খুঁজুন
                               
, ,
           

একসময় আমলারা খিচুড়ি রান্না করতে বিদেশ যেতেন: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
একসময় আমলারা খিচুড়ি রান্না করতে বিদেশ যেতেন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, একসময় সরকারি আমলারা খিচুড়ি রান্না করতে, কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বিদেশে যেতেন। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে।

এখন সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় স্পোর্টস কালচার, ফ্যামিলি ভ্যালুস, ডিবেট, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চান, যারা শিক্ষাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করবে।

নতুন কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা এবং প্রকৃত ইতিহাস ধাপে ধাপে সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করা হচ্ছে।

এহসানুল হক মিলন বলেন, চলতি বছরের পাঠ্যপুস্তকে ইতোমধ্যে অনেক পরিমার্জন আনা হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো কারিকুলাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাড়ানো হচ্ছে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সেগুলো পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, বড় ছবির সুযোগ হারিয়েছেন নীহারিকা এনএম

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, বড় ছবির সুযোগ হারিয়েছেন নীহারিকা এনএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতা থেকে এবার চলচ্চিত্রের পর্দায় নীহারিকা এনএম। সম্প্রতি বলিউডে অভিষেক হয়েছে তাঁর। তবে অভিনয়জীবনের শুরুটা যে খুব সহজ ছিল না, তা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী নিজেই। অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ে আপত্তি থাকায় একবার বড় একটি ছবির সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন তিনি। এমনকি তিন ছবির চুক্তির কারণে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি সফল ছবিতেও কাজ করার সুযোগ পাননি।

গত ৩০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে নীহারিকার প্রথম বলিউড সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন রাঘব জুয়াল। সিনেমাটি মুক্তির আগে নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নীহারিকা।

কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অনেক আগেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল নীহারিকার। অভিনয়ের প্রস্তুতি নিতে কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং থিয়েটারেও কাজ করেন।

তবে বলিউডে জায়গা করে নেওয়ার প্রাথমিক সময়টা তাঁর জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। বিশেষ করে নারী অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণা তাঁকে হতাশ করেছিল।

নীহারিকার মতে, বলিউডে কাজের জন্য নারীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের প্রত্যাশা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার অংশ হতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। তাই একটা সময় হিন্দি সিনেমার বদলে দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার দিকে মনোযোগ দেন।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কাজের সময় নির্মাতা কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিনটি ছবিতে কাজের চুক্তি করেন নীহারিকা।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই চুক্তিই তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য হতাশার কারণ হয়ে ওঠে। চুক্তির মেয়াদ চলাকালে দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি আলোচিত সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে সেসব ছবিতে কাজ করতে পারেননি।

পরে ওই সিনেমাগুলোর কয়েকটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। বিষয়টি এখনো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপ বলে মনে করেন নীহারিকা। তবে অন্যদিকে যাঁরা সেসব ছবিতে অভিনয় করেছেন, তাঁদের সাফল্যে তিনি আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবশ্য বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। এরপর আর কোনো চুক্তি তাঁকে পছন্দের কাজ থেকে আটকে রাখতে পারেনি।

ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন নীহারিকা। তাঁর দাবি, এক খ্যাতিমান পরিচালকের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন ও লুক টেস্ট দেওয়ার পর চুক্তিতেও সই করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে চুক্তিতে থাকা অন্তরঙ্গ দৃশ্যসংক্রান্ত একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান।

নীহারিকার বক্তব্য, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। বিষয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে জানালে তাঁর অবস্থান মেনে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রয়োজন হলে বডি ডাবল ব্যবহার করে দৃশ্যটি ধারণের পরিকল্পনাও করা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই দৃশ্যে সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে অভিনয় করতে রাজি ছিলেন না। এরপর নীহারিকার সামনে দুটি পথ ছিল—নিজের সিদ্ধান্ত বদলে দৃশ্যে অভিনয় করা, অথবা সিনেমাটি ছেড়ে দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পথটিই বেছে নেন তিনি।

পরিচালক কিংবা সিনেমাটির সহশিল্পীর নাম প্রকাশ করেননি নীহারিকা। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অভিনয়ের সুযোগ যত বড়ই হোক, নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি।

বলিউডে নতুন অধ্যায় শুরু করা নীহারিকার এই অবস্থান তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মূল্যবোধেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে।

কালের আলো/এসএ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দেশের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এই বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আরও বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছর অথবা আগামী অর্থবছরের মধ্যে এ বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব মাধ্যমে শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী  বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনটি সঠিক তথ্য, কোনটি মিসইনফরমেশন এবং কোনটি ডিজইনফরমেশন তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

বাংলাদেশ বেতারকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার বিষয়ে তিনি বলেন, বেতারের এফএম সম্প্রচার শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। বিটিভিকে  আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরো আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িকে  আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি’র আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টা যৌনসম্পর্ক বৈধ, এ কেমন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টা যৌনসম্পর্ক বৈধ, এ কেমন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

ভাবুন তো, এমন এক সমাজের কথা—যেখানে প্রেম করা বৈধ, কিন্তু বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তবে বছরের একটি নির্দিষ্ট রাতে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। অবিবাহিতরা তখনই নিজেদের ইচ্ছেমতো সম্পর্কে জড়াতে পারেন। সময় শেষ হলেই আবার আগের আইন কার্যকর।

শুনতে কল্পবিজ্ঞানের কোনো রাজনৈতিক ডিস্টোপিয়ার মতো মনে হলেও এমনই এক অদ্ভুত পৃথিবীকে রোমান্টিক কমেডির গল্পে রূপ দিয়েছেন পরিচালক উইল গ্লাক। তাঁর নতুন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’ মুক্তি পেয়েছে ৭ আগস্ট। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটির ব্যতিক্রমী গল্প ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

সিনেমার কাল্পনিক যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করার আইন চালু হয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে সরকার বছরে একবার ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ নামে একটি রাত নির্ধারণ করেছে। ওই রাতের ১২ ঘণ্টায় অবিবাহিত ব্যক্তিরা আইনত যৌনসম্পর্ক করতে পারেন।

এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নাগরিকদের শরীরে বিশেষ প্রযুক্তির বায়োসেন্সর পরতে হয়। শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ওই ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে কেউ যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছে কি না। নির্ধারিত সময়ের বাইরে আইন ভাঙলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা।

ফলে বছরের ওই রাতটি হয়ে ওঠে দেশটির মানুষের কাছে এক বিশেষ উৎসব। ডেটিং অ্যাপগুলোতে বাড়ে ব্যস্ততা, রেস্তোরাঁ ও বারে জমে ওঠে ভিড়। কেউ পুরোনো সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তুতি নেয়, কেউ আবার নতুন সম্পর্কের সন্ধানে বের হয়।

গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ওভেন। ম্যানহাটনে একটি ছোট পিৎজারিয়ার মালিক সে। স্বভাবের দিক থেকে শান্ত ও কিছুটা অন্তর্মুখী ওভেনও বছরের বিশেষ রাতটির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মালিকার সঙ্গে রাতটি কাটানোর পরিকল্পনা ছিল তার।

কিন্তু দেখা হওয়ার পর মালিকা জানায়, এবার সে অন্য একজনের সঙ্গে রাত কাটাতে চায়। সম্পর্কের বাইরে অন্য অভিজ্ঞতা নিতে চাওয়ার কথা জানিয়ে দেয় সে। এতে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ওভেনের পরিকল্পনা।

অন্যদিকে অ্যালি গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পেশাগতভাবে খুব একটা সফল হতে পারেনি। জীবিকা চালাতে তাকে ওষুধ কোম্পানির বিজ্ঞাপনের জন্য জিঙ্গেল গাইতে হয়।

বছরের বিশেষ রাতটিও তার পরিকল্পনামতো এগোয় না। যার সঙ্গে বের হওয়ার কথা ছিল, সে অন্য একজনের সঙ্গে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত বন্ধুর দেওয়া পোশাক পরে একাই শহরের রাতের উৎসবে বের হয় অ্যালি।

এরপরই ভাগ্যের টানে ওভেন ও অ্যালির দেখা। প্রেমিকার আচরণে হতাশ হয়ে ওভেন এরই মধ্যে কয়েক পেগ পান করে ফেলেছে। নতুন পরিচিত অ্যালির সামনে দাঁড়িয়েই প্রায় বমি করে ফেলে সে। বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে চলে যায় অ্যালি।

কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে, ততই বিভিন্ন জায়গায় তাদের আবার দেখা হতে থাকে। নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাত, সাবওয়ে, রাস্তা আর বিভিন্ন আড্ডার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসতে শুরু করে দুজন।

ওভেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালাম টার্নার, আর অ্যালির ভূমিকায় আছেন মনিকা বারবারো। দুই অভিনেতার অভিনয়ই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। ওভেনের সরলতা ও অস্বস্তি যেমন টার্নার বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন, তেমনি বারবারোর অ্যালি চরিত্রে আত্মবিশ্বাস ও সংবেদনশীলতার মিশেলও প্রশংসা পেয়েছে।

তাদের কথোপকথন, হাস্যরস ও ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া সম্পর্কই গল্পের আবেগের মূল জায়গা।

নাম ও মূল ধারণা দেখে সিনেমাটিকে শুধুই যৌনতা নিয়ে তৈরি কমেডি মনে হতে পারে। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে ওভেন ও অ্যালির সম্পর্ক অন্য দিকে মোড় নেয়।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তারা নিজেদের স্বপ্ন, ব্যর্থতা, ভয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। ওভেন উপলব্ধি করে, জীবনের সবকিছু আগেভাগে পরিকল্পনা করে রাখা সম্ভব নয়। অ্যালিও নিজের স্বপ্নের পথে এতদিন যে বাধাগুলো তৈরি করে রেখেছিল, সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

এই যাত্রায় ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ হয়ে ওঠে দুই অপরিচিত মানুষের একে অপরকে আবিষ্কারের পটভূমি।

সিনেমায় নিউইয়র্ক শহরকে শুধু গল্পের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। রাতের সাবওয়ে, ব্রুকলিন ব্রিজ, ছোট পিৎজারিয়া, ক্যাফে এবং শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি শহরের তুলনামূলক কম পরিচিত এলাকাও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে দর্শক যেন পর্যটকের বদলে শহরের একজন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে নিউইয়র্ককে দেখার সুযোগ পান।

হাস্যরস ও প্রেমের গল্পের আড়ালে সিনেমাটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আনে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর রাষ্ট্রের কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত? আইন দিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না? আর স্বাধীনতা কি শুধু আইনি অধিকার, নাকি ব্যক্তিগত পছন্দ ও অনুভূতির সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে?

নির্মাতা এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি। বরং ওভেন ও অ্যালির ব্যক্তিগত গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শককে নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ দিয়েছেন।

সিনেমাটি মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে এর রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে। সমালোচকদের একটি অংশের মতে, বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের নজরদারির মতো গুরুতর বিষয়কে রোমান্টিক কমেডির কাঠামোয় আটকে রাখায় গল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।

তাদের মতে, এমন একটি ধারণা সহজেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, রক্ষণশীলতা, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে গভীর বক্তব্যের জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত সেই পথে খুব বেশি দূর এগোয়নি।

অন্যদিকে আরেকটি মত হলো, ‘ওয়ান নাইট অনলি’কে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। এটি মূলত একটি অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে দুই মানুষের সম্পর্ক ও আত্ম-আবিষ্কারের গল্প। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটি গল্পের একটি ব্যতিক্রমী পটভূমি মাত্র।

তবে সমালোচকদের মধ্যে যে বিষয়ে একমত হওয়া কঠিন, তা হলো—সিনেমাটির মূল ধারণাটি এতটাই অস্বাভাবিক ও রাজনৈতিক যে দর্শকের মনে স্বাভাবিকভাবেই আরও অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়।

বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রজনন অধিকার নিয়ে বাস্তব রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন ‘ওয়ান নাইট অনলি’র কাল্পনিক পৃথিবীকে নিছক বিনোদন হিসেবে দেখাও কঠিন।

সুতরাং ‘ওয়ান নাইট অনলি’ শেষ পর্যন্ত নিখাদ রোমান্টিক কমেডি, নাকি ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য—মুক্তির পরের বিতর্কই হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকবে।

কালের আলো/এসএ