খুঁজুন
                               
, ,
           

জামানতের পরিমাণ বাড়বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
জামানতের পরিমাণ বাড়বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর (ইউপি) নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের ভোটযাত্রা শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের আইন-বিধানবলী সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বর্তমানে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিধিতে কী রয়েছে এবং সরকার আইনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে—সেসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে তুলনামূলক চিত্র প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনাও করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরইমধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আইন, বিধি সংস্কারের কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ইতোমধ্যেই বলেছেন, ‘হয়ত অনলাইনে মনোনয়ন জমার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ন্যূনতম (১%) সমর্থনের নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।’

এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্থানীয় ভোটে ইভিএম থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার আইন সংশোধন করেছে, দলীয় প্রতীক থাকছে না স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট চালুর পাশাপাশি ব্যয় ও জামানতের টাকা বাড়ানো হয়। ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে অযোগ্য করা হয়। অনিয়ম রোধে ক্ষমতা বাড়ানো হয় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের। অবহেলায় শাস্তিও বাড়ানো হয়; যুক্ত করা হয়েছে কিছু নির্বাচনি প্রতীক। ভোটের প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধের বিষয়ও যুক্ত হয় বিধিতে। সিটি, পৌর, উপজেলা, ইউপি ও জেলা পরিষদের বিধিগুলো নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কাজও গুছিয়ে রাখছেন ইসি কর্মকর্তারা। নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, নির্দলীয় ভোট হওয়ায় কিছু বাধ্যবাধকতা বাদ পড়ে যাবে নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আচরণবিধিতে। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু বিষয় বিবেচনোয় রয়েছে, সবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করবে ইসি। জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো, পোস্টার নিষিদ্ধ, বিলবোর্ডে প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারসহ নানা বিষয় পর্যালোচনায় থাকছে। সিটি, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদের আচরণবিধিগুলো আলাদা হলেও সমন্বয় রেখে খসড়া করা হচ্ছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা পাঁচ লাখ পর্যন্ত হলে মেয়র প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা। পাঁচ লাখ ১ থেকে ১০ লাখ হলে ৩০ হাজার, ১০ লাখ এক থেকে ২০ লাখ হলে ৫০ হাজার এবং ২০ লাখের বেশি হলে এক লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের ক্ষেত্রে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত নির্ধারণ করা আছে। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের জন্য জামানত ১০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছিল। পৌরসভা নির্বাচনে ২৫ হাজার ভোটার পর্যন্ত এলাকায় জামানত ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার ১ থেকে ১ লাখ ভোটারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা এবং এক লাখের বেশি ভোটারের ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে জামানত পাঁচ হাজার টাকা, ইউপি চেয়ারম্যান পদে পাঁচ হাজার টাকা এবং সদস্য পদের জন্য এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং সদস্য বা মহিলা সদস্য পদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়।

ইসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মধ্যেই বেশ কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে সংশোধিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিধিমালা সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় চার হাজার ১০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশাল এই নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আইন ও বিধি সংস্কারের কাজ চলছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দায়িত্ব ছাড়ার পর যেকোনো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে: ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
দায়িত্ব ছাড়ার পর যেকোনো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে: ডা. জাহেদ

রাষ্ট্রপতি যতদিন দায়িত্বে থাকেন, ততদিন তার বিরুদ্ধে কোনো লিগ্যাল প্রসিডিউর শুরু করা যাবে না। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পর যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই আগের ও পরের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দায়মুক্তির বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। বাংলাদেশের একজন মানুষ তার পদে থাকাকালীন সময়ে কোনো লিগ্যাল ইস্যু ফেস করবেন না, রাষ্ট্রপতি যতদিন পদে আছেন।

কিন্তু যখন তিনি পদে নেই, তখন আগে করা কোনো বিষয়ে বা পরে কোনো কিছু থেকে থাকলে সেগুলোর জন্য নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এটা আমি বর্তমান কোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে বলছি না, এটি যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই সাধারণ নিয়ম।

যেমন প্রধানমন্ত্রী বা যেকোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মামলা করা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যতদিন দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো লিগ্যাল প্রসিডিউর শুরু করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি পদে না থাকলে তা করা যাবে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, কোর্ট সরকার নয়। কোর্ট স্বাধীন এবং আইসিটি বা সব কোর্টই স্বাধীনভাবে কাজ করে। জনগণ বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আদালতে যেতে পারেন। সরকার কখনো কখনো কোনো মামলায় পক্ষ হয়।

তিনি বলেন, আদালতের সামনে সরকার একটি পক্ষ মাত্র। আদালত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। সরকারের বিরুদ্ধে অনেক রিট হয় এবং অসংখ্য রিটে সরকার উচ্চ আদালতে পরাজিত হয়। সরকার কিছু করছে না-এটুকু আমি নিশ্চিত করতে পারি। আদালত স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

টানা ৫ মেডেন ওভারে ৫ উইকেট, টেস্ট ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়লেন জাস্টিন গ্রিভস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
টানা ৫ মেডেন ওভারে ৫ উইকেট, টেস্ট ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়লেন জাস্টিন গ্রিভস

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস। টেস্ট ক্রিকেটের তথ্য–উপাত্ত সংরক্ষণ শুরুর পর প্রথম বোলার হিসেবে টানা পাঁচ ওভারে মেডেন রেখে প্রতি ওভারেই একটি করে উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি।

তৃতীয় দিনের শুরুতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৯ রান। মধ্যাহ্নবিরতির কিছু আগে ৬৩ ওভারে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৪৪। তখন পর্যন্ত গ্রিভসের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৬ ওভারে ২৭ রান, কোনো উইকেট নয়। এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই ক্যারিবীয় পেসার।

৬৪, ৬৬, ৬৮, ৭০ ও ৭২তম ওভারে টানা পাঁচ মেডেন ওভার করেন গ্রিভস। অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিটি ওভারেই তুলে নেন একটি করে উইকেট। তাঁর শিকার হন সেঞ্চুরিয়ান শান মাসুদ (১০৯), আমের জামাল, আলী উসমান, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং মোহাম্মদ আব্বাস। মধ্যাহ্নবিরতির পর প্রথম ওভারেই আব্বাসকে ফিরিয়ে ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।

গ্রিভসের দুর্দান্ত স্পেলে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে অলআউট হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করায় স্বাগতিকরা ২৯ রানের লিড পায়।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও। পাকিস্তানের পেসারদের দাপটে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৬ রান। একসময় ৯৩ রানেই ৭ উইকেট হারালেও কেমার রোচ ও শামার জোসেফের অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৫৫ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নামবে তারা।

দিন শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গ্রিভস বলেন, “বল কিছুটা সুইং করছিল এবং আমি তার সুবিধা নিতে পেরেছি। যখনই আমাকে বোলিংয়ে আনা হয়, দলের প্রত্যাশা থাকে কঠিন পরিস্থিতিতে যেন আমি অবদান রাখতে পারি। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। তবে ম্যাচে এখনো আমাদের কাজ শেষ হয়নি।”

এদিকে গ্রিভসের ঐতিহাসিক স্পেলের পরও একটি সিদ্ধান্ত বিস্ময় তৈরি করেছে। ৭২তম ওভারে নিজের পঞ্চম উইকেট নেওয়ার পর তাঁকে আর টানা বোলিং করানো হয়নি। পরের ওভারে কেমার রোচ বল করার পর ৭৪তম ওভারে অধিনায়ক রোস্টন চেজ গ্রিভসকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে জেইডেন সিলসকে বোলিংয়ে আনেন।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৫ রানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের ফল এখনো খোলা। তবে গ্রিভসের টানা পাঁচ মেডেন ওভারে পাঁচ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি ইতোমধ্যেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

জেন-জি’কে ‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যে বিতর্কে কঙ্গনা রানাউত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
জেন-জি’কে ‘জেনারেশন গাটার’ মন্তব্যে বিতর্কে কঙ্গনা রানাউত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। আন্দোলনকারীদের ভাষা, আচরণ ও জীবনধারা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি তাদের ‘জেনারেশন গাটার’ (নর্দমার প্রজন্ম) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।

দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। আন্দোলনের সময় তরুণদের বিভিন্ন স্লোগান, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে কিছু স্লোগান ও ভাষা নিয়ে সমালোচনাও হয়।

এই প্রেক্ষাপটে কঙ্গনা রানাউত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি জীবনে একসঙ্গে এত ‘নোংরা’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ ভাষা কখনো দেখেননি। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের ভিডিও ও পোস্ট ‘বমি আসার মতো’ এবং সেগুলো দেখে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। এমনকি তিনি ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এর প্রয়োজন অনুভব করছেন বলেও মন্তব্য করেন।

আন্দোলনকারীদের নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উপস্থাপনেরও সমালোচনা করেন কঙ্গনা। তাঁর ভাষ্য, ভারত বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দেশ, অথচ আন্দোলনকারীরা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

এ ছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণীদের উদ্দেশে কঙ্গনা বলেন, তথাকথিত পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে তারা ‘কলুষিত’ হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, তাদের অনেকেই সমাজের জন্য ইতিবাচক কোনো অবদান রাখতে পারবে না। জেন-জি প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রজন্মের একটি অংশের আচরণ সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

কঙ্গনার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তরুণ-তরুণীদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার হয়েছে, একজন নারী হয়েও সে বিষয়ে কঙ্গনার কোনো সহানুভূতি না থাকা বিস্ময়কর।

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সাংসদের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং জেন-জি প্রজন্মের কাছে কঙ্গনার ক্ষমা চাওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান, দলের সাংসদরা তরুণদের সম্পর্কে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে নজর দিতে।

কঙ্গনার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকেরা বক্তব্যকে ‘স্পষ্টভাষিতা’ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা এটিকে তরুণ প্রজন্মকে অপমান করার শামিল বলে মন্তব্য করছেন।

কালের আলো/এসএ