প্রতিদিনের ব্যস্ততায় নিজের জন্য সময় বের করার সহজ কৌশল
কাজ, পড়াশোনা, পরিবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব মিলিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময়ই কেটে যায় নানা ব্যস্ততায়। দিনের শেষে অনেকেরই মনে হয়, নিজের জন্য আলাদা করে একটুও সময় বের করা হলো না। অথচ মানসিক স্বস্তি ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ততার মধ্যেও একটু পরিকল্পনা করলেই এই সময় বের করা সম্ভব।
দিনের শুরুতেই নিজের সময় ঠিক করুন
নিজের জন্য সময় বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেটি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা। সকালে ঘুম থেকে উঠে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুধু নিজের জন্য রাখা যেতে পারে। এ সময় বই পড়া, গান শোনা, হাঁটা কিংবা চুপচাপ বসে থাকার মতো কাজ করা যায়।
অপ্রয়োজনীয় কাজের তালিকা ছোট করুন
দিনের সব কাজ সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোন কাজ এখনই করা জরুরি আর কোনটি পরে করলেও সমস্যা নেই—সেটি আলাদা করে নিন। অপ্রয়োজনীয় কাজ কমাতে পারলে দিনের মধ্যে বেশ কিছুটা সময় বেঁচে যায়।
ফোন থেকে দূরে থাকুন
অনেক সময় নিজের জন্য সময় বের করেও আমরা তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটিয়ে দিই। তাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং অল্প সময়েও নিজের পছন্দের কাজ করা সম্ভব হয়।
ছোট বিরতিকেও কাজে লাগান
নিজের জন্য সময় মানেই এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় দরকার—এমন নয়। কাজের ফাঁকে ১০ মিনিটের বিরতিও কাজে লাগানো যায়। এক কাপ চা পান করা, একটু হাঁটা, পছন্দের গান শোনা বা চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়াও মানসিকভাবে সতেজ করতে পারে।
সপ্তাহে একটি ‘নিজের দিন’ রাখুন
সপ্তাহের কোনো একটি দিন বা দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা নিজের পছন্দের কাজের জন্য রাখা যেতে পারে। সে সময় ঘোরাঘুরি, সিনেমা দেখা, বই পড়া, রান্না করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো কাজ করা যায়।
সব দায়িত্ব একা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না
পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে সব কাজ নিজের ওপর নেওয়ার অভ্যাস থাকলে নিজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্ভব হলে কিছু দায়িত্ব অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। এতে কাজের চাপ কমবে এবং নিজের জন্য সময় পাওয়া সহজ হবে।
ঘুমের সময়কে গুরুত্ব দিন
নিজের যত্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম। রাত জেগে অন্য কাজ শেষ করার বদলে ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা ভালো। ঘুমের আগে কিছুক্ষণ ফোন বা কাজ থেকে দূরে থাকলেও মন শান্ত হতে পারে।
নিজের জন্য সময় মানে অপরাধবোধ নয়
অনেকেই নিজের জন্য সময় কাটালে মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ যাচ্ছে। কিন্তু সবসময় কাজের মধ্যে থাকলে ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করাকে সময়ের অপচয় না ভেবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
দিনের ব্যস্ততা পুরোপুরি কমানো সম্ভব না হলেও কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট কমানো এবং ছোট ছোট বিরতি কাজে লাগানোর মাধ্যমে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা সম্ভব। বড় পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা না করে প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array