কড়াইলবাসী হোল্ডিং নম্বর চায় না: রাজউক চেয়ারম্যান
রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা আধুনিক হোল্ডিং নম্বর বা নতুন আবাসন ব্যবস্থায় যেতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তার ভাষায়, তারা এখন যেভাবে বসবাস করছেন, সেভাবেই থাকতে চান এবং নিজেদের বাড়ির পরিচিতিও রাখতে চান পুরনো ঢঙে‘অমুকের বাপের বাড়ি’বা ‘অমুকের বাড়ি’ হিসেবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) গুলশানের হোটেল রেনেসাঁসে আয়োজিত ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে? সমাধানে করণীয়’শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
রাজউক চেয়ারম্যান জানান, সম্প্রতি কড়াইল বস্তি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সেখানে বাসিন্দাদের নতুনভাবে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ অবস্থায় তিনি বলেন, এসব এলাকায় মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনে সচেতনতা ও মোটিভেশন জরুরি। ঢাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় রাজউক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ছুটির দিনেও প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজ তদারকি করতে হচ্ছে, যা উন্নয়নের ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঢাকার জনসংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
যানজট নিরসনে রাজউকের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে অবৈধভাবে দখল করা ভবনের পার্কিং স্পেস উদ্ধারেই জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৮০ থেকে ১০০ ফুট প্রশস্ত সড়কের পাশে নতুন বাণিজ্যিক অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবেশ দূষণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়
অনীহা দেখা যায়। অনেকেই স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন না করে সরাসরি বর্জ্য নদী-লেকে ফেলছেন। এ বিষয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঢাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা এখনো মৃত নগরী হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা ও নাগরিক সচেতনতা থাকলে এটি অচিরেই একটি বাসযোগ্য ও স্বপ্নের নগরীতে পরিণত হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিরা আলোচনায় অংশ নেন।
কালের আলো/এসআর/এএএন


আপনার মতামত লিখুন
Array