খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন

বিএনপির ক্ষমতা গ্রহণ ইতিবাচক, চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির ক্ষমতা গ্রহণ ইতিবাচক, চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি।

লোকসভায় উপস্থাপিত ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নয়াদিল্লির সামনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে ঢাকায় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সংসদীয় কমিটির মতে, বাংলাদেশে চীনের অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন এবং অন্যান্য বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর ফলে অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভারতকে সক্রিয় ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি, যাতে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ হয়।

কমিটি আরও বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাস্তববাদী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সূত্র:টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল (হড়পা বান) ও ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত মালভূমিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও বরফ গলার কারণে দেশটির সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলা রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিঙ-এর একাধিক গ্রাম ভেসে গিয়ে এই প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার ভোরে কোনো পূর্ব সঙ্কেত ছাড়াই বিকট শব্দে ভোতেকোশি নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। প্রলয়ঙ্কারী এই জলস্রোত মুহূর্তের মধ্যে রাসুয়া জেলার তিমুরে এবং সায়াপ্রু বেসি এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় বাজার ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে চীন ও নেপালকে সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘মিতেরি সেতু’ (ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাসাং লামু মহাসড়কের বিশাল অংশ ধসে পড়ায় রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্যমতে, বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকা থেকে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটকরাও এই তালিকায় আছেন।

কাঠমান্ডু-ভিত্তিক টাচ কৈলাশ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাশু কুমার অধিকারী বলেছেন, ৯৩ জন নেপালিসহ ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর বুধবার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। দু-একজন ছাড়া বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমরা তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারিনি।

অন্যদিকে রাসুয়া জেলায় দায়িত্ব পালনরত নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ জন সদস্যের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র উপ-মহাপরিদর্শক অবিনারায়ণ কাফলে।

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নির্দেশে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য ১৪টি হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নদীর পানির উচ্চতা ও তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকা যেমন—তিমুরে এবং স্যাফরুবেশিতে হেলিকপ্টার অবতরণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই আকস্মিক বন্যা নেপালের জাতীয় গ্রিডে বড় আঘাত হেনেছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত অন্তত ৬টি বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ বা ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, কাঠমান্ডু পোস্ট

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সঙ্গীকে ভালোবাসেন, কিন্তু এই ভুলগুলোই কি তাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
সঙ্গীকে ভালোবাসেন, কিন্তু এই ভুলগুলোই কি তাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে?

সম্পর্কে ভালোবাসা থাকলেই সব সময় সম্পর্ক সুন্দর থাকে না। অনেক সময় অজান্তে করা কিছু আচরণ সঙ্গীর মনে কষ্ট, অভিমান বা দূরত্ব তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে একই ধরনের আচরণ বারবার ঘটলে ভালোবাসার জায়গায় বিরক্তি ও হতাশা তৈরি হতে পারে।

তাই সঙ্গীকে ভালোবাসলেও নিজের কিছু অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কারণ সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য সব সময় বড় কোনো ঘটনা প্রয়োজন হয় না; ছোট ছোট অবহেলাও ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

সঙ্গীর কথা মন দিয়ে না শোনা

সঙ্গী কোনো কথা বলার সময় মোবাইল দেখা, টেলিভিশন চালু রাখা কিংবা কথার মাঝখানে বাধা দেওয়া তাঁকে মনে করাতে পারে যে তাঁর কথা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব সমস্যার সমাধান দিতে হবে এমন নয়, অনেক সময় মন দিয়ে শোনাটাই সঙ্গীর জন্য সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে।

সবকিছুতেই সমালোচনা করা

সঙ্গীর কাজ, পোশাক, সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিয়মিত নেতিবাচক মন্তব্য করলে আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে। গঠনমূলক পরামর্শ আর প্রতিটি বিষয়ে খুঁত ধরা এক বিষয় নয়। সম্পর্ক ভালো রাখতে সঙ্গীর ভালো কাজগুলোর প্রশংসাও করা প্রয়োজন।

অন্যের সঙ্গে তুলনা করা

‘অমুকের স্বামী এমন’, ‘অমুকের স্ত্রী এত ভালো’—এ ধরনের তুলনা সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিত্ব ও পরিস্থিতি আলাদা। তাই অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে নিজেদের সম্পর্কের সমস্যাগুলো নিয়েই কথা বলা ভালো।

অভিমান জমিয়ে রাখা

কোনো বিষয়ে কষ্ট পেলে কথা না বলে দিনের পর দিন অভিমান করে থাকা সমস্যার সমাধান করে না। বরং এতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। তাই উত্তেজনার সময় নয়, পরিস্থিতি শান্ত হলে নিজের কষ্টের বিষয়টি স্পষ্টভাবে সঙ্গীকে জানানো ভালো।

ব্যক্তিগত সময় ও স্পেস না দেওয়া

ভালোবাসার অর্থ সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকা নয়। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু ব্যক্তিগত সময়, বন্ধু বা নিজস্ব আগ্রহ থাকতে পারে। সঙ্গীর ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান না করলে সম্পর্কের মধ্যে চাপ তৈরি হতে পারে।

সব সিদ্ধান্ত একা নেওয়া

দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব না দিলে তাঁর মনে অবহেলার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। কোথায় ঘুরতে যাবেন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত—গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া পারস্পরিক সম্মান বাড়ায়।

রাগের সময় আঘাত করে কথা বলা

রাগের মুহূর্তে বলা কিছু কথা পরে ভুলে গেলেও সঙ্গীর মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। অপমান, গালাগাল বা পুরোনো ভুল টেনে এনে আক্রমণ করা সমস্যাকে আরও জটিল করে। তাই উত্তেজনা বেশি হলে কিছু সময় বিরতি নিয়ে পরে আলোচনা করা ভালো।

শুধু সমস্যার সময় কথা বলা

অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কথাবার্তা ধীরে ধীরে শুধু সংসারের কাজ, সন্তান, টাকা-পয়সা বা সমস্যা নিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। অথচ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে একসঙ্গে হাসা, গল্প করা, দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং পরস্পরের খোঁজ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সঙ্গীর অনুভূতিকে ছোট করে দেখা

‘এটা নিয়ে এত কষ্ট পাওয়ার কী আছে?’ বা ‘তুমি বেশি ভাবছ’—এ ধরনের কথা সঙ্গীর অনুভূতিকে অস্বীকার করতে পারে। কোনো বিষয় আপনার কাছে ছোট মনে হলেও সেটি সঙ্গীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাঁর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করাই সম্পর্কের জন্য বেশি ইতিবাচক।

ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলে যাওয়া

সম্পর্ক দীর্ঘ হলে অনেকেই ধরে নেন, সঙ্গী এমনিতেই জানেন যে তিনি ভালোবাসেন। কিন্তু ভালোবাসা প্রকাশের প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না। একটি প্রশংসা, ধন্যবাদ, খোঁজ নেওয়া কিংবা ছোট্ট একটি যত্নের আচরণও সম্পর্ককে উষ্ণ রাখতে পারে।

সম্পর্কে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ হলো ভুল বুঝতে পারার পর তা নিয়ে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে নিজের আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করা। পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ, বিশ্বাস ও যত্ন—এই বিষয়গুলোই একটি সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কালের আলো/এসএ

বলিউড পরিচালক কুকু কোহলি আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
বলিউড পরিচালক কুকু কোহলি আর নেই

বলিউডে ফুল অউর কাঁটে সিনেমার মাধ্যমে অজয় দেবগণ ও মাধুর অভিষেক ঘটানো পরিচালক কুকু কোহলি মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কুকু কোহলির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্মাতা অশোক পণ্ডিত। প্রিয় বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তিনি।

কুকু কোহলির মৃত্যুর বিষয়ে অশোক পণ্ডিত বলেন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। কারণ কুকু কোহলি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি জানান, কুকু কোহলি হৃদ্‌রোগে মারা যাবেন—এমনটা কখনো ভাবেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুকু কোহলি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং খাবারের ব্যাপারেও সচেতন ছিলেন।

অশোক পণ্ডিত আরও বলেন, কুকু কোহলি সব সময় হাসিখুশি ও ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ ছিলেন। তাঁকে কখনো বিষণ্ন অবস্থায় দেখেননি। কুকু কোহলির ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক দিকটিই তাঁর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাশাপাশি কুকু কোহলির সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন অশোক পণ্ডিত। তিনি বলেন, ‘ফুল অউর কাঁটে’ সিনেমার মাধ্যমে অজয় দেবগণকে বলিউডে নিয়ে আসেন কুকু কোহলি। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি কিংবদন্তি নির্মাতা রাজ কাপুরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন।

বন্ধুর মৃত্যুতে নিজের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানান অশোক পণ্ডিত। তিনি বলেন, কুকু কোহলির মৃত্যুতে তিনি একজন খুব কাছের বন্ধুকে হারিয়েছেন।

১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফুল অউর কাঁটে’ কুকু কোহলির ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিনেমা। এই সিনেমার মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক হয় অজয় দেবগণ ও অভিনেত্রী মাধুর। সিনেমাটি মুক্তির পর অজয় দেবগণ দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়েন।

পরিচালক হিসেবে কুকু কোহলির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সুহাগ’ (১৯৯৪), ‘হকীকত’ (১৯৯৫), ‘আনাড়ি নং ১’ (১৯৯৯), ‘জুলমি’ (১৯৯৯) ও ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ (২০০২)। তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা ‘ওহ তেরা নাম থা’ মুক্তি পায় ২০২৪ সালে।

কুকু কোহলির মৃত্যুতে বলিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন এবং অজয় দেবগণের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাঁকে স্মরণ করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ