এলডিসি-উত্তরণ সামনে রেখে পাঁচ বছরের বাণিজ্য পরিকল্পনা
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) পরিচালিত এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)-এর তৃতীয় ধাপের আওতায় প্রণীত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সিপিডির ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে বর্তমানে অশুল্ক বাণিজ্য বাধা, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বাণিজ্য সচিব জানান, ইআইএফ-এর আগের দুই ধাপের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ বিবেচনায় নতুন সিপিডিতে মোট ১২টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম দেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য বাণিজ্য সহজীকরণ, বাণিজ্য উদারীকরণ, আইন ও বিধিবিধানের সংস্কার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইডেনসহ উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তায় ডব্লিউটিওর ইআইএফ কর্মসূচি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রথম ধাপ এবং ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তৃতীয় ধাপ চলতি বছর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং সিপিডির ভিত্তিতেই এ কর্মসূচির জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
ইআইএফ পরামর্শক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান জানান, দেশের বিদ্যমান নীতিমালা, রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্যনীতি, ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগের সুপারিশের ভিত্তিতে সিপিডি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫২টি প্রকল্প ধারণা বিবেচনায় নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত ১২টি কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং বাণিজ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার।
কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, ইআইএফ-এর তৃতীয় ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এলডিসি-উত্তর সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে।
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array