খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ক্ষমতাসীনরা সব শর্ত মেনে নিয়ে এখন বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
ক্ষমতাসীনরা সব শর্ত মেনে নিয়ে এখন বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না: হাসনাত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীনরা তখন যেসব শর্ত ও প্রস্তাব সামনে এসেছিল, সেগুলোই বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যেকোনোভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা; সে কারণে তখনকার সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারের অঙ্গীকার এখন আর বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘ নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যত করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেশনটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন ‘জাতীয় অর্থনীতি’ পত্রিকার সম্পাদক ইসমাইল আলী, ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি ইকনমিকস অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য উনারা তখন যা বলেছে, সেটা মেনে নিয়েছে। মানে যা বলা হয়েছে, সবই মেনে নিয়েছে—শুধুমাত্র নির্বাচনটা যেন হয়ে যায়। এটি এক ধরনের রাজনৈতিক ভণ্ডামির উদাহরণ, যেখানে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপস করা হলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

জ্বালানি খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ডিজেলসহ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী কাজ করে। অনেক আমলা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন এবং নীতিনির্ধারণে নিজেদের স্বার্থ প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, সব আমলাই এমন নন; অনেকেই দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন। তবে একটি অংশের কারণে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে নির্ভরতা কমাতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, অন্তত ৭ থেকে ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা অনেক সহজ হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, বর্তমানে সরকারের ভেতরে একাধিক শক্তিকেন্দ্র রয়েছে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে। আগে অন্তত বোঝা যেত শেষ সিদ্ধান্তটা কে নেয়, এখন মনে হয় সরকারে সরকারের ভেতরেই একাধিক সরকার আছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে সরকারের ব্যর্থতার দায় প্রধানমন্ত্রীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অন্যদের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তার মতে, সরকারের আশপাশে এমন কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সরকারকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তার বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একইভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তাদের পেশাগত সুরক্ষা ও স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পুলিশ সদস্যদের পোস্টিং, পদোন্নতি ও বদলি এখনো রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে আসেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে স্বাধীনতা থাকলেও বাস্তবে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এতে করে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং বিচার বিভাগ পূর্ণ স্বাধীনতা পায় না।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বড় একটি অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। এতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। যারা ভোট দিয়েছে তারাও এখন নিজেদের চিটেড ফিল করছে। কারণ তারা ভেবেছিল পরিবর্তন আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শুধু সংসদের ভেতরে নয়, সংসদের বাইরেও সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজকে আরও সংগঠিত হতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হবে না এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে

তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং বন্দরগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ২৫ ও ২৬ মে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুপারভাইজারি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট’ (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) তফসিলি ব্যাংকগুলোর সব শাখা ও উপশাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এর পরদিন অর্থাৎ ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত টানা সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

পোশাক শিল্প এলাকায় সীমিত ব্যাংকিং বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ এবং পোশাক খাতের আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান রাখার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ব্যাংক খোলা থাকবে।

ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্পের লেনদেন সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই দুই দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অফিস সময়সূচি হবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং গ্রাহক লেনদেনের সময়সূচি হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

বন্দর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা ও ছুটির দিনেও সেবা দেওয়ার বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়, সমুদ্র, স্থল ও বিমান বন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ে আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে। এছাড়া ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাংকগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন, তারা বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতাদি (অ্যালাউন্স) পাবেন।ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কালের আলো/এসআইপি

গাজার পথে ত্রাণবাহী জাহাজ আটক করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
গাজার পথে ত্রাণবাহী জাহাজ আটক করল ইসরায়েল

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া নৌবহরের অন্তত ১০টি জাহাজ আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে থাকা আরও ২৩টি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বহরটির আয়োজকরা।

সোমবার (১৮ মে) গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের সংগঠনটি এক্সে দেওয়া পোস্টে জানায়, ইসরায়েলি সামরিক জাহাজগুলো তাদের বহরের কাছে পৌঁছে জাহাজে ওঠা শুরু করেছে। তারা দাবি করেছে, এটি ছিল একটি “বৈধ ও অহিংস মানবিক মিশন” এবং নিরাপদে গাজায় পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি জানায়, ৫৪টি জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরে ৩৯টি দেশের মোট ৪২৬ জন অংশ নিয়েছেন। আটক হওয়া জাহাজগুলোর যাত্রীদের মধ্যে অন্তত দুই ডজন তুর্কি নাগরিক রয়েছেন। বহরটি গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৪৬৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, “গাজার বৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার কোনো চেষ্টা ইসরায়েল মেনে নেবে না।” একই সঙ্গে তারা বহরে অংশ নেওয়া সবাইকে দ্রুত ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ তুরস্ক থেকে তৃতীয় দফায় যাত্রা শুরু করে এই সহায়তা বহর। এর আগেও গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি জাহাজ আটক করেছিল।

গত ১২ এপ্রিল স্পেন থেকে যাত্রা করা আগের বহরটির জাহাজও ইসরায়েলি বাহিনী থামিয়ে দেয়। সে সময় শতাধিক ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আরও দুজনকে ইসরায়েলে আটক রাখা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাংলাদেশ ৩৯০ রানে অলআউট, বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিততে হবে পাকিস্তানকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ৩৯০ রানে অলআউট, বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিততে হবে পাকিস্তানকে

মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে শাসন করেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করেছে ৩৯০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ লিড নিয়েছে ৪৩৬ রান। ফলে ৪৩৭ রান করতে হবে পাকিস্তানকে জিততে। রেকর্ড গড়ে না জেতা ছাড়া উপায় নেই সফরকারীদের। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সিলেটে তৃতীয় দিন শেষে ব্যাটার হিসেবে ১৩৭ রান করে আউট হয়েছেন মুশফিক। সাজিদ খানকে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ আব্বাসকে। তিনই আউট হলে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। অন্যপ্রান্তে ০ রানে অপরাজিত ছিলেন নাহিদ রানা।

লিটন দাসের সঙ্গে মুশফিকের জুটি হয় ১২৩ রানের। এই জুটিই ম্যাচের ভিতটা গড়ে দেয়। ৬৯ রানে হাসান আলীর বলে তিনি বিদায় নিলে ২৩৮ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে তাইজুল বেশ ভালো সাপোর্ট দেন মুশফিককে। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২২ রান। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটি হয় ৭২ রানের। ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তাসকিন ৬ ও শরিফুল করেন ১২ রান। তবে একপ্রান্তে অবিচল থাকা মুশফিক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা কি না বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের একক সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির সংখ্যা। টপকে গেছেন ১৩ সেঞ্চুরি মালিক মুমিনুল হককে। ১৩৭ রানের ইনিংসটি মুশফিক সাজিয়েছেন ১২ চার ও এক ছক্কায়।

তৃতীয় দিনের শুরুতে আউট হয়েছেন শান্ত। ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। খুররম শাহজাদের বলে সাজঘরে ফেরেন তিলি লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে। আর প্রথম দিন তানজিদ হাসান তামিম ৪ ও মুমিনুল আউট হন ৩০ রান করে। ওয়ানডে মেজাজে ৫২ রান করে আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পেয়েছেন খুররম শাহজাদ। ৩টি সাজিদ খান, দুটি হাসান আলী ও একটি পেয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস।

কালের আলো/এসআর/এএএন