খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে : ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে : ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের ঘটনা দেখছি। এসব বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলেন তারেক রহমান। আজ (মঙ্গলবার) সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে পৌঁছান।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি এবং আমাদের যে রিডিং রুমগুলো আছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, তখন এখানকার পরিবেশ, শিক্ষার্থী জীবন এবং দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি বলেন, ‘আমি গতকালও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে একটা কথা বলেছি, আপনারা এই দেশেই বড় হয়েছেন, দেশের মানুষের বাস্তবতা দেখেছেন। মানুষের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, সেটাও জানেন। আমরা অতীতে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক কিছু জেনেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাংলাদেশে আমরা এমন অনেক ঘটনা দেখেছি, যেগুলো মানুষকে হতাশ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘পিপল পাওয়ার’। জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সিভিল প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্কার হয়েছে। সেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে একই ধরনের কাজে ৯৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন।”

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে দেখেছি বালিশ কেনা নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। অথচ আমি নিজে যেহেতু বালিশ ব্যবহার করি, আমি জানি একটি ভালো বালিশের দাম সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় একটি হোয়াইট পেপার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যদি এই অর্থ দেশে থাকত, তাহলে দেশের উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। প্রতিবছর যদি ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে থাকে, তাহলে ১০ বছরে কত অর্থ বাইরে গেছে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।’

দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘অনেকে এখন ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষ সেটি সহজে বিশ্বাস করতে পারে না। আমিও শুধু কথায় বিশ্বাস করি না। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাস একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটা সময়সাপেক্ষ একটি বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আসার সময়ও আমি দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় এখনও অনিয়ম রয়ে গেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের ঘটনা দেখছি। এসব বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঢাবি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে তিনি ক্যাম্পাসে যান।

ঢাবি সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামির পদত্যাগ
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমে আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

এছাড়া ঢাবি ছাত্রদল, বিভিন্ন হল শাখা এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

কালের আলো/এসএকে

‘পুশইন’ বিষয়ে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
‘পুশইন’ বিষয়ে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের ‘পুশইন’ না হয়, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হবে। আমাদের কনসার্ন নিরাপত্তা এবং যেন পুশইন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।’

মন্ত্রী জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে। যেকোনো নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই নেয়া হবে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশের কোরবানির পশুরহাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোরবানির সব পশুর হাটেই আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। কোরবানিকে ঘিরে চাঁদাবাজির তথ্য রয়েছে সরকারের কাছে। এগুলো বন্ধে সর্বোচ্চ কঠোর থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ইজারা আদায় কিংবা হয়রানির অভিযোগ জানাতে ১৬৬১৩ নম্বরে হটলাইনে ফোন দেওয়ার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশ সদরদফতরে বিশেষ সেল গঠন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পর সাত দিন এই মনিটরিং সেল কার্যক্রম চালাবে।’

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি কোরবানির পশুরহাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি হাট থাকবে।

তিনি বলেন, এসব হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। সিসিটিভি নজরদারি, মোবাইল টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রানার ফাইফারে পাকিস্তানকে উড়িয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
রানার ফাইফারে পাকিস্তানকে উড়িয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ শেষ দিনে জয়ের জন্য শান মাসুদদের ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছিল সফরকারীরা। পাকিস্তানি এই ব্যাটার আউট হন ৬৬ রান করে। এরপর স্বাগতিক বোলারদের তোপের সামনে আর কোনো ব্যাটারই সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। জয়ের জন্য দিনের শেষ সেশনে লিটন দাসদের দরকার ছিল ৭ উইকেট। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামদের তোপের মুখে এই ৭ উইকেট নিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান ১৬৩ রানে অলআউট হওয়ায় ১০৪ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে লিড বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ম্যাচে ২৬৭ রানের লিড নেয়। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড়ায়। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে ইমাম-উল-হক মাত্র ২ রান করে ফিরে যান। লাঞ্চের সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৬ রান।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বোলাররা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মেহেদী হাসান মিরাজ আজান আওয়াইসকে (১৫) ফিরিয়ে দেন। এরপর নাহিদ রানা অধিনায়ক শান মাসুদকে মাত্র ২ রানে সাজঘরে পাঠান। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।

চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আলী আঘা। সাধারণত নিচের দিকে ব্যাট করা সালমানকে এদিন পাঁচ নম্বরে পাঠানো হয়। দুজনেই স্পিনের বিপক্ষে দারুণ খেলে প্রতিরোধ গড়েন। আব্দুল্লাহ ফজল ফিফটি পূর্ণ করেন এবং সালমানও কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান।

দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের ৩ উইকেটে ১১৬ রানের সংগ্রহ ছিল। তবে শেষ সেশনের শুরুতে ৬ বলের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। ৩২.৫ ওভারে আউট হন ফজল। তাইজুলের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। এরপর ৩৩ তম ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিনের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সালমান।

সালমান ফেরার পর সৌদ শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে এ দুজনের চেষ্টা সফল হয়নি। ৩১ রানের জুটি গড়ার পর নাহিদ রানার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরতে হয় শাকিলকে। এরপর রিজওয়ানও ফিরেন রানার বলে বোল্ড হয়ে। এ দুজনের পর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটারদের কেউই আর টাইগার বোলারদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৬৩ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। এতে ১০৪ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ লিড নিয়েছে টাইগাররা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কোটি মানুষের, কোটি পরিবারের সমৃদ্ধি আসবে: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কোটি মানুষের, কোটি পরিবারের সমৃদ্ধি আসবে: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা  মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের ভেতর ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের কোটি কোটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তারা অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে আরো বেশি ক্ষমতায়িত হবেন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মূখপাত্র বলেন,  শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদান করা না। একদিকে যেমন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব রয়েছে। ঠিক একইভাবে আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতর সুনাগরিকের গুণাবলি যেন গড়ে ওঠে। যেন তারা তাদের মেধা, মন শীলতা এবং সৃজনশীলতার পাশাপাশি ভ্যালিউস এবং প্রিন্সিপালস টাকে ধারণ করে, যেখানে তারা বাংলাদেশে থেকে গ্লোবাল সিটিজেন হয়ে উঠবেন। তাদের মাঝে সে মোরালিটি থাকবে যেখানে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সততা এবং নিষ্ঠা আমরা তৈরি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রীর নানা পরিকল্পনার কথা উলে­খ করে মাহদী আমিন বলেন, আসুন আমরা চিন্তা করি আজ থেকে কয়েক বছর পর একদম প্রান্তিক একটি এলাকার। সেখানকার কৃষিনির্ভর একটি পরিবারের কেমন হবে ভবিষ্যৎ? সেই পরিবারের যিনি প্রধান, তিনি একজন বৃদ্ধ কৃষক। তার হাতে একটি কৃষক কার্ড থাকবে। সে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করবেন যে সরকারি যে ভর্তুকি সরাসরি উনার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, সেচ সার, বীজ, তেল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় যে জিনিসগুলো রয়েছে যেগুলো তার কৃষি কাজের সাথে জড়িত সেগুলো স্বল্প খরচে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে উনার কাছে পৌঁছে যাবে, উনি ওয়েদারের মাধ্যমে ফোরকাস্ট ইউজ করে কৃষিকে মডার্ন টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন প্রোডাক্টিভিটি; তিনি পাবেন কৃষি ইনসিওরেন্স, তিনি পাবেন কৃষি লোন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তিনি যেই কৃষক কার্ড ব্যবহার করছেন সেই কৃষকের স্ত্রীর হয়ত একটা দুরারোগ্য ব্যাধি আছে, সে ব্যাধির জন্য আজকের বাংলাদেশে উনাকে ঢাকায় চলে আসতে হয়, কিন্তু সেই নারীর কাছে যখন পৌঁছে যাবে ই-হেলথ কার্ড। তার মাধ্যমে কিন্তু উনি সেখানে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে লোকাল এরিয়াতেই তার যদি কোন দুরারোগ্য বিধি থাকে সেটার ট্রিটমেন্ট পাবেন। গভর্নমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে প্রাইভেট হসপিটাল থেকে বিনা খরচে সেই ট্রিটমেন্টটা আমাদের পরিকল্পনার ভিতরে রয়েছে, যা কার্যগ্রহ করা হবে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে। সেই পরিবারে যদি তিনজন সন্তান থাকে আমরা দেখতে পারি একজন সন্তান হয়ত একটা মসজিদের ইমাম সাহেব তার জন্য থাকবে সম্মানী ভাতা। তার রেগুলার যে উপার্জন আছে তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খরচে তিনি একটি সম্মানই পাবেন। দ্বিতীয় যে সন্তান তিনি হয়ত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি হতে পারেন একটা স্কুলের শিক্ষক। যদি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হন আজকের বাংলাদেশে হয়ত তার সেরকম সামাজিক মর্যাদা নাই। কিন্তু তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ স্কিম রয়েছে। সেখানে একটা ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে তার ট্রেনিং আরো বাড়বে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ট্রেনিং দিতে পারবেন কারিকুলাম হয়ে যাবে ডিজিটাল । সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব করা হচ্ছে পাবলিক স্কুলের প্রাইমারি স্কুলের টিচারদের উপরে কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য, তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য তার মাধ্যমে তার ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

তিনি আরও বলেন, সেই পরিবারে হয়ত একজন সন্তান রয়েছেন যিনি বর্তমানে কর্মদক্ষতা থাকার পরও বেকারত্বে পড়েছেন। কারণ তিনি যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগামী বেশ কয়েক বছরের ভিতর যখন পর্যায়ক্রমে প্রতিটি চিনি কল প্রতিটি পাটকল এবং প্রতিটি পাটজাত পণ্যের যে-সব রিলেটেড ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে খোলা হবে, সেখানে কিন্তু তার মত লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। সেই পরিবারে একজন বোন আছেন যে বোন হয়ত বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে সরকারি কোন প্রণদানা পাচ্ছেন না, সরকারের কোন ইনভেস্টমেন্ট পাচ্ছেন না, উদ্যোক্তা হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা যে সেই বোনের জন্য কিন্তু আমরা খুব স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, যার মাধ্যমে তিনি স্বনির্ভর হয়ে উঠবেন। সেই তিন ভাইয়ের প্রতিটি ভাইয়ের স্ত্রীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করা হবে। আর সেই ফ্যামিলি কার্ডে যে অর্থ পাবেন তার মাধ্যমে প্রতিটি নারী সামাজিকভাবে পারিবারিকভাবে যেন আরো ক্ষমতায়িত হবেন।

মাহদী আমিন বলেন, ঠিক একই সাথে তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন সেই সঞ্চিত অর্থের মাধ্যমে। যে বোন রয়েছেন তার হাজবেন্ড হচ্ছে আজকে বাংলাদেশে বিদেশে থেকে সহজে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন না বৈধ উপায়ে, আমাদের যে প্রবাসী কার্ড রয়েছ্ েতার মাধ্যমে সেই স্বামী তার স্ত্রীর জন্য রেমিট্যান্স বৈধ উপায় পাঠাতে পারবেন। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে, তার পরিবারেও অর্থনৈতিক সংযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে। সেই পরিবারে যারা সন্তানেরা রয়েছেন তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, যখন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হবেন তারা প্রত্যেকে নতুন ব্যাগ পাবে, জুতা পাবে, নতুন স্কুল ড্রেস পাবে, যার মাধ্যমে দেখা যাবে যে উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে স্কুলে অ্যাডমিশনের রেট অনেকটুকু বেড়ে যাবে। তাদের প্রত্যেকের “মিড ডে মিল” নিশ্চিত হবে, যার মাধ্যমে পুষ্টিগতভাবে প্রতিটা শিক্ষার্থী যেন হাইজিন পায়, যেন প্রপার ফুড পায় সেটা নিশ্চিত করা হবে।

ভবিষ্যত শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উলে­খ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা মাপ্রধানমন্ত্রী গড়ে তুলতে চাচ্ছেন, তার অংশ হিসেবে সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য সুযোগ থাকবে। তারা বাংলাদেশে বসে বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠবে। কেউ আরাবি ভাষা শিখবে, কেউ ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখবে, কেউ ম্যান্দারিন ভাষা শিখবে। তাদের মাঝে কেউ গার্লস গাইডের সাথে সম্পৃক্ত হবে। কেউ স্কাউট রোভারের সাথে থাকবে, কেউ বিওসির সাথে থাকবে, আমাদের যে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ প্রোগ্রাম রয়েছে, খালখানন কর্মসূচি রয়েছে প্রতিটিতে, তারা এই এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ এর মাধ্যমে সম্পৃক্ত হবে, সেই পরিবারের যারা স্কুলের পাশাপাশি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছে, তাদের জন্য আমরা সেই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সে পলিসি সাপোর্ট পাবে, তার যে কন্টেন্ট সেটি সারা বিশ্বে এসে তুলে ধরতে পারবে, পেপালের মাধ্যমে পেমেন্ট পাবে। সেখানে ইনোভেশন গ্র্যান্ড কম্পিটিশন থাকবে, যারা ভালো করবে, সে ইউনিভার্সিটিতে যে শিক্ষার্থী পড়ছে তার পাশেই হাইটেক পার্ক বা বেসিককে তার জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হবে। ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিক কোলাবরেশন তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন যেন বাড়ানো হয়। প্রত্যেকটি ইউনিভার্সিটি এবং তার পাশাপাশি যে-সব কলেজ রয়েছে সেখানে লোকাল যে প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট রয়েছে, লোকাল যে বিজনেস রয়েছে, লোকাল যে ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে, তার সাথে একটা লিংকেজ তৈরি করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হয়েছে কারিকুলামটাকে কীভাবে ডেভেলপ করি, যার সাথে ট্রেনিং, প্রাক্টিক্যাল আরো বেশি সংযুক্তি আমরা তৈরি করতে পারি। আমাদের এডুকেশন সিস্টেমের এক্সট্রাকটিভিটি হবে কীভাবে আমরা টিমওয়ার্ক ডেভেলপ করতে পারি, ইন্টারপার্সন স্কিল এবং ট্রান্সফার স্কিল ডেভেলপ করতে পারি, সেগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ওপেন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিষয়ক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি আলোচিত যেটি বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে সে দুটি স্কিম হচ্ছে থার্ড ল্যাংগুয়েজ ইন্ট্রোডিউস করা এবং টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনকে প্রায়োরিটি করা। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা চাই আপনারা ধীরে ধীরে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ওপেন করুন। টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনের কোর্স ইন্ট্রোডিউস করুন। আমাদের মূল লক্ষ্য লক্ষ থাকবে ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা। অনেক বাংলাদেশের মেধাবী মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উনারা পড়াচ্ছেন গবেষণা করছেন। আমরা চাইলেই একটা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারি যেখানে উনারা অন্ততপক্ষে বছরে একবার এসে সামার স্কুলে ক্লাস নিতে পারেন। রিসার্চ কোলাবোরেশন বাড়াতে পারেন। একজন ফ্যাকাল্টির মতন করে কাজ করতে পারেন। আমাদের অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। সেখানে হয়ত গুণগত মানের আরো বৃদ্ধির প্রয়োজন। যেমন পাবলিক ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা আমাদের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে পারি। কীভাবে আমরা র্যাংকিং এ বাংলাদেশের টপ ইউনিভার্সিটি গুলোকে আরো একটু সামনের দিকে নিয়ে আসতে পারি, যেন বিশ্ব মানচিত্রে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা একটি গৌরবের অবস্থায় থাকি।

কালের আলো/এম/এএইচ