বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে হামের চিকিৎসা
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে দেশে। চাহিদার অনুপাতে টিকা মজুত না থাকা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সংকট, জনবল ঘাটতি, কর্মসূচিতে নজরদারির অভাব, টিকাদান কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং নিয়মিত ক্যাম্পেইন না হওয়া-এসব কারণে দেশে হঠাৎ করে ছোঁয়াচে রোগ হাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সিদের শরীরে হাম সংক্রমিত হওয়ায় অভিভাবক-স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন জেলায় অর্ধ শতাধিক হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
প্রায় নির্মূল এই রোগটি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রস্তুতি ছিলো না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটিকে বজ্রপাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি নতুন করে আরও টিকা কিনতে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা ও ভেন্টিলেটর বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
টিকাদান কর্মসূচিকে স্বাগত জানালেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হামের চিকিৎসাকে জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। অন্যথায় বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি। পাশাপাশি আক্রান্ত প্রবণ জেলাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরুর পরামর্শও দেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘৫০ কোটির অর্ধেক টাকা দিয়ে সরাসরি টিকাটা কেনা হচ্ছে। বাকি ৫০ শতাংশ যেটা টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার কথা ছিল, ওইটাও সরকার চিন্তা করছে যে, সরাসরি ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা যায় কি না। সারা দেশে যতগুলো জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেখানে কিন্তু আমরা ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ড বা সেন্টার আমরা চালু করছি। যেন রোগীগুলো আসলে একদম আলাদা করে ওখানে রেখে দেয়া যায়।’ তবে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশনের বিকল্প নেই বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘উদ্যোগটা সরকার নিয়েছে। এটা হলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটা স্ট্যান্ডার্ড। এটাই বর্তমান সরকার মেইনটেইন করছে। সেটা হলো— আইসোলেশন, আইসোলেশন, আইসোলেশন। ভাইরাসের বিপরীতে কোনো স্পেসিফিক ম্যানেজমেন্ট নেই।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array