খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ক্ষমতাসীনরা সব শর্ত মেনে নিয়ে এখন বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
ক্ষমতাসীনরা সব শর্ত মেনে নিয়ে এখন বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না: হাসনাত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীনরা তখন যেসব শর্ত ও প্রস্তাব সামনে এসেছিল, সেগুলোই বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যেকোনোভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা; সে কারণে তখনকার সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারের অঙ্গীকার এখন আর বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘ নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যত করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেশনটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন ‘জাতীয় অর্থনীতি’ পত্রিকার সম্পাদক ইসমাইল আলী, ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি ইকনমিকস অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য উনারা তখন যা বলেছে, সেটা মেনে নিয়েছে। মানে যা বলা হয়েছে, সবই মেনে নিয়েছে—শুধুমাত্র নির্বাচনটা যেন হয়ে যায়। এটি এক ধরনের রাজনৈতিক ভণ্ডামির উদাহরণ, যেখানে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপস করা হলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জ্বালানি খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ডিজেলসহ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী কাজ করে। অনেক আমলা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন এবং নীতিনির্ধারণে নিজেদের স্বার্থ প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, সব আমলাই এমন নন; অনেকেই দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন। তবে একটি অংশের কারণে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে নির্ভরতা কমাতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, অন্তত ৭ থেকে ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা অনেক সহজ হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, বর্তমানে সরকারের ভেতরে একাধিক শক্তিকেন্দ্র রয়েছে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে। আগে অন্তত বোঝা যেত শেষ সিদ্ধান্তটা কে নেয়, এখন মনে হয় সরকারে সরকারের ভেতরেই একাধিক সরকার আছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে সরকারের ব্যর্থতার দায় প্রধানমন্ত্রীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অন্যদের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তার মতে, সরকারের আশপাশে এমন কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সরকারকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তার বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একইভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তাদের পেশাগত সুরক্ষা ও স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পুলিশ সদস্যদের পোস্টিং, পদোন্নতি ও বদলি এখনো রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে আসেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে স্বাধীনতা থাকলেও বাস্তবে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এতে করে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং বিচার বিভাগ পূর্ণ স্বাধীনতা পায় না।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বড় একটি অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। এতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। যারা ভোট দিয়েছে তারাও এখন নিজেদের চিটেড ফিল করছে। কারণ তারা ভেবেছিল পরিবর্তন আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শুধু সংসদের ভেতরে নয়, সংসদের বাইরেও সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজকে আরও সংগঠিত হতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হবে না এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরের উদ্দেশ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

সিলেটে পৌঁছেই সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

এছাড়া বিকেলে শ্রীমঙ্গলের দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচি শেষে বিকেল পৌনে ৬টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টায় বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট ও মৌলভীবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ও সড়কপথের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়েছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত ২ মে প্রথমবার সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তবে এবারের সফরে সিলেট জেলায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি। পুরো সফরসূচিই রয়েছে মৌলভীবাজারকে ঘিরে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ