খুঁজুন
                               
, ,
           

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ
নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন মামলার আবেদন করেন। পরে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

বাদীর দাবি, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যায়। আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন— এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগেই এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের অভিযোগ, ওই হামলায় এনসিপির এক কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

কালের আলো/এসএকে

রাতারাতি নয়, সময় নিয়ে পুলিশে পরিবর্তন আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
রাতারাতি নয়, সময় নিয়ে পুলিশে পরিবর্তন আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ বাহিনীতে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে পুলিশকে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করতে সময় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশের সব নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে। পুলিশের সদস্যরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। তবে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় দিতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক রংপুরের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনাটির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী ও মানবহিতৈষী ডলি পার্টন আর নেই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সে ন্যাশভিলে মারা গেছেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই শিল্পী। তার মৃত্যুর খবর পরিবার ও প্রতিনিধির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীতসহ বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ছয় দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি; চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ব্যবসা, সাহিত্য ও মানবসেবাতেও তৈরি করেছেন নিজের আলাদা অবস্থান। ‘Jolene’, ‘9 to 5’, ‘Coat of Many Colors’ এবং ‘I Will Always Love You’-এর মতো গান তাকে পরিণত করেছিল বিশ্ব সংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখে। তার গান ও কণ্ঠ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে আছে।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টির দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। ১২ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পাহাড়ি এলাকায় বেড়ে ওঠা ডলির শৈশব ছিল আর্থিক সংকটে ভরা। তবে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর টান।

শিশুকালেই গির্জায় গান গাইতেন তিনি। মাত্র ১০ বছর বয়সে গিটার শেখা ও স্থানীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওলে অপ্রি’তে গান পরিবেশনের সুযোগ পান। সেখান থেকেই তার পেশাদার সংগীতজীবনের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

১৯৬০-এর দশকে ন্যাশভিলে গিয়ে পেশাদারভাবে সংগীতচর্চা শুরু করেন ডলি। ১৯৬৭ সালে ‘Hello, I’m Dolly’ অ্যালবামের মাধ্যমে একক শিল্পী হিসেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর দ্রুতই কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত হন।

ডলির ক্যারিয়ারে একের পর এক যোগ হতে থাকে জনপ্রিয় গান। ১৯৭০ সালে ‘Joshua’ গান দিয়ে প্রথমবার কান্ট্রি চার্টের শীর্ষে ওঠেন তিনি। তবে ১৯৭৩ সালের ‘Jolene’ তাকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বড় পরিচিতি এনে দেয়।

‘Jolene’ শুধু একটি জনপ্রিয় গানই নয়, কান্ট্রি সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রেম, ঈর্ষা ও হারানোর ভয়কে অত্যন্ত সহজ অথচ আবেগপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছিলেন ডলি। গানটি পরবর্তী সময়ে অসংখ্য শিল্পী নতুন করে পরিবেশন করেছেন।

ডলির লেখা আরেকটি কালজয়ী গান ‘I Will Always Love You’। ১৯৭৪ সালে নিজের কণ্ঠে গানটি প্রকাশ করেন তিনি। প্রায় দুই দশক পর ১৯৯২ সালে হুইটনি হিউস্টন ‘The Bodyguard’ চলচ্চিত্রের জন্য গানটির নতুন সংস্করণ গেয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পান। হিউস্টনের সংস্করণটি গানটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় এবং ডলির গীতিকার হিসেবে অসাধারণ প্রতিভাকেও আরও প্রতিষ্ঠিত করে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে ডলি পার্টন প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ১০ কোটিরও বেশি। ফলে তিনি বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া নারী সংগীতশিল্পীদের অন্যতম হয়ে ওঠেন।

কান্ট্রি সংগীতের পাশাপাশি পপ ও অন্যান্য ধারার শ্রোতাদের কাছেও তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। কেনি রজার্স, এমিলু হ্যারিস, লিন্ডা রনস্ট্যাড, লরেটা লিন ও উইলি নেলসনসহ বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

১৯৮৩ সালে কেনি রজার্সের সঙ্গে গাওয়া ‘Islands in the Stream’ গানটি বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে ওঠে। গানটি ডলির সংগীতজীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন ডলি পার্টন। ১৯৮০ সালে জেন ফন্ডা ও লিলি টমলিনের সঙ্গে ‘9 to 5’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। চলচ্চিত্রটির জন্য লেখা ‘9 to 5’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং অস্কারে সেরা মৌলিক গানের জন্য মনোনয়ন পায়।

এরপর ‘The Best Little Whorehouse in Texas’, ‘Steel Magnolias’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন ডলি। তার অভিনয় ছিল সংগীতজীবনের স্বাভাবিক সম্প্রসারণের মতো—হাস্যরস, আবেগ ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নেন।

ডলি পার্টনের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি একাধিক গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন এবং পেয়েছেন গ্র্যামি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও। সংগীত রচনার অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি ‘Songwriters Hall of Fame’-এও জায়গা করে নেন।

২০২২ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে। প্রথমদিকে এই সম্মাননা গ্রহণ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে তিনি সম্মানটি গ্রহণ করেন এবং এর পরই রক সংগীত নিয়ে কাজ করার নতুন আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শুধু গান ও অভিনয় নয়, ব্যবসায়ও অসাধারণ সফল ছিলেন ডলি। টেনেসির গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস অঞ্চলের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। ১৯৮০-এর দশকে একটি স্থানীয় থিম পার্কে বিনিয়োগের পর সেটি পরবর্তীতে ‘Dollywood’ নামে পরিচিতি পায়।

ডলিউড পরবর্তীতে টেনেসির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। নিজের শিকড়, অ্যাপালাচিয়ান সংস্কৃতি ও শৈশবের স্মৃতিকে ঘিরে ডলি পার্টন এই উদ্যোগকে গড়ে তুলেছিলেন।

ডলি পার্টনের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তার মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তার প্রতিষ্ঠিত ‘Imagination Library’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কাজ তাকে সংগীতের বাইরেও ব্যাপক সম্মান এনে দেয়।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা গবেষণায় ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন ডলি। ওই গবেষণা পরবর্তীতে মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা তৈরির গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

তার দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিধি ছিল আরও বিস্তৃত। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা, শিশুদের শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত অর্থ ও সহায়তা দিয়েছেন তিনি। খ্যাতির পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করাকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন ডলি।

ডলি পার্টনের স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্যজীবন কাটিয়েছেন তারা। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

ব্যক্তিগত জীবনকে সাধারণত প্রচারের আড়ালে রাখলেও ডলি বিভিন্ন সময় তার স্বামী ও পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা পর্যায়ে তিনি পরিবার ও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ডলি পার্টনের মৃত্যু শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পীর বিদায় নয়; এটি আমেরিকান কান্ট্রি সংগীতের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। দরিদ্র টেনেসির পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পটি নিজেই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।

গান লিখেছেন, গেয়েছেন, অভিনয় করেছেন, ব্যবসা করেছেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন ডলি পার্টন। তার গান যেমন প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার কাছে বেঁচে থাকবে, তেমনি শিক্ষা, শিশু কল্যাণ ও মানবসেবায় তার উদ্যোগও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৮০ বছর বয়সে তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি শুধু কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ছিলেন না—তিনি ছিলেন আমেরিকান সংস্কৃতিরই এক অনন্য প্রতীক। তার সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বহুদিন বিশ্বজুড়ে বেঁচে থাকবে ডলি পার্টনের নাম।

কালের আলো/এসএ

পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিমস) মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটালের গাইনি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ইসলামাবাদ প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পিমসের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল জানান, আগুন লাগার সময় ওই ওয়ার্ডে ১৫টি শিশু ছিল। আগুনের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্তত একটি শিশুকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধারকারীরা সিঁড়ি ও ভাঙা জানালা দিয়ে হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রবেশ করেন। গুরুতর অবস্থায় শিশুদের দ্রুত আইসিইউতে নেওয়া হলেও ১৪ নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, যে ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে মেরামত ও সংস্কারকাজ চলছিল। আগুন লাগার পর সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে আসতে হয়।

ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইসলামাবাদ প্রশাসন। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে।

কালের আলো/এমএসআইপি