খুঁজুন
                               
, ,
           

পিরিয়ড নারীর কোনো অজুহাত হতে পারে না: শ্রীলীলা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
পিরিয়ড নারীর কোনো অজুহাত হতে পারে না: শ্রীলীলা

সৌন্দর্য ও অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দক্ষিণের গণ্ডি ছাড়িয়েছেন শ্রীলীলা। তবে শুধু যে প্রশংসাই পাচ্ছেন তা কিন্তু না। হয়েছেন কটাক্ষের শিকার। নারীর ঋতুস্রাব নিয়ে কথা বলে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

শ্রীলীলাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী মোকাবিলা করেছেন এবং একজন নারী হিসেবে তা থেকে কীভাবে বেরিয়ে এসেছেন। উত্তরে তিনি বলেন, ‘পিরিয়ড নারীর জন্য কোনো অজুহাত হতে পারে না।’

ওস্তাদ ভগৎ সিং-এর সাফল্য পার্টিতে শ্রীলীলা বলেন, ‘সব গান বা বেশিরভাগ গানই পছন্দ করা হয়েছে। আমি আমার পিরিয়ডের সময়ে শুটিং করেছি, তাই পিরিয়ড কোনোভাবেই অজুহাত হতে পারে না। যখন আমরা অধিকার চাই, তখন বলি যে আমাদের সমানভাবে জিনিসগুলো পাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে, আমাদের শারীরিক বাধা অতিক্রম করে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন যে এটি মানসিক বা শারীরিক যাই হোক না কেন, এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না।

তবে শ্রীলীলার কথা হজম করতে কষ্ট হয়েছে অনেকের। তারা সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করছেন অভিনেত্রীকে। কারও কথায়, ‘একজন ডাক্তার হয়েও তিনি এটিকে স্বাভাবিক বলছেন, এটা অবাক করার মতো। প্রতিটি শরীরের জন্য পিরিয়ডের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হয়।’

অন্য এক নেটিজেন বলেন, ‘হাঁপানি রোগীর ক্ষেত্রে তিনি হয়তো বলবেন, জোরে শ্বাস নাও, কারণ বাতাস তো অনেক আছে।’ আরেকজন বলেন, ‘শ্রীলীলার পিরিয়ডের সময় যদি শক্তি থাকে, তার মানে এই নয় যে অন্য নারীদেরও একই রকম হবে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

তেলবাহী জাহাজের প্রকল্প বাদ, একনেকে অনুমোদন পেল ১০ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
তেলবাহী জাহাজের প্রকল্প বাদ, একনেকে অনুমোদন পেল ১০ প্রকল্প

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনার প্রকল্পটি বাদ দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ের দুটি তেলবাহী জাহাজ কেনার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য, নৌপরিবহন, সড়ক, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনীও রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর।

দেশের ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ২০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে ১১৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষায় ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণে ৫৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়া ঢাকার গোড়ানচটবাড়ী রিটেনশন পন্ড ও তুরাগ নদীর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে ৫৬৭ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৪২ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ৪২৪ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদি এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ৪৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব ছিল।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১০১ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে। এতে ৬২৭ কোটি ২৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ২ হাজার ৮৯৯ কোটি ৭১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি প্রকল্পটির মেয়াদ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জন্য ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়নি। ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর, গতি বাড়বে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর, গতি বাড়বে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে

বদলে যাচ্ছে দেশের অর্থবছরের সময়কাল। দীর্ঘদিনের জুলাই-জুন কাঠামো থেকে বেরিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হবে এপ্রিল মাসে, শেষ হবে পরের বছরের মার্চে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত শুধু বাজেট প্রণয়ন ও হিসাবের সময়কালই বদলাবে না; উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর ব্যবস্থাপনা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পরিকল্পনা এবং মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাবেও এর প্রভাব পড়বে।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ ব্যবস্থায় ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে রূপান্তরমূলক বছর। এই অর্থবছরের মেয়াদ হবে মাত্র ৯ মাস। এরপর ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে নতুন কাঠামোয় পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর শুরু হবে, যা শেষ হবে ২০২৯ সালের মার্চে। অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকেই এপ্রিল-মার্চ সময়কাল কার্যকরভাবে চালু হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পে মিলবে অনুকূল সময়
অর্থবছর পরিবর্তনের পেছনে সরকারের অন্যতম প্রধান যুক্তি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা। বর্তমানে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই, যখন দেশে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়। ফলে অর্থবছরের প্রথম দিকেই রাস্তা, সেতু, ড্রেন, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজে আবহাওয়াজনিত বাধা তৈরি হয়। এতে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়, বাড়ে সময় ও ব্যয়; অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

নতুন এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। এপ্রিল মাসে অর্থবছর শুরু হওয়ায় প্রথম তিন মাস—এপ্রিল, মে ও জুন—তুলনামূলক শুষ্ক সময়ে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আবার নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের শেষ পাঁচ মাসও মূলত শুষ্ক মৌসুম। ফলে অর্থবছরের বড় একটি অংশেই অবকাঠামো নির্মাণের অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে সড়ক, সেতু, ভবন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো প্রকল্পে এর সুফল মিলতে পারে। বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ বা ধীরগতির হওয়ার ঝুঁকি কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনাও তুলনামূলক সহজ হবে।

কমতে পারে জুনের তাড়াহুড়া
বর্তমান অর্থবছরের অন্যতম বড় সমস্যা অর্থবছরের শেষ সময়ে উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে জুন মাসে বরাদ্দের অর্থ খরচ দেখাতে অনেক প্রকল্পে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার প্রবণতা দেখা যায়। ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কাজ শেষ করে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবছরই ওঠে।

বর্ষাকালে, বিশেষ করে জুনে, সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করার কারণে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থাকে। নতুন অর্থবছরে এই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে। কারণ মার্চে অর্থবছর শেষ হবে, আর তখনও দেশের বড় অংশে থাকবে শুষ্ক মৌসুম। ফলে অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির মধ্যে কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বদলাবে করের হিসাবও
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। করবর্ষ ও অর্থবছর এক হওয়ায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর হিসাবের সময়কালও বদলে যাবে। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত আয়ের ওপর ভিত্তি করে আয়কর হিসাব করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় এপ্রিল থেকে পরের বছরের মার্চ পর্যন্ত আয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসবে। নতুন কাঠামোয় ১ এপ্রিল থেকে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এ ছাড়া বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াত নেওয়া এবং কর-সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধার সময়কালও পরিবর্তিত হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সে অনুযায়ী নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

বদলাবে অর্থনৈতিক হিসাবের কাঠামো
সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), শুল্ক-কর, বিনিয়োগ, দেশি-বিদেশি ঋণ ও দায়দেনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসানের হিসাবও অর্থবছরকে কেন্দ্র করে করা হয়। তাই নতুন সময়কাল কার্যকর হলে এসব হিসাবের সময়সীমাতেও সমন্বয় করতে হবে। সরকারি পরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়নের সূচি যেমন বদলাবে, তেমনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে।

ইতিহাসেও আছে এপ্রিল-মার্চের নজির
বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসেও এপ্রিল মাসে অর্থবছর শুরুর নজির রয়েছে। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আহরণের সুবিধার জন্য বাংলা নববর্ষ চালুর সঙ্গে এপ্রিলভিত্তিক অর্থবর্ষ গণনার প্রচলন হয়। উপনিবেশ আমলেও এপ্রিল-মার্চ সময়কাল অর্থবছর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্কটিশ অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন ভারতের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। দেশভাগের আগ পর্যন্ত এপ্রিলভিত্তিক অর্থবছরের এ ব্যবস্থা চালু ছিল।

১৯৪৭ সালের পর ভারত এপ্রিল-মার্চ সময়কালই ধরে রাখে। অন্যদিকে পাকিস্তান পঞ্চাশের দশকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে জুলাই-জুন করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশও পাকিস্তানের সেই কাঠামো বহাল রাখে।দীর্ঘ সময় পর আবার এপ্রিল-মার্চে ফেরার সিদ্ধান্ত তাই কেবল হিসাবের সময়কাল পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা, কর ব্যবস্থাপনা এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনার নতুন কাঠামো। সরকারের প্রত্যাশা, সময়ের এই পরিবর্তনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে এবং অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের ব্যয়ের চাপ ও অপচয় কমবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন সংসদে প্রচার চালানো যাবে না: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন সংসদে প্রচার চালানো যাবে না: সিইসি

আগামীকাল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে। তবে ভোটগ্রহণকালে সংসদ অধিবেশন কক্ষে কোনো প্রচার চালানো যাবে না বলে জানিয়েছেন ‘নির্বাচনি কর্তা’ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ভোটগ্রহণকালে সংসদ অধিবেশনে কক্ষে ভোটের প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বিষয়ে সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা সীমিত। তারপরও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, সব অংশীজনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে আত্মবিশ্বাসী।

দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় ঐতিহাসিক নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি।

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

২৪ জুলাই ২২-তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদিকে, সংসদদের বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ