হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টপাল্টি হামলার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৫ সেন্ট বা ০ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সেশনের শুরুতে উভয় বেঞ্চমার্ক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে এবং তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার ব্যাপারে অগ্রগতির আশা ধূলিসাৎ হয়েছে। এতে তেলের বাজারে অস্তিরতা দেখা যাচ্ছে।
এরআগে গত ৩০ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে এমন খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর ওপর ইরানের হামলার জবাবে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ ইরান আমাদের সঙ্গে ছেলেখেলা করতে গিয়েছিল।’
এই উত্তেজনা এমন এক সময় বাড়ল, যখন মাত্র এক দিন আগেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি প্রস্তাব তারা বিবেচনা করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে ‘বিস্ফোরণের’ খবর দেয়। সেখানে ‘শত্রুপক্ষের’ সঙ্গে ‘গুলিবিনিময়’ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পাল্টাপাল্টি হামলাকে ‘ছেলেখেলা’ আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল আছে বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/এসআর/এএএন
আপনার মতামত লিখুন
Array