খুঁজুন
                               
, ,
           

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির ঘানি টানতে হচ্ছে সরকারকে

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির ঘানি টানতে হচ্ছে সরকারকে

বেশি দামে কিনে কমে বিক্রির কারণে চলতি বছরেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) লোকসান হবে ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) যা দাঁড়াবে ৬৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এ খাতের লোকসান কেবলই বাড়ছে। পরিতাপের বিষয়, বছরের পর বছর ধরে আমরা শুধুই সক্ষমতার কথা শুনে আসছি; কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সক্ষমতার বড় অংশই এখন অলস পড়ে থেকে রাষ্ট্রের কোষাগার খালি করছে। সম্প্রতি পিডিবির যে হিসাব সামনে এসেছে, তা এক কথায় ভুল পরিকল্পনা আর অদূরদর্শী নীতির এক করুণ দলিল। ১৩ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে ৭ টাকায় বিক্রি করার যে গাণিতিক মরণকামড়, তার চূড়ান্ত দায়ভার শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধে গিয়েই পড়ছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতির কারণে প্রতিবছরই বিদ্যুৎখাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি গুণতে হচ্ছে। যে ভার বহন করতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে, এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকেও সেই ঘানি টানতে হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৭ বছরের ব্যবধানে এইখাতে ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াচ্ছে সাত গুণেরও বেশি বা ৬৩৩ শতাংশ। জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছিল ৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। আর আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারকে লোকসান গুণতে হবে ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছরে লোকসান বা ভর্তুকির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, অদক্ষ ব্যবস্থপনা, উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ, বিদ্যুৎক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করার কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাত এই সংকটাপন্ন অবস্থার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট এই অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের দেড় বছরের স্বাস্থ্য বাজেট এবং আড়াই বছরের কৃষি বাজেট দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। একই সাথে চলতি অর্থবছরে কৃষিখাতে বরাদ্দ রয়েছে ২৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। মূলত জনগণের কাছ থেকে কর হিসেবে আদায় করা অর্থ থেকেই বিদ্যুৎখাতের এই বিপুল লোকসান মেটানো হচ্ছে, ফলে আর্থিক চাপের ভার শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপরই। বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির এই প্রবণতা থামার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

কালের আলো/এম/এএইচ

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতালা নামক এলকার গ্রিড সবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার গ্রিড সাবস্টেশনটির মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রাতে হঠাৎ করে ওই সাবস্টেশনটির ভেতরে একটি বিকট শব্দ হয়। এর পরপরই স্টেশনটির ৬ নম্বর ফিডারে আগুন লেগে যায়। আগুনের স্থায়িত্ব মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট হলেও স্টেশনের ভিতরে থাকা অন্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ পুড়ে যাওয়াসহ কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বরগুনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬৭ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, রাতে অফিসেই ছিলাম। হঠাৎ করে বিকট একটা শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

আমরা কাজ শুরু করেছি এবং সকল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছি। তবে যে যন্ত্রাংশটি পুড়েগেছে তা পটুয়াখালী থেকে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের চেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করতে না পারলেও আগামীকাল সকালের মধ্যে চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যান্তরীন ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে না কেনো এ ঘটনা ঘটেছে৷

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি