খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্ষমতাসীনরা সব শর্ত মেনে নিয়ে এখন বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
ক্ষমতাসীনরা সব শর্ত মেনে নিয়ে এখন বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না: হাসনাত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীনরা তখন যেসব শর্ত ও প্রস্তাব সামনে এসেছিল, সেগুলোই বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যেকোনোভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা; সে কারণে তখনকার সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারের অঙ্গীকার এখন আর বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘ নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যত করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেশনটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন ‘জাতীয় অর্থনীতি’ পত্রিকার সম্পাদক ইসমাইল আলী, ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি ইকনমিকস অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য উনারা তখন যা বলেছে, সেটা মেনে নিয়েছে। মানে যা বলা হয়েছে, সবই মেনে নিয়েছে—শুধুমাত্র নির্বাচনটা যেন হয়ে যায়। এটি এক ধরনের রাজনৈতিক ভণ্ডামির উদাহরণ, যেখানে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপস করা হলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জ্বালানি খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ডিজেলসহ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী কাজ করে। অনেক আমলা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন এবং নীতিনির্ধারণে নিজেদের স্বার্থ প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, সব আমলাই এমন নন; অনেকেই দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন। তবে একটি অংশের কারণে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে নির্ভরতা কমাতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, অন্তত ৭ থেকে ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা অনেক সহজ হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, বর্তমানে সরকারের ভেতরে একাধিক শক্তিকেন্দ্র রয়েছে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে। আগে অন্তত বোঝা যেত শেষ সিদ্ধান্তটা কে নেয়, এখন মনে হয় সরকারে সরকারের ভেতরেই একাধিক সরকার আছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে সরকারের ব্যর্থতার দায় প্রধানমন্ত্রীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অন্যদের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তার মতে, সরকারের আশপাশে এমন কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সরকারকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তার বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একইভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তাদের পেশাগত সুরক্ষা ও স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পুলিশ সদস্যদের পোস্টিং, পদোন্নতি ও বদলি এখনো রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে আসেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে স্বাধীনতা থাকলেও বাস্তবে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এতে করে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং বিচার বিভাগ পূর্ণ স্বাধীনতা পায় না।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বড় একটি অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। এতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। যারা ভোট দিয়েছে তারাও এখন নিজেদের চিটেড ফিল করছে। কারণ তারা ভেবেছিল পরিবর্তন আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শুধু সংসদের ভেতরে নয়, সংসদের বাইরেও সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজকে আরও সংগঠিত হতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হবে না এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৬, মামলা ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৬, মামলা ৫০

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৫০ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৩৫ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ ৩১ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ ১২০ জন, গুলশান বিভাগ ৩২ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ৫ জনকে গ্রেফতার করে।

এসময় তাদের কাছ থেকে ১ কেজি ২১৫ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ২৯০ পিস ইয়াবা, দরজা এবং জানালায় ব্যবহার্য অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের (পুরাতন) টুকরা ১৫টি, চাকু একটি, এন্টিকাটার একটি, মোবাইল ফোন পাঁচটি, মোটর সাইকেল একটি  এবং নগদ ৮ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

সায়েদাবাদ টার্মিনালকে ৪ মাসে কাঁচপুরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সায়েদাবাদ টার্মিনালকে ৪ মাসে কাঁচপুরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টার্মিনালটি সরিয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর নেওয়া হবে।

আগামী চার মাসের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে ‘কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ‘কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড নির্মাণ, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ’ শীর্ষক কাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী যাত্রাবাড়ী (সায়েদাবাদ) টার্মিনাল কাঁচপুরে এবং ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের নির্দশনা দেন। যাত্রাবাড়ী (সায়েদাবাদ) স্থানান্তরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থান চার মাসের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে স্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ১৬ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে এরইমধ্যে প্রস্তাবিত স্থানে ইয়ার্ডের উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত টার্মিনালের শেড, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ঢাকা শহরের প্রধান কয়েকটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের অন্যতম সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল। প্রায় ১০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই টার্মিনালটি যাত্রাবাড়ীর পশ্চিমে অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে নির্মিত সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে প্রায় ১৯০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও দক্ষিণ বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার দূরপাল্লার বাসের যাত্রী ওঠানামা করে এই টার্মিনাল থেকে।

তবে ঢাকায় ঢোকার মুখে অবস্থিত হওয়ায় এই টার্মিনালটির কারণে শহরের আন্তঃনগর পরিবহণ চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ঢাকার রাস্তায় যানজটের একটি বড় কারণ এই টার্মিনাল।

এ কারণে ২০২৩ সালে কাঁচপুরে ১২ বিঘা জমির ওপর ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল ডিএসসিসি। ওই বছরের ৯ আগস্ট ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর আর কোনো অগ্রগতি ছিল না।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে : তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে : তথ্য উপদেষ্টা

আগামী ৫ আগস্টের আগেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জাদুঘরের কিছু চূড়ান্ত কাজ, জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি উদ্বোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।এক সাংবাদিক জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর নিয়ে আলোচনা চলছে।

কিছু চূড়ান্ত কাজ বাকি রয়েছে। জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফর করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীন।

আবার বিভিন্ন পর্যায়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও তুরস্ক সফর করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাওয়া হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে সরকারের দ্বিধা নেই। জাতীয় স্বার্থই এখানে মূল বিবেচ্য।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) রয়েছে। একইসঙ্গে সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন আমরা একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, যা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানির অনুমোদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গার্মেন্টস খাত সচল থাকলে এর সুফল অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি