ততা

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
আগাম সবজিতে লাভের আশা, বাড়ছে কৃষকের ব্যস্ততা

প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা মিলতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে কমছে রোদের তীব্রতা, বদলাচ্ছে আবহাওয়া। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মাঠে মাঠে শীতকালীন শাকসবজি চাষের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও চারা রোপণসহ নানা কাজে ব্যস্ত তাঁরা। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচ, রোগবালাইয়ের আক্রমণ এবং বাজারদরের অনিশ্চয়তা নিয়েও তাঁদের দুশ্চিন্তা রয়েছে।

মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজির আবাদ
কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা শীতকালীন সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যায় ব্যস্ত। কেউ নিজের জমিতে কাজ করছেন, আবার কেউ শ্রমিক নিয়োগ করে আগাম সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মাঠের অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করা হলেও কিছু জমিতে ইতোমধ্যে শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। এসব জমিতে মূলা, পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, আলু, সরিষা, মরিচ, বেগুন, ধনিয়া, মিষ্টিকুমড়া ও গাজরসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল দেখা যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকলে আগাম উৎপাদিত ফসল ভালো দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ সম্ভাবনা থেকেই অনেক কৃষক এবার আগেভাগে সবজি চাষে মনোযোগ দিয়েছেন।

৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ
উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার কৃষক রমজান ৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী তিনি। রমজান জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন। তাঁর মতো উপজেলার আরও অনেক কৃষক শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। কৃষকদের কাছে ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আগাম সবজিতে লাভের সম্ভাবনা, খরচও বেশি
জালালপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফেকামারা গ্রামের কৃষক হেকিমের মতে, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে আগাম সবজি চাষে বাড়তি খরচ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানান তিনি। সময়মতো জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, সেচ এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। অন্যদিকে, বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে। তাই আগাম সবজি চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের ফলন ও বাজারদর—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

সঠিক জাত ও সার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কৃষকেরা শীতকালীন আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক আগেভাগে ফসল বাজারে তুলতে চান।

তিনি জানান, আগাম সবজি চাষে সঠিক জাত নির্বাচন, জমি ও মাটির উপযোগী সার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি। সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করলে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় কৃষকেরা সহায়তা পাবেন।

আবহাওয়া ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করছে লাভ
কটিয়াদীতে শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে কৃষকদের ব্যস্ততা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের লাভ নির্ভর করবে ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের ওপর। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া কিংবা বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া কৃষকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কৃষকেরা একদিকে যেমন ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে তেমনি বাজার পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি