খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের ৭ম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পের আওতায় ৭ম ব্যাচে ৪৮০০ হাজার তরুণ-তরুণী কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ উদ্যোগ তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সহায়তা করবে। সরকারের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারত্ব হ্রাস এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, “দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষণার্থীরা যদি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, তবে তারা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সফলভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন। এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সুগম করবে।”

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। তবে তাদের অনেকেই নিজেদের সাফল্যের গল্প প্রকাশ করেন না। আমি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নিজেদের অর্জন ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করুন। আপনাদের সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আরও বেশি তরুণ-তরুণী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার শিক্ষিত যুব-যুবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণ-তরুণীরা এ সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।

এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মোট আয় ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের মোট উপার্জনের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ২১৫ টাকা। প্রশিক্ষণার্থীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারের ব্যাচে ভর্তির জন্য লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ হাজার আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত কার্যক্রম তদারকি করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরানের বাণিজ্যপথ বন্ধ করছে প্রতিবেশী দুই দেশ ইরাক ও পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
ইরানের বাণিজ্যপথ বন্ধ করছে প্রতিবেশী দুই দেশ ইরাক ও পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের চাপে আগে থেকেই সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি এবার নতুন বাধার মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী ইরাক ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির স্থলবাণিজ্যেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় ইরান বিকল্প হিসেবে স্থলপথের ওপর বেশি নির্ভর করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সেই পথও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং পরিবহনসংক্রান্ত বাধা মিলিয়ে ইরানের বাণিজ্যিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

ইরাক ও পাকিস্তানের সীমান্ত বন্ধে নতুন সংকট
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে শাফাক নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) চোরাচালান ঠেকানো ও নজরদারি জোরদারের কথা উল্লেখ করে ইরানের সঙ্গে আল-শিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইরাক। অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সপ্তাহান্তে ইরান থেকে আসা ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। দেশটি গাবদ ও তাফতান সীমান্তপথে এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

এই সীমান্তপথগুলো ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পথে চলাচল সীমিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় স্থলসীমান্ত বন্ধ হওয়ার প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। আমদানি করা পণ্য দেশের বাজারে পৌঁছাতে দেরি হলে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে।

ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করতে ওয়াশিংটনও চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ইরানের স্থলপথে বাণিজ্য সীমিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেসেন্ট এই উদ্যোগকে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। এর লক্ষ্য ইরানের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ও পণ্য পরিবহনে ইরান আগে থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে নৌ অবরোধ এবং স্থলসীমান্তে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় দেশটির বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার করার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

সীমান্তে আটকে হাজার হাজার ট্রাক
ইরানের স্থলবাণিজ্যে বাধার প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তুরস্ক, আফগানিস্তান ও আজারবাইজানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৭ হাজার ট্রাক আটকে ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন কর্মকর্তারা।

কিছু সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাককে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের মতো দ্রুত পচনশীল পণ্য নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন পরিবহনকারীরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে কোনো কোনো চালক পচে যাওয়া ফলসহ কৃষিপণ্য ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন না, বরং খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনাও চাপে পড়ছে।

পাকিস্তান সীমান্তে আটকে এলপিজি
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্তের ইরানি অংশে চার হাজার ৫০০ টনের বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি আটকে রচতবে এলপিজি আটকে থাকার ঘটনা দেশটির পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বাধাগুলোর একটি উদাহরণ। সীমান্তে পণ্য আটকে থাকলে রপ্তানিকারকদের সরবরাহের সময়সূচি ব্যাহত হয় এবং ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসায়িক চুক্তি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একই সঙ্গে সীমান্তপথে জট তৈরি হওয়ায় বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রয়োজন বাড়ছে। তবে বিকল্প পথে পরিবহন চালু করতে অতিরিক্ত ব্যয় ও সময় লাগলে রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

স্থল ও সমুদ্রপথে বাধায় বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
ইরানের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির বড় চ্যালেঞ্জ হলো, একাধিক বাণিজ্যপথ একই সময়ে বাধার মুখে পড়ছে। সমুদ্রপথে অবরোধ ও বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি স্থলসীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় আমদানি-রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনের সময় বাড়লে আমদানি করা কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে। ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পণ্যের দামেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সীমান্ত বন্ধের কারণে ঠিক কতটা বাণিজ্য কমেছে বা বাজারে কী পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরাক ও পাকিস্তানের সীমান্তপথে বিধিনিষেধ ইরানের বাণিজ্যিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্তে আটকে থাকা পণ্য দ্রুত পরিবহন করা এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ সচল রাখা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, শাফাক নিউজ ,আইআরআইবি।

কালের আলো/এসএ/এমএস

তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবকের ‘স্নাইপার’ মন্তব্যের পেছনে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য ও আচরণকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাদের আগ্রাসী বক্তব্য পতিত অপশক্তিকে এমন মন্তব্য করার সাহস জুগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

স্নাইপার’ মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এক যুবক লিখেছেন, ‘একটি মাত্র স্নাইপার দরকার ছিল।’ তাঁর দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য, আগ্রাসী আচরণ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার সুযোগ নিচ্ছে পতিত অপশক্তি। তবে ওই যুবকের পরিচয়, মন্তব্যের প্রেক্ষাপট কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার সমালোচনা
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য, জনসভা ও টকশোতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুন এবং দলটির বিচার নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া জামায়াত ও এনসিপি এমন বয়ান তৈরি করছে, যেন বিএনপির আট মাসের সরকার আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এসব বক্তব্য ও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার, মামলায় জর্জরিত কিংবা নির্বাসিত জীবনে থাকা নেতারাও এ পরিস্থিতির বাইরে নন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ৫ আগস্টের পরও দায়িত্বে থাকা কিংবা তার আগে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় না থাকা কিছু ব্যক্তির বক্তব্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে, যেন গত ১৬ বছর শুধু তাঁরাই আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবদানের তুলনায় বিরোধী দলের অনেক নেতার ভূমিকা ছিল নগণ্য। অথচ এখন বিএনপিকে তাঁদের কাছ থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস শুনতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছ থেকে জানার সঙ্গে তুলনা টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, একইভাবে বিরোধী দলের অনেক নতুন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে বিএনপিকে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস জানতে হচ্ছে। রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে করা রাজনৈতিক অভিযোগ। পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

চালকদের ৭৬ শতাংশের দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
চালকদের ৭৬ শতাংশের দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি

চোখে সমস্যা, অথচ জানেনই না! এমন দৃষ্টিত্রুটি নিয়েই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন হাজারো পেশাদার চালক। ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ৩১ হাজার ৫৩৫ জন চালকের চোখ পরীক্ষা করে ২৪ হাজার ১০ জনের চশমার প্রয়োজন শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৬৪৬ জন জীবনে প্রথমবারের মতো চশমা ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ চশমা প্রয়োজন হওয়া চালকদের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রথমবার চশমা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে চোখ পরীক্ষা করা চালকদের প্রায় ৭৬ শতাংশের দৃষ্টিশক্তি সংশোধনে চশমা প্রয়োজন হয়েছে।

বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা—পেশাদার চালকদের একটি বড় অংশের চোখে সমস্যা থাকার এই চিত্র সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক সামনে এনেছে। কারণ গাড়ি চালানোর সময় দূরের যানবাহন, পথচারী, সড়কের সংকেত ও আশপাশের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখতে পারা অত্যন্ত জরুরি। দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি শনাক্ত না হলে এবং প্রয়োজনীয় চশমা বা চিকিৎসা না পেলে চালনার সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে পরীক্ষার এই তথ্য থেকে দৃষ্টিত্রুটির কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।

  • ১৯ জেলায় ৩১ হাজার ৫৩৫ জনের চোখ পরীক্ষা
  • ২৪ হাজার ১০ জনকে চশমা দেওয়া হয়েছে
  • প্রথমবার চশমা নিচ্ছেন ১৪ হাজার ৬৪৬ জন

আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সেবা সংস্থা ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরে চালকদের চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে উঠে এসেছে এসব তথ্য। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষায় চালকদের ৪৯ শতাংশের নিকটদৃষ্টি এবং ৫১ শতাংশের দূরদৃষ্টির সমস্যা পাওয়া গেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা বিতরণের পাশাপাশি চোখের অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

চোখের সমস্যাই জানেন না
চোখের সমস্যা থাকলেও তা সব সময় নিজে থেকে বুঝতে পারেন না অনেকে। বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি ধীরে ধীরে তৈরি হলে বা দৈনন্দিন কাজে তার প্রভাব স্পষ্ট না হলে সমস্যা শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চোখ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখানেই। কারণ তাঁদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ভিশন অ্যাকসেস প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক উম্মে সাউদা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চালকের স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি তাঁর নিজের, যাত্রীদের এবং সড়কে চলাচলকারী অন্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তাঁর মতে, সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চালকের শারীরিক সক্ষমতা, সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

উম্মে সাউদা বলেন, পরিবহন খাতের কর্মীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টিসেবা সহজলভ্য করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

১৯ জেলায় পরীক্ষা, লক্ষ্য ৫০ হাজার চালক
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, দিনাজপুর, ঢাকা, গাইবান্ধা, গাজীপুর, খুলনা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নরসিংদী, নীলফামারী, নোয়াখালী, পাবনা, রাজবাড়ী, রংপুর, সিলেট ও রাজশাহীতে চোখ পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুরেও চালকদের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহযোগিতায় দেশজুড়ে মোট ৫০ হাজার চালকের চোখ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাঁদের চশমা প্রয়োজন হবে, তাঁদের বিনা মূল্যে চশমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছানিতে আক্রান্ত চালকদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, চালকদের চোখের ত্রুটি দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ছাড়া গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবহন শ্রমিকদের সার্বিক সুরক্ষায় শুধু চোখের সমস্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চশমা দেওয়া এবং ছানি বা অন্য রোগে আক্রান্ত চালকদের নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তিজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

একবার চোখ পরীক্ষা যথেষ্ট নয়
চালকদের চোখ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক মানুষের দৃষ্টিত্রুটি শনাক্ত হওয়া পরিবহন খাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তবে একবার চোখ পরীক্ষা করে চশমা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। চালকেরা নিয়মিত চশমা ব্যবহার করছেন কি না, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা যথাযথভাবে সংশোধন হয়েছে কি না এবং চোখের অন্য রোগের চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রথমবার চশমা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক চালকের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা প্রথমবার শনাক্ত হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো আগে ধরা না পড়ার পেছনে সচেতনতার অভাব, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যয়ের মতো কোন কারণ কতটা দায়ী, তা নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তায় চালকের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, যানবাহনের উপযুক্ত অবস্থা, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক আইন মানার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পেশাদার চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার এবং চোখের রোগের চিকিৎসাকে পরিবহন খাতের স্থায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থার অংশ করা প্রয়োজন।

৩১ হাজারের বেশি চালকের চোখ পরীক্ষা যে বাস্তবতা সামনে এনেছে, তা হলো—চালকের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরের এই উদ্যোগকে নিয়মিত ও টেকসই ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। এতে অজানা দৃষ্টিত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা চালক, যাত্রী ও অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে