খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

রাজশাহীতে তেলের পাম্পে মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের থাবা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে তেলের পাম্পে মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের থাবা

জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে গড়ে উঠেছে চার শতাধিক সদস্যের একটি শক্তিশালী মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগরীতে মোট ৪৪টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব পাম্প থেকে তেল সংগ্রহে সিন্ডিকেট সদস্যরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। কখন কোন পাম্পে তেল সরবরাহ হবে, সে তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করে তারা। তেল দেওয়ার আগের দিন থেকেই পাম্পের ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০টি মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল দখল করে নেয়। এতে সহযোগিতা করছেন পাম্পের কিছু নৈশ প্রহরী ও স্থানীয় যুবকরা।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা পাম্প কর্মচারীদের উৎকোচ দিয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ তেল নিচ্ছেন। পরে সেই তেল বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকে। তবে এসব মোটরসাইকেলের মালিকদের অধিকাংশই সেখানে উপস্থিত থাকেন না। তারা মোটরসাইকেল রেখে বাসায় চলে যান। পাম্পের নৈশ প্রহরী ও স্থানীয় যুবকরাই এসব মোটরসাইকেল দেখাশোনা করেন।

শালবাগান এলাকার ইমাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি পাম্পের ভেতরে তিনটি মোটরসাইকেল রেখে গেছেন এবং এ কাজে স্থানীয় যুবকদের সহায়তা পেয়েছেন। পাম্পের কর্মচারীরাও স্বীকার করেছেন, শতাধিক মোটরসাইকেল স্থানীয় যুবকরাই পাম্পে রেখে দেন।

তেল নিতে আসা আলমগীর কবির বলেন, “আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। রাত ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে ২৫০ টাকা লিটার দামে পেট্রোল কিনতে হয়েছে।”

পবা উপজেলার নওহাটার রুচিতা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পাম্পের ভেতরে শতাধিক মোটরসাইকেল রাখা হয় এবং প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য নৈশ প্রহরীকে ৫০ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতিদিন একাধিক পাম্প থেকে ট্যাংক ভর্তি করে তেল সংগ্রহ করে বাইরে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার দামে বিক্রি করছেন।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। তানোর, পুঠিয়া, বাগমারা ও গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেট সদস্যরা একই কৌশলে তেল সংগ্রহ করছেন।

বাগমারা সদরের নাজিম আলম জানান, “মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে তিনি স্থানীয় বাজার থেকে ৩০০ টাকা লিটার দামে পেট্রোল কিনতে বাধ্য হয়েছেন।”

স্কুল শিক্ষক জাফর ইকবাল বলেন,”তেল নেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি পাম্পে আগেরদিন রাত থেকে দীর্ঘ লাইন হচ্ছে। এতে করে একজন চাকুরিজীবীর পক্ষে এতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই অচিরেই নগরীর সকল পাম্পে এ্যাপস ভিত্তিক তেল বিতরণ করা প্রয়োজন অথবা চাকুরিজীবীদের জন্য আলাদা পাম্প বা সময় নির্ধারণ করে দেয়া উচিত।”

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেন, “পাম্প মালিকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কর্মচারী বা নৈশ প্রহরীরা সুবিধা নিতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”

কালের আলো/এম/এএইচ

পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
পাবনায় কিশোরীকে ধষর্ণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে নিহত ৩

পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন  দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

Oplus_131072

অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় তুলে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা নূরুল আফসার দীপু এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বা বিষয় বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষা সংস্কার এবং শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। তবে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে অনার্স শিক্ষা বন্ধ করার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি।

নূরুল আফসার দীপু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কার এবং কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে ওই সংস্কার পরিকল্পনার কোথাও অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস বা দর্শন বিষয় বাতিলের কোনো ঘোষণা বা প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

কালের আলো/এসএকে

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে মহাসড়কের নিমসার সবজি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি মো. আবদুল মমিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়নামতি হাইওয়ে থানার একটি টহল দল মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে চলাচলরত কয়েকটি অবৈধ থ্রি-হুইলার আটক করে।

এ সময় থ্রি-হুইলার চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।

ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ওসি মো. আবদুল মমিন জানান, অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের পর ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পিটিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি