খুঁজুন
                               
, ,
           

বজ্রপাতে মৃত্যুরোধে নেই কার্যকর পদক্ষেপ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
বজ্রপাতে মৃত্যুরোধে নেই কার্যকর পদক্ষেপ

বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে অসংখ্য মানুষ মারা যান। বিশেষ করে বর্ষার আগমনী মৌসুমে—বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের তীব্রতা ও বিস্তার বাড়ছে। বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ গ্রামীণ কৃষক ও শ্রমজীবী, যারা মাঠে কাজ করতে গিয়ে বা খোলা জায়গায় অবস্থান করে প্রাণ হারান। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি সামান্য সচেতনতাই পারে এসব প্রাণঘাতী ঘটনা রোধ করতে।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্ট্রোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএএফ) জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই পর্যন্ত ৩২ জন মারা গিয়েছেন। এর আগের বছরগুলো হিসাব করলে ২০১৯ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৮১ জন মারা গেছেন। এর আগে ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে মারা গেছেন ৩৩০ জন। ২০২৪ সালে ২৯৭ জন, ২০২৩ সালে ২৪৫ জন, ২০২২ সালে ২৭৭, ২০২১ সালে ৩০৫, ২০২০ সালে ২৩০ এবং ২০১৯ সালে ২৬৫ জন মারা গেছেন। তাঁরা জানান, সাধারণত বছরের এই সময়ে অর্থাৎ মার্চ ও এপ্রিল মাসে বজ্রপাতে মারা যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। আমরা এই বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য এলাকায়-এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সচেতন করি। বজ্রপাত হলে কৃষকেরা কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখবেন সেই কৌশল জানাতে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করি। কৃষকদের উদ্দেশে দেওয়া পরামর্শ ও নির্দেশনাগুলোর মধ্যে আছে, ঝড়-বৃষ্টির সময় কোনোভাবেই খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভেজা ও গাছের নিচে থাকা যাবে না, ফসলের মাঠ, নদী-নালা, পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে থাকলে দ্রুত আশপাশের কোনও দালান কিংবা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, বৃষ্টির সময় ছেলে-মেয়েদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেদেরও বিরত থাকতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর) টাকা দিয়ে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও বজ্রনিরোধক যন্ত্র (লাইটেনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন করা হয়েছে। বলতে গেলে এ পদক্ষেপ কাজে আসেনি। এতে অনিয়ম-দুর্নীতি তো ছিলই। বজ্রপাত ঠেকাতে তালগাছ রোপণের কর্মসূচিও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বাতিল করা হয়। এছাড়া বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কয়েক দফা প্রকল্প নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। টিআর নীতিমালা সংশোধন করে বজ্রপাত থেকে প্রাণহানি রোধে ১৫টি জেলায় ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড, বজ্রনিরোধক যন্ত্র (লাইটনিং অ্যারেস্টার)’ স্থাপনে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। টাকা খরচ দেখানো হলেও অনেক জায়গায় বসেনি কোনো বজ্র নিরোধক দণ্ড ও বজ্রনিরোধক যন্ত্র। এ নিয়ে বহু চিঠি চালাচালি ও তদন্তও করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জেলায় ৩৪৩টি বজ্রনিরোধক দণ্ড ও বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্মৃতিসৌধে স্যালুট দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
স্মৃতিসৌধে স্যালুট দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে রোববার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

সেখানে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে দাঁড়ানো অবস্থায় শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট দেন ইশরাক হোসেন, যা নিয়ে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করছেন।

এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।

শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশ আমার গণতান্ত্রিক; আমার ইচ্ছায় আমি স্যালুট দিয়েছি। যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাব।

রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘আমার বাবা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এ বিষয়টি নিয়ে মুখরোচক আলোচনা বা তামাশা করার মানসিকতাই অস্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা উঠলে শ্রদ্ধায় আমার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্যালুটে উঠে যায়। আমার হাত দিয়ে আমি বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট দিয়েছি। হাত আমার, সম্মান জানিয়েছি সর্বজনশ্রদ্ধেয় বীরদের। দেশ আমার গণতান্ত্রিক; আমার ইচ্ছায় আমি স্যালুট দিয়েছি। যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাব।

ইশরাক হোসেন লিখেছেন, আমাদের দেশের কিছু মানুষের এতটা সংবেদনহীন হওয়া সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। অসম্মান করলে বাহবা পাওয়া যায়, আর সম্মান জানালে সেটিকে নিয়ে তামাশা করা হয়। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

এবার পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
এবার পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পালটা হামলা চালানো বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে ইরান।

ইরান জানিয়েছে, তারাও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রেখেছে। খবর আল-জাজিরার।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে আলোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করলেও তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন।

এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না।

ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

Oplus_131072

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান তার সঙ্গে ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের এই মামলায় বর্তমানে ৯ জন আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

তদন্ত সংস্থার বরাতে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় ১ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে