খুঁজুন
                               
, ,
           

শাকিবের স্পর্শ ‘ব্যাড টাচ’ নয়: জ্যোতির্ময়ী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
শাকিবের স্পর্শ ‘ব্যাড টাচ’ নয়: জ্যোতির্ময়ী

রাজধানীর একটি সিনেপ্লেক্সে ‘প্রিন্স’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে বিতর্কের জন্ম দেয়। ভিডিওতে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নায়িকা-জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও তাসনিয়া ফারিণকে দেখা যায়। এক মুহূর্তে শাকিবের হাত জ্যোতির্ময়ীর কোমরে স্পর্শ করলে নেটিজেনরা ‘ব্যাড টাচ’র অভিযোগ তোলে।

কিন্তু সরাসরি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। তিনি বলেন, বিষয়টা খুব বাজেভাবে ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে প্রচণ্ড ভিড় ছিল, ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না। মিডিয়া থেকে বলা হয়েছিল, শাকিব খানের সঙ্গে ছবি তুলতে। সেই সময় উনি আমাদের গার্ড করেছিলেন।

জ্যোতির্ময়ী আরও জানান, ঘটনার প্রেক্ষাপটকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যেভাবে বিষয়টি দেখানো হচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়। মিডিয়ার সামনে এটাকে বড় করে দেখানো হতাশাজনক।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করতেই চাইতো, তাহলে কি তিনশো ক্যামেরার সামনে সেটা করত? বিষয়টি অযথা বড় করা হচ্ছে।

শাকিবের আচরণে কোনো অস্বস্তি বোধ করেছিলেন কি না-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অস্বস্তির তো প্রশ্নই আসে না। এত ভিড় ছিল যে দাঁড়ানোই কঠিন ছিল। কো-আর্টিস্ট হিসেবে একে অপরকে প্রটেক্ট করাটা স্বাভাবিক।

ব্যাড টাচ প্রসঙ্গেও জ্যোতির্ময়ী দৃঢ়, তিনশো ক্যামেরার সামনে কেউ আমাকে ব্যাড টাচ করবে, আর আমি কিছু বলব না-এটা সম্ভব? আমি কি বাচ্চা? এমন কিছু হলে অবশ্যই প্রতিবাদ করতাম।

তিনি শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকেও ইতিবাচক আখ্যায়িত করেছেন। উনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। ‘প্রিন্স’-এ তিনি যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, সেটা মনে রাখার মতো। খারাপ লাগে, যখন একটি স্বাভাবিক বিষয়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়।

জ্যোতির্ময়ীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভিডিওতে দেখানো মুহূর্তটি কোনো অনৈতিক স্পর্শ বা ‘ব্যাড টাচ’ নয়, বরং কেবল ভিড় ও পরিস্থিতির কারণে ঘটেছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে ক্রয়কৃত সাড়ে ৬ শতক জমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ ৩২ বছর আগে ক্রয়কৃত সাড়ে ৬ শতক জমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে ক্রয়কৃত জমি ৭ বছরের আইনি লড়াই ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেদের সাড়ে ৬ শতক ক্রয়কৃত জমি ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও লাল নিশানা গেড়ে আদালতের প্রতিনিধিদল আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

স্থানীয় সূত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানাধীন সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল জলিল ফকিরের ছেলে বাদী আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে সানকিপাড়া ক্যান্টনমেন্ট বাইলেন (এমপি চেকপোস্টের পিছনে) এলাকার বিবাদী আব্দুল হালিম, শফিকুল ইসলাম, সেলিম, শাহীনসহ অন্য বিবাদীদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল।এই বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ মুক্তাগাছা সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আবু বক্কর সিদ্দিককে উক্ত জমির বৈধ ও প্রকৃত মালিক হিসেবে ঘোষণা করেন। আদালতের উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তরের নির্দেশ অনুযায়ী বিকেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমি মেপে লাল নিশানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এস.এ খতিয়ান ৩৪১, বি.আর.এস খতিয়ান ৪১৩, এস.এ দাগ নং ২১৬৪, ২১৬৫ এবং বি.আর.এস দাগ ৪১৯-এর অন্তর্ভুক্ত ‘পুকুর’ শ্রেণির সাড়ে ৬ শতাংশ জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

জমি হস্তান্তরের সময় ময়মনসিংহ জেলা জজ কোর্টের নাজির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জজ কোর্টের সার্ভেয়ার ওয়াসিম এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

জমির দখল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “দীর্ঘ ৩২ বছর পর আদালতের নির্দেশে, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আমি আমার জমি ফিরে পেয়েছি। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা জজ কোর্টের নাজির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে এসে জমির পরিমাপ শেষে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি। দেশে যে আইনের শাসন আছে এবং সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, এ রায় তার একটি বড় প্রমাণ।

কালের আলো/এম/এএইচ

বন্ধ কারখানা নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বন্ধ কারখানা নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং এসব কারখানা চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান তার উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

উপ প্রেস সচিব জানান,  বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং এসব শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়াও বৈঠকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যায় ইরানের তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যায় ইরানের তেল

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করেই মালয়েশিয়ার উপকূলীয় জলসীমা ব্যবহার করে চীনের কাছে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানের তেলবাহী জাহাজ ‘হিউম্যানিটি’ মালাক্কা প্রণালি ও সিঙ্গাপুর হয়ে মালয়েশিয়ার উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল। হঠাৎ করেই জাহাজটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা— এআইএস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, ৩৩০ মিটার (১,০৮৩ ফুট) লম্বা এই অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি এখন মালয়েশিয়ার ‘ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস’ (ইওপিএল) এলাকায় পৌঁছেছে। প্রায় ১২০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই এলাকা দক্ষিণ চীন সাগরে উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটি সম্ভবত অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতেই ট্র্যাকিংয়ের বাইরে চলে গেছে। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই তেলের চূড়ান্ত গন্তব্য চীন। ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে ইওপিএল এলাকাটি ইরান, রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলের এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাঁচ মাসব্যাপী সংঘাত এবং ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলা ও ১৪ জুলাই পুনরায় শুরু হওয়া ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের পরও এই কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মেরিটাইম সিকিউরিটি মনিটরিং প্রজেক্ট সিলাইটের পরিচালক রে পাওয়েল আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, এ বছরের শুরু থেকে তিনি এমন ৬২টি জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল, ইওপিএল, হংকং ও উত্তর চীনের মধ্যে চলাচলের সময় ভুয়া বা বাতিল পরিচয় ব্যবহার করেছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্সের মতে, এই জাহাজগুলো মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি নেটওয়ার্কের অংশ। তারা চীনের স্বাধীন ছোট শোধনাগার বা ‘টিপট’গুলোতে ইরানি তেল পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।

তিনি জানান, ইরান থেকে চীনে যাওয়া অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। উৎস গোপন রাখতে চীনে পৌঁছানোর আগে এই প্রক্রিয়া একাধিকবার হতে পারে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, চীন সাধারণত সিএনপিসি, সিনোপেক এবং সিএনওওসি-এর মতো তাদের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির বদলে ছোট ও স্বাধীন ‘টিপট’ শোধনাগারগুলোর মাধ্যমে এই তেল কেনে। এই ছোট শোধনাগারগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত না থাকায় তারা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে কম দামে ইরানি তেল সংগ্রহ করে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ইয়োকোসুকা কাউন্সিল অন এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কর্মসূচির পরিচালক চার্লি ব্রাউন বলেন, মালয়েশিয়ার ইওপিএল সংলগ্ন নোঙর এলাকা আগের মতোই ব্যস্ত। যুদ্ধের আগে এবং সংঘাতের প্রতিটি পর্যায়েই সেখানে জাহাজ নোঙর করা ও জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

তার মতে, মোটামুটি হংকংয়ের সমান আয়তনের হওয়ায়, ইওপিএল-এর একটি সুবিধা হলো এর শান্ত পরিবেশ, যা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সরবরাহকারীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট কাছাকাছি এবং ঐতিহাসিকভাবে একটি ধূসর আইনি পরিসরে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট দূরে।

এই ইওপিএল মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে হলেও এটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের আওতাভুক্ত। তবে এখানে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার চেয়ে মাছ ধরা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি আগেই জানিয়েছিল, দুর্গম অবস্থান ও অধিক্ষেত্রগত সীমাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় টহল দেওয়া কঠিন।

কুয়ালালামপুর অবশ্য তাদের আইন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। অবৈধ নোঙর, বাঙ্কারিং এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া ইইজেডে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর ঠেকাতে গত জুনে মালয়েশিয়া তাদের ইইজেড আইন সংশোধন করেছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

চার্লি ব্রাউনের মতে, যেকোনো সাধারণ দিনেই ওই এলাকায় প্রায় ২০০টি জাহাজ নোঙর করা থাকতে পারে। এর অর্ধেকই সম্ভবত ইরানের সঙ্গে যুক্ত।

আলজাজিরার পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসে হিউম্যানিটিসহ ইরানের পতাকাবাহী ১৮টি তেলের ট্যাংকার ইওপিএল-এ পৌঁছানোর পর ট্র্যাকিংয়ের বাইরে চলে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আরেকটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডোরকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

এছাড়াও একইদিন ইওপিএল-এ অন্তত ৫০টি মার্কিন বা ইইউ-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ তাদের এআইএস সিগন্যাল চালু রেখে অবস্থান করছিল। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সেখানে আরও অনেক জাহাজ রয়েছে।

ইউরোপভিত্তিক সংস্থা জিওপলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেসের মতে, ইওপিএল-এ স্থানান্তরিত ইরানি তেলের কেনাবেচা চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম বা সিআইপিএসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর ফলে মার্কিন নজরদারিতে থাকা সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়ে চীনা মুদ্রা রেনমিনবিতে অর্থ পরিশোধ করা যায়।

প্রসঙ্গত, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের তেল কেনার কথা স্বীকার করে না। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইওপিএল-এর মাধ্যমে চীনে ইরানের তেল পরিবহনের বিষয়টি তাদের অজানা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতীতে বারবার বলেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ এবং আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন ‘দূরবর্তী এখতিয়ার’ প্রয়োগের বিরোধিতা করে।

গবেষক এরিকা ডাউন্স বলেন, গত বছর ইরান চীনে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করলেও চীনের কাস্টমসের তথ্যে এই তেল আমদানির কোনো হিসাব নেই। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে চীনের আমদানি মাঝেমধ্যেই মালয়েশিয়ার নিজস্ব তেল উৎপাদনের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায়। এ থেকে বোঝা যায়, ওই তেলের একটি অংশ অন্য উৎস থেকে এসেছে।

অন্যদিকে বেইজিং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজস্ব শোধনাগারগুলোকে রক্ষা করতেও পদক্ষেপ নিয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানি তেল কেনার দায়ে পাঁচটি টিপট শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই নির্দেশ ব্লক করে দেয়। তাদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

চলতি সপ্তাহেও আরও ছয়টি তেলের ট্যাংকার ও হংকং-চীনভিত্তিক পাঁচটি কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, এগুলো ইরানের শ্যাডো ফ্লিটের সঙ্গে যুক্ত এবং চীনে তেল পরিবহন করেছে। এ বিষয়ে বেইজিং এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীনা শোধনাগারগুলোর ইরানি তেল কেনার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইওপিএল-এর মতো নেটওয়ার্কগুলো বাকি তেলের বিক্রি সচল রেখেছে।

চার্লি ব্রাউন বলেন, মার্কিন কঠোরতার কারণে সরবরাহ কিছুটা কমলেও এই ছায়া নেটওয়ার্কের কারণে ইরানের তেল বাণিজ্যকে পুরোপুরি স্তব্ধ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ