খুঁজুন
                               
, ,
           

পা ফেলারও জায়গা নেই পঙ্গু হাসপাতালে 

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
পা ফেলারও জায়গা নেই পঙ্গু হাসপাতালে 

ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতাল। ঈদের ছুটিতে এখানে শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সি মানুষ এসেছেন নানা ধরনের আঘাত পেয়ে, আহত হয়ে। কারও হাত ভাঙা, কারও পা। আবার কেউ এসেছেন ছোটখাটো আঘাত নিয়ে। আহতদের বেশিরভাগই মোটরবাইক দুর্ঘটনার শিকার, আবার কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, গাড়ি দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনো কারণে আহত হয়েছেন। কোনো কোনো রোগীর হাত-পা কেটে ফেলার মতো অবস্থাও রয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ।

মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হলেও জরুরি বিভাগে প্রতি ঘণ্টায় এমন বহু রোগী আসছেন হাসপাতালে। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে পা ফেলার মতো কোনো জায়গা নেই।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে এক্স-রে রুম, টিকেট কাউন্টার, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ডাক্তারের রুমের সামনেও দীর্ঘ লাইন। যাদের অনেকে ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। এক হাজার শয্যার হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি নেই। আবার শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। তাদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে ও পরে গত সাত দিনে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক হাজার ৭৩৮ জন রোগী জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন, যা দৈনিক গড়ে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত সাত দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৬ জন। আর মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। অর্থাৎ মোট আহতের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশই মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের আগে ও পরে গত ১৭ মার্চ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন ২৩৯ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৬১ জনকে, ১৮ মার্চ আসা ২৩৭ জনের মধ্যে ভর্তি করা হয় ৬৮ জনকে, ১৯ মার্চ ২৪০ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৭২ জন, ২০ মার্চ ২১৩ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৬৫ জন, ২১ মার্চ ২৬৬ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৯১ জন, ২২ মার্চ ২৯০ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৯৬ জন এবং ২৩ মার্চ ২৫৩ জনের মধ্যে ভর্তি হন ৯৩ জন রোগীকে।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন মোজাম্মেল হোসেন নামের এক তরুণ। তিনি বলেন, বনানী এলাকায় আমি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলাম। উল্টো দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। পড়ে গিয়ে আমার হাত ভেঙে যায়। তিনি দাবি করেন, দোষ ওই অটোরিকশাচালকেরই ছিল। কিন্তু হাত ভাঙল আমার। এখন এর দায় কে নেবে?

দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে মোটরসাইকেল কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি কিংবা টমটমের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে। কিছু প্রাইভেটকার দুর্ঘটনাও রয়েছে। রোগীর আঘাতের ধরন অনুযায়ী কাউকে কাউকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন তো ঈদের ছুটি শেষ। তাই রোগীর চাপও কমেছে।

ঈদের সময় দুর্ঘটনায় বিষয়ে নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে এই হাসপাতালে রোগীর এমনই চাপ থাকে। এবারও রোগীর চাপ প্রচুর ছিল। আমরাও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। সাধারণত ঈদের ছুটির সময়ে বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা, অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে প্রতিযোগিতা বা মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ এসবই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

কালের আলো/এম/এএইচ

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন মেসি

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন এখনও টিকে আছে। এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, রোববার সকালে তাদের মুখোমুখি হবেন লিওনেল মেসিরা। সে ম্যাচ জিতলে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পথে আরও এগিয়ে যাবে আর্জেন্টিনা।

তবে সম্ভাব্য সে ফাইনাল ঘিরে লিওনেল মেসির সামনে একটা শঙ্কাও এসে দাঁড়িয়েছে। সে ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। তবে সে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে মেজর লিগ সকার থেকে। এমএলএসের সঙ্গে সময়সূচি নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কারণ, অল-স্টার গেমের কাছাকাছি সময়েই পড়তে পারে বিশ্বকাপ ফাইনাল।

মূল ঘটনাটি এমন, এবারও এমএলএস অল-স্টার গেমের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন মেসি। আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই ইভেন্ট, যা আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র ১০ দিন পরের ঘটনা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচ খেলার মানসিক ও শারীরিক চাপ অনেক বেশি। তাই আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে কিছুটা বিশ্রামের জন্য অল-স্টার গেমে না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মেসি। তবে এতে আবারও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তিনি।

গত মৌসুমে মেসি ও জর্দি আলবা দুজনেই এই ইভেন্টে খেলেননি। এতে দুজনকেই একটি করে ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

এবার আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি এবং তার সতীর্থ রদ্রিগো দে পল নির্বাচিত হয়েছেন এই ইভেন্টের জন্য। তবে ২০২৫ সালের চেয়ে এবার মেসির কাছে অনুপস্থিত থাকার আরও ভালো কারণ থাকবে, তাই হয়তো গতবারের মতো শাস্তি নাও পেতে পারেন তিনি।

২০২৬ এমএলএস অল-স্টার গেম অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুলাই, নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে। টানা তৃতীয় মৌসুম এবং গত ছয় মৌসুমের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো লিগা এমএক্সের সেরা একাদশের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে এমএলএস অল-স্টার দল।

এবারের আসরে তারকার অভাব হবে না। থমাস মুলার (ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস), সন হিউং-মিন (এলএএফসি) এবং সম্ভবত মেসির (ইন্টার মিয়ামি) মতো তারকারা অংশ নেবেন এই আয়োজনে, যা গ্রীষ্মের অন্যতম আলোচিত ইভেন্ট হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। রোববার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে হবে এই ম্যাচ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

 

আঞ্চলিক উত্তেজনা ইস্যুতে কাতারের আমির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
আঞ্চলিক উত্তেজনা ইস্যুতে কাতারের আমির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে টেলিফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

কাতারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফোনালাপে দুই নেতা অঞ্চলের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও একমত হন।

দুই নেতা আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

এছাড়া অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংলাপভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।

তিনি বলেন, সরকার একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি মান সম্পন্ন শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ময়মনসিংহের নান্দাইলে দিনের প্রথম কর্মসূচিতে দত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সারাদেশে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সময়মত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরে তিনি নান্দাইলে শশা চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। সেখানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার নিরলস কাজ করছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, কৃষক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ