খুঁজুন
                               
, ,
           

ফুলবাড়ীয়ায় জ্বালানী তেল মজুদবিরোধী অভিযান, যুবককে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়ীয়ায় জ্বালানী তেল মজুদবিরোধী অভিযান, যুবককে জরিমানা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দশমাইল বাজারে জ্বালানী তেল মজুদ ও কালোবাজারী প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বালাশ্বর গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন (২১)-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানী তেল মজুদ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ তাকি তাজওয়ারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামুনের কাছ থেকে ২০ লিটার পেট্রোল ও ১০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং অনাদায়ে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ তাকি তাজওয়ার বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানী তেল মজুদ ও কালোবাজারী রোধে প্রশাসন সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে, তবে বিষয়টি যাচাই সাপেক্ষ।

প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা-সিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা-সিম

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৫ জন, লালবাগে ৩৪, ওয়ারীতে ৬৩, মতিঝিলে ৭৪, তেজগাঁওয়ে ১০২, মিরপুরে ৮০, গুলশানে ৩৫, উত্তরা বিভাগে ৪১, গোয়েন্দা বিভাগে ৯ এবং সিটিটিসির অভিযানে একজন রয়েছেন।

অভিযানকালে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৩০ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৭ হাজার ৭০১টি ইয়াবা ও ৬২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুটি মোটরসাইকেল, দুটি সুইচগিয়ার, নগদ ৬ হাজার ৬১০ টাকা, একটি ল্যাপটপ, ১৩টি মোবাইল ফোন এবং ১৮ হাজার ৭৭টি বাংলালিংক, ১ হাজার ২৬২টি রবি, ৭০০টি গ্রামীণফোন ও ১৫০টি এয়ারটেল সিম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে আরও ৭৯৮টি সিমসহ ১০টি ভিওআইপি মেশিন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে উদ্ধার করা আলামত ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দুই বছরেও হয়নি সড়ক, খালের মাঝখানে পরিত্যক্ত ৮ কালভার্ট

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
দুই বছরেও হয়নি সড়ক, খালের মাঝখানে পরিত্যক্ত ৮ কালভার্ট

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচর এলাকার গাবতলী খালে নির্মিত আটটি কালভার্ট এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কালভার্টগুলোর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন গাবতলী খালের বিভিন্ন স্থানে কালভার্টগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কালভার্টের দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। স্থানীয়রা বিকল্প সড়ক তৈরি করে চলাচল করায় কালভার্টগুলো এখন আর ব্যবহার হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর জোয়ারের স্রোত এবং ২০২৪ সালের বন্যায় কালভার্টগুলোর দুই পাশের সড়ক ভেঙে যায়। পরে সড়কগুলো খালের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় কালভার্টগুলো কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় গাবতলী খালের বিভিন্ন স্থানে আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি কালভার্ট নির্মাণে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর এসব কালভার্ট স্থানীয় মানুষের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন একটি কালভার্টের পশ্চিম পাশে মোহাম্মদপুর এবং পূর্ব পাশে ডাকাইয়া গ্রাম। এ দুই গ্রামসহ আশপাশের আরও পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ তেগাছিয়া বাজার, টাঙ্কি বাজার, ব্রিজঘাট ও রামগতি বাজারে যাতায়াতের জন্য কালভার্টগুলো ব্যবহার করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, কালভার্টগুলো একসময় মানুষ ব্যবহার করলেও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে আছে। এখন খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কালভার্টগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক বাসিন্দা মো. বাবলু বলেন, কালভার্টগুলো এখন মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির স্রোত কালভার্টে ধাক্কা খেয়ে আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত এগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ‘কালভার্টগুলো মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এগুলো এখন আমাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার।’

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরিত্যক্ত কালভার্টগুলো নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চার লেনের কাজ শেষ, মহাসড়কে দেখা দিয়েছে ফাটল-ভাঙন

সিংড়া(নাটোর)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
চার লেনের কাজ শেষ, মহাসড়কে দেখা দিয়েছে ফাটল-ভাঙন

উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের কিনারার মাটি সরে গিয়ে কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে পড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে যানবাহন চলাচল। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন এ পথে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। এর আওতায় শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলতি বছর শেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় দুটি সেতুর কাজ এখনো চলমান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের চৌগ্রাম এলাকার একাধিক স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের নিচের মাটি ও পাথর সরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৫টি স্থানে ভাঙনের চিহ্ন দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও আবার সড়কের পোল উল্টে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছেন অল্প কয়েক দিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচল নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।

কালের আলো/এমএসআইপি