খুঁজুন
                               
, ,
           

জনগণের ম্যান্ডেট মানতে গড়িমসি করছে বিএনপি: শিবির সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
জনগণের ম্যান্ডেট মানতে গড়িমসি করছে বিএনপি: শিবির সভাপতি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণভোটে প্রকাশিত জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, গণভোটের সুস্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে অনীহা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পরিপন্থী।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবন্ধে শিবির সভাপতি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি জনগণের সম্মতি, অংশগ্রহণ এবং সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হয়, যখন জনগণের ইচ্ছাকে আইনি ও সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই বাস্তবতারই শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য নিশ্চিত থাকবে।

সেমিনারে জানানো হয়, এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরে ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে মত দেন।

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই গণভোট কেবল একটি রাজনৈতিক সমর্থন নয়; বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন। জনগণের এই প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছেন ।

শিবির সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর অজুহাত দেখিয়ে গণভোটের রায় এড়িয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং গণভোটে প্রকাশিত সেই ইচ্ছা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, গণভোটে বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ জুলাই সনদকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুমোদন করেছে। ফলে এটি খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়ন বা পুনর্ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রচেষ্টা জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট খর্ব করার শামিল।

সেমিনারে সরকারের বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়েও সমালোচনা করা হয়। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ে যারা গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছেন, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার উদাহরণ। বর্তমান আইনমন্ত্রী অতীতে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে গণভোট ও বাস্তবায়ন আদেশের পক্ষে মত দিলেও এখন তা সংবিধানবহির্ভূত বলছেন। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে সংসদীয় প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ শিশির মনির, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের জিএস মাজহারুল ইসলাম।

কালের আলো/ এসাআর/এএএন

 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
 দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপার দাম, জেনে নিন নতুন দর

বিশ্ববাজারের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও কমেছে সোনা ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দরে সোনা ও রুপা বিক্রি কার্যকর হয়েছে। বাজুসের জুয়েলারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক সভায় সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৯ হাজার ৪০৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৮ হাজার ৫৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১৫ হাজার ৯২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫ টাকা।

রুপার দামও কমেছে
সোনার পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ২৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১৫ টাকা।

দামের সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাট ও মজুরি
বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। পাশাপাশি অলংকারের নকশা অনুযায়ী বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রযোজ্য হবে।তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সোনা ও রুপার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলংকার তৈরির মজুরি নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

পুরোনো অলংকার কেনা ও বিনিময়ে যে নিয়ম
পুরোনো সোনা বা রুপার অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কর্তন করতে হবে। অন্যদিকে, পুরোনো অলংকার কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম জানিয়েছে বাজুস। এ ছাড়া অলংকার বিনিময় কিংবা পুরোনো অলংকার কেনার সময় আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে নতুন দাম
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে। তাই সোনা বা রুপার অলংকার কেনার আগে ক্রেতাদের নতুন মূল্যতালিকা, প্রযোজ্য মজুরি এবং ভ্যাটের বিষয়টি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,সন্ধানী বার্তা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক কথোপকথন নজর কেড়েছে। চট্টগ্রাম সফরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অভ্যর্থনা জানাতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এসপি মাসুদ আলমকে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে মাসুদ আলমও ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন। তাঁদের এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের দৃশ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম সফরে যান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বিনিময়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী সামরিক বিমানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। বিমান থেকে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিও নজর কাড়ে। করমর্দনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত’।

এসপি মাসুদকে দেখে প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর
শুভেচ্ছা বিনিময়ের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। এ সময় তাঁর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে এসপি মাসুদ আলম ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সফরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তবে তাঁদের কথোপকথনের বাইরে কোনো বিশেষ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আলোচনায় এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়
মাসুদ আলম এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সে সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আলোচনায় আসে। ২৮তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৬ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে যান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সফরসূচিতে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। চট্টগ্রাম সফরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এসপি মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নজর কাড়ছে পর্যটক ও পথচারীদের। বড় বড় সবুজ পাতার ফাঁকে লম্বা মঞ্জরিতে ফুটে থাকা বেগুনি রঙের ফুলে সেজেছে সড়কের পাশের বনাঞ্চল। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। উদ্ভিদটির নাম কুডজু। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ফুলের দেখা মেলে। শরতের শেষভাগ থেকে শীতের আগমনী সময়ে লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটা বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি কিংবা লালচে-বেগুনি ফুল প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। লাউয়াছড়া ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও মুগ্ধ হচ্ছেন এ ফুলের সৌন্দর্যে।

সড়কের পাশে নজর কাড়ছে কুডজু ফুল
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পথে ব্যাপকভাবে এ ফুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে বছর দুয়েক আগে। এর আগে অনেকের কাছেই উদ্ভিদটি তেমন পরিচিত ছিল না। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে থাকা বেগুনি ফুল সহজেই নজর কাড়ছে। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ধারণ করছেন ভিডিও। বনাঞ্চলের সবুজ পরিবেশের সঙ্গে বেগুনি ফুলের রঙিন সমাহার পথচারীদের জন্য তৈরি করছে মনোরম দৃশ্য।

কুডজু কেমন উদ্ভিদ
বৃক্ষ গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কুডজু শিম বা মটরশুঁটি পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী লতা। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস কিউয়ের ‘প্ল্যান্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড অনলাইন’ তথ্যভান্ডারে এ উদ্ভিদের বিস্তৃতি এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশও এর স্বাভাবিক বিস্তৃতির অন্তর্ভুক্ত।

কুডজুর ফুল সাধারণত লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের পাপড়ি বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি অথবা লালচে-বেগুনি রঙের হতে পারে। ওপরের বড় পাপড়ির গোড়ায় হলুদ অংশও দেখা যায়। শিমজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফুলগুলোর আকৃতি অনেকটা প্রজাপতির মতো। ফুলে সাধারণত মিষ্টি সুবাসও থাকে।

দ্রুত বেড়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়
ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকৃতিবিষয়ক লেখক-গবেষক চয়ন বিকাশ ভদ্রের মতে, কুডজু দ্রুতবর্ধনশীল একটি বহুবর্ষজীবী লতা। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও উপযুক্ত মাটি পেলে এটি দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।

এর কাণ্ড লম্বা ও নমনীয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাণ্ড কিছুটা কাষ্ঠল হয়ে ওঠে। উপযুক্ত পরিবেশে লতাগুলো প্রায় ১০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। মাটির ওপর ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অন্য গাছের কাণ্ড ও বিভিন্ন অবলম্বন আঁকড়ে ধরে ওপরের দিকে উঠে যায়।

কুডজুর পাতা সাধারণত তিনটি প্রশস্ত পত্রক নিয়ে গঠিত। পত্রকগুলো ডিম্বাকার থেকে হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির হতে পারে। ফুল ফোটার পর চ্যাপ্টা শুঁটির মতো ফল তৈরি হয়, যার ভেতরে থাকে বীজ। তবে শুধু বীজ নয়, মাটিতে ছড়িয়ে পড়া কাণ্ড ও শিকড়ের মাধ্যমেও উদ্ভিদটি নতুন জায়গায় বিস্তার লাভ করতে পারে।

উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে পরিবেশগত ঝুঁকি
কুডজুর রয়েছে নানা ব্যবহারিক গুরুত্ব। বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবাদি জমি আচ্ছাদন এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর শিকড় থেকে শ্বেতসারসমৃদ্ধ উপাদান সংগ্রহ করা হয়, যা পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খাবার তৈরি ও ঘন করতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এর লতা থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বস্ত্র, কাগজ ও ঝুড়ি তৈরির নজির রয়েছে।

তবে দ্রুত বিস্তারের কারণে উদ্ভিদটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। ঘন পাতার আচ্ছাদন ছোট গাছ, গুল্ম ও অন্যান্য উদ্ভিদের ওপর সূর্যালোক পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় কুডজুর আচ্ছাদনে থাকলে স্থানীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ উদ্ভিদের ব্যাপক বিস্তারকে এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে বাড়ছে আগ্রহ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা কুডজু ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের বাড়তি আকর্ষণ। সবুজ বনভূমির পাশে বেগুনি ফুলের এই সমাহার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করছে বাড়তি আনন্দ।

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্ভিদটির বিস্তার ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সচেতন থাকা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি