খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মেসিকে ভালোবাসা জানিয়ে আর্জেন্টিনাকে ‘উড়ন্ত চুমু’ পরীমনির

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
মেসিকে ভালোবাসা জানিয়ে আর্জেন্টিনাকে ‘উড়ন্ত চুমু’ পরীমনির

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পান চিত্রনায়িকা পরীমনি। মাঠের খেলা থেকে শুরু করে প্রিয় দলকে নিয়ে উচ্ছ্বাস-সবকিছুতেই সরব থাকেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নিজের আবেগ-ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়ে আবারও আলোচনায় এলেন এই অভিনেত্রী।

রোববার (১৪ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন পরীমনি। সেখানে দেখা যায়, শাড়ি ও গহনায় সজ্জিত অভিনেত্রী সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। তার পেছনে থাকা অসংখ্য মানুষ একসঙ্গে ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। সমর্থকদের সেই উচ্ছ্বাসে সাড়া দিয়ে পরীমণিও ‘উড়ন্ত চুমু’ ছুড়ে দেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়েই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ২২ ঘণ্টার মধ্যে এতে ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া এবং সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। অনেকেই আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির প্রতি পরীমণির অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

বর্তমানে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে আছে সারা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীরা। সেই উন্মাদনার অংশ হিসেবেই নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন পরীমনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি আকাশি-সাদা জার্সিধারীদের ভক্ত। একইসঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির একজন নিবেদিত সমর্থকও।

এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা। আমি আজীবনের আর্জেন্টিনা। আই লাভ মেসি।’

মেসিকে ঘিরে তার আবেগ কতটা গভীর, সেটিও খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পরীমণির ভাষ্য, ‘মেসির পায়ে যখন বল থাকে, তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়।’

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলকে নিয়ে তার এমন উচ্ছ্বাস নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়েই আর্জেন্টিনার সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে সরব দেখা গেছে তাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং বিশ্বকাপের আবহে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে পরীমনির আবেগঘন এই ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নেটদুনিয়ায়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেনজিরের গ্রেফতার: রুই-কাতলাও ধরা পড়ছে সরকারের জালে!

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
বেনজিরের গ্রেফতার: রুই-কাতলাও ধরা পড়ছে সরকারের জালে!

ক্ষমতা মানুষকে অনেক কিছু দিতে পারে—প্রভাব, প্রতিপত্তি, সম্পদ, ভয় প্রদর্শনের সামর্থ্য এবং কখনো কখনো নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার বিভ্রমও। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম সৌন্দর্য হলো, প্রকৃতি ও ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কাউকেই ছাড় দেয় না। সময়ের আদালত অনেক দেরিতে বসলেও তার রায় সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষগুলোকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঠিক তেমনই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ এটি কেবল একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবর নয়; এটি এমন এক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রশ্ন, যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে অনেকের কাছে অপ্রতিরোধ্য, অজেয় এবং জবাবদিহির ঊর্ধ্বে বলে মনে হয়েছে।

তাই বেনোজিরের এই গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ বেনজীর আহমেদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি সময়ের প্রতীক, একটি ক্ষমতার কাঠামোর প্রতীক এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর অন্যতম মুখ।

আমার বিবেচনায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা প্রশাসনিক অসদাচরণের অভিযোগে প্রকৃত অর্থে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখোমুখি করার নজির খুবই কম। অনেক সময় জনমতের চাপ সামাল দিতে কিংবা আইনের শাসনের একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরতে কিছু ছোটখাটো ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করা রুই-কাতলাদের অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।

সেই বাস্তবতায় বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি একটি নতুন বার্তা বহন করে। এটি দেখিয়ে দেয় যে রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং আইনি প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে চায়, তাহলে পৃথিবীর কোনো প্রান্তই অপরাধীর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে না।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ইন্টারপোলের সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী দুবাই থেকে এমন একজন প্রভাবশালী সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা নিঃসন্দেহে সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবেই বিবেচিত হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই ঘটনার আরেকটি রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। দেশের বাইরে অবস্থানরত বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছেও এটি একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ কিংবা উত্তর আমেরিকায় অবস্থান করে যারা মনে করেন অতীতের ক্ষমতা, অর্থ কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তাদের জন্য স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, তাদের জন্য এই ঘটনা নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করছে। অন্তত জনমনে এমন ধারণা আরও শক্তিশালী হয়েছে যে আইনের দীর্ঘ হাত একসময় অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে অনেকেই আওয়ামী লীগের দেশত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। যারা বিদেশের মাটিতে বসে দ্রুত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন, তাদের কাছেও এই গ্রেপ্তার একটি নতুন ও বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। পৃথিবী এখন অনেক ছোট। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার যুগে কোনো প্রভাব, কোনো অর্থ, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বিদেশি আশ্রয় আর চূড়ান্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে আমার কাছে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অন্যত্র।

এখানে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করতে চাই। ২০০৮ সালে আমি বাংলাদেশ টেলিভিশনে কর্মরত ছিলাম। ১/১১-সরকারের সময়ে পুলিশ সংস্কার নিয়ে আমি বেনজীর আহমেদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সে সময় তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি অর্থ ও উন্নয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজকের বিতর্কিত ও আলোচিত বেনজীরকে ঘিরে জনমনে যে চিত্রটি বিদ্যমান, সেই মানুষটিকে তখন আমার মোটেও দাম্ভিক বা অহংকারী মনে হয়নি। বরং তাকে একজন মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রতিশ্রুতিশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেই মনে হয়েছিল।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই মানুষটিকেই আমরা এক ভিন্ন রূপে দেখেছি। এখানেই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—সমস্যা কি শুধু একজন বেনজীর আহমেদ, নাকি সেই রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কাঠামোও, যা একজন কর্মকর্তাকে ধীরে ধীরে এতটা ক্ষমতাবান, এতটা প্রভাবশালী এবং শেষ পর্যন্ত এতটা বিতর্কিত করে তুলতে পারে?

আমি বিশ্বাস করি, কোনো বেনজীর একদিনে তৈরি হন না। তাকে তৈরি করে একটি সংস্কৃতি, একটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং একটি শাসনব্যবস্থা। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও বহু সময় তার আড়ালে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার চর্চা হয়েছে। ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহির অভাব, প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং ব্যক্তি-নির্ভর শাসনব্যবস্থা মিলেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে কিছু কর্মকর্তা নিজেদের রাষ্ট্রের সেবক নয়, বরং রাষ্ট্রের মালিক ভাবতে শুরু করেন।

আজকের বেনজীর একদিন হঠাৎ করে তৈরি হননি। ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রশ্রয়, জবাবদিহির অভাব এবং ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি মিলেই এমন বাস্তবতার জন্ম দেয়। ফলে কেবল একজন ব্যক্তির পতনে সন্তুষ্ট হলে চলবে না; বরং সেই পরিবেশ এবং সংস্কৃতিরও অবসান ঘটাতে হবে, যা নতুন নতুন বেনজীর তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে।

আমার কাছে বেনজীরের গ্রেপ্তারের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য এখানেই। এটি শুধু অতীতের অভিযোগ ও বিতর্কের বিচার প্রক্রিয়ার বিষয় নয়; এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্যও একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। প্রশাসন, পুলিশ কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রের যেকোনো স্তরে যারা ক্ষমতার মোহে নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেন, যারা মনে করেন পদ-পদবি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি তাদের চিরস্থায়ী নিরাপত্তা দেবে, তাদের জন্য এই ঘটনা গভীরভাবে ভাবার বিষয়।

বাংলাদেশের সামনে আজ একটি ঐতিহাসিক সুযোগ উপস্থিত হয়েছে। আমরা কি শুধু একজন ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করেই সন্তুষ্ট থাকব, নাকি সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন ঘটাব, যা ক্ষমতার অপব্যবহারকে উৎসাহিত করে? আমরা কি শুধু লেজ ধরে টানাটানি করব, নাকি সমস্যার মূল শিকড়ে হাত দেব?

কারণ প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এবং ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় মূল্যবোধে পরিণত করতে হলে প্রয়োজন আমূল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

রাষ্ট্রকে ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে, প্রতিষ্ঠানকে দলের চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে এবং আইনকে ক্ষমতার চেয়ে শক্তিশালী করতে হবে। নচেৎ ইতিহাসের চাকা ঘুরতেই থাকবে। নাম বদলাবে, মুখ বদলাবে, কিন্তু বেনজীরেরা হারিয়ে যাবে না। একজনের পতনের পর আরেকজনের উত্থান ঘটবে। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি সেই অন্তহীন চক্র ভাঙতে প্রস্তুত, নাকি আমরা আবারও একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখব?

এখানে একটি সত্য আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত। রাজনীতিবিদ, আমলা, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের সদস্য কিংবা ব্যবসায়ী—পদ ও পরিচয় যাই হোক না কেন, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অহংকার কখনো কোনো মানুষকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারে না। বিলাসবহুল বাড়ি, বিদেশি ব্যাংক হিসাব কিংবা ক্ষমতার চাকচিক্য হয়তো সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার বিবেকের কাছে নির্দোষ থাকার শক্তি।

পৃথিবীতে গভীর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার মতো বড় প্রাপ্তি খুব কমই আছে। আর সেই প্রশান্তি অর্থ, ক্ষমতা কিংবা প্রভাব দিয়ে কেনা যায় না; সেটি অর্জন করতে হয় সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং নৈতিক সাহসের মাধ্যমে।

পরিশেষে বলতে চাই, হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে শুধুমাত্র একজন সাবেক আইজিপির গ্রেপ্তার হিসেবে মনে রাখবে না। তারা এটিকে মনে রাখবে এমন এক মুহূর্ত হিসেবে, যখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ক্ষমতার দুর্গে আঘাত হানার সাহস দেখিয়েছিল। যখন রাষ্ট্র অন্তত প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল যে পদ-পদবি, অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে দিতে পারে না।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সরকার আসবে, সরকার যাবে; রাজনৈতিক দল পরিবর্তিত হবে, ক্ষমতার পালাবদল হবে; কিন্তু কোনো নাগরিককে বিচার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না, কোনো কর্মকর্তাকে ক্ষমতার জোরে নিজেকে রাষ্ট্রের চেয়ে বড় ভাবার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে আইনের নিরাপত্তা ভোগ করবে সাধারণ মানুষও, আবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিও একই আইনের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হবে। সুতরাং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে এখনই নতুন অঙ্গীকারের সময়। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান; ক্ষমতা নয়, জবাবদিহি; ভয় নয়, স্বাধীনতা; আনুগত্য নয়, ন্যায়বিচার—এই দর্শনের ওপরই গড়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

আতঙ্কে আমানত তোলা গ্রাহকদের সুসংবাদ দিলো ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
আতঙ্কে আমানত তোলা গ্রাহকদের সুসংবাদ দিলো ইসলামী ব্যাংক

সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে বন্ধ বা ভেঙে ফেলা বিভিন্ন মেয়াদি ও সঞ্চয়ভিত্তিক আমানত হিসাব পুনরায় চালুর সুযোগ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকরা এসব হিসাব পুনরায় সচল করলে হিসাব খোলার সময়কার মুনাফাসহ আগের সব সুবিধা ও শর্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

সোমবার (১৫ জুন) জারি করা এক অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেক গ্রাহক উদ্বেগের কারণে তাদের মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট (এমটিডিআর), মুদারাবা মান্থলি প্রফিট ডিপোজিট স্কিম (এমএমপিডিএস), মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস স্কিম (এমএসএস) এবং মুদারাবা সেভিংস বন্ড (এমএসবি) হিসাব ভেঙে বা বন্ধ করে অর্থ উত্তোলন করেছেন। গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় বিশেষ এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বন্ধ বা ভাঙানো এমটিডিআর, এমএমপিডিএস, এমএসএস ও এমএসবি হিসাবধারীরা আবেদন করলে সেগুলো পুনরায় চালু করা হবে। এ ক্ষেত্রে হিসাব খোলার সময় নির্ধারিত মুনাফার হার ও অন্যান্য সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকের সব জোন, শাখা ও উপশাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ হওয়া হিসাবগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও ঠিকানার মাধ্যমে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংককে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে কিছু গ্রাহক আমানত তুলে নিয়েছেন। পুনরায় হিসাব চালুর এ উদ্যোগ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যাংকে আমানতের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

সম্প্রতি চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অস্থিরতা দেখা দেয়। এরপর কয়েক কার্যদিবসে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমানত ধরে রাখা এবং উত্তোলিত অর্থ পুনরায় ব্যাংকে ফিরিয়ে আনতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

৫৫ বছর ধরে শরীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলি, চিকিৎসার অপেক্ষায় যুদ্ধাহত রশিদা আক্তার

নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
৫৫ বছর ধরে শরীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলি, চিকিৎসার অপেক্ষায় যুদ্ধাহত রশিদা আক্তার

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তার শরীরে রয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের এক নির্মম স্মৃতি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন রশিদা আক্তার আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার একটাই আক্ষেপ—মৃত্যুর আগে যদি অন্তত দেখতে পেতেন, শরীরের ভেতরে আটকে থাকা সেই গুলিটি বের করা হয়েছে।

‘মরার আগে যদি দেখে যাইতে পারতাম পিঠে কী আছে, তাইলে আর কোনো আপত্তি ছিল না। গুলিটা নিয়েই হয়তো কবর পর্যন্ত যাইতে হইবো।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণে জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাসের জল। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম (চক্রকান্দি) গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব যুদ্ধাহত নারী রশিদা আক্তার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে আহত হলেও দীর্ঘদিন ধরে পিঠে থাকা গুলির যন্ত্রণা সহ্য করেই দিন কাটছে তার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার জীবনসংগ্রাম ও অসহায়ত্বের খবর প্রকাশিত হলেও চিকিৎসার জন্য কার্যকর কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

রশিদা আক্তার জানান, ১৯৭১ সালের শ্রাবণ মাসের এক শনিবার পাকিস্তানি সেনারা গোপালাশ্রম গ্রামের ডা. ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে গ্রামবাসীরা যখন ছুটোছুটি করছিলেন, তখন শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন তিনি। বাড়ির পাশ থেকে কয়েকজনের সঙ্গে একটি নৌকায় ওঠেন রশিদা আক্তার। নৌকাটি মনাং গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে হঠাৎ পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি তার ডান কাঁধে বিদ্ধ হয়।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোলের শিশুকে নিয়ে চুপচাপ বসে ছিলাম। হঠাৎ কাঁধে গুলি লাগে। নৌকায় থাকা রশিদ মিয়া আমার পিঠের রক্ত গামছা দিয়ে মুছছিলেন। এমন সময় আরেকটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। নৌকার মধ্যেই তিনি মারা যান।’

তিনি জানান, পরে মনাং গ্রামের লোকজন তাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। আত্মীয়-স্বজন তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বেশিদিন হাসপাতালে রাখা হয়নি।

রশিদা আক্তার বলেন, একজন মহিলা চিকিৎসক ক্ষত পরিষ্কার করে ওষুধ দেন এবং দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পাকবাহিনীর গুলিতে আহত মানুষ হাসপাতালে আছে জানাজানি হলে সমস্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। পরে দেশ স্বাধীন হলেও অর্থাভাবে আর অপারেশন করানো সম্ভব হয়নি। ফলে গুলিটি শরীরেই থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘গুলির জায়গায় মাঝেমধ্যে তীব্র ব্যথা অনুভব করি। কখনও অবশ হয়ে যায়, আবার কখনও অসহনীয় যন্ত্রণা হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। মনে হয় গুলিটা নিয়েই কবর পর্যন্ত যেতে হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই হামলায় রশিদা আক্তারসহ আরও কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত তিনজন নিহত হন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরও আহত ও নিহত পরিবারগুলোর যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।

রশিদার ছেলে কাঞ্চন মিয়া বলেন, মা আমাকে কোলে নিয়ে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন। আমরা দরিদ্র মানুষ। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। ব্যথা বাড়লে শুধু ওষুধ কিনে দিই। কিছুদিন ভালো থাকেন, পরে আবার ব্যথা শুরু হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা বলেন, রশিদা আক্তারের দুঃখ-কষ্টের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হলেও কোনো সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি। যুদ্ধাহত এই নারীর চিকিৎসা নিশ্চিত করে শরীরে থাকা গুলিটি অপসারণে সরকারের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, “রশিদা আক্তারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আগে জানা ছিল না। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রশিদা আক্তার, তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে কোনো বড় দাবি নেই। নেই অর্থ, সম্পদ কিংবা সম্মানের প্রত্যাশা। তার একমাত্র চাওয়া—৫৫ বছর ধরে শরীরে বহন করা যুদ্ধের সেই স্মৃতি যেন চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারিত হয়। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মরার আগে গুলিটা বের হইতো দেখতাম, এইডাই আমার শেষ চাওয়া।’ রশিদা আক্তারের এই আকুতি শুধু একজন বৃদ্ধা নারীর ব্যক্তিগত বেদনা নয়; স্বাধীনতার এত বছর পরও রাষ্ট্র এবং সমাজের মানবিক স্পর্শের।

কালের আলো/এম/এএইচ