খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কোটি মানুষের, কোটি পরিবারের সমৃদ্ধি আসবে: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কোটি মানুষের, কোটি পরিবারের সমৃদ্ধি আসবে: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা  মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের ভেতর ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের কোটি কোটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তারা অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে আরো বেশি ক্ষমতায়িত হবেন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মূখপাত্র বলেন,  শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদান করা না। একদিকে যেমন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব রয়েছে। ঠিক একইভাবে আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতর সুনাগরিকের গুণাবলি যেন গড়ে ওঠে। যেন তারা তাদের মেধা, মন শীলতা এবং সৃজনশীলতার পাশাপাশি ভ্যালিউস এবং প্রিন্সিপালস টাকে ধারণ করে, যেখানে তারা বাংলাদেশে থেকে গ্লোবাল সিটিজেন হয়ে উঠবেন। তাদের মাঝে সে মোরালিটি থাকবে যেখানে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সততা এবং নিষ্ঠা আমরা তৈরি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রীর নানা পরিকল্পনার কথা উলে­খ করে মাহদী আমিন বলেন, আসুন আমরা চিন্তা করি আজ থেকে কয়েক বছর পর একদম প্রান্তিক একটি এলাকার। সেখানকার কৃষিনির্ভর একটি পরিবারের কেমন হবে ভবিষ্যৎ? সেই পরিবারের যিনি প্রধান, তিনি একজন বৃদ্ধ কৃষক। তার হাতে একটি কৃষক কার্ড থাকবে। সে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করবেন যে সরকারি যে ভর্তুকি সরাসরি উনার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, সেচ সার, বীজ, তেল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় যে জিনিসগুলো রয়েছে যেগুলো তার কৃষি কাজের সাথে জড়িত সেগুলো স্বল্প খরচে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে উনার কাছে পৌঁছে যাবে, উনি ওয়েদারের মাধ্যমে ফোরকাস্ট ইউজ করে কৃষিকে মডার্ন টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন প্রোডাক্টিভিটি; তিনি পাবেন কৃষি ইনসিওরেন্স, তিনি পাবেন কৃষি লোন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তিনি যেই কৃষক কার্ড ব্যবহার করছেন সেই কৃষকের স্ত্রীর হয়ত একটা দুরারোগ্য ব্যাধি আছে, সে ব্যাধির জন্য আজকের বাংলাদেশে উনাকে ঢাকায় চলে আসতে হয়, কিন্তু সেই নারীর কাছে যখন পৌঁছে যাবে ই-হেলথ কার্ড। তার মাধ্যমে কিন্তু উনি সেখানে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে লোকাল এরিয়াতেই তার যদি কোন দুরারোগ্য বিধি থাকে সেটার ট্রিটমেন্ট পাবেন। গভর্নমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে প্রাইভেট হসপিটাল থেকে বিনা খরচে সেই ট্রিটমেন্টটা আমাদের পরিকল্পনার ভিতরে রয়েছে, যা কার্যগ্রহ করা হবে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে। সেই পরিবারে যদি তিনজন সন্তান থাকে আমরা দেখতে পারি একজন সন্তান হয়ত একটা মসজিদের ইমাম সাহেব তার জন্য থাকবে সম্মানী ভাতা। তার রেগুলার যে উপার্জন আছে তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খরচে তিনি একটি সম্মানই পাবেন। দ্বিতীয় যে সন্তান তিনি হয়ত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি হতে পারেন একটা স্কুলের শিক্ষক। যদি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হন আজকের বাংলাদেশে হয়ত তার সেরকম সামাজিক মর্যাদা নাই। কিন্তু তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ স্কিম রয়েছে। সেখানে একটা ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে তার ট্রেনিং আরো বাড়বে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ট্রেনিং দিতে পারবেন কারিকুলাম হয়ে যাবে ডিজিটাল । সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব করা হচ্ছে পাবলিক স্কুলের প্রাইমারি স্কুলের টিচারদের উপরে কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য, তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য তার মাধ্যমে তার ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

তিনি আরও বলেন, সেই পরিবারে হয়ত একজন সন্তান রয়েছেন যিনি বর্তমানে কর্মদক্ষতা থাকার পরও বেকারত্বে পড়েছেন। কারণ তিনি যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগামী বেশ কয়েক বছরের ভিতর যখন পর্যায়ক্রমে প্রতিটি চিনি কল প্রতিটি পাটকল এবং প্রতিটি পাটজাত পণ্যের যে-সব রিলেটেড ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে খোলা হবে, সেখানে কিন্তু তার মত লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। সেই পরিবারে একজন বোন আছেন যে বোন হয়ত বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে সরকারি কোন প্রণদানা পাচ্ছেন না, সরকারের কোন ইনভেস্টমেন্ট পাচ্ছেন না, উদ্যোক্তা হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা যে সেই বোনের জন্য কিন্তু আমরা খুব স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, যার মাধ্যমে তিনি স্বনির্ভর হয়ে উঠবেন। সেই তিন ভাইয়ের প্রতিটি ভাইয়ের স্ত্রীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করা হবে। আর সেই ফ্যামিলি কার্ডে যে অর্থ পাবেন তার মাধ্যমে প্রতিটি নারী সামাজিকভাবে পারিবারিকভাবে যেন আরো ক্ষমতায়িত হবেন।

মাহদী আমিন বলেন, ঠিক একই সাথে তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন সেই সঞ্চিত অর্থের মাধ্যমে। যে বোন রয়েছেন তার হাজবেন্ড হচ্ছে আজকে বাংলাদেশে বিদেশে থেকে সহজে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন না বৈধ উপায়ে, আমাদের যে প্রবাসী কার্ড রয়েছ্ েতার মাধ্যমে সেই স্বামী তার স্ত্রীর জন্য রেমিট্যান্স বৈধ উপায় পাঠাতে পারবেন। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে, তার পরিবারেও অর্থনৈতিক সংযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে। সেই পরিবারে যারা সন্তানেরা রয়েছেন তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, যখন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হবেন তারা প্রত্যেকে নতুন ব্যাগ পাবে, জুতা পাবে, নতুন স্কুল ড্রেস পাবে, যার মাধ্যমে দেখা যাবে যে উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে স্কুলে অ্যাডমিশনের রেট অনেকটুকু বেড়ে যাবে। তাদের প্রত্যেকের “মিড ডে মিল” নিশ্চিত হবে, যার মাধ্যমে পুষ্টিগতভাবে প্রতিটা শিক্ষার্থী যেন হাইজিন পায়, যেন প্রপার ফুড পায় সেটা নিশ্চিত করা হবে।

ভবিষ্যত শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা মাপ্রধানমন্ত্রী গড়ে তুলতে চাচ্ছেন, তার অংশ হিসেবে সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য সুযোগ থাকবে। তারা বাংলাদেশে বসে বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠবে। কেউ আরাবি ভাষা শিখবে, কেউ ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখবে, কেউ ম্যান্দারিন ভাষা শিখবে। তাদের মাঝে কেউ গার্লস গাইডের সাথে সম্পৃক্ত হবে। কেউ স্কাউট রোভারের সাথে থাকবে, কেউ বিওসির সাথে থাকবে, আমাদের যে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ প্রোগ্রাম রয়েছে, খালখানন কর্মসূচি রয়েছে প্রতিটিতে, তারা এই এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ এর মাধ্যমে সম্পৃক্ত হবে, সেই পরিবারের যারা স্কুলের পাশাপাশি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছে, তাদের জন্য আমরা সেই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সে পলিসি সাপোর্ট পাবে, তার যে কন্টেন্ট সেটি সারা বিশ্বে এসে তুলে ধরতে পারবে, পেপালের মাধ্যমে পেমেন্ট পাবে। সেখানে ইনোভেশন গ্র্যান্ড কম্পিটিশন থাকবে, যারা ভালো করবে, সে ইউনিভার্সিটিতে যে শিক্ষার্থী পড়ছে তার পাশেই হাইটেক পার্ক বা বেসিককে তার জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হবে। ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিক কোলাবরেশন তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন যেন বাড়ানো হয়। প্রত্যেকটি ইউনিভার্সিটি এবং তার পাশাপাশি যে-সব কলেজ রয়েছে সেখানে লোকাল যে প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট রয়েছে, লোকাল যে বিজনেস রয়েছে, লোকাল যে ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে, তার সাথে একটা লিংকেজ তৈরি করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হয়েছে কারিকুলামটাকে কীভাবে ডেভেলপ করি, যার সাথে ট্রেনিং, প্রাক্টিক্যাল আরো বেশি সংযুক্তি আমরা তৈরি করতে পারি। আমাদের এডুকেশন সিস্টেমের এক্সট্রাকটিভিটি হবে কীভাবে আমরা টিমওয়ার্ক ডেভেলপ করতে পারি, ইন্টারপার্সন স্কিল এবং ট্রান্সফার স্কিল ডেভেলপ করতে পারি, সেগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ওপেন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি আলোচিত যেটি বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে সে দুটি স্কিম হচ্ছে থার্ড ল্যাংগুয়েজ ইন্ট্রোডিউস করা এবং টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনকে প্রায়োরিটি করা। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা চাই আপনারা ধীরে ধীরে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ওপেন করুন। টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনের কোর্স ইন্ট্রোডিউস করুন। আমাদের মূল লক্ষ্য লক্ষ থাকবে ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা। অনেক বাংলাদেশের মেধাবী মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উনারা পড়াচ্ছেন গবেষণা করছেন। আমরা চাইলেই একটা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারি যেখানে উনারা অন্ততপক্ষে বছরে একবার এসে সামার স্কুলে ক্লাস নিতে পারেন। রিসার্চ কোলাবোরেশন বাড়াতে পারেন। একজন ফ্যাকাল্টির মতন করে কাজ করতে পারেন। আমাদের অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। সেখানে হয়ত গুণগত মানের আরো বৃদ্ধির প্রয়োজন। যেমন পাবলিক ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা আমাদের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে পারি। কীভাবে আমরা র্যাংকিং এ বাংলাদেশের টপ ইউনিভার্সিটি গুলোকে আরো একটু সামনের দিকে নিয়ে আসতে পারি, যেন বিশ্ব মানচিত্রে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা একটি গৌরবের অবস্থায় থাকি।

কালের আলো/এম/এএইচ

রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৯ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইসকাফ সিরাপ ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে বিশেষ মাদকবিরোধী টিম, মতিহার থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মঙ্গলবার রাতে এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মতিহার থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের ছেলে সাগর আলী, মোয়াজ্জেম আলীর ছেলে রাজিব আলী এবং মৃত সাঈদের ছেলে শিহাব আলী। এ মামলার পলাতক আসামি হলেন মতিহার থানাধীন চরসাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাহার আলীর ছেলে কামরুল ইসলাম এবং ইব্রাহিম আলী।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মতিহার থানার জাহাজঘাট-দাশমারী এলাকা থেকে সাগর আলীকে এবং চরসাতবাড়িয়া এলাকা থেকে রাজিব আলী ও শিহাব আলীকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুই আসামির বাড়িতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আসামিদের দেহ তল্লাশি এবং পলাতক আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৯ বোতল ভারতীয় ইসকাফ সিরাপ ও তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আরএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

অনিয়মিত পথে ইউরোপ যেতে ইচ্ছুক ১৭০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটযোগে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন এই ১৭০ বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথ খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া বক্তৃতায় এই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন অবস্থান করছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। আমরা প্রতিদিন অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছি।’

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে এ বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের (যাদের ভোটার আইডি, আধার কার্ড ও অন্যান্য বৈধ নথি রয়েছে) উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের, তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন, চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই রাজ্য সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত।’

যারা স্বেচ্ছায় ভারত ছাড়তে চান, হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেক অভিবাসী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়েছেন। যারা স্বেচ্ছায় যেতে চান, তারা যেতে পারেন।’

বিজেপি সরকারের এই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে তারের বেড়া নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মাত্র দেড় মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধীকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের চালু করা “শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং নির্বাসন” নীতির অংশ হিসেবে নথিপত্রহীন মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে পুশইন ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে গভীর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মূলত, বিজেপি সরকার রাজ্যের নথিপত্রহীন মুসলিম অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। এই অভিযানটি শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলমানদের একাংশের মধ্যেও এই আশঙ্কা জাগিয়েছে যে, তারাও এমন একটি অভিযানের শিকার হতে পারেন, যে অভিযানটি তার লক্ষ্যবস্তুদের আইনি মর্যাদার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেও সমানভাবে পরিচালিত বলে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অনৈতিক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বিজেপির এই নিপীড়ন, সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশকে জাতিগত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশটির ২০ কোটি মুসলমানকে প্রান্তিকীকরণ ও নিপীড়নের বৃহত্তর নীতিরই অংশ।

বিশ্বের অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

এই নির্বাসনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা ‍দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, সেইসব আটককৃতদেরও আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিককে অন্যায়ভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয়।’

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ