খুঁজুন
                               
, ,
           

কয়েকদিন ধরে চলবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
কয়েকদিন ধরে চলবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি

সারাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, প্রথম দিনে কোনো শিশু বাদ পড়লে পরবর্তী দিনগুলোতে তাকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে কোনো শিশুই এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে।

সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সারাদেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্বিতীয় দিন খাবে, দ্বিতীয় দিন বাদ পড়লে তৃতীয় দিন, তৃতীয় দিন বাদ পড়লে চতুর্থ দিন-এভাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম চলবে।

রোববার (২৮ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালেই হবে না, মায়ের দুধও খাওয়াতে হবে। রোগ প্রতিরোধে জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়াতে হবে। শালদুধের চেয়ে বড় ভিটামিন আর কিছু হতে পারে না। এছাড়া শিশুদের পানি, মধু, চিনি ও সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। এতে শিশুদের শরীরে পুষ্টি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হামসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত টিকার মজুত না পাওয়ায় হাম শিশুদের মারাত্মকভাবে আক্রমণ করেছিল। ক্ষমতা গ্রহণের পর আমাদের হাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও ছিল না। ইউনিসেফের মাধ্যমে আমরা পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে আমাদের হাতে লাল ও নীল রঙের ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল রয়েছে। এই ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

টিকার মান কেমন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকার মান অত্যন্ত ভালো। একটি কনফারেন্সে অংশ নিয়েছি, সেখানে ইউনিসেফের সঙ্গে টিকার মান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত উন্নত মানের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমরা দেশে টিকা এনেছি।

এ সময় স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান ও অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

রাজধানীর মগবাজারে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। ফলে তিনি শারীরিকভাবে কোনো ক্ষতির শিকার হননি।

ভোরে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় নিরাপদে রয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। গুলির ঘটনায় তাঁর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনা নিশ্চিত করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান গুলির ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না। ফলে তাঁর কোনো ক্ষতি হয়নি।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন।

সংগীতের পাশাপাশি ক্রিকেট অঙ্গনেও পরিচিত আসিফ
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের একজন আসিফ আকবর। সংগীতজগতে পরিচিতির পাশাপাশি ক্রিকেট অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির প্রায় ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। অর্থ পাচার, আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) আবেদন করার পর আদালত এ আদেশ দেন। লন্ডনের লর্ডশিপ এলাকায় রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত ফ্ল্যাটটির অর্থের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১২ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা হয়েছিল ফ্ল্যাট
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিএর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, আনিসুজ্জামান চৌধুরী তাঁর ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের কোম্পানির মাধ্যমে ২০১৩ সালে ১২ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ফ্ল্যাটটি কেনেন। বর্তমানে সম্পত্তিটির মূল্য প্রায় ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর এনসিএ তাঁকে ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তিনি অর্থের উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইনের আওতায় এ পরিস্থিতিতে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে অর্জিত হয়ে থাকতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়।

মাত্র ১ পাউন্ডে মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা গোপন করা এবং তদন্ত এড়ানোর উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১ পাউন্ডের বিনিময়ে সম্পত্তিটি তৃতীয় পক্ষের নামে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে এমন একটি পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সম্পত্তিটির নিয়ন্ত্রণ আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই মেয়ের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং মার্কিন সংগীতশিল্পী ক্রিস ব্রাউনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নথি ও দলিলে এসব স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়টি জালিয়াতির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পত্তির অর্থের উৎস নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিতে বিচারপতি কারেন স্টেইন বলেন, সম্পত্তিটির অর্থের উৎস অবৈধ বলে বিবেচনা করার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিসংগত প্রমাণ রয়েছে। এর ভিত্তিতে ফ্ল্যাটটি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আদালতের এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে সম্পত্তিটি বিক্রি বা মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হলো। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি জব্দের আদেশকে ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

অভিযোগ অস্বীকার আনিসুজ্জামানের
আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা আদালতে সম্পত্তি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করেননি। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে আনিসুজ্জামান বলেন, আইনি পরামর্শের ভিত্তিতেই তিনি ওই আবেদনের বিরোধিতা করেননি। তাঁর দাবি, তিনি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এনসিএ দেওয়ানি মামলা করলে তিনি আইনগতভাবে লড়াই করবেন বলেও জানান। অর্থাৎ, তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগের পাশাপাশি আনিসুজ্জামানের বক্তব্যও রয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পরিবারের সম্পদ নিয়ে তদন্ত
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত এবং দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের বিদেশে সম্পদ অর্জন নিয়েও তদন্ত চলছে।

এনসিএর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিদেশি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান দেওয়ানি তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাজ্যের এনসিএ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তিও জব্দ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

পূজার ছুটিতে পঞ্চগড়ে পর্যটকের ঢল, অধরা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য

পঞ্চগড় সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
পূজার ছুটিতে পঞ্চগড়ে পর্যটকের ঢল, অধরা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য

হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পঞ্চগড়ে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত এই জেলার হোটেল, হোমস্টে ও তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোয় বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু মেঘ ও কুয়াশার কারণে কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর থেকেই উত্তর আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন পর্যটকেরা। আশা ছিল, সূর্যের প্রথম আলোয় পাহাড়ের চূড়ায় দেখা মিলবে রঙের অপূর্ব খেলার। কেউ এসেছেন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। কিন্তু মেঘ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকায় অনেকেরই সেই অপেক্ষা পূরণ হয়নি।

ভোর থেকে অপেক্ষা, তবু দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার
পর্যটকদের প্রত্যাশা ছিল, ভোরের আলোয় পরিষ্কার আকাশের পটভূমিতে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করবেন তাঁরা। এ জন্য ভোর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা পাওয়ার আশা করলেও শেষ পর্যন্ত অনেক পর্যটককে হতাশ হতে হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা রাইসুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার নিজ দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় এসেছেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেরে বড়ই হতাশ হয়েছেন।

ঢাকা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম শামু বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রতিদিন দেখা যাবে, এমন নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে হয়তো দেখা পাওয়া যেত। তবে তিনি আশা ছাড়েননি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেলেও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে তাঁর ভালো লাগছে। ঢাকা থেকে আসা রুবাইয়া শায়েরা জানান, ভোর থেকে অপেক্ষা করেও কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাননি। তবে পঞ্চগড়ের আগাম শীতের আমেজ তিনি বেশ উপভোগ করছেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘা অধরা হলেও প্রকৃতির টানে পর্যটকেরা
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও পঞ্চগড়ের প্রকৃতির সৌন্দর্য পর্যটকদের আনন্দে ভাটা পড়তে দেয়নি পুরোপুরি। হালকা শীতের আমেজ, সবুজ চা-বাগান, গ্রামীণ পরিবেশ, নদীপথ ও বিস্তীর্ণ মাঠঘাট ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন জেলার সমতলের চা-বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী, ভিতরগড় দুর্গনগরী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বোদেশ্বরী পীঠমন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং গ্রামবাংলার সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করাও তাঁদের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

পর্যটকে সরগরম তেঁতুলিয়া, আবাসনে সংকট
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে তেঁতুলিয়ায় হাজার হাজার পর্যটক এসেছেন। পর্যটন এলাকা, হোটেল, হোমস্টে ও খাবারের হোটেলগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো। পূজার ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চগড়ের পর্যটন খাত বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, জেলার পর্যটনশিল্পের অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এই সংকট দূর করার জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

আবহাওয়া বদলালে দেখা মিলতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘার
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হয়ে গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হতে পারে। অক্টোবরের শেষ ভাগ ও নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্বতশৃঙ্গটি ভালোভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আশা এখন আবহাওয়ার দিকে। আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও দেখা মিলতে পারে হিমালয়ের বরফঢাকা এই পর্বতশৃঙ্গের। ততক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চগড়ের চা-বাগান, শীতের আমেজ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেই সময় কাটাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি