খুঁজুন
                               
, ,
           

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের

ভারতে আবারও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে পাকিস্তানকে নজিরবিহীন পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে কয়েক দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার এই হুঁশিয়ারির কয়েক দিন পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারতের যেকোনও ‘দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের’ জবাবে কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান।

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির বার্ষিকীর আগে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশীর মাঝে ওই হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। খাজা আসিফ বলেন, ভারত যদি এবার কোনও ‌‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা এটিকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।’’

খাজা আসিফের এমন হুমকির বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত ‘নিজেদের লোক অথবা বন্দি পাকিস্তানিদের’ জড়িয়ে একটি সম্ভাব্য ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মরদেহ ফেলে রেখে সেটিকে সন্ত্রাসবাদের দায় দেওয়া হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও ভারতকে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের হুমকি দিয়ে খাজা আসিফ বলেছিলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবকাশ আছে, এমনটা ভাবা অকল্পনীয়। তিনি ভারতের যেকোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ‘দ্রুত’ ও ‘পরিমিত’ জবাব দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে দেন।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনও অস্পষ্টতা থাকতে দেবেন না। পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প নিরঙ্কুশ, প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, পরিমিত ও চূড়ান্ত।’’

পাকিস্তানকে ভারতের হুঁশিয়ারি
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী রাজ্য কেরালায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় রাজনাথ সিং সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেকোনও ‘দুঃসাহসিকতা’ নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারত। তিনি বলেন, পেহেলগাম হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় বাহিনী ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানকে নতজানু করে ফেলেছিল এবং এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের বৃহত্তম অভিযান।

রাজনাথ বলেন, আমি আপনাদের বলতে চাই অভিযানটি এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যদি এমন হীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সমুচিত জবাব দেবে; যা তারা কখনও ভুলবে না। এবার যা ঘটবে তা হবে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ভেতরে অন্তত ৯টি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস এবং দেশটির কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অবকাঠামো এখনও সংস্কারাধীন রয়েছে। গত বছরের ১০ মে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানানোর পর শত্রুতা বন্ধ হয় এবং উভয় দেশ ধারাবাহিক কিছু প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়।

রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়েছে এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের ধরন বদলে গেছে। তিনি বলেন, উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক কিংবা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে পুলওয়ামা বোমা হামলার জবাবে বিমান হামলা অথবা পেহেলগাম ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিঁদুর; আমরা সন্ত্রাসবাদের ওপর শক্তিশালী আঘাত হেনেছি।

সূত্র: এনডিটিভি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরিষা ইলিশ: বাঙালির রসনার চিরন্তন স্বাদ,ঘরেই বানাবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সরিষা ইলিশ: বাঙালির রসনার চিরন্তন স্বাদ,ঘরেই বানাবেন যেভাবে

বর্ষা এলেই বাঙালির খাবারের তালিকায় ইলিশের কদর বেড়ে যায়। আর ইলিশের সঙ্গে সরিষার ঝাঁঝালো স্বাদের মেলবন্ধন হলে জমে ওঠে একেবারে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি আয়োজন। ভাতের সঙ্গে সরিষা ইলিশ এমন একটি পদ, যা অল্প উপকরণেই তৈরি করা যায় এবং স্বাদেও এনে দেয় ভিন্নতা।

যা যা লাগবে

  • ইলিশ মাছ ৫–৬ টুকরা
  • সরিষার বাটা ৩ টেবিল চামচ
  • কাঁচা মরিচ ৫–৬টি
  • হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
  • লবণ স্বাদমতো
  • সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ
  • মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
  • পানি পরিমাণমতো

যেভাবে রান্না করবেন

প্রথমে ইলিশের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে লবণ ও সামান্য হলুদ মেখে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি বাটিতে সরিষার বাটা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া, লবণ ও সামান্য পানি দিয়ে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন।

কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে মাছের টুকরোগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। একই কড়াইয়ে সরিষার মিশ্রণ দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রান্না করুন। এরপর সামান্য পানি দিয়ে ফুটে উঠলে ভাজা ইলিশগুলো দিয়ে দিন।

কড়াই ঢেকে ৮–১০ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। শেষে কাঁচা মরিচ ও আরও এক চামচ সরিষার তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

স্বাদ বাড়ানোর টিপস

সরিষার বাটা বেশি সময় রান্না করলে এর ঝাঁঝ ও স্বাদ কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই মাঝারি বা অল্প আঁচে রান্না করাই ভালো। আর রান্নার শেষে সামান্য কাঁচা সরিষার তেল দিলে সরিষা ইলিশের পরিচিত ঘ্রাণ ও স্বাদ আরও বাড়ে।

গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সরিষা ইলিশ। ব্যস্ত দিনের খাবারের তালিকায়ও এই ঐতিহ্যবাহী পদ এনে দিতে পারে উৎসবের আমেজ।

কালের আলো/এসএ

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, আহত আরও একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, আহত আরও একজন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে মো. রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে এক সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ দোকানটিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। এ সময় দোকানে কর্মরত রাজুর বুকে গুলি লাগে। একই ঘটনায় অপর এক বাংলাদেশির পায়েও গুলি লাগে।

গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। পায়ে গুলিবিদ্ধ অপর বাংলাদেশি চিকিৎসা শেষে বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

নিহত মো. রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।

এদিকে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার।

কালের আলো/এসএ

সুস্থ থাকতে গিয়ে উল্টো ক্ষতি? ‘ওয়েলনেস অপটিমাইজেশন’ নিয়ে নতুন ভাবনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
সুস্থ থাকতে গিয়ে উল্টো ক্ষতি? ‘ওয়েলনেস অপটিমাইজেশন’ নিয়ে নতুন ভাবনা

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম- এসব অভ্যাস নিঃসন্দেহে উপকারী। কিন্তু সুস্থ থাকার এই চেষ্টাই যখন প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন সেটি উল্টো মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘হেলথ-ম্যাক্সিং’ বা ‘ওয়েলনেস অপটিমাইজেশন’ নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিটি অভ্যাসের হিসাব

কত ঘণ্টা ঘুম হলো, দিনে কত পা হাঁটা হলো, শরীরে কতটা পানি গেল, কত গ্রাম প্রোটিন খাওয়া হলো-এসব তথ্য এখন স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ট্র্যাকার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই জানা যায়। ২০২৬ সালে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির বাজারেও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তার ভিত্তিতে পরামর্শ দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়ছে।

কিন্তু সমস্যা শুরু হতে পারে তখনই, যখন এসব তথ্য স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বদলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘুমের স্কোর একটু কম হলেই দুশ্চিন্তা, নির্দিষ্ট সংখ্যক পদক্ষেপ পূরণ না হলে অপরাধবোধ কিংবা প্রতিদিনের ব্যায়ামের লক্ষ্য পূরণ না হলে নিজেকে ব্যর্থ মনে করা – এ ধরনের আচরণ অনেকের জীবনকে আরও চাপপূর্ণ করে তুলতে পারে।

‘আরও ভালো’ হওয়ার চাপ

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে অনেক সময় এমন একটি লক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে আরও ভালো করতে হবে। বেশি ব্যায়াম, আরও নিখুঁত খাবার, আরও ভালো ঘুম, আরও বেশি উৎপাদনশীলতা- সবকিছুতেই যেন সর্বোচ্চ ফল পাওয়ার চেষ্টা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ম্যাক্সিং’ সংস্কৃতি এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘হেলথ-ম্যাক্সিং’-এর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য অতিরিক্ত বা প্রমাণভিত্তিক নয় এমন কিছু পদ্ধতিও অনুসরণ করা হতে পারে।

স্মার্টওয়াচ কি সবসময় স্মার্ট সিদ্ধান্ত দেয়?

স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বা ওয়্যারেবল অবশ্যই উপকারী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি তথ্য থেকে নিজের শারীরিক অবস্থার কিছু পরিবর্তন বোঝা যায়। তবে একটি দিনের কোনো একটি স্কোর বা রিডিংকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ওয়্যারেবলের তথ্যকে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অংশ হিসেবে দেখা, পুরো স্বাস্থ্য নির্ধারণের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে নয়।

২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও দেখা গেছে, ওয়্যারেবল থেকে পাওয়া স্বাস্থ্য-তথ্য একা ব্যবহার করে উদ্বেগ নির্ধারণ করা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। গবেষকেরা বরং এসব তথ্যের সঙ্গে ব্যক্তির নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল তথ্য মিলিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ঘুম নিয়েও বাড়ছে অতিরিক্ত চিন্তা

ভালো ঘুমের জন্য ঘুমের সময় ও মান পর্যবেক্ষণ করা উপকারী হতে পারে। কিন্তু ঘুমের প্রতিটি পর্যায়, স্কোর কিংবা ‘রিকভারি’ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে ঘুম নিজেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অর্থাৎ, ঘুমানোর উদ্দেশ্য যদি বিশ্রাম নেওয়া হয়, তাহলে ঘুমের স্কোর ঠিক রাখার চাপ যেন সেই বিশ্রামকেই নষ্ট না করে-সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

তাহলে কি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছেড়ে দিতে হবে?

একেবারেই নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের মূল কথা হলো ভারসাম্য। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-এসবকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের একটি সাম্প্রতিক জরিপেও চরম ধরনের ‘বায়োহ্যাকিং’ বা দীর্ঘায়ু বাড়ানোর কঠিন কৌশলের বদলে মানুষ ছোট, বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা যায়-এমন অভ্যাসের দিকে বেশি ঝুঁকছে বলে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য মানেই নিখুঁত হওয়া নয়

দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতে না পারলেও আপনি ব্যর্থ নন। একদিন ব্যায়াম না করলেও পুরো রুটিন নষ্ট হয়ে যায় না। কোনো রাতে ঘুমের স্কোর খারাপ এলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক ও উপভোগ্য করা-জীবনকে আরও একটি পরীক্ষায় পরিণত করা নয়।

সাম্প্রতিক ‘ওয়েলনেস অপটিমাইজেশন’ নিয়ে আলোচনাও শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নই সামনে আনছে-সুস্থ থাকার জন্য আমরা প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করছি, নাকি শেষ পর্যন্ত তথ্যের পেছনেই ছুটে নিজেদের ওপর আরও চাপ তৈরি করছি?

কালের আলো/এসএ