খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা।

ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

এদিকে ব্রাজিল কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক এমন সময় ম্যাচের ২১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে এগিয়ে যায় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের দেওয়া চমৎকার এক পাসে বল পেয়ে ব্রাজিলের জাল কাঁপান মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

ভিনিসিয়ূসের দশম গোলে ব্রাজিলের স্বস্তি অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলের। ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি।

মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিউসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।

১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল রক্ষণ আগলে বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় কার্লো আনচেলোত্তির ব্রাজিল ও মরক্কোকে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, ৯ লাখ টাকা খরচে ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিক

কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’, ৯ লাখ টাকা খরচে ৫ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন রফিক

মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’ করে ফেললেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের রফিকুল ইসলাম (৬২)। তার ইচ্ছা ছিল জীবিত থাকতেই নিজের হাতে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। সেই ইচ্ছা থেকেই স্ত্রী বেগম আক্তারকে (৫৫) সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করেন বিশাল ভোজের। এতে অংশ নেন প্রায় পাঁচ হাজার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘চল্লিশা’র আয়োজন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন।

বিশাল মাঠজুড়ে টানানো হয় শামিয়ানা। বসে খাওয়ার জন্য সারি সারি চেয়ার-টেবিল। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও ধাপে ধাপে চলে পরিবেশন। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী অসহায় মানুষ এতে অংশ নেন।

মেন্যুতেও ছিল আয়োজনের ছাপ। গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েশ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। কেউ খাবার হাতে নিয়ে ফিরেছেন, কেউ আবার বসে তৃপ্তি নিয়ে খেয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। জীবিত থাকতে নিজের ‘চল্লিশা’ করার পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিগত এক ভাবনা।

রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে তিনি মারা গেলে সন্তানদের পক্ষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এমন বড় আয়োজন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই মৃত্যুর পরের আয়োজনের অপেক্ষায় না থেকে জীবিত থাকতেই নিজের ইচ্ছাটি পূরণ করেছেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই এই আয়োজন করেছি। আমি বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দিতে চেয়েছি।’

রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে ভোজের অর্থ ব্যয় করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে কখনো দেখিনি। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে খাবার খেয়েছে। সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা রফিকুল ইসলাম আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৭০ জনের শরীরে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৬১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন মারা গেছে, আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের। একই সময়ে ৭০ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আইএমএফের পূর্বাভাস

অর্থনীতির আকারে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির আকারে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ সময়ে অর্থনীতির আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলতে পারে বাংলাদেশ।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টে প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপি দাঁড়াতে পারে ৬৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৬৬৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ৬৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলার হওয়ায় এসব দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে।

এ ছাড়া জার্মানি ও ভারত যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকতে পারে। জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধানে দুই দেশের অবস্থান হবে কাছাকাছি।

এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে জাপানের অর্থনীতি প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে একই সময়ে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকোচনের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি