দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে লাক্স সুপারস্টার বিজয়ীর মাধ্যমে নতুন মুখ পেলো বাংলাদেশ। এবার ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’এর বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি। অনুষ্ঠানে বর্ণিতার হাতে ট্রফি তুলে দেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান।
‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী- আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত আয়োজনের পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।
জানা গেছে, বিজয়ী বর্ণিতাকে নিয়ে নির্মাতা রায়হান রাফী সিনেমা নির্মাণ করবেন। আর বিজয়ীদের সবাইকে নিয়ে শিহাব শাহীন নির্মাণ করবেন ওয়েব ফিল্ম।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চূড়ান্ত আসরটি উপস্থাপনা করেন মোশাররফ করিম ও আরিফিন শুভ। অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেফার রহমান, ইরফান সাজ্জাদ, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খানসহ অনেকে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিহাব শাহীন, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিমসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।
একটা ছবি। ফিকে রং। দানা দানা গ্রেইন। লম্বা চুল, চওড়া কাঁধের ব্লেজার, বড় কানের দুল—দেখলে মনে হবে, ছবিটি হয়তো তোলা হয়েছিল চার দশক আগে। কিন্তু ছবির মানুষটি? তিনি ২০২৬ সালেরই একজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এমন ছবিই ছড়িয়ে পড়ছে। ‘আমি যদি আশির দশকে থাকতাম, কেমন দেখাতাম?’—এই কৌতূহল থেকেই নিজেদের বর্তমান ছবিকে এআইয়ের সাহায্যে আশির দশকের চরিত্রে রূপ দিচ্ছেন নেটিজেনরা।
চুল বদলে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে পোশাক। যোগ হচ্ছে পুরোনো গাড়ি, ঘরের সাজ, সিনেমার পোস্টারের মতো ব্যাকগ্রাউন্ড। এমনকি ছবির রং ও সেই সময়ের ক্যামেরার দানাদার আবহও তৈরি করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে আলোচনায় আসা এই ট্রেন্ড কয়েক দিনের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকারাও যোগ দিয়েছেন এই রেট্রো যাত্রায়।
কিন্তু ২০২৬-এর মানুষ হঠাৎ কেন ফিরে তাকাচ্ছে ১৯৮০-এর দিকে?
যে দশকে ‘বেশি’ই ছিল ফ্যাশন
আশির দশক ছিল বাড়াবাড়ির দশক। আজকের ফ্যাশনে যেখানে ‘লেস ইজ মোর’—সেখানে আশির দশকের মন্ত্র যেন ছিল, ‘মোর ইজ মোর।’ চওড়া কাঁধ, বড় চুল, উজ্জ্বল রং, বড় কানের দুল, মোটা বেল্ট আর চোখে পড়ার মতো পোশাক—সবকিছুতেই ছিল আলাদা করে নজর কাড়ার চেষ্টা।
পোশাক তখন শুধু শরীর ঢাকার উপকরণ ছিল না; পোশাকই হয়ে উঠেছিল নিজের পরিচয় জানান দেওয়ার ভাষা। বাংলাদেশেও আশির দশক ছিল ফ্যাশনের পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। নারীদের পোশাকে শুরু হয় নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পোলকা ডট, হল্টার-নেক ব্লাউজ, বড় হুপ কানের দুলসহ নানা স্টাইল।
শাড়িতে আশির দশকের লুকে ছবি – অভিনেত্রী বুবলীর ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের প্রভাব ছিল বেশ শক্তিশালী। শাড়ির নকশা ও বুননেও আসে পরিবর্তন। জনপ্রিয় হয় ডিজাইনার শাড়ি, নকশিকাঁথার এমব্রয়ডারি ও টাই-ডাই। কামিজ, ব্লাউজ কিংবা টপ—যাই হোক, কাঁধ ও হাতার নকশায় থাকত বাড়তি আয়োজন।
অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, আশির দশকের লুক। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
পুরুষদের ফ্যাশনেও আসে পরিবর্তন। শার্ট, ট্রাউজার ও ডেনিমের পশ্চিমা প্রভাব বাড়তে থাকে। তবে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, লুঙ্গি কিংবা স্যান্ডো গেঞ্জিও নিজেদের জায়গা ধরে রাখে। আর ঢাকার নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোড হয়ে ওঠে ফ্যাশনের পরিচিত গন্তব্য। অর্থাৎ আশির দশকে বাংলাদেশে ফ্যাশন শুধু পোশাকের বিষয় ছিল না—ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠছিল একটি শিল্প ও ব্যবসা।
গায়িকা জেফার রহমান লিখেছেন, ইন্টারনেটের আশির দশকের এই পার্টিতে এইমাত্র যোগ দিলাম! ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
তখনকার ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন নায়ক-নায়িকারা
আজকের মতো তখন ইনস্টাগ্রাম ছিল না। টিকটক ছিল না। ছিল না ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারের দুনিয়া। তখন একজন মানুষের পোশাকের ধরন বদলে দিতে পারত একটি সিনেমা অথবা একটি গান অথবা টেলিভিশনে দেখা কোনো তারকার চুলের স্টাইল।
১৯৮১ সালে এমটিভি চালুর পর গান আর ফ্যাশনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। কিন্তু নতুন কোনো ফ্যাশন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগত। সিনেমা ও টেলিভিশন থেকে সেটি যেত ম্যাগাজিনে, তারপর বাজারে।
অমিতাভ বচ্চন, শ্রীদেবী, রেখা, পারভিন ববি—বলিউডের তারকারা ছিলেন তরুণদের স্টাইল আইকন। বাংলাদেশেও রুনা লায়লা, কবরী, ববিতা ও জাফর ইকবালের মতো তারকারা তৈরি করেছিলেন নিজস্ব ফ্যাশন প্রভাব।তরুণীদের মধ্যে ববিতার ফোলা চুলের স্টাইল ছিল বেশ আলোচিত।
আর মিঠুন চক্রবর্তীর ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ যেন ফ্যাশনে নিয়ে আসে অন্যরকম ঝড়। ঝলমলে পোশাক, টাইট প্যান্ট, জ্যাকেট, বেল্ট—ডিস্কো লুক হয়ে ওঠে তরুণদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। শ্রীদেবী ও রেখার সিনেমার গান থেকেও অনুপ্রেরণা নিতেন তরুণীরা। শাড়ির সঙ্গে স্টাইলিশ ব্লাউজ, বড় দুল, চুড়ি আর নানা ধরনের হেয়ারস্টাইল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পারভিন ববির পশ্চিমা পোশাক, জাম্পস্যুট, বড় সানগ্লাস ও টাইট ট্রাউজার শহুরে ফ্যাশনেও প্রভাব ফেলে। দেশীয় সিনেমায় জাফর ইকবাল হয়ে ওঠেন তরুণদের অন্যতম স্টাইল আইকন। আর ১৯৮৯ সালে ‘বেদের মেয়ে জোস্না’ মুক্তির পর অঞ্জু ঘোষের সাজেও তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। রুপার গয়না, বড় টিপ ও গ্রামীণ ঘরানার পোশাক ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে।
চার দশক পর আবার কেন?
পুরোনো ফ্যাশন নতুন করে ফিরে আসা নতুন কিছু নয়। ফ্যাশনের জগতে রেট্রো বারবার ফিরে আসে। কখনো সত্তর, কখনো নব্বই, কখনো আবার আশির দশক। তবে এবারের গল্পটা একটু অন্যরকম। কারণ এবার শুধু পোশাক ফিরছে না—ফিরছে একটি পুরো সময়ের অনুভূতি।
এ যুগের মডেল ফয়সাল খান নীলের ৮০’র দশকের সেই ওভারসাইজ ব্লেজার ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
নজর কাড়া একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, নতুন ট্রেন্ড ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
ওভারসাইজড ব্লেজার, শোল্ডার প্যাড, হাই-ওয়েস্টেড জিনস, লেদার জ্যাকেট, বড় অ্যাকসেসরিজ—আশির দশকের অনেক কিছুই এখনকার ফ্যাশনে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে। আর এই নস্টালজিয়ার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে জেন-জি।
অভিনেত্রী তানজিকা আমিন ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, গা ভাসাইলাম ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লিখেছেন, ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে! আশির দশকের একজন অভিনেতা হলে যেমনটা হতো। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
মজার বিষয় হলো—এই প্রজন্মের অনেকেই আশির দশক দেখেইনি। তবু সেই সময়ের প্রতি তাদের টান। নিজে যে সময়ে কখনো বেঁচে থাকেনি, সেই সময়ের প্রতি নস্টালজিয়াকে বলা হয় ‘অ্যানিমোইয়া’। অর্থাৎ নিজের নয়, তবু নিজের মতো মনে হওয়া কোনো অতীতের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ।
অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, কালজয়ী গান আর পুরোনো দিনের স্টাইলের সেই সোনালী যুগে ফিরে যাওয়া! ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
নিখুঁত ছবির যুগে পুরোনো ছবির অপূর্ণতা
এখানেই হয়তো লুকিয়ে আছে পুরো ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় রহস্য। আজকের ছবি অনেক বেশি নিখুঁত। আলো ঠিক করা যায়। রং বদলে দেওয়া যায়। মুখের খুঁত সরিয়ে দেওয়া যায়। কয়েক সেকেন্ডেই তৈরি করা যায় ঝকঝকে, নিখুঁত একটি ছবি। কিন্তু আশির দশকের ছবি ছিল অন্যরকম। ফিকে রং। ফিল্ম গ্রেইন। আলোর স্বাভাবিক ওঠানামা। আর ছিল অসম্পূর্ণতা।
জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লিখেছেন, আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে…। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
আজকের অতিরিক্ত পালিশ করা ডিজিটাল দুনিয়ায় সেই অসম্পূর্ণতাই যেন নতুন সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে। যে জিনিসগুলো একসময় পুরোনো প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ছিল, এখন সেগুলোই হয়ে উঠছে নান্দনিকতা।
এখন অতীতে যেতে লাগে শুধু একটি ছবি
একসময় আশির দশকের লুক তৈরি করতে প্রয়োজন হতো ভিনটেজ পোশাক, পুরোনো ক্যামেরা, মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট—আর অনেক প্রস্তুতি। এখন? একটি ছবি আর একটি এআই প্রম্পটই যথেষ্ট। মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে চুল, পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, গাড়ি কিংবা ছবির রং। চাইলে ছবিতে যোগ হচ্ছে পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরার গ্রেইনও। ফলে এই ট্রেন্ড শুধু ফ্যাশনের নয়—এটি নিজের পরিচয়কে অন্য এক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার এক ধরনের ডিজিটাল খেলা।
সাফা কবির লিখেছেন, আশির দশকের এই উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর চরকি তে দারুণ এক চমৎকার ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে! আশির দশকের এই লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে? ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
হয়তো মানুষ প্রযুক্তি নয়, একটু অতীতই খুঁজছে
প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, মানুষের জীবন তত বেশি দ্রুত, তত বেশি ডিজিটাল। সবকিছু হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই অতিরিক্ত গতির মাঝেই হয়তো তৈরি হচ্ছে থেমে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। আর সেই থেমে যাওয়ার জায়গাটাই যেন খুঁজে নিচ্ছে আশির দশকে।
যে দশক আজকের প্রজন্মের কাছে বাস্তব স্মৃতি নয়, বরং সিনেমা, গান, পুরোনো ছবি আর গল্পের তৈরি এক কল্পিত পৃথিবী। তাই হয়তো ২০২৬ সালের একজন তরুণ এআইয়ের সাহায্যে নিজের ছবিকে আশির দশকে নিয়ে গিয়ে দেখতে চাইছেন— ‘আমি যদি সেই সময়ে জন্মাতাম, তাহলে আমাকে কেমন দেখাত?’ একটি ছবি। একটি প্রম্পট। আর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে চার দশক পেরিয়ে যাওয়া।
এ যেন প্রযুক্তির সাহায্যে শুধু অতীতকে পুনর্নির্মাণ নয়—
নিজের কল্পনায় হারিয়ে যাওয়া একটি সময়কে একবার ছুঁয়ে দেখা। সময়ের ঘড়ি সামনে এগিয়ে যায়। ফ্যাশন বদলায়। প্রযুক্তি বদলায়। কিন্তু কিছু দশক কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। তারা ফিরে আসে—কখনো পোশাকে, কখনো গানে, কখনো সিনেমায়, আর এবার—এআইয়ের বানানো একটি ছবিতে।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, পিওর এলিগ্যান্স ও কসমোপলিটান ইন্ডিয়া
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকানো, ভবিষ্যৎ গ্যাস সংকট মোকাবিলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে একযোগে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়ন প্রকল্পে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রুত রেল যোগাযোগ এবং চট্টগ্রামের নগর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে।
প্রকল্পে সময়-ব্যয় বৃদ্ধিতে কঠোর সরকার
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ সমস্যা তৈরি করে। তিনি বলেন, বিষয়গুলো সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, যথাসময়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব।
মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধিতে কঠোর নজরদারি
১৫০ কূপ খনন
ঢাকা-চট্টগ্রামে ইলেকট্রিক ট্রেন
বর্ষার আগেই পরিষ্কার হবে ১,৬০০ কিমি ড্রেন
১৩ দফায় নজরদারি ও জবাবদিহিতা
প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও অপচয় রোধে সরকার ১৩ দফা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা; অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করা; প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের নির্দেশিকা সময়োপযোগী করা; বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিংয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন; নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি; ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার; নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয়ের কারণ নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির প্রকল্প পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত; বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ; সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণ; প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব; পিপিপি মডেলের প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব ও সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদের উদ্যোগ।
১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
শিল্পখাতে সাময়িক সংকটের সময় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন, ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক সার্ভে এবং সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থলভাগে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে Onshore Model PSC 2026 প্রণয়নের কার্যক্রমও চলছে। বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ নাগাদ গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিতকর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমে আসবে।
তিন স্তরের রেল পরিকল্পনা
ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ চলছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে। লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। টঙ্গী-আখাউড়া অংশের ডিপিপি প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বর্ষার আগেই পরিষ্কার হবে ১,৬০০ কিমি ড্রেন
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি নগরীর আরও ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি অপসারণের কার্যক্রমও চলছে।
স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন চলছে। এর বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও চলছে একাধিক প্রকল্প। এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৪৮ কিলোমিটার সড়ক, দুটি কালভার্ট ও ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে দুটি খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে এবং আরও ছয়টি মাঠ উন্নয়নের কাজ চলছে।
রাষ্ট্রপতির পদবির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিন থেকেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ আর ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে নতুন বার্তা
দাপ্তরিক নথিতে কোনো পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ভাষাগত বা আনুষ্ঠানিকতার প্রশ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দেরই একটি সাংবিধানিক, প্রশাসনিক ও প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। সে বিবেচনায় ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে কেবল একটি ভাষাগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের মতো সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদকে ব্যক্তির পরিবর্তে পদ হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভাষা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যক্তি নয়—পদই হবে রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে মূল পরিচয়।
রাষ্ট্রীয় পদ ও ব্যক্তিগত মর্যাদার মধ্যে পার্থক্য
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা অবশ্যই মর্যাদার অধিকারী। তবে সেই মর্যাদা ব্যক্তিকে ঘিরে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা তৈরির মাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি নয়। একজন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যে পদে অধিষ্ঠিত, তার সাংবিধানিক মর্যাদা পদটির মধ্যেই নিহিত।
ফলে পদবির সঙ্গে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ যুক্ত না করেও একজন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। বরং এ ধরনের ভাষাগত সরলীকরণ দাপ্তরিক যোগাযোগকে আরও নিরপেক্ষ, সংক্ষিপ্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক করে তুলতে পারে।
প্রশাসনিক ভাষায় সরলতা ও সমতা
সরকারি নথিপত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নির্ভুলতা, সংক্ষিপ্ততা ও নিরপেক্ষতা। সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিশেষণ বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে দায়িত্ব ও পদকে গুরুত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনিক ভাষা আরও প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে ওঠে। ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই রাষ্ট্রীয় নথিতে একটি অভিন্ন ভাষাশৈলী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এতে একই সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগে আনুষ্ঠানিকতার ভার কমবে এবং রাষ্ট্রীয় পদকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে তুলে ধরা সহজ হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর। শুধু পরিপত্র জারি করলেই রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসে না; মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলো নিয়মটি কতটা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করছে, সেটিই হবে মূল বিষয়। সরকারি চিঠি, প্রজ্ঞাপন, স্মারক, প্রতিবেদন, আমন্ত্রণপত্রসহ সব ধরনের দাপ্তরিক নথিতে একই নীতি অনুসরণ করা গেলে এটি প্রশাসনিক ভাষায় একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পদগুলোর ক্ষেত্রে সম্মান প্রকাশের প্রচলিত রীতিগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিও নজর দেওয়ার বিষয়। রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আগে ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাষা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তি ও পদের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন
Array