খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বকাপে ৪৭ শতাংশ সময় হেঁটেই গোল্ডেন বুটের শীর্ষে মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে ৪৭ শতাংশ সময় হেঁটেই গোল্ডেন বুটের শীর্ষে মেসি

এক সময় গতি, ড্রিবলিং আর বিস্ফোরক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করতেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সে এসে তিনি আর সেই আগের মেসি নন; তবু এখনও বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলারদের একজন।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক যেন প্রমাণ করে দিয়েছেন, ফুটবলে আধিপত্য ধরে রাখতে সবসময় দ্রুত দৌড়ানোর প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন অসাধারণ মস্তিষ্ক, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং নিখুঁত সময়জ্ঞান।

এবারের বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসরে খেলছেন মেসি, যা পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন।

তবে এবারের মেসিকে আলাদা করেছে তার খেলার ধরন। আগের মতো নিরন্তর দৌড়ানোর বদলে তিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন বুদ্ধিমত্তা দিয়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে মেসি মাঠে যে দূরত্ব অতিক্রম করেছেন, তার ৪৭ শতাংশই হেঁটে, যা টুর্নামেন্টের সব আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এছাড়া প্রতি ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে মাত্র ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে সবচেয়ে কম।

স্প্রিন্টের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চার বছর আগে যেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.৩টি স্প্রিন্ট দিতেন, এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২.৭-এ।

তবুও আক্রমণে তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। এবারের বিশ্বকাপে তিনি ৩৩টি শট নিয়েছেন এবং ২১টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। অর্থাৎ মোট ৫৪টি আক্রমণাত্মক অবদান, যা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, মেসি আসলে নিজের পতনের সঙ্গে মানিয়ে নেননি, বরং নিজেকে এমনভাবে বদলেছেন যাতে এখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই থাকে। গতি কমেছে, কিন্তু বেড়েছে খেলা পড়ার ক্ষমতা, পাসের নিখুঁততা এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার দক্ষতা।

এ কারণেই গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি ১৬ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। এই সময়ে কেবল পোল্যান্ডই একমাত্র দল, যারা তাকে গোল বা অ্যাসিস্ট-দুটোর কোনোটিই করতে দেয়নি।

২০০৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেকের সময় ডান প্রান্তের ড্রিবলার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন মেসি। এরপর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরন বদলেছেন।

সেই বিবর্তনের সর্বশেষ রূপই এখন দেখা যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে-যেখানে কম দৌড়িয়েও তিনি ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠছেন।

বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা এখন আরেকটি ইতিহাসের অপেক্ষায়। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে আগের মতোই রয়েছেন লিওনেল মেসি-যিনি প্রমাণ করে চলেছেন, ফুটবলে গতি নয়, মেধাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওএর ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ছাড়াও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব

রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বের ভার। নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে তাকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিন রাতে এক বার্তায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়। আইএসপিআর জানিয়েছে, আগামী ২৩ জুলাই তিনি ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

বিশাল কর্মময় জীবনে দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও আদর্শবাদিতা ও কর্তব্যপরায়ণতায় অটল-অনড় থেকে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের পহেলা জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে (বিএন) যোগদান করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে নৌ-কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করার পর এক্সিকিউটিভ শাখায় কৃতিত্বের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তাঁর ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

  • বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে অজস্র আলোকরেখা
  • আগামী ২৩ জুলাই তিনি ভাইস এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন
  • বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তাঁর ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৫ মাস বয়সী সরকারের সময়ে এই প্রথম দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কোন বাহিনী প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব শেষ করে আগামী ২৩ জুলাই স্বাভাবিকভাবেই অবসরে যাচ্ছেন। নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতায় সেরা রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের কাঁধেই নৌবাহিনীর গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছে সরকার। আগামী তিন বছর তিনি নেতৃত্ব দিবেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরতে পরতে অজস্র আলোকরেখা
নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন আলোকিত এক অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হচ্ছে রিয়ার এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এর। দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছিলেন চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার। নৌবাহিনীতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত সাবমেরিন কমান্ডারেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনএস শাহ আমানত, বিএনএস সৈকত, বিএনএস নির্ভয়, বিএনএস এস আর আমিন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বিএনএস ওমর ফারুক (এফ-১৬) এর মতো বিভিন্ন নৌ-জাহাজ এবং বিএনএস তিতুমীর নৌ-ঘাঁটির কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি (বিএনএ) এর কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন তিনি নৌ-সদর দপ্তরে ডিরেক্টর অফ নেভাল অপারেশনস (ডিএনও), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) স্টাফ অফিসার ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে ডিরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও।

বিরল সম্মানের অধিকারী হিসেবে একই সঙ্গে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পুরস্কার’ এবং মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) থেকে ‘সেরা ব্যক্তিগত গবেষণা পত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তিনি আইএনএস ভেন্ডুরুথি থেকে ‘অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (এএসডব্লিউ)-এ বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। সেখানেও তিনি ‘সেরা শিক্ষার্থী পুরস্কার’ পেয়েছেন।

শিক্ষাজীবনেও খোন্দকার আজীম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে সমসাময়িক সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা (মেরিটাইম গভর্নেন্স) বিষয়ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও ‘ডিফেন্স স্টাডিজ’-এ স্নাতকোত্তর (এমডিএস); ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এ এমএসসি; এবং চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এ আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রতিটি ডিগ্রিতেই তিনি প্রথম শ্রেণি লাভ করেন। শিক্ষাজীবনে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে লাভ করেন ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’।

আন্তর্জাতিক অঙ্গণে নতুন নৌবাহিনী প্রধান আজিম লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল)-এর ‘মেরিটাইম টাস্ক ফোর্স’-এ এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের মিশন (মনুক)-এ সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক কোর্স, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন ও বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে অসাধারণ সেবার জন্য শান্তিকালীন সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি); কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘নৌদক্ষতা পদক’ (এনপিপি); সর্বোচ্চ নৈতিক আচরণের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’; এবং স্কাউট আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য ‘জাতীয় স্কাউট পুরস্কার’ (সিলভার হিলসা মেডেল) অর্জন করেছেন। তিনি তিনবার নৌ-বাহিনী প্রধানের প্রশংসা পত্র লাভ করেছেন। তিনি বহু প্রবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। বাংলা, ইংরেজি ও মালয় ভাষায় পারদর্শী হওয়ার পাশাপাশি ফরাসি ভাষাতেও তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিম মিসেস নুরতাজ আজিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁর স্ত্রী মিসেস নুরতাজ আজিম ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সমিতির ঢাকা ও চট্টগ্রাম-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এই আলোকিত দম্পতির দুই কন্যার মধ্যে নুযাবাহ যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (এলএসই)-এ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। অপর কন্যা মেহতাজ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ওয়ালা ওয়ালা-তে অবস্থিত হুইটম্যান কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন সিদ্ধান্ত বাতিল, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে ৫০ হাজার টাকাই পাবেন আমলারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
নতুন সিদ্ধান্ত বাতিল, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে ৫০ হাজার টাকাই পাবেন আমলারা

উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর প্রস্তাব থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে সরকার। ফলে কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগের মতোই প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পাবেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই অর্থ বিভাগ থেকে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার অনুরোধ জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় সেই চিঠিটি বাতিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন চিঠিও জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রাহেদ হোসেন বলেন, ‘এ সংক্রান্ত চিঠিটি আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাইনি। তবে যতটা জেনেছি, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজি হয়েছেন। ফলে আগের সিদ্ধান্তটি আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব সম্ভবত বিষয়টি (গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা) আগের মতোই বহাল থাকছে। আর সেটি হলে আগের ওই চিঠি বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনো কোনো লিখিত নির্দেশনা পাইনি।’

এর আগে অর্থ বিভাগের পাঠানো চিঠিতে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছিল, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে যে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তা কিছুটা হ্রাস করার সুযোগ রয়েছে।

মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা রয়েছে বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছিল অর্থ বিভাগ।

ফুলগাজীতে ৫১ লাখ টাকা জালিয়াতি: উপজেলা পরিষদের সেই ৩ কর্মচারী বরখাস্ত

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে কমপক্ষে তিন বছর পার করেছেন এমন কর্মকর্তা এবং তদোর্ধ্ব যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব ও সিনিয়র সচিবরা এই গাড়ি সুবিধা (প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পেয়ে থাকেন।

এই কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি কেনার জন্য সরকারের কাছ থেকে সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পান।

এর পাশাপাশি গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। এ ছাড়া গাড়ির ওপর বার্ষিক ১০ শতাংশ অবচয় (ডিপ্রিসিয়েশন) সুবিধাও পেয়ে থাকেন তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি