আত্মবিশ্বাসের শক্তিতেই এসএসসি’র ভয় ‘জয়’ পরীক্ষার্থীদের
কারও কারও বুক ধুকপুক করে পরীক্ষার নাম শুনলেই। কারও হাত ঘামে, মাথা ঝিমঝিম করে। কেউ আবার কিছুই না বুঝেই ভয়ে কেঁদে ফেলে। এটাই পরীক্ষার চিরায়ত একটি ভীতি। তবে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বাস্তবতা আরও ভিন্ন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন খালেদা জিয়ার সরকারে নকল বিরোধী কর্মকাণ্ডে দেশজুড়ে সাড়া ফেলা আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্দেশনা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ভয়-আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগের দিনই সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার্থীদের ভয় মুক্ত থেকে হাসিমুখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আত্মবিশ্বাসের শক্তিতেই পরীক্ষার ভয় জয় করলেন পরীক্ষার্থীরা। এসএসসির প্রথম দিন শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন পরীক্ষার্থীরা।
প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী। তারা পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি। এ ছাড়া প্রথম দিনে অসদুপায়ের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছে ছয় পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে চারজন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের, একজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আরেকজন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন। এসএসসি পরীক্ষা দেখতে ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জ মিলিয়ে পাঁচটি কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরিদর্শনের সময় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি পাঁচ কেন্দ্র পরিদর্শনের চিত্র তুলে ধরেন। জানিয়েছেন, কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আদৌ কোনো আশঙ্কা নেই এবং হয়নিও।
জানা যায়, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গতবারের তুলনায় এবার ৭৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। গতবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা। অবশ্য প্রথম দিনে সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা থাকে না। কারণ, অনিয়মিত অনেক পরীক্ষার্থী আছে, যারা এক, দুই বা তিন বিষয়ে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা শেষে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৯০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ২১১ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩০৭ জন।
গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এই পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২৬ হাজার ৯২৮ পরীক্ষার্থী। তার আগের বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৩৫৯ পরীক্ষার্থী। গতবার অনুপস্থিত থাকার কারণ চেষ্টা করেছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তাদের বোর্ডে গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। প্রাপ্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী ১ হাজার ২০৩ জনের তথ্য বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশের (৪৮১) বিয়ে হয়েছিল। এ ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কারণে। অন্যরা অসুস্থতা, প্রস্তুতি ভালো না থাকাসহ নানা কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
বিকেলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছিল এমন পাঁচটি কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র। তিনি বলেন, এখানে এক ছাত্র আরেকজন ছাত্রের খাতা দেখছিল। শিক্ষক সামান্য অমনোযোগী ছিলেন। সাবধান করে দিয়েছি। এ বিষয়ে সাবধান হতে ম্যাজিস্ট্রেটকেও বলেছি। মানিকগঞ্জের আরেকটি কেন্দ্র পরিদর্শনের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এই পরীক্ষা কেন্দ্রে সুন্দর পরীক্ষা হচ্ছে। অভিভাবকেরা অত্যন্ত সহনশীল। পরিদর্শন করা আরেকটি কেন্দ্র হলো সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চবিদ্যালয়। তিনি বলেন, সেখানেও খুব সুন্দর পরিবেশ। এরপর আমিনবাজার এলাকার আরেকটি কেন্দ্র পরিদর্শনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন এখানেও সুন্দর পরিবেশ। শিক্ষামন্ত্রী সর্বশেষ মিরপুরের পাইকপাড়ার মডেল একাডেমি স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানেও দেখলাম খুব সুন্দর পরীক্ষা হচ্ছে।’
কালের আলো/এম/এএইচ







আপনার মতামত লিখুন
Array