পা ফেলারও জায়গা নেই পঙ্গু হাসপাতালে
ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতাল। ঈদের ছুটিতে এখানে শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সি মানুষ এসেছেন নানা ধরনের আঘাত পেয়ে, আহত হয়ে। কারও হাত ভাঙা, কারও পা। আবার কেউ এসেছেন ছোটখাটো আঘাত নিয়ে। আহতদের বেশিরভাগই মোটরবাইক দুর্ঘটনার শিকার, আবার কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, গাড়ি দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনো কারণে আহত হয়েছেন। কোনো কোনো রোগীর হাত-পা কেটে ফেলার মতো অবস্থাও রয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ।
মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হলেও জরুরি বিভাগে প্রতি ঘণ্টায় এমন বহু রোগী আসছেন হাসপাতালে। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে পা ফেলার মতো কোনো জায়গা নেই।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে এক্স-রে রুম, টিকেট কাউন্টার, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ডাক্তারের রুমের সামনেও দীর্ঘ লাইন। যাদের অনেকে ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। এক হাজার শয্যার হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি নেই। আবার শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। তাদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।
পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে ও পরে গত সাত দিনে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক হাজার ৭৩৮ জন রোগী জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন, যা দৈনিক গড়ে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত সাত দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৬ জন। আর মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। অর্থাৎ মোট আহতের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশই মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের আগে ও পরে গত ১৭ মার্চ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন ২৩৯ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৬১ জনকে, ১৮ মার্চ আসা ২৩৭ জনের মধ্যে ভর্তি করা হয় ৬৮ জনকে, ১৯ মার্চ ২৪০ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৭২ জন, ২০ মার্চ ২১৩ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৬৫ জন, ২১ মার্চ ২৬৬ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৯১ জন, ২২ মার্চ ২৯০ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৯৬ জন এবং ২৩ মার্চ ২৫৩ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৯৩ জন রোগীকে।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন মোজাম্মেল হোসেন নামের এক তরুণ। তিনি বলেন, বনানী এলাকায় আমি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলাম। উল্টো দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। পড়ে গিয়ে আমার হাত ভেঙে যায়। তিনি দাবি করেন, দোষ ওই অটোরিকশাচালকেরই ছিল। কিন্তু হাত ভাঙল আমার। এখন এর দায় কে নেবে?
দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে মোটরসাইকেল কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি কিংবা টমটমের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে। কিছু প্রাইভেটকার দুর্ঘটনাও রয়েছে। রোগীর আঘাতের ধরন অনুযায়ী কাউকে কাউকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন তো ঈদের ছুটি শেষ। তাই রোগীর চাপও কমেছে।
ঈদের সময় দুর্ঘটনায় বিষয়ে নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে এই হাসপাতালে রোগীর এমনই চাপ থাকে। এবারও রোগীর চাপ প্রচুর ছিল। আমরাও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। সাধারণত ঈদের ছুটির সময়ে বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা, অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে প্রতিযোগিতা বা মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ এসবই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array