খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর: সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত

সিরাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর: সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে এমন বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চীন সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী কোন দেশ সফর করবেন, সেই সিদ্ধান্ত কি অন্য কোনো দেশের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা উচিত, নাকি বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনা, পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকার ঠিক করার পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের জনগণ ও তাদের নির্বাচিত সরকারের। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর কোথায় হবে, সেটি মূলত বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনার বিষয়। এটি অন্য কোনো দেশের অনুমোদন, প্রত্যাশা বা অস্বস্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কথা নয়।

অনেক সময় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থানকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। বাংলাদেশ কোনো ভূরাজনৈতিক দাবার গুটি নয়; বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতি, যার নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্য, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক কৌশল রয়েছে। ফলে ঢাকার সিদ্ধান্তকে সব সময় অন্যের প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা বাস্তবতাকে সরলীকৃত করে ফেলে।

চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। বৈশ্বিক বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় সব বড় রাষ্ট্রই নিজেদের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দিল্লি ও বেইজিং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। ইউরোপের নেতারাও নিয়মিত চীন সফর করেন।

তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গেলে সেটিকে অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখার কারণ কোথায়? বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের একটি বড় অংশীদার। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যদি কোনো আন্তর্জাতিক অংশীদার বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রযুক্তি বা প্রকৌশল সহায়তা দিতে আগ্রহী হয়, তাহলে সেই সুযোগ বিবেচনা করা স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। কোনো প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা মানেই তা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ, নদী ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পানি সম্পদ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে এগিয়ে যায়, তাহলে সেই প্রকল্পের মূল্যায়নও হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে এটাও সত্য যে ভারত বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভৌগোলিক বাস্তবতা, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে ভারতকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। গত কয়েক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ফলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহ্যই হচ্ছে ভারসাম্য। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পথ এড়িয়ে চলেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়ও সেই নীতির প্রাসঙ্গিকতা কমেনি। বরং বহুমুখী অংশীদারিত্ব এখন আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপকে ভারত-চীন প্রতিযোগিতার লেন্স দিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে—বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—সেগুলোর সমাধান কোনো একক দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য বহুমাত্রিক ও বাস্তববাদী কূটনীতি প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফরকে তাই কেবল প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে না দেখে এর অর্থনৈতিক, উন্নয়নমূলক এবং কূটনৈতিক তাৎপর্য বিবেচনা করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হবে। একটি দেশের সরকারপ্রধান কোথায় সফর করবেন, সেটি শেষ পর্যন্ত সেই দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার, সময়োপযোগী প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। বাইরের বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্তের মালিক বাংলাদেশই। বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশা করে, যা কারও পক্ষ নেওয়ার পরিবর্তে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখবে। বন্ধু থাকবে অনেক, অংশীদার থাকবে বিভিন্ন দেশ, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে ঢাকার; অন্য কোনো রাজধানীর নয়। এটাই একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর চীন, ভারত বা অন্য যে কোনো দেশেই হোক না কেন, মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—সেই সফর বাংলাদেশের জন্য কী অর্জন বয়ে আনবে। কারণ পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য সফরের গন্তব্যে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতায় নিহিত। আর সেই জাতীয় স্বার্থ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের রাষ্ট্রেরই।

লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

চট্টগ্রামে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে নলুয়া ইউনিয়নের মরফলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোরশেদ আলম চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. পেটান আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নলুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাসার সিঁড়িঘরের লোহার রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মোরশেদ আলমকে ঝুলতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, মোরশেদ আলম পাশের ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিকেলে খবর পাই, তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

সাতকানিয়া ঢেমশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডালিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জোড়া গোল করে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোল করে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন রোনালদো

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। টুর্নামেন্টে ধীরগতির সূচনার পর অবশেষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলোচনায় ফিরেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। গ্রুপ ‘কে’-তে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে দুই গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল লিওনেল মেসির দখলে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে কীর্তিটি গড়েছিলেন। তবে সেই রেকর্ড মাত্র একদিন স্থায়ী হয়। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে রোনালদো রেকর্ডটি নিজের করে নেন।

একই সঙ্গে  এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলও পেয়ে যান রোনালদো। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের আরেকটি বিশেষ পরিসংখ্যানে মেসির ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়িয়েছেন—যে রেকর্ডে আর্জেন্টাইন তারকার পক্ষে আর পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদোর আধিপত্য

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া দুই কিংবদন্তি ফুটবলার এখনো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের প্রধান আকর্ষণ। বয়স বাড়লেও তাদের পারফরম্যান্সে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

বর্তমানে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও রোনালদো ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন। মেসি শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেললেও রোনালদোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স পর্তুগালের সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।

এদিকে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে উঠে এসেছেন। তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড ভেঙেছেন। যদিও এই দৌড়ে রোনালদো কিছুটা পিছিয়ে আছেন,

তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তিনি এখনো গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারাও এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।

আরও ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় দুই কিংবদন্তি

ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে মেসি ও রোনালদোকে একের পর এক অসম্ভব মনে হওয়া রেকর্ড ভাঙতে দেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে এবং আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যত দূর যাবে, ততই নতুন নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকা মেসি ও রোনালদো আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নেমেছেন। অনেকের ধারণা, এটি তাদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাই দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি একে অপরের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এই দুই কিংবদন্তি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বনেতাদের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে আমাদের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়; এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি-এর মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে সম্মুখসারির একটি রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা করেছি। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলায় আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচির মাধ্যমে বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাপমাত্রা হ্রাস করা হবে।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহন খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের অবশ্যই মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১-এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ